সিয়াম সাধনার মাস মাহে রামাদান

بسم ا لله ا لر حمن ا لر حيم

 সিয়াম:

সলাতের পরে আল্লাহতালা মুসলিমদের প্রতি আল্লাহতালা সিয়াম কে ফরজ করেছেন।সকাল
থেকে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস বন্ধ রাখার নামই সিয়াম।সলাতের ন্যায়
সিয়াম পালন করাও প্রত্যেক নবী রাসূলের উম্মতের উপর ফরজ ছিল।তবে সিয়ামের হকুম
আহকাম, সিয়ামের সংখ্যা এবং সিয়ামের সময় ব্যাপারে বিভিন্ন নবী রাসূলের শরীয়তে
পার্থক্য ছিল।পবিত্র কোর
আনে আল্লাহতালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ
الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

হে ঈমাদারগণ ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি করা হয়েছিল।যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার
। ( সূরা আল বাকারাঃ২/১৮৩ )   

রমযান মাস,যার মধ্যে কোরআনুল করিম নাযিল হয়েছে। এ কেতাব গোটা মানবন্ডলীর জন্যে
হেদায়ত (পথ প্রদর্শক)এবং হেদায়তের কথাগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী, আর (সত্য ও
মিথ্যার মাঝে)পার্থক্যসৃষ্টিকারীও বটে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসের সাথে সাক্ষাত
লাভ করবে সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে ।

এখন চিন্তার বিষয় সিয়ামের মধ্যে এমন কি বস্তু নিহিত আছে, যার জন্য
আল্লাহতালা সকল যুগের শরীয়তে এই ব্যবস্থা করেছেন ।

মানুষ জন্মগত ভাবে আল্লাহর বান্দাহ, আল্লাহর বন্দেগী করা তার প্রকৃত
স্বাভাব ।সুতরাং চিন্তা ও কর্মের দিক দিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও আল্লাহর বন্দেগী
পরিত্যাগ করা মানুষের পক্ষে উচিত নয় ।জীবনের প্রতিটি কাজে চিন্তা করা উচিত যে,
আল্লাহ কিসে সন্তোষ, আর কিসে অসন্তোষ।তারপর মানুষ সন্তোষ্টি লাভের আশা করতে পারবে
এবং মানুষের সেই দিকে যাওয়া উচিত যে দিকে গেলে আল্লাহ সন্তোষ্ট হয়।আর যে দিকে গেলে
আল্লাহ অসন্তোষ্ট হয় সেই দিক থেকে এমন ভাবে দূরে থাকা উচিত, যেমনি মানষ আগুন হতে
দূরে থাকে । সুতরাং মানুষের এমন ভাবে চলা উচিত যে পথে চললে আল্লাহতালা খুশি হয়।
এভাবে সমগ্র জীবন যখন পরিচালিত হবে তখন প্রমানিত হবে যে, যথাত ভাবে আল্লাহর
বন্দেগী করছে। পবিত্র কোর
আনে আল্লাহতালা বলেন,

মানুষ ও জ্বীন জাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি
করেছি

আল্লাহ এই ঘোষনা অনুসারে জীবন পরিচালিত করতে পারলে সে সার্থক ।

আসল ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করাঃ

নামাজ, সিয়াম, হজ্জ ও যাকাত নামে পরিচিত যে ইবাদতগুলো মানুষের প্রতি ফরজ
করা হয়েছ, সেই আসল ইবাদত এর জন্য প্রস্তুত করায় হল সিয়ামের প্রকৃত উদ্দেশ্য । আর
এই ইবাদত গুলো ফরজ করার উদ্দেশ্য হল, ইবাদত গুলোর ভিতর দিয়ে গোঠা জীবন কে আল্লাহর
বন্দেগীর যোগ্য করে গড়ে তোলা ।

সিয়াম ছাড়া অন্য যেই সব ইবাদত আছে, তা পালন করার জন্য মানুষকে কোর না কোর
রূপে বাহ্যিক প্রকাশের আশ্রয় নিতে হয় । যাকত দেওয়ার সময় তা যত গোপন দেওয়া হোক না
কেন তা অন্তত পক্ষে ২জনকে জানতে হয়, ১জন দেয় অপর জন নে ।কিন্তু
সিয়াম এর কথা আল্লাহ এবং ব্যক্তি নিজে ছাড়া আর কেউ জানতে পারে না । ১ব্যক্তি যদি
সকলে সাথে সেহেরি খায় ইফতারের সময় সকলের সাথে ইফতার করে আর দিনের বেলা গোপনে কিছু
খায় বা পান করে, তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারু পক্ষে জানা সম্ভব নয় ।

আর যে ব্যক্তি প্রকৃত পক্ষে সিয়াম পালন করে, সে লুকিয়ে কিছু পানাহার করে
না, কঠিন গরমের সময় পিপাসায় কলিজা ফেঁটে যাবার উপক্রম হলে ও সে ১ফোঁটা পানি পান
করে না- অসহ্য ক্ষধায় দরুন কষ্ট ফেলে ও সে কোন কিছু পান করা ইচ্ছা করে না । সেই
ব্যক্তির ঈমান কত মযবুত? আল্লাহতালার আলমে গায়েবকে সে কত কতখানি দৃঢ়তার সাথে
বিশ্বাস করে ।  সে জানে তার কাজ দুনিয়ার
লোকদের কাছে অজানা থাকলেও আল্লাহর কাছে কিছু অজানা নয় ।সে পরকালের বিচারের প্রতি
দৃঢ় বিশ্বাস রাখে । তাই সে দীর্ঘ সময় প্রায় ৩৬০ ঘন্টাকাল সিয়াম পালন করে।এই দীর্ঘ
সময়ে তার মনে পরকাল সম্পর্কে কোন ধরনের সন্দেহ জাগে না । যদি তার মনে কোন রখম
সন্দেহ জাগত তাহলে সে কিছুতেই সিয়াম পূর্ণ করতে পারত না ।

এভাবে আল্লাহ তালা প্রত্যেক বছর এক মাস কাল মসুলমানদের ঈমানের ধারাবাহিক
পরীক্ষা নিয়ে থাকেন । এই পরীক্ষায় মানুষ যতই মযবুত হয়, ততই তার ঈমান দৃঢ় হয় ।
বস্তুত সিয়াম হল পরীক্ষার ওপরে পরীক্ষা, ট্রেনিং-এর উপর ট্রেনিং।

সিয়ামের একটি বৈশিষ্ট্য:

সিয়াম মুসলমানকে দীর্ঘকাল শরীয়তের হুকুম ধারাবাহীক ভাবে পালন করতে বাধ্য
করে । নামায আদায় করতে খুব বেশি সময় লাগে না । যাকাত বছরে একবার আদায় করতে হয়।
হজ্জ দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু হজ্জের সুযোগ জীবনে শুধু একবার এসে থাকে তাও সকল
মুসলিমদ পালন করতে পারেনা, যাদের অর্থ আছে তারই পারে ।কিন্তু সিয়াম সম্পূর্ণ আলাদা
। তা প্রত্যক বছর ১মাস ধরে দিন-রাত প্রত্যেক মুসলমানকে ইসলামী শরীয়াত পালনে অভ্যাস
করায় ।

এভাবে প্রত্যেক বছর পূর্ণ একটি মাস সকাল সন্ধ্যা পর্য়ন্ত মুসলমানকে
ক্রমাগতভাবে সিপাহীদের ন্যায় একটি মযবুদ আইনের দ্বারা বেঁধে নেওয়া হয় ।তারপর
১১মাসের জ্ন্য তাকে জীবনের কর্মক্ষেত্রে মুক্ত করে দেওয়া হয় । এ মাসে যে ট্রেনিং
সে পেয়েছে, পরবর্তী ১১মাস তার কাজ-কর্মের ভিতর তা যেন প্রতিফলিত হয় এবং তারপর ও
কোনো বিষয় অসম্পূর্ণ থাকলে পরবর্তী বছর তা যেন পূর্ণ করে দেওয়া হয় ।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)