এ রাতে রাসুল সা: আল্লাহ তায়ালার দেখা পেয়েছিলেন, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম

আজ পবিত্র মি’রাজের রাত। ২৭ রজবের আগের রাতে প্রিয়নবী সা: এর জীবনে এবং মুসলিম উম্মতের ইতিহাসের এক অসাধারণ ঘটনা।
শত শত বছর পর আজ মক্কা এক জমজমাট আলোক উজ্জল শহর। যে শহর কখনো ঘুমায় না। ভাবতে চেষ্টা করছি সে রাতে কেমন ছিলো মক্কা ও কাবার আশপাশ।
ঐ বছরটা নি:সন্দেহে কঠিনতম একটা সময় ছিলো মুহাম্মদ সা: এর জীবনে। প্রায় বারো বছর যাবত মক্কার লোকদের দাওয়াত দিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এত বিদ্রুপ, ঠাট্টা আর নির্যাতনও সহ্য করতে হয় ভালো লোকগুলোকে! তিন বছরের অবরোধের পর আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসা। তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে চরম অপমান আর কষ্টের মুখোমুখি হওয়া। হয়তো সর্বশ্রেষ্ঠ আর আশাবাদী মানুষটাও কষ্টে হতাশায় কিছুটা দমে গিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন নিষ্পাপ, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত তো অবশ্যই। জান্নাতের দরজা প্রথম খুলে ভেতরে ঢুকবেন তিনি। তবুও গভীর রাতে ঘুম বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। কান্নাকাটি করতেন। সবাই যখন ঘুমাচ্ছে এমন নিশুতি রাতে উঠে বের হলেন অজু করার জন্য। অজুরা পানি ঢালতে যাচ্ছেন, ফেরেশতা এসে নিয়ে গেলেন তাকে মহান প্রভুর কাছে। যে পরম শক্তিশালী স্বত্তার জন্য পৃথিবীর সব স্বার্থ তুচ্ছ করেছিলেন, সেই মহান বন্ধুর সাথে সরাসরি দেখা করা নিশ্চয় মুহাম্মদ সা: এর জীবনে বিশাল পরিবর্তন এনেছিলো। অহী অবতীর্ণ হওয়া আরম্ভ হবার ঘটনার পর এত গভীর তাৎপর্যময় ঘটনা আর নেই সম্ভবত।
প্রথমে যান জেরুজালেমে। বায়তুল মাকদাসে। কসাই জায়নবাদীদের দখলে বায়তুল মাকদাস আর মসজিদ আকসা আজ কাঁদছে। ওখানে আদিঅন্ত সব নবী রাসুলদের জামায়াতে নামায ইমামতি করেন তিনি। তারপর আকাশপানে যাত্রা। জান্নাত জাহান্নাম দেখা, আল্লাহর সাথে দীদার। রাসুল সা: নিজ মানবীয় শরীর নিয়েই গিয়েছিলেন, স্বচক্ষে আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের এবং মেইনষ্ট্রিম সব মুসলিমদের আকীদা-বিশ্বাস। এটা কোন মানসিক ভ্রমণ বা ধ্যান ছিলো না। ওরিয়েন্টালিষ্টরা বলতে চায়, এটা ছিলো তাঁর মোহ, হ্যালুসিনেশান। কেউ কেউ বলে, মিরাজের ঘটনা গ্রীক এক গল্পের বিবর্তন। বলুক, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। তা আমার চিন্তার বিষয় না।
লক্ষ কোটি আলোকবর্ষের চেয়ে বেশি, মানুষের পরিমাপের ক্ষমতার বাইরে দুরত্ব পেরিয়ে আল্লাহ তায়ালার সাথে দেখা করে যখন তিনি ফিরে আসেন মক্কায় নিজ বাড়ির সামনে, যেখানে দাড়িয়ে অজু করছিলেন। অজুর সময় ঢেলে দেয়া পানিটুকু তখনো গড়াচ্ছে। ঘরের ভেতর স্ত্রী ঘুমাচ্ছেন, সারা মক্কা শহর ঘুমাচ্ছে।
সকালে সবাই আনন্দে ফেটে পড়লো। এতদিন বলতাম মুহাম্মদ পাগল, আজ বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেলো। এমন ঘটনাও কি সম্ভব, এমন কথা যে বলে সে পাগল না তো পাগল কে? কিন্তু আবু বকর নির্বিকার, যদি মুহাম্মদ সা: বলে থাকেন, তাহলে তাই হয়েছে। এতে সন্দেহের কি আছে? সেই থেকে আবু বকর পরিচিত হলে সিদ্দীক নামে, সত্যবাদী নামে।
আমি ভাবতে চেষ্টা করছি, প্রিয়নবীর মন সেই মেরাজের পর কতটা তৃপ্ত সমর্পিত ছিলো। মুসলিমদের জন্য ছিলো পরীক্ষা, যাদের ঈমান দুর্বল তারাও কিছুটা ধন্দে পড়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বাস যতদূর যায়, যুক্তি তার অনেক আগেই থেমে যায়। মিলি সেকেন্ডের ভেতর পৃথিবীর বয়সকাল বা তারো বেশি দুরত্ব ঘুরে আসা কিভাবে সম্ভব তা মানুষের বোধের বাইরে। 
আমাদের দেশে সামাজিক ভাবে আমরা ইসলামকে সেলিব্রেশন করি না। মুসলিম নামমাত্র, জুমা পড়ি, ভালো হলে নিয়মিতও নামায পড়তে চেষ্টা করি। অন্য দেশে দেখেছি লায়লাতুল মিরাজকে তারা নিজেদের সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে নিয়েছে। এ রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে পরিবারের সবাই মসজিদে গিয়ে। রাতে মসজিদগুলোতে ইসলামিক বক্তব্যের অনুষ্ঠান থাকে। কোন হুজুর লম্বা টান দিয়ে আকাশ বাতাসের গল্প করে আসর জমান না। বরং একজন ভালো আলেম ইসলাম নিয়ে, হয়তো মিরাজ উপলক্ষে এ বিশেষ প্রসঙ্গে নিজের কথাগুলো চারপাশের সমাজের সাথে মিলিয়ে সবার সামনে বর্ণনা করেন। স্বামী স্ত্রী ছেলে মেয়ে সবাই চুপচাপ মন দিয়ে শোনে, চিন্তা করে। নিজ জীবনকে চিন্তাকে আরেকটা রিষ্টার্ট দেবার চিন্তা করে।
আমাদের সমাজে বয়স্করা চুপচাপ আবুল তাবুল গানমার্কা সুরেলা ওয়াজ শোনে। শিশুরা পিছনদিকে আর বাইরে দৌড়াদৌড়ি করে। আমার বয়সীরা মোবাইলে এসএমএস লিখে ব্লুটুথে ফাইল ট্রান্সফার করে আর নীচুস্বরে গল্প করে।
ওরা যখন ইমাম সাহেবের বক্তৃতা শেষে কোরআন পড়ে, ইসলামিক বই পড়ে কিংবা শেষ রাতের নামায আর সাহরীর জন্য প্রস্তুতি নেয়, আমরা তখন জিলাপি খেয়ে বাসায় এসে ডিশে কিছুক্ষণ ছাইয়া ছাইয়া দেখি, ইন্টারনেটে ব্রাউজ করি। ফজরের নামায? খিক খিক।
“অন্ধকার সরণী ধরে শেষ হবে এ পথ চলা”। অন্ধকার আজব পথে চলা শেষ হতে হবেই। কয়েক প্রজন্ম পরে হোক, হতাশা নেই। আশার আলোটাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কত হতাশা আর কষ্টের পরও প্রিয়নবী এবং তাঁর সাহাবীরা নিরাশ হয়ে সব ছেড়েছুড়ে দেননি, আমাদের কি যুক্তি আছে নিরাশায় হারানোর? আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ। এই পবিত্র রজনীতে সেই শ্রেষ্ঠ মানুষকে স্মরণ করছি। আল্লাহ, আমাদের আপনি সঠিক পথ দেখান।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

*****

-

-রাজনীতিতে না কি শেষ কথা বলে কিছু নেই

ধন্যবাদ ডালিম কুমার

With regard to this night on which the Isra’ and Mi’raaj took place, there is nothing in the saheeh ahaadeeth to indicate that it is in Rajab or in any other month. Everything that has been narrated concerning a specific date for these events cannot be proven to have come from the Prophet (saw) according to the scholars of hadeeth..
Regarding Shab E Meraj Islamic Research Foundation(IRF) which is leading by Dr Zakir Naik says;
Allaah has wise reasons for causing the people to forget it. Even if the date were proven, it would not be permissible for the Muslims to single it out for particular acts of worship, and it is not permissible for them to celebrate it, because the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) and his companions (may Allaah be pleased with them) did not celebrate it and they did not single it out in any way. If celebrating it was something that is prescribed in Islam, the Messenger would have told his ummah about that, either in word or in deed. If any such thing had happened, it would have been well known, and his companions would have transmitted the information to us. They narrated from their Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) everything that his ummah needs to know, and they did not neglect any aspect of the religion, rather they were the first ones to do anything good. If celebrating this night had been prescribed in Islam, they would have been the first people to do so. The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) was the most sincere of people, and he conveyed the message to the people in full, and he fulfilled the trust. If venerating and celebrating this night were part of the religion of Allaah, then the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) would have done that and would not have concealed it. Since no such thing happened, it is known that celebrating it and venerating it is not part of Islam at all. Allaah has perfected this ummah’s religion for it and has completed His favour upon them, and He condemns those who introduce things into the religion which Allaah has not ordained. Allaah says in His holy Book, in Soorat al-Maa’idah (interpretation of the meaning): 

“This day, I have perfected your religion for you, completed My Favour upon you, and have chosen for you Islam as your religion”

[al-Maa’idah 5:3] 

And Allaah says in Soorat al-Shoora (interpretation of the meaning): 
“Or have they partners with Allaah (false gods) who have instituted for them a religion which Allaah has not ordained?”

[al-Shoora 42:21] 

In the saheeh ahaadeeth it is proven that the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) warned against bid’ah (innovation) and stated clearly that it is misguidance, so as to show the ummah how serious the matter is and put them off it.

(Just copied it from his site) 

ধন্যবাদ আপনাকে। বিস্তারিত নিচে আরেক মন্তব্যের উত্তরে লিখলাম। অনেক ধন্যবাদ।

কার্যকর উপলব্ধি।

অল্প কথায় যথার্থ লিখেছেন।

-

কি দেখো দাড়িয়ে একা !

অনেক ধন্যবাদ

লিখার ধরণটা ভাল হয়েছে। শিক্ষার দিকটাও ভাল। তবে কয়েকটা কথা সঠিক নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল নীচের উদ্ধৃত অংশটা
===========
স্বচক্ষে আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন
===========
রসূলুল্লাহ (সঃ) যেখানে পরিষ্কার করে বলেছেন যে তিনি আল্লাহকে দেখেননি সেখানে অন্যরা কী বলল আর না বলল তাতে কিছু যায় আসেনা। মি'রাজের হাদীসগুলোর একজন বর্ণনাকারী হচ্ছেন আবূ যর আল-গিফারী (সঃ)। আবূযর [রাঃ] বলেছেন আমি তাঁকে [সঃ] জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি তাঁর রব্বকে দেখেছেন কিনা। তিনি [সঃ] জবাবে বলেছেন, "আমি কীভাবে তাঁকে দেখতে পারি? আমি শুধু নূর দেখেছি।"

আর একটা বিভ্রান্তি হচ্ছে মি'রাজের রাতের তারিখ নিয়ে। নবুয়তের কোন বছরের কোন মাসের কত তারিখে মি'রাজ হয়েছে সে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ [সঃ] তাঁর উম্মতকে কিছুই বলে যান নি। এ জন্য রজবের ২৭ তারিখের রাতকে মি'রাজের রাত গণ্য করা একটা বিভ্রান্তি। মি'রাজ হয়েছিল রসূলুল্লাহর কোন এক রাতে, যখন আল্লাহ তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত  ও সেখান থেকে সাত আসমানের উপরে সিদ্রাতুল-মুনতাহা পর্যন্ত পরিভ্রমন করিয়েছেন। কিন্তু সে রাত কোনটি সেটি সম্পর্কে আমাদের মহাপ্রাজ্ঞ প্রভূ ও তাঁর হাবীব [সঃ] সুনির্দিষ্ট করে আমাদের কিছুই জানাননি।
========
In his book entitled Ada’ ma Wajaba fi Bayan
Wad` Al-Wadda`ina fi Shahr Rajab, Abu Al-Khattab `Umar ibn Dahya,
one of the scholars of the seventh Hijri century, states, “Some
narrators maintained that the Night Journey of the Prophet (peace and
blessings be upon him) was in Rajab, which is a mere lie.” This opinion
of Abu Al-Khattab was confirmed by Al-Hafizh ibn Hajar Al-`Asqalani, the
well-known exegete of Al-Bukhari’s authentic book of Hadith.
In his book entitled Al-Bidayah wan-Nihayah,
Ibn Kathir cited the statements of the Muslim scholars regarding
determining the night of the Prophet’s Ascension. These statements can
be summarized in the following points:

The scholars of Seerah (the Prophet’s biography) differed
regarding the exact year of the Prophet’s Night Journey and Ascension.
It was said that it was about ten years after the beginning of the
revelation, and this is the opinion of Ibn Ishaq. However, it is
reported that Az-Zuhri and `Urwah maintain that the Prophet’s Night
Journey (to Jerusalem) was one year before his Hijrah from Makkah to
Madinah. On the other hand, Isma`il As-Saddi maintains that the
Prophet’s Night Journey was sixteen months before his Hijrah to Madinah.
Thus, according to the opinion of As-Saddi, the Prophet’s Night Journey
was in the month of Dhul-Hijjah, and according to the opinion of
Az-Zuhri and `Urwah, it was in the month of Rabi` Awwal. Moreover,
Al-Hafiz `Abdul-Ghani ibn Surur Al-Maqdisi states that the Prophet’s
Night Journey was on the night of Rajab 27. Yet some other scholars view
that it was on the first Friday night of Rajab.

Read more: http://www.islamonline.net/servlet/Satellite?pagename=IslamOnline-English-Ask_Scholar%2FFatwaE%2FFatwaE&cid=1119503548984#ixzz0tLEndA5m

তারিখ নিয়ে ঠিক বলেছেন। কিছুটা জানতাম, কিন্তু লেখার মূল প্রসঙ্গ অন্য কিছু হওয়াতে ঐদিকে আর বড় করিনি। আমার উচিত ছিলো 'অকাট্যভাবে প্রমাণিত না, তবে অনেকের মতে এবং বহুল প্রচলিত তারিখ রজব মাসে........' আরো কয়েকটা অনুমিত তারিখগুলো সহ বলা। এ সুযোগে বিষয়টা উল্লেখের সুযোগ করেছেন, কৃতজ্ঞতা থাকলো। ধন্যবাদ।
লায়লাতুল মিরাজ কে প্রথাগত ভাবে উদযাপনের বিরোধী দেখলাম সালাফী আলেমদেরকে, কারণ তারা বিদআত সম্পর্কে খুব সতর্ক। আমি সাধারণ মুসলিম হিসেবে এটাকে সম্মান করি। সার্চ করতে গিয়ে শেখ উসাইমিনের একটা বক্তব্য পেলাম।http://www.ibnothaimeen.com/all/noor/article_7767.shtmlওনার বক্তব্যের মূলকথা হলো উম্মতের জন্য লায়লাতুল মিরাজের চেয়ে লায়লাতুল কদর বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর রাসুল সা: এর জন্য ব্যাক্তি হিসেবে লায়লাতুল মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ যথার্থ কারণেই। এটা রজব এর সাতাশ তারিখ তার অকাট্য প্রমাণ নেই, বরং রবিউল আউয়াল মাসে হবার সম্ভাবনা বেশি। এটা নিশ্চিত ভাবে জানানো হয়নি। আর রজব আর সাতাশ তারিখ বিশেষ ভাবে ইবাদত বা উদযাপন করাকে উনি বিদআত মনে করেছেন। এ হিসেবে উপরের মন্তব্যে নাজমুল সাহেবের মন্তব্যও প্রাসঙ্গিক। এ থেকে বুঝা গেলো, লায়লাতুল মেরাজ এর জন্য বিশেষ কোন ইবাদত/নফল নামায পড়া ঠিক না। সাতাশ তারিখে রোযা রাখার যে ট্রাডিশন, তাও তাহলে গ্রহণযোগ্য না হবারই কথা। 
আল্লাহকে দেখার বিশ্বাসটা কোন এক মসজিদে একজন আলেমের আলোচনায় শুনেছিলাম। যতদূর মনে পড়ে উনার যুক্তি ছিলো, মুসা আ: আল্লাহকে দেখতে পারেন নি, কিন্তু সরাসরি কথা বলেছেন। সুতরাং তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সা: ও মিরাজে আল্লাহকে দেখেছেন। আর যেহেতু আহলে সুন্নাতের আকীদা হলো কুরআনের আয়াত অনুযায়ী কিয়ামতের পর বেহেশতীরা সরাসরি আল্লাহকে দেখবে, এটা রাসুল সা: এর বিশেষ মর্যাদার কারণে দুনিয়াতে থেকেই দেখানোর সুযোগ দিয়েছেন আল্লাহ।
এটা নিয়ে আমি আর পড়ালেখা করিনি। এখন খুঁজে দেখলাম, আলেমদের মতে আল্লাহ তায়ালাকে সরাসরি দেখেননি। আয়েশা রা: এ মত পোষণ করেছেন। অন্যদিকে ইবনে আব্বাসের একটা বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, তিনি মনে করেন আল্লাহকে রাসুল সা: চর্মচক্ষে দেখেছেন। কিন্তু এর ব্যাখ্যা আছে দেখলাম।
http://sirah.al-islam.com/display.asp?f=zad3007.htm
আপনি যে হাদীসের কথা বলছেন, তাও সহীহ মুসলিমে আছে।قَالَ أَبُو ذَرٍّ قَدْ سَأَلْتُ فَقَالَ رَأَيْتُ نُورًاআবু যর বলেন, আমি এ প্রশ্ন করেছিলাম। তখন রাসুল সা: বলেছিলেন: আমি নুর দেখেছি।মুসনাদে আহমাদেও পেয়েছি।قَالَ فَإِنِّي قَدْ سَأَلْتُهُ فَقَالَ قَدْ رَأَيْتُهُ نُورًا أَنَّى أَرَاهُআবু যর বলেন, এ প্রশ্ন রাসুল সা: কে করেছিলাম। তিনি বলেন: আমি আল্লাহকে যখন দেখেছি তাকে নূর হিসেবে দেখেছি।

ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার বক্তব্য মেনে নিলাম :) 
তাহলে দাড়াচ্ছে, লায়লাতুল বরাতের মতো লায়লাতুল মেরাজ উদযাপন ও ঠিক না। লায়লাতুল মিরাজ সম্পর্কে জানতে হবে, ভালোভাবে জানতে হবে, যেমনরাসুল সা: নিজ চোখে আল্লাহকে দেখেননি। কোন ধরণের নূর দেখেছেন। কিন্তু এটাকে উদযাপনের কিছু নেই। যদি উদযাপন করতে হতো তবে রাসুল সা: ও তাঁর সাহাবীরাও করতেন। 
এতে যদি কোন সমস্যা থাকে জানাবেন। এর বাইরেও কোন সমস্যা বা ভূল চোখে পড়ে আপনার, জানালে খুশী হবো। 

ধন্যবাদ আমিন ভাই। আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাজ়াহ দান করুন। মিরাজের যে শিক্ষা আলোচনা করেছেন তাঁর সাথে কোন দ্বিমত নেই। কিন্ত আমাদের দেশে এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশে রজবের ২৭ তারিখের রাতকে যেভাবে প্রথাসিদ্ধভাবে পালন করা হয় তা নিঃসন্দেহে এক বিরাট বিভ্রান্তি। মি'রাজ আল্লাহর কুদরতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর শিক্ষাও আমরা আলোচনা করতে পারি, যে কোন সময়। কিন্তু রজবের ২৭ তারিখের রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়ার কোন শর'য়ী ভিত্তি নেই।
একইভাবে ইবন আব্বাস [রাঃ] বলেছেন রসূলুল্লাহ [সঃ] আল্লাহকে দেখেছেন। এটা ইবন আব্বাসের [রাঃ] ব্যক্তিগত মতামত। তিনি এভাবে রসূলুল্লাহ্‌ [সঃ] থেকে কিছু বর্ণনা করেননি। আবার তিনি বলেননি যে রসূলুল্লাহ [সঃ] চর্মচক্ষু দিয়ে আল্লাহ তা'আলাকে দেখেছেন।
অন্যদিকে আয়িশা [রাঃ], আবূযর [রাঃ] এবং ইবন মাসঊদ [রাঃ] পরিষ্কার করে রসূলুল্লাহ [সঃ] থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাঁর রব্বকে দেখেননি। এই বর্ণনাগুলো পরিষ্কার - কোন ধরণের দ্বিধা থেকে মুক্ত। তাই এগুলোই গ্রহনযোগ্য। ইবন আব্বাসের [রাঃ] বর্ণনাকে যদি আমরা সত্য বলে ধরেও নেই তবে তা হবে রসূলুল্লাহ [সঃ] অন্তর্চক্ষু দিয়ে আল্লাহকে দেখেছেন কারণ তাহলে তা কুর'আনের বাণী
لاَّ تُدْرِكُهُ
الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
(৬:১০৩)
"কোন দৃষ্টি তাঁকে আয়ত্ব করতে পারেনা বরং সব দৃষ্টিই তাঁর আয়ত্বাধীন; আর তিনি সব সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে অবহিত" এর সাথে সাংঘর্ষিক হয়না।
জাজ়াকাল্লাহু খায়রান।

আপনি আমাকে তুমি করে না বললে হবেনা, আমি একজন ছাত্র। এটা কিন্তু পরে ভূলে যাবেন না। Laughing

ধন্যবাদ। বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য। এ সুযোগে জিনিষটা জানা হলো।
আমি আরেকটা বিষয় সম্পর্কে একটু পড়েছিলাম। কুরআনের আয়াত وجوه يومئذ ناضرة، إلى ربها ناظرة এর ভিত্তিতে আহলে সুন্নাত বিশ্বাস করে আল্লাহ তায়ালাকে বেহেশতে যারা যাবেন তারা সরাসরি চোখে দেখবেন, এটা আল্লাহর দীদার লাভ করা। কেয়ামতের পর বেহেশতে।
মু'তাযিলারা এর বিরোধী, তারা মনে করে আল্লাহ তায়ালাকে তখনো সরাসরি চোখ দিয়ে দেখবে না বেহেশতবাসীরা।

ঐ মতপার্থক্যের সাথে মিরাযের ঘটনাটার গিট্টু লেগে গিয়েছিলো আমার মাথায়। Smiling আর ঐ বক্তৃতায় শোনার পর পড়ে যাচাই করা হয়নি। ধন্যবাদ আপনাকে অনেক। ইবনে আব্বাস রা: এর মতটা সুন্দরভাবে বিস্তারিত লিখেছেন, এটাও ভালো হয়েছে।
ভালো থাকবেন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)