এসো দিন বদলের যোদ্ধা হই।

বিজ্ঞাপনটি দেখে মনটা ভরে উঠলো।সাত সকালে প্রতিদিনের খারাপ খবরের ভীড়ে একটি বিজ্ঞাপন ও প্রশান্তির হতে পারে।শাহবাগ মোড় থেকে যা প্রত্রিকা কিনেছি,সবগুলোতেই বিজ্ঞাপনটি ছিল।সময়টা ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাস।যা আমাকে আশাবাদী করেছে,তা হল ছা্ত্রলীগের পল্টন সমাবেশের বিজ্ঞাপন।যার শিরোনাম ছিল -
এসো দিন বদলের যোদ্ধা হই।
আমি আশাবাদী এ কারনে যে দলটির ইতিহাস গর্বের,তারণ্যের,ঐতিহ্যের,সমৃদ্ধির সে দলটি তার মুলধারায় ফিরে এসেছে।দিন বদলের জন্য যে ধরনের প্রাণশক্তি প্রয়োজন সে ধরনের প্রাণশক্তি,জনশক্তি দুটোই দলটির রয়েছে।তারণ্যই সমাজ বদলে দিতে পারে এটা ঐতিহাসিক সত্য।
ক্ষমতায় থাকলে সবার কিছুটা আকাংখা বেড়ে যায়।অনেক নির্যাতনের পরে জেল জুলুম মিথ্যামামলা হাজারো যাতনা সহ্য করে যখন সফলতা আসে ,তখন একজন কর্মীর -দলের সফলতায় আমি কি সফল? এধরনের আত্মজিজ্ঞাসা তৈরী হতেই পারে।আমি কি পেলাম? কি পেলাম না?মানুষ হিসেবে আত্মসফলতার প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক।ছাত্রলীগে মুজিব আদর্শের কর্মী যেমন আছে,তেমনি আত্মসফলতায় চিন্তিত কর্মীও আছে।ক্ষমতায় থাকলে যে কোন ছাত্রসংগঠনের বেপরোয়া ডেমকেয়ার ভাব থাকে এটা আজকের ঘটনা নয়।বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক সরকারের সময় আমরা এটা দেখতে অভ্যস্ত।
আজকের ছাত্রলীগ নিয়ে আমরা পত্রিকার পাতায় অনেক সমালোছনার ঝড় দেখি।কোন পত্রিকা সেরা ক্যারিশমাটিক শিরোনাম দিয়ে হিট করে।আবার কেউ ঘটনাকে রূপরস দিয়ে কাব্যময়তা ফুটিয়ে তুলতে চায়।যেমন-(তবুও কি ওরা থামবে না?/বেপরোয়া ছাত্রলীগ/ভয়ংকর ছাত্রলীগ/ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ/বেপরোয়া ছাত্রলীগকে থামাবে কে?/কেউ আবার মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেন-প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলান/প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলাতে পারলেন না।কেউ আবার অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরী করেন এভাবে-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ১৭৫৬ প্রতিষ্ঠান বন্ধ,৮ ছাত্র নিহত,২০০ গ্রেফতার,৩০০ বহিস্কার।
পত্রিকার এসব লেখালেখিতে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে বাবা সংগঠনের অনেকে বলেন-ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন নয়।/এ রকম ছাত্রলীগ জীবনেও দেখিনি।/ছাত্রলীগকে দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে শাস্তি দেয়া হোক।/ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হোক।/আমি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী থেকে পদত্যাগ করলাম।/ছাত্রলীগে শিবির ঢুকেছে।/ছাত্রলীগের দায় সরকার এড়াতে পারেনা।/ছাত্রলীগের জন্য সরকারের সব অর্জন মাটি হয়ে যাবে।/ সরকারের পতনের জন্য ছাত্রলীগ,যুবলীগই যথেষ্ট।

আমি ছাত্রলীগকে একজন হাশমত আলীর কথা বলছি।যিনি ভ্যানচালক হয়েও দলের ভালবাসায় নিজ কন্যা দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য রক্ত ঘাম শ্রম ক্ষয় করে এককন্ড জমি কিনেছিলেন।মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে নিজে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।কিন্তু দলের ভালবাসায় নেত্রীর জন্য কেনা জমিটুকু বিক্রী হতে দেননি।আজ ছাত্রলীগের জন্য একজন হাশমত আলী অনন্য।আজ ছাত্রলীগে অনেক হাশমত আলী প্রয়োজন।
সরকার ছাত্রলীগকে রিমান্ড ,মামলা ,গ্রেফতার না দিয়ে তাদের প্রয়োজন পুরনে আন্তরিক হলেই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে।ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কর্মসুচী ছাত্রলীগ,যুবলীগকে জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করে দিলেই হয়।দেশের বেকার তরুণ সমাজকে যদি জীবন ধারনের ভাল অবলম্বন তৈরী করে দেয়া যায়,এর থেকে বড় সফলতা আর কি হতে পারে?
সরকারী দল ,দলীয়করণ এসব কথায় কান না দিয়ে যারা দিন বদলের স্বপ্নে ,দিন বদলাতে সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে , সে ছাত্রলীগকে না পাওয়ার হতাশা থেকে আশার বন্দরে নিয়ে আসার দায়িত্ব সরকারেরই। ছাত্রলীগকে কি পেলাম ?কি পেলাম না?এ ধরনের হতাশা বাদ দিয়ে দিন বদলের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে দিন বদলের যোদ্ধার ভুমিকা পালন করতেই হবে।

সুঘ্রাণ কাদের
লন্ডন।
sugrankader@yahoo.com

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

বিরোধীদের উপর চড়াও হতে ছাত্রলীগকে পরামর্শ পাটমন্ত্রীর
দিন বদলের কথিত যোদ্ধাদের উস্কানী দেয়া হচ্ছে এভাবেই।

আফসোস! কোথাও কোন সুঘ্রান পাওয়া যাচ্ছেনা।

-

কি দেখো দাড়িয়ে একা !

"আমি ছাত্রলীগকে একজন হাশমত আলীর কথা বলছি।যিনি ভ্যানচালক হয়েও দলের ভালবাসায় নিজ কন্যা দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য রক্ত ঘাম শ্রম ক্ষয় করে এককন্ড জমি কিনেছিলেন।মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে নিজে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।কিন্তু দলের ভালবাসায় নেত্রীর জন্য কেনা জমিটুকু বিক্রী হতে দেননি"

 

প্রধানমন্ত্রী যেন এ ভালবাসার যথার্থ মূল্যায়ন করেন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)