আমার সিনেমায় যাওয়া!

গত রবিবার [জুন ১৩, ২০১০] সামীহাহ ও সুহায়লাহকে নিয়ে দেখে আসলাম জ্যাকি চান ও জ্যাডেন স্মীথ অভিনীত "কারাটে কিড" ছবিটি।

সিনেমা দেখার জন্য কখনো খুব পাগল ছিলাম কিনা মনে পড়ে না। তবে স্কুলে থাকতে রেডিওতে ছায়াছবির উপর বিশেষ অনুষ্ঠান যেগুলো হত সেগুলো শুনতাম অনেকটা ক্রেজ় নিয়েই। মাঝে মাঝে উপজেলা শহরে বন্ধুদের সাথে যেতাম সিনেমা দেখতে।
 
আমাদের শহরে সিনেমার শো শুরু হয় মাগরিবের পরে। লাইনে দাঁড়ানো কাউকে টিকিটের টাকা দিয়ে আমরা ক'জন যেতাম মসজিদে মাগরিব পড়তে। নামাজ শেষে হলে ঢোকা। মনে আছে নাচের কোন দৃশ্য আসলে আমরা ক'বন্ধু মিলে নিজেদের মধ্যে কথা বলা শুরু করে দিতাম যা অন্য দর্শকদের মারাত্মক বিরক্তির কারণ হত।

আমাদের সময়ে বিটিভিতে সিনেমার গানের একটা অনুষ্ঠান হত "ছায়াছন্দ" নামে। আমাদের সম-বয়সীরা অনেকটা পাগলের মত অপেক্ষা করতো সপ্তাহের ঐ দিনটির জন্য। জীবনে মোট দু'বার দেখা হয়েছে আমার ঐ অনুষ্ঠান।

স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হবার পর সিদ্ধান্ত নিলাম জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে অনেক বেশী। নামাজ কাজা করা যাবেনা, সিনেমা দেখা যাবেনা, টিভিতে নাটক দেখা যাবেনা, বন্ধুদের সাথে বসে তাস খেলা যাবেনা, মাঝে মাঝে সৌখিন ধূমপায়ী হিসেবে দামী বিদেশী সিগ্রেট ফুকার অভ্যেসটাও একদম ছেড়ে দিতে হবে, ইত্যাদি।

শেষ পর্যন্ত ১৯৮৫ সাল হয়ে গেল আমার সর্বশেষ কোন সিনেমা হলে যাওয়ার বছর। একটানা আর কোন হলে ঢুকা হয়নি ১৯ বছর। ২০০৪ সালে ফাইন মিডিয়া গ্রুপ যখন "Muhammad -The Last Prophet" রিলিজ় করল তখন আবার হলে গেলাম। কুরবানীর ঈদের দিন পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সদলবলে। মনে হচ্ছিল কোন জিহাদে অংশ নিতে যাচ্ছি, দল বেঁধে। আমাদের সংকল্প ছিল যে হলগুলো ছবিটা দেখাচ্ছে তারা যেন  কোন ভাবেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। ক্লাশে আমার ছাত্র ছাত্রীদের যখন ছবিটা দেখতে যাওয়ার জন্য উদ্‌বুদ্ধ করছিলাম তখন তারা আমাকে জিজ্ঞেস করছিল আমি সিনেমায় যায় কিনা। যখন আমি বললাম সর্বশেষ ১৯৮৫ তে কোন সিনেমায় গিয়েছিলাম তখন তাদের আশ্চর্য হবার পালা।

গত বছর আবার গিয়েছিলাম সুহায়লাহ্‌ ও সামীহাহ্‌কে নিয়ে ডিসনীর "The Earth" দেখতে। এ বছর ওদের নিয়ে গিয়েছিলাম ডিসনীর "The Oceans" দেখতে। দুটোই ডক্যুমেন্টারী। ওরা বেশ মজাই পেয়েছে। আর গত সপ্তাহে গেলাম "Karate Kid" দেখতে।  ভাল লেগেছে ছবিটি। পরিচ্ছন্ন ও সামাজিক কিছু শিক্ষণীয় বিষয়ের। শিশু-কিশোরদের মধ্যে দায়িত্বানুভুতি সৃষ্টিতে ছবিটি ভূমিকা রাখবে বলে আমার মনে হয়েছে। সামীহাহ এতো মেশী মুগ্ধ হয়েছে যে সে তার আম্মুকে হল থেকে বেরিয়েই ফোন করে বলেছে  "আম্মু দ্যাট ওয়াজ় আ গ্রেট মুভি"।

নামে "কারাতে কিড" হলেও শেষ পর্যন্ত ছবিতে কুংফুই দেখানো হয়েছে। মূলত এর আগে করা কারাটে কিড এর ধাঁচে করা হয়েছে বলেই ছবিটার নাম সেভাবে দেয়া হয়েছে। যেন মনে হবে কারাটে কিড এর রিমেক।

আমাদের দেশের সিনেমার কী অবস্থা আমার জানা নেই। তবে ভারতীয় ছবির অনেকগুলোই মনে হয় উপমহাদেশের প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। এ নতুন ধারার মধ্যে পড়ে আমের খানের "লগান" শাহরূখের "তারে জ়মিন পর" এবং "মাই নেইম ইজ় খান", ইত্যাদি। শিক্ষিত রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষের উত্তরাধুনিক মননের খোরাক হয়তো কিছুটা হলেও যোগাচ্ছে এসব ছবিগুলো। এজন্য এগুলো সামাজিক উন্নয়নেরও প্রতীক হয়ে কাজ করে। আমাদের সিনেমার সম্পর্কে যা আমার জানা তাতে মনে হয়, সামাজিক ভাবে আমরা অনেক বেশী অনুন্নত। আর সেজন্যই আমাদের সিনেমার এ ধারা। বরং মনে হয় সামাজিক ভাবে আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছি। কারণ একসময়তো কল্যাণধর্মী বিদগ্ধ জনের মননের উপযোগী ছবি তৈরি হয়েছে আমাদের দেশে যা আর্থিকভাবেও সফলতার মূখ দেখেছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.8 (4টি রেটিং)

আপনার সিনেমা দেখার কাহিনী সিনেমার মতোই লাগলো। ..দেশে সর্বশেষ সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখেছিলাম ১৯৯৪ সালে, আমি তখন ইন্টারমেডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। 

দেশের কোন সিনেমা হলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি আমার। এখানে এসে নরমাল সিনেমা হলে গিয়েছি একবার, হ্যাপি ফিট দেখতে। থ্রিডি সিনেমা হল আইম্যাক্সে যাওয়া হয়েছে কয়েকবার, একবার গেলাম ইবনে বতুতাকে নিয়ে একটা সেমি-ডকুমেন্টারি দেখতে। ভালোই লাগে!

আমি কিন্তু আপনার ইংরেজি অক্ষরে লেখা মুভ্যিগুলোর নাম দেখতে পাচ্ছি না। অন্য কারো কি সেই সমস্যা হচ্ছে? 
২০০৪ সালের কোন মুভ্যিকে আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে চাচ্ছিলেন? 
বাংলাদেশে কোন মুভ্যিতে যাই নি কখনও। এখানে এসে গিয়েছি অল্প কিছু খুবই বাছাই করা মুভ্যিতে! আপনাদের ওখানে আইম্যাক্স থাকলে সামীহাহ আর সুহায়লাহকে নিয়ে ইবনে বতুতার জার্নি টু মক্কাটা দেখবেন, ওদের ভালো লাগার কথা। 
http://www.imax.com.au/films/film.asp?id=72

আমার সমস্যা হচ্ছে না।

২০০৪ সালে আমরা আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে চাইছিলাম ফাইন মিডিয়া গ্রুপের এনিমেটেড মুভি "মুহাম্মদ - দ্য লাস্ট প্রফেট" কে আর ইংরেজীতে লিখা মুভিগুলোর নাম হচ্ছে "দ্য আর্থ" ও "দ্য ওশেন্স"।

"জার্নি টু মক্কা" নিউ ইয়র্কে মে মাসে স্ক্রিনিং হয়েছে, মিউজিয়ম অফ ন্যাচরাল হিস্ট্রির আইম্যাক্স থিয়েটারে। আমার যাবার প্ল্যান থাকলেও ব্যস্ততার কারণে পরে মিস করেছি। আসলে চাচ্ছিলাম আমার গ্লোবাল হিস্ট্রির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ট্রিপের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দেরী হয়ে গেছে।

Journey to Mecca: In the Footsteps of Ibn Battuta (PG)
Follow the amazing story of Ibn Battuta, one of the greatest travellers of all time.

agamikal theke screening hosche. August er ek tarikh porjonto. dekhar khub iccha. Kintu sombhob hobe kina bolte parchina Sad.

কোথায় হচ্ছে স্ক্রীনিং?

"তারে যমীন পার" শিশুদের জন্য দেখার মত হলেও ছবিটি দেখা উচিত প্রত্যেক পিতামাতা বা গার্জিয়ানদের।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

NDTVIMAGE-এর কল্যাণে ছবিটি ৩/৪ বার দেখেছি। 

ভাই আমরা তো সিনেমার কাহিনী নকল করে অভ্যস্হ, নতুন কাহিনী তৈরি করতে পারি না! কারন যারা কহিনীকার তারা মনে হয় কখনই আমাদের বাংলা জনপ্রিয় সামাজিক ছবি গুলো দেখেন না বা আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে ভাবেন না, বরং সারা দিন কাটিয়ে দেন অপসংস্কৃতি চর্চা করে।তারা আমাদের জহির রায়হানের মত চলচিত্রকারদের বাধ দিয়ে ভারতীয় মহেষ ভাটের মত পরিচালকদের বেশী প্রাধান্য দেন..............

-

foysullah

কোন সিনেমাই ভাল লাগে না।

প্রকৃতি নির্ভর এডভেঞ্জার ও কিছু কিছু সায়েন্স ফিকশন এবং কমিক্স আমার ভাল্লাগে। তয় বাংলা বলতে কেবলি টিভি নাটক, তাও লাভলুদার।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

Journey to Mecca: In the Footsteps of Ibn Battuta (PG)
Follow the amazing story of Ibn Battuta, one of the greatest travellers of all time.

agamikal theke screening hosche. August er ek tarikh porjonto. dekhar khub iccha. Kintu sombhob hobe kina bolte parchina Sad.

same msg duibar ashlo keno?

জীবনে প্রথম দেখেছিলাম কেয়ামত থেকে কেয়ামত তক। হলে গিয়ে। সে কি উত্তেজনা, মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে পাঞ্জাবী ব্যাগে ভরে শার্ট পরে। Smiling মাঝখানে পিসিতে প্রচুর দেখতাম। এখন শুনতে একটু আশ্চর্য মনে হলেও সত্যি হার্ডডিস্কে প্রায় দেড়শ গিগা জমে আছে। ডাউনলোড করি, রিভিউতে চোখ বুলাই। কিন্তু একঘন্টা বসে বসে দেখতে হবে ভাবলে ক্লান্তি লাগে। কারাতে কিড, স্পাই নেক্সট ডোর সবই পড়ে আছে। মানুষ অদ্ভুত, একসময় পাগলের মতো খুঁজতাম পেতাম না, আর এখন পেয়ে ভালো লাগে না।সিনেমা অনেক শক্তিশালী মিডিয়া। আমাদের অনেকের কল্পনার চেয়ে শক্তিশালী, আম্রা আছি শুধু এবজর্ব করার তালে।পারলে কোনদিন শফিক রেহমান ষ্টাইলে একটা ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন সোসাইটি করার ইচ্ছা আছে, অসংখ্য ইচ্ছার একটা। তার আগে অবশ্য প্রচুর জানতে হবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.8 (4টি রেটিং)