এটা কি গনতন্ত্র না বাকশালীয় যুগ?

বাবা চাচার কাছে শুধু গল্প শুনতাম বাকশাল আমলে বাক স্বাধীনতা ছিলনা,
মিডিয়ার কোন স্বাধীনতা ছিলনা, দল ছিল একটা অন্য কোন দলকে টলারেট করা
হতনা....প্রকাশ্যে বাকশালীরা এসে মা বোনদের ইজ্জত হরন করত....ইত্যাদি । আজ
মনে হচ্ছে বাকশাল প্রকাশ্যে দেখতে পাচ্ছি। মীর্জা আব্বাসের বাসায় ঢুকে
পুলিশ যা করেছে তা কি সেই বাকশালের কথা মনে করিয়ে দেয়না? অন্য বাসা থেকে
পানি নিতে আসা অসহায় মহিলাকে পিটানোর বাকশালীয় কায়দা যারা টিভি দেখেছেন
তাদের সবাইকে বোধ করি মর্মাহত করেছে। পত্রিকা বন্ধের ঘটনাতো সকলের কাছে
স্পষ্ট। তারপর জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতাকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার
অপরাধে গ্রেফতার করা এবং আদালত অবমাননার সমন জারি করার সাথে সাথে তা
কার্যকর করা রীতিমত একটা বাকশালী আচরন ছাড়া আর কিছুইনা। কারন বর্তমান
সরকারতো ধর্ম নিরপেক্ষ, তাদের ধর্মীয় অনুভুতি বলতে কিছু থাকার কথা না তাহলে
কি বুঝব রাজনৈকতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে?
জামায়াত নেতাদের যে অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে ত্রর চেয়ে বড় অপরাধ করেছে
বর্তমান সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।কামরুল ইসলাম বলেছিলেন
"আল্লাহ যদি কোটি বছর পর মানুষের বিচার করতে পারে তাহলে আমরা কেন ত্রিশ বছর
যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে পারবনা?" পক্ষান্তরে জামায়াত নেতা বলেছেন -"রাসূল
সা: তার জীবনে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যারা রাসুলের পথে থাকবে
তাদেরকেও নির্যাতনের শিকার হতে হবে, মাওলানা নিজামী সে পথে আছেন তার উপরও
নির্যাতন আসবে" এটা চিরন্তন সত্য কথা। মসজিদের ইমামরাও বক্তব্যে এ কথা বলে
থাকেন। এবার বলুন অপরাধ কার হয়েছে কামরুলের নাকি জামায়াত নেতার? তরিকত
ফেডারেশনের যে ব্যক্তি জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উনি কি কামরুলের
বক্তব্য শুনেন নাই, কই তার বিরুদ্ধেতো মামলা করলেন না ? তাহলে কি বলা যায়
না যে এই মামলা জামায়াত কে হয়রানী করার জন্য করা হয়েছে? অন্য কোন মামলায়
জামায়াত নেতাদের ধরার কোন কায়দা না পেয়ে সরকার এ পথ বেছে নিয়েছে। এটা কি
গনতন্ত্রের চর্চা? সরকারের এ আচরন সরকারের জন্য বুমেরাং হবে। তাই সরকাররে
উচিত বাকশালী আচরন পরিহার করে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)

গত কয়েকমাসের ঘটনাবলীর পরেও কি সন্দেহ করার সুযোগ আছে যে এটা বাকশালী যুগ না?

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)