ami nesa

বিসমল্লিাহির রহমানিরে রাহীম

আমরা নারীরা যেমন এক জনের স্ত্রী আবার অন্য দিকে অনেকের মা । মায়েরা যেভাবে সন্তানকে শিক্ষা দিবে সন্তান সেভাবে গড়ে উঠবে এবং লালিত হবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। সুশীলা মা সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়ার পরও কিছু সন্তানের মানুষের সভাব থাকেনা।এর কারণ হয়তোবা আল্লাহর ইচ্ছা, নতোবা খারাপ জেনারেসন থেকে খারাপ কিছু নিয়ে আসা। তারপরও আমাদের মা হতে হবে বিবি হাজেরার মত । যাকে তার স্বামী ইবরাহিম আ. একটি দুধের শিশুসহ জনমানবহীন কিছু পানি ও খানা দিয়ে একা ফেলে এসেছিলেন। তাকে রেখে স্বামী যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন বিবি হাজেরা শুধু জিঞ্জেস করেছিলেন প্রিয় স্বামী ! এটা কি আল্লাহর হুকুম? ইবরাহিম আ. ইশারায় শুধু হ্যাঁ বলেছিলেন। বিবি হাজেরা এরপর আর একটি প্রশ্ন-ও করেননি। কিন্তু মা হাজেরা তিনিতো নবী ছিলেননা বা আল্লাহর সাথে তার সরাসরি কথাও হয়নি। এটাকে মেনে নিয়েছিলেন এজন্য যে, আল্লাহর প্রতি ছিল তার প্রগাঢ় বিশ্বস এবং তিনি ছিলেন স্বামীর অনুরাগী স্ত্রী।

ছয় সাত বছরের শিশু ইসমাঈল আ. কে কুরবানি করার জন্য যখন ইবরাহিম আ. পাহাড়ে উঠায়, তখন ইবরাহিম আ. এর স্ত্রী সন্তানকে সাজিয়ে দিয়ে ছিলেন আল্লাহর জন্য কুরবানি দিতে ( সুবহানাল্লাহ!)। শিশু ইসমাঈল আ. কে কুরবানির প্রস্ততি যখন শুরু করেন তখন ইসমাঈল আ. নিজ পিতা ইবরাহিম আ. কে লক্ষ্য করে বললেন, আমাকে যদি আল্লাহর জন্য কুরবানি করা হয় তবে আপনি কেন চিন্তিত! আপনি আমার চোখ ও হাত পা বেঁধে ফেলুন, যাতে আমি নড়া চড়া করতে না পারি। আর আমার রক্ত যেন ছিটকে আপনার গায়ে না যায়। ( আল্লাহ আকবর) এতটুকু শিশুর কী আদব লেহাজ! কে শিখিয়েছিল এ আদব লেহাজ? মা হাজেরা আ.। তাইতো ইসমাঈল আ. এর বংশধর থেকে মোহাম্মদ সা. এর জন্ম। ( মাশা আল্লাহ)

মা হতে হবে আবদুল কাদের জিলানি রহ. এর মায়ের মতো। শিশু জিলানিকে শিখিয়ে ছিলেন মৃত্যুর দোয়ারে দাঁড়িয়েও মিথ্যা না বলতে। তাই তো একদিন জাহাজে একদল ডাকাত জিলানি রহ.-কে আক্রমন করার পর সত্য বলে দিয়েছিলেন, তার কাছে কত টাকা আছে। বালক জিলানি রহ. এর সততা দেখে ডাকাতদলের সবাই তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসে। তাদের এই তওবা ও সৎ পথে চলে আসার পিছনে মূল ছিলো একজন মায়ের সুশিক্ষা। যিনি আমাদের মত একজন নারী। এমনকি আল্লাহ তাআলা পুরুষের কাছে নারী জাতিকে ছোট করেননি। আল্লাহ বলেন- মুমিন নারী ও পুরুষের মধ্যে যে কেউ সৎ কাজ করবে আমি তাকে নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করবো। [ সুরা নাহল-৯৭]

পবিত্র কুরআনের সুরা নিসায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন- যদি কোন স্বামীর স্ত্রী পর্দা না করে, নামাজ না পড়ে, স্বামীর সাথে বেয়াদবী করে তাহলে প্রথমেই তাকে আঘাত করা যাবে না। তিনটি কাজ দিয়ে তাকে শাসন শুরু করতে হবে-

১.প্রথমে ওয়াজ করতে হবে,

২.বিছানা আলাদা করতে হবে,

৩.তারপর মারতে হবে।

দেখুন আল্লাহ তাআলা নিজেই স্ত্রী লোকের প্রতি কতটুকু ধৈর্য নিয়ে আয়াত নাযিল করেছেন। তাহলে আমরা বান্দারা কী? তারপর শারীরিক আঘাতের ব্যাপারে আল্লাহ রাসূল স. বলেছেন, মুখে বা চেহেরায় মারা যাবে না এবং এমন কোন আঘাত করা যাবেনা যাতে তার দাগ হয়ে যায়। যদি কোন স্বামী স্ত্রীকে মেরে দাগ করে তাহলে ঐ দাগ নিয়ে কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মিজানের সামনে দাড়িঁয়ে স্ত্রী আল্লাহর কাছে তার জুলুমের হক আদয় করবে, এবং আল্লাহ তার হক পরিপূর্ণ ভাবে দিবেন।

আমি বলবো যেহেতু আমরা স্বামীর টাকায় নিজেদের মাাতয়ে রাখি, তাই স্বামীকে কেন তার প্রাপ্য সম্মান দিবনা। আর স্বামী যদি জালিম হয় আমাদের ধৈর্য় ধারণ করাই শ্রেয় । কোন ফয়সালাই নিজে না দিয়ে আল্লাহর পানে তাকিয়ে থাকা উচিত। আর ভাল স্ত্রী এবং মা তারাই হতে পারে, যে স্ত্রী আল্লাহকে ভয় পায় এবং সন্তানকে, স্বামীকে আল্লাহর দিকে নিতে সাহায্য করে। সে সফলকাম হোক আর না হোক, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেই স্ত্রীকে জান্নাত দান করবেন, শুধু চেষ্টা করার ফজিলতে। স্বামী যখন স্ত্রীকে কিছু উপহার দেন তার অধিকার শুধু স্ত্রীর, আর যদি কোন কিছু জমা রাখেন তাহলো আমানত। স্ত্রী জন্য ফরজ হলো যেকোনভাবে তার লজ্জাকে নিবারণ করে স্বামীর সম্পদকে হেফাজত করা।

------------------------------------------------------------------------------------শ

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)