সূরা আসর

بسم الله الرحمن الرحيم
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে ( শুরু করছি )।
وَالْعَصْرِ (١
১) মহাকালের শপথ,
۲) إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ
২) মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে;
۳) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْ
৩) কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও পরস্পরকে ধৈর্য়ধারনে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।
নামকরণ:-
১ম আয়াতের “ আল আসর”( الْعَصْرِ ) শব্দটিকে এর নাম হিসাবে গন্য করা হয়েছে।
নাযিল হবার সময় কাল:-
সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে তা নিয়ে মুফারসির ও তাফসীর কারকগনের মধ্যে মতবেদ রয়েছে। তবে অধিকাধংশ তাফসীর কারক গন সূরাটিকে মক্কী যুগের প্রথম দিকের সূরা বলে অবহিত করেছেন। এই সময় কার সূরা গুলো ছিল সংক্ষিপ্ত ও মর্মস্পর্শী, যা শ্রোতা একবার শুনার পর ভুলতে চাইলেও আর ভুলতে পারত না।এই সূরার আকার ও বিষয় বস্তু থেকে বুঝা যায় এটি মক্কী যুগের ১ম দিকের সূরা।
শানে নযুল ও সংক্ষিপ্ত আলোচ্য বিষয়:-
এই সূরাটি ব্যাপক অর্থবোধক ও একটি অতুলনীয় নমুনা। এই ক্ষুদ্র সূরার মধ্যে মানব জীবনের একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান বিদ্যমান রয়েছে। এখানে মানুষের সাফাল্য ও কল্যান এবং ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী ( রাহ: ) এই সূরাটি সম্পর্কে বলেছেন, মানুষ যদি এই সূরাটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তাহলে এটিই তাদের হেদায়তের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ-রাসূল এর সাহাবীদের দৃষ্টি কোন থেকে এই সূরাটির গুরুত্ব অপরসীম।
হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে হিসন দারেমী আবু মাদীন-
كَانَ الرَّجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا الْتَقَيَا، لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلَّا عَلى أَنْ يَقْرَأَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ "سُوْرَةَ الْعَصْرِ" إِلى آخِرِهَا، ثُمَّ يُسَلِّمَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ
‘রাসূলুল্লাহ ( স: ) এর সাহাবীদের মধ্য থেকে যখন দুই ব্যক্তি মিলিত হতের তখন তারা একজন অপরজনকে সূরা আসর না শোনানো পর্য়ন্ত বিচ্ছিন্ন হত না’। ( তাবারানী )
আয়াত সূমুহের ব্যাখ্যা:-
وَالْعَصْرِ (١
১) মহাকালের শপথ,
এই সূরাই আল্লাহতালা সময়ের কসম খেয়ে বলেছেন , মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মধ্য রয়েছে । এখানে কোন সমাজ গোষ্টি ও গোত্রের কথা বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে পুরু মানব জাতিকে। এই ক্ষতি থেকে একমাত্র তারাই রক্ষা পেয়েছে যারা চারটি গুনাবলীর অধিকারী: ১. ঈমান ২. সৎকাজ ৩. পরস্পরকে হকের উপদেশ দেয়া এবং ৪. অন্যকে সবর করার উপদেশ দেয়। প্রশ্ন যাগে আল্লাহ সময়ের কসম করে বলেছেন। পৃথিবীতে মানুষ কোন বিষয় সত্যতা প্রকাশ করার জন্য অথবা নিশ্চিত করে বলার জন্য মহান আল্লাহর নামে শপথ করে থাকে। আল্লাহ যখন কোন বিষয়ে শপথ করে কথা বলতে চান, তখন এই কথার মধ্যে গভীর তাৎপার্য় তাকে। আল্লাহতালা সৃষ্টি কোলের বস্তুর শ্রেষ্টত্ব অর্জনের জন্য কথা বলে না। বরং শপথ কৃত জিনিস সত্যতা প্রকাশ করে বিধায় এই বিষয়ে শপথ করে থাকেন। এখানে সময় বলতে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ যে কোনটি হতে পারে। অতীত কালের কসম খাওয়া মানে হচ্ছে, মানুষের ইতিহাস সাক্ষদেয়, যারাই এই গুনাবলী বিবর্জিত ছিল তারাই পরিণামের ক্ষতিগ্রস্ত। 
বর্তমান কালের কসম খাওয়া মানে হচ্ছে, বর্তমানের কসম হলো বর্তমানের অতিবাহিত সময় মানুষকে কাজের জন্য দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত অতিবাহিত সময় হলো মূলধন।
ইমাম রায়ী কর্তৃক এক মনীষির উক্তি-
এক বরফ ওয়ালা বাজারে হেকে চলছিল , দয়া কর এমন এক ব্যক্তির প্রতি যার পুজি গলে যাচ্ছে।
. ১.“মানুষ” বলতে সমগ্র জাতিকে বোঝানো হয়েছে।
. ২. “ ক্ষতী” বলতে সাধারণ অর্থে লাভের বিপরীত হলেও এখানে কল্যান ও সফলতা বিপরীত অর্থে।
. ৩. ( সাফাল্য ও ক্ষতির ) প্রকৃত অর্থ হলো দুনিয়ার ও আখিরাত উভয় জায়গায় ক্ষতি বিরজমান। চারটি গুন সম্পূর্ণ মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়াগায় লাভবান।
۲) إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ
২) মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; 
এই আয়াতে আল্লাহতালা বলেন, মানুষ নিশ্চয় অত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। মানুষ শব্দটি এক বচন। কিন্তু পরের আয়াতে চারটি গুন সম্পূর্ণ মানুষকে আলাদা করে নেয়া হয়েছে। কারণ এখানে মানুষ শব্দটি জাতি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি, গোষ্টি , জাতি পুরু মানব সম্প্রদায় এর মধ্যে সমান ভাবে শামিল। সুতরাং পরের আয়াতে যেই চারটি গুণের কথা বলা হয়েছে, তা যদি কোন ব্যক্তি, গোষ্টি , জাতি পুরু মানব সম্প্রদায় এর মধ্যে বিদ্ধমান না থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি, গোষ্টি , জাতি পুরু মানব সম্প্রদায় ক্ষতির মধ্যে নিমরর্জীত। যেমন, বিষ মানুষের জীবন ধ্বংস করে। এই বিষ যদি কোন ব্যক্তি, গোষ্টি , জাতি পুরু মানব সম্প্রদায় পান করে তাহলে বিষের কোন গুনগত মানের পরিবর্তন হয়না, টিক তেমনি সূরার চারটি গুনাবলী শুন্য হওয়া যে ক্ষতির কারণ, এটিও একটি অকাট্য দলিল।
এখন প্রশ্ন ‘ক্ষতি’ টা কি । আমরা যদি উন্নত রাষ্ট্রের দিকে তাকায় তাহলে, এই ক্ষতিটা বুঝা যাবে না। এর মূল কারন হল, তারা নিত্য নতুন একের পর এক আবিষ্কারের ফলে সমগ্র মানব সভ্যতাকে অবাক করে দিচ্ছে।তাদের জীবন যাত্রার মান ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সমারস্ত্র দিক দিয়ে তারা উক্ত চারটি গুন ছাড়া অনেক উন্নত। কিন্তু আল্লাহতালা প্রবিত্র কোর’আনে বলেছেন, আখিরাতের সাফাল্য একমাত্র সাফাল্য। প্রবিত্র কোর’আনে সাফাল্যের ধারনা যেমন নিচক পার্থিব সমৃদ্ধির সমার্থক নয় বরং দুনিয়া থেকে নিয়ে আখিরাত পর্য়ন্ত মানুষের ব্যর্থতা ও সাফাল্য এর মধ্যে অন্তুরভুক্ত। সুতরাং আখিরাতের সাফাল্য লাভ প্রকৃত লাভ এবং আখিরাতের ক্ষতি প্রকৃত ক্ষতি । ধরা যাক কোন ব্যক্তি পৃথিবীর সবোর্চ্চ শিক্ষাঙ্গান থেকে সবোর্চ্চ ডিগ্রী অর্জন করল। সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান হল এবং রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানগন তাকে নেতা হিসাবে অনুসরন করল। ভোগ বিলাস থেকে দরে তার কোন কিছুর অভাব রইল না। এই লোকটি হল পৃথিবীর সবচেয়ে সফলতম ব্যক্তি। তার মা বাবা একজন সফলতম ব্যক্তির জনক। পক্ষান্তরে এই সফল তম ব্যক্তি আল্লাহর কোন হুকুম আইন মেনে জীবন যাপন করল না। বরং গোটা জীবন কাল ব্যপী আল্লাহর বিধান প্রতিষ্টাকারি মানুষ দল গোলুর উপর নিযার্তন চালাল, মিথ্য অপাবাধ দিয়ে কারারূদ্ধ করল। এই ব্যক্তি মৃত্যুর পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে নির্মজিত হবে। আর যেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর আদেশ নিষেদ মেনে জীবন কে প্রতিষ্টা করল, সেই ব্যক্তি চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটালে উ তার মৃত্যুর পর মহার আল্লাহর দৃষ্টিতে সে সফলতা ও কল্যান অর্জন করেছে। মোট কথা, পরকালে যারা সফলতা অর্জন করতে পারবে কেবল তারাই সফল। আর যারা পরকালে ব্যর্থ হবে তারা দুনিয়াতে ক্ষতির মধ্যে নিমর্জিত। পরের আয়াতের চারটি গুন অর্জন করতে পারলে পরকালে মহা ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।
۳) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْ
৩) কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও পরস্পরকে ধৈর্য়ধারনে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। 
এই আয়াতে চারটি গুণের কথা বলা হয়েছে মহা ক্ষতি হতে বাচার জন্য।
যেমন, ১. ইমান 
২. সৎকাজ
৩. হক কথা এবং
৪. সবর বা ধৈর্য়।
ইমান:-
আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি বললেই ইমানের শর্ত পূরণ হবেনা, ইমান আনতে হবে আল্লাহর যাবতীয় গুনাবলীর উপর এবং তা বাস্তব নিজের জীবনে ফুটিয়ে তুলতে হবে। ইমানের সাথে যত গুলো দিক জড়িত রয়েছে, সেই দিক গুলো সর্ম্পকে প্ররিপূর্ন ধারনা ও প্রবল বিশ্বাস না থাকলে মৌখিক স্বীকৃতির কোন মূল্য নেই। ইমান আনার সাথে সাথে ইমানের শর্ত গুলো পূরণ করতে হবে। ১ম শর্ত হল, আল্লাহতালার উপর দূঢ় ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। ২য় শর্ত হল, আল্লাহর ক্ষমতার উপর দূঢ় বিশ্বাস স্থাপন। ৩য় শর্ত হল, রাসূলের উপর দূঢ় বিশ্বাস তাকতে হবে। ৪ র্থ শর্ত হল, আখেরাতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং সেই অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে। 
মহা ক্ষতি থেকে যারা মুক্ত তাকতে আগ্রহী এবং ময়দানে যারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্টার সংগ্রামে আন্দোলনরত তাদের পরিপূর্ণ ধারনা ও বিশ্বাস তাকতে হবে। যদি পরিপূর্ণ ধরনা না তাকলে এবং বিশ্বাস দূবর্ল হয়, তাহলে বিপদ পরিবেষ্টিত হবার সাথে সাথে তাদের হৃদয়ে চিন্তার উদ্রেক হবে, আল্লাহ কি আছেন, মুখে এই সব কথা উচ্চারন হওয়া দূবর্ল ইমানদারের লক্ষন। আর মনেরাখা দরকার ইমান দূবর্ল হলে সে হতাশ গ্রস্থ হয়ে পড়বে, কারণ দূবর্লতা মানুষকে হতাশা সৃষ্টি করবে, অস্থিরতা বাড়াবে আর ভয় ভীতি সৃষ্টি হবে। 
আল কোর’আনে আল্লাহতালা বলেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
“তারাই সত্যিকার মুমিন, যারা আল্লাহ ও রাসূলের উপর ইমান এনেছে , এরপর এতে কোন সন্দেহ করেনি এবং আল্লাহর পথে তাদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করেছে, এরাই সচ্চা লোক। ( সূরা হুজরাত- ৪৯:১৫)
সুতরাং যাদের ইমান সবল, তারা দূঢ় ভাবে ময়দানে অবিচল তাকতে পারে, কারণ তারা হতাশ গ্রস্থ হয় না। তাদের মনে ভীতি সৃষ্টি হয় না, তাদের হৃদয় শানিত হয় ‘মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত’ এর উপর কিছু ঘটা সম্ভব নয়। 
কোর’আনে ইমানের ব্যাখ্যা :-
لاَ إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىَ لاَ انفِصَامَ لَهَا وَاللّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“তোমাদের মধ্যে যদি ব্যক্তি তাগুত –কে অস্বীকার করে আল্লাহর উপর ইমান আনে, সে যেন এর মাধ্যমে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো, যা কোনদিন ছিড়ে যাবার নয়, আল্লাহ সব কিছু শুনেন এবং সব কিছুই জানেন। ( আল-বাকারা-২:২৫৬)
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا
“যারা বলেছে আল্লাহ আমাদের রব তারপর তার উপর অবিচল হয়ে গেছে।”(হা-মীম সিজদা-৩০)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ
“আসলে তারাই মূমিন আল্লাহর কথা উচ্চারিত হলে যাদের দিল কেপে উঠে।”(আনফাল-২)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا
“আসলে তারাই প্রকৃত মুমিন যারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এরপর কোনরূপ সন্দেহে পতিত হয়নি।”(হুজুরাত,১৫)
وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ
“যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ও অত্যন্ত মজবুতির সাথে ভালোবাসে।” (বাকারা-১৬৫)
ঈমানের আসল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ঈমান, কেবল মৌখিক স্বীকারোক্তি নয়।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনো।”(নিসা-১৩৬)
হাদিসে ইমানের ব্যাখ্যা:-
“ হয়রত আমর বিন আব্বাস ( র: ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমি রাসূল ( স: ) কে বললাম,ইয়া রাসূলুল্লাহ ইমাম কী? রাসূল ( স: ) বলেন, সবর তথা ধৈর্য় ও সহনশীলতা, সামাহাত তথা দানশীলতা ও উদারতা হচ্ছে ইমান। ( আলবানী ছিলছিলা সহীহায় তা উল্লেখ করেছেন,৫৫১)
“হয়রত উমর ( রা: ) হতে বর্ণিত, রাসূল ( স: ) বলেছেন, ইমান হচ্ছে আল্লাহর প্রতি , আল্লাহর কিতাব সমূহের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি ইমান ও রাসূল ( স: ) প্রতি ইমান (বিশ্বাস) আনা। বেহেশত, দোযখ, মিজানে বিশ্বাস করা , মৃত্যুর পর পুন:উথ্থানে বিইশ্বাস করা এবং তাবদিরের ভালো ও মন্দের ব্যাপারে বিশ্বাস করা। ( - বায়াহাকী )
“হয়বত আবু উমামা ( রা: ) হতে বর্ণিত, রাসূল ( স: ) বলেন, যে ব্যক্তির ভালোবাসা ও শত্রুতা . দান করা ও না করা একমাত্র আল্লাহর সন্তিষ্টি লাভের জন্যই হয়ে থাকে , সেই ব্যক্তি পূর্ণ ইমানদার। ( - বুখারী )
এখন প্রশ্ন জাগে, ইমান আনা বলতে কিসের উপর ইমান আনা বুঝাচ্ছে? এর জবাব কোর’আন মজিদে সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে।
ইমান আনার ১ম শর্ত হল- আল্লাহকে মানা, নিছক আল্লাহর অস্তিত্ব মেনে নেয়া নয়।এমন ভাবে মানতে হবে যাতে বুঝা যায় আল্লাহয় একমাত্র প্রভু , একমাত্র আল্লাহয় ইবাদত, বন্দেগী ও আনুগত্য লাভের অধিকারী। কোরানুল করিমে আল্লাহতালা বলেন,
قُلْ آمَنَّا بِاللّهِ وَمَا أُنزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
“হে নবী! আপনি বলুন, আমরা আল্লাহকে মানি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তা ও মানি, ঐসব শিক্ষাকে ওআমরা মানি যা ইব্রাহীম,ইসমাঈল,ইসহাক,ইয়াকুব ( আ: ) এর বংশধরদের উপর নাযিল হয়েছিল, আমরা ঐসব হেদায়তের প্রতিও ইমান রাখি যা মূসা, ঈসা ( আ: ) ও অন্য নবীদেরকে তঁদের রবের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল। আমরা তাদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা এবং আমরা আল্লাহর অনুগত মুসলিম আছি। (সূরা আলে ইমরান- ৩:৮৪)
সৃতরাং বান্দার একমাত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা এবং আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত। আল্লাহয় হুকুমদেন ও আল্লাহ তালা নিষেধ করেন, আল্লাহ ভাগ্য গড়েন ও ভাঙ্গেন, আল্লাহতালা যা করতে বলেছেন এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা মেনে চলা বন্দার উপর ফরয। 
ইমান আনার ২য় শর্ত হল-আল্লাহর ক্ষমতা ও গুনাবলীর উপর দূঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা- আল্লাহর প্রতি ইমান আনার অন্যতম শর্ত হল, আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ও দূঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। এই কথা বিশ্বাস করতে হবে যে, “সমস্ত ক্ষমতার উৎস হলেন আল্লাহ”। আল্লাহ ইচ্ছা করলে দিনকে রাত আর রাতকে দিনে পরিণত করতে পারেন।সমস্ত সাগর নদী নালাকে এক নিমিষে স্থল ভাগ আর সমস্ত স্থলভাগকে জল ভাগে রূপান্তর করতে পারেন, তিনি মৃতকে জীবিত আর জীবিত কে মৃত করতে পারেন, আল্লাহ রাজাকে ভিক্ষুক আর ভিক্ষুককে রাজার সিংহাসনে বসাতে পারেন।আল্লাহর গুণাবলীর উপর দূঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট বিচারক, ভয় করার একমাত্র যোগ্য সত্বা। মানুষের পাপ মোচনের ক্ষমতা আল্লাহ রাখেন, আল্লাহ উত্তম সিদ্বান্তকারী, আল্লাহ একমাত্র দাসদের অপরাধ ক্ষমাকারী, আল্লাহ অক্ষয়, আল্লাহর সত্বা চির স্থায়ী, আল্লাহর কাছে কোন গোপন থাকেনা, আল্লাহ দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সব কিছু বিষয় ঞ্জাত, আল্লাহ অভাব মুক্ত, আল্লাহ প্রবল পরক্রান্ত, আল্লাহ মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু এধরনের অসংখ্য গুণাবলীর সত্বা হলে আল্লাহ ছুবাহানাহু ওয়ালা।
ইমান আনার ৩য় শর্ত হল- রাসূল ( স: ) কে মানা- রাসূল ( স: ) কে আল্লাহর নিযুক্ত পথপ্রদর্শক ও নেতৃত্বদান কারী হিসাবে মানা। 
“হয়রত আব্বাস ( র: ) হতে বর্ণিত, রাসূল (স: ) কে বলতে শুনেছেন, যে পূর্ণ আন্তরিকতা সাথে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (স: ) কে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট লাভ করেছে। সেই ব্যক্তি ইমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ করেছে। ( মুসলিম, বাবুদ দালিলি আলা আন্না মান রাদিয়া বিল্লাহ রাব্বা ৪৯)
সুতরাং রাসূল ( স: ) যা শিক্ষা দিয়েছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে দিয়েছেন, তা সবই সত্য বলে মেনে নেয়া এবং কোর’আনকে মানা ও রাসূলকে মানার অন্তর ভুক্ত।
ইমান আনার ৪ র্থ শর্ত হল- আখেরাতকে মানা- ইমানদার ব্যক্তি যানেন মানুষের বর্তমান জীবনটা ১ম ও শেষ নয় বরং মৃত্যুর পর মানুষেকে জীবিত করে মহান আল্লাহর সমনে হাজির করা হবে এবং দুনিয়ায় যা করেছে তার পূর্ণ হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। সুতরাং ইমানদার ব্যক্তি দুনিয়ার কোন ক্ষতি কে ভয় করে না, কোন ক্ষতি যদি হয় তাহলে সে বিশ্বাস করে স্বয় আল্লাহতালা তার তকদিরে এটি নির্ধারন করে দিয়েছেন। বাহ্যিক কোন ক্ষতি দেখে সে তার লক্ষ্য থেকে এক পাও সরে আসবে না। Do or die - হয় সে প্রান দান করে শাহাদত বরণ করবে, না হয় সে বিজয়ী হয়ে গাজীর মতই পরি আসবে। ইমানদার ব্যক্তি জানে তার নিজের বলতে কিছুই নেই, প্রবিত্র কোর’আনে আল্লাহতালা বলেন,
إِنَّ اللّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللّهِ فَاسْتَبْشِرُواْ بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ, মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান মাল ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছি , তাদের জন্য জান্নাত আছে ইহার বিনিময়, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে হত্যা করে ও নিহত হয়। ( সূরা তওবা-৯:১১১ )
মুমীনের প্রাণ, ধন সম্পদ যা কিছু রয়েছে, এই সব দান করেছেন মহান আল্লাহ এবং ক্রয় ও করে নিয়েছেন আল্লাহতালা। বিনিময়ে বান্দাকে সম্মান ও মর্য়দার সাথে জান্নাত দান করা হবে। একজন মানুষ যখন ইমান আনে, যখন সে এই উপকারীতা লাভ করে, তখন তার ভিতরে কোন ভীতি থাকে না।
আখেরাত ইমান,নৈতিক চরিত্র ও জীবনের সমগ্র কর্মকান্ডের জন্য একটি মজবুদ বুনিয়াদ সরবরাহ করে, এর উপর একটি পাক পবিত্র জীবনের ইমারত গড়ে উঠতে পারে।
সৎকাজ:-
ইমান আনার পর মহা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যেই গুনটি প্রয়োজন তা হল সৎকাজ। মহান আল্লাহতালা কোরা’আনুল কারিমে সৎকাজ কে ‘আমলে সালেহ’ নামে অভিহিত করেছেন। সমস্ত সৎকাজ ‘আমলে সালেহ’ এর অন্তরভুক্ত। কিন্ত শুধু সৎকাজ মানুষকে মহা ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারবে না। সৎকাজের সাথে ইমান ও থাকতে হবে।ঝিনুক ব্যতীত যেমন মুক্তার অস্তীত্ব কল্পনা করা য়াই না, তেমনি ইমান ব্যতীত কোন ধরনের সৎকাজের বিনিময় আল্লাহর কাছ থেকে কল্পনা করা যায় না। ইমাম ব্যতীত যেমন সৎকাজ কোন মূল্য নেই, তেমনি সৎকজ ব্যতীত ইমানের দাবী করা বৃথা। ইমান আনা দাবী করার পর যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের প্রদত্ত হেদায়ত অনুসারে জীবন পরিচালনা না করে এবং আল্লাহর বিধান যমীনে প্রতিষ্টা করার কোন চেষ্টা সাধনা না করে, সেই ইমানের কোন মূল্য নেই আল্লাহর কাছে । সৎকাজ ব্যতীত শুধুমাত্র ইমান মানুষকে মহা ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারবে না, যে ক্ষতি কথা আল্লাহ আলোচ্য সূরার শুরুতে শপথ করে বলেছেন। 
উপরোক্ত গুনাবলী দুইটি ব্যক্তি জীবনে প্রতিষ্টা করার পর মহা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আরো ২টি গুনাবলী থাকা প্রয়োজন।
হক কথা:-
যারা ইমাদার ও সৎকজ করে তাদের পৃথক পৃথক ভাবে অবস্থান করা উচিত নয়, বরং এই লোকগুলো একত্রিত হয়ে একটি সমাজ কায়েম করবে। প্রবিত্র কোর’আনে আল্লাহতালা বলেন,
وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِيعاً وَلاَ تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَتَ اللّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
“তোমরা সংঘবদ্ধ ভাবে আল্লাহর রজ্জুকে (বিধান) শক্ত করে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা। ( সূরা আল- ইমরান-৩:১০৩)
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَد تَّعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِي
“আল্লাহ তাদের কে ভালবাসেন যারা আল্লাহর পথে সীসা গলানো প্রাচীরের মত সারিবদ্ধ ভাবে লড়াই করে। ( সূরা আস সফ-৬১:০৪)
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ
“সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হবে, যে আল্লাহর দিকে ডাকলো,সৎকজ করল এবং ঘোষনা করলো আমি মুসলমান।( সূরা হা-মীম আস সাজদা-৪১:৩৩) 
ইমানদারের জীবন হবে মহান আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিন। ইমানদাররা সজাগ দৃষ্টি রাখবে, মিথ্যা ও বাতিলের অনুকুলে কোন শক্তি জেগে ওঠা মাত্র ইমানদানরা তার বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য রুহ্যরনো করবে এবং মিথ্যা শক্তিকে চুর্ণ বিচুর্ণ করে দিবে। এভাবে তারা প্রত্যেকটি লোককে ইসলামী আর্দশের মৃর্ত প্রতীক পরিণত করবে। মহা ক্ষতি থেকে মুক্ত ১ম শর্ত হলো ইমান. ২য় শর্ত হল সৎকাজ, ৩য় শর্ত হল হকের ওপরে টিকে থাকার জন্য পরস্পরের প্রতি উৎসাহ দান করা এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবন পরিচানা করা।
“হক” শব্দটি বাতিলের বিপরীত। দু’টি অর্থ-
. সঠিক, নির্ভুল, সত্য অনুসারী এবং আকিদা ও ইমান বা পার্থিব বিষয়দির সাথে সম্পর্কিত প্রকৃত সত্য অনুসারীর কথা।
. আল্লাহ বান্দার বা নিজের যে হকটি আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
১) বাতিল মাথা উঁচু করে দাড়ালে হক পন্হীরা নিরব দর্শক নয়।
২) সমাজে প্রানশক্তি বজায় থাকে।
৩) হকের উপর প্রতিষ্টিত থেকে হক পন্হীরা অন্যদেরকেও হকের উপদেশ দেয়।
প্রবিত্র কোর’আনে আল্লাহতালা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ 
كَانُواْ لاَ يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ
“হয়রত দাউদ ও ইসা ( আ: ) এর মুখ দিয়ে বনী ইসরাঈল জাতির উপর ল’নত করা হয়েছে কারণ তাদের সমাজে গোনাহ ও জুলুম ব্যাপক বেরে গিয়েছিল এবং লোকেরা পরস্পরকে খারাপ কাজে বাধা দিতনা। (সূরা মায়িদা-০৫:৭৮-৭৯)
আবার, কথাটি সূরা আরাফে এভাবে বলা হয়েছে,
واَسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعاً وَيَوْمَ لاَ يَسْبِتُونَ لاَ تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُم بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ {163} وَإِذَ قَالَتْ أُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْماً اللّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَاباً شَدِيداً قَالُواْ مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ {164} فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ {165} فَلَمَّا عَتَوْاْ عَن مَّا نُهُواْ عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِي
“বনী ইসরাঈলা যখন প্রকাশ্যে শনিবারের বিধান অমান্য করে মাছ ধরতে শুরু করে, তখন তাদের উপর আযাব নাযিল করা হয় এবং সেই আযাব থেকে একমাত্র তাদেরকে বাঁচানো হয়, যারা লোকদেরকে এই গোনাহর কাজে বাধা দেবার চেষ্টা করে। ( ০৭:১৬৩-১৬৬)
সবর বা ধৈর্য়:-
মহান রব্বুল আলামীন প্রবিত্র কোর’আনে ধৈর্য় তথা সবর শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। ইমানদারদের গোটা জীবন ধৈর্য়ের জীবন।ইমানের পথে আসার সাথে সাথে ধৈর্য়ের পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। আল্লাহতাতলা যা আদেশ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা ধৈর্য়ের প্রয়োজন।
প্রবিত্র কোর’আনে সবরের ব্যাখ্যা-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اصْبِرُواْ وَصَابِرُواْ وَرَابِطُواْ وَاتَّقُواْ اللّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে ঐসব লোক, যারা ইমান এনেছ! সবর কর বাতিল পন্হিদের বিরুদ্ধে মজবুতী দেখাও, হকের খিতমতের জন্য তৈরি থাক এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আশা করা যায়া তোমরা সফল হবে।( সূরা আল ইমরান-০৩:২০০)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“হে ঐসব লোক, যারা ইমান এনেছ! সবর ও নামাজ থেকে সাহায্য লও নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরই সাথে আছেন যারা সবর করে। ( সূরা বাকারা-০২:১৫৩)
وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلاَّ بِاللّهِ وَلاَ تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلاَ تَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ
“ধৈর্য়ের সাথে কাজ করতে থাক, তোমরা এ সবর আল্লাহরই তাওফিকের ফল, তাদের কার্য়কলাপে দু:খবোধ করোনা এবং তারা যত চালবাজি করছে তাতে মর ছোট কর না।( সূরা নাহল-১৬:১২৭)
হকের নসিহত করতে গিয়ে বা হকের সমর্থন করতে গিয়ে যে সব সমস্যা ও বাধার মুখে নিপতিত হতে হয়, তার মোকবেলায় তারা পরস্পরকে অবিচল ও দূঢ় থাকার উপদেশ দিতে থাকবে।
সৎ পথের ওপরে তথা আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবন পরিচালিত করার ব্যাপারে একে অপরকে উৎসাহিত করা বা পরস্পরের ভেতরে অনুপ্ররণা সৃষ্টি করার কর্তব্য একাকী অথবা রিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে পালন করা যায় না। মহান আল্লাহ ইমানদারদের প্রতি কোর’আনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছানোর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, সে দায়িত্ব একাকী পালন করা যায় না।
দাওয়াতী কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে যে বাধা-বিপত্তি ও বিপদ মুসিবত আসে, সে অআস্থায় ধৈর্য় বা সবর অবলম্বন করতে হয়।
শিক্ষা:- 
. ১) দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতি থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্য প্রকৃত ইমাদার হতে হবে।
. ২) প্রকৃত ইমনদারকে অবশ্যই সৎকাজ করতে হবে এবং পরস্পরকে হক কথা বলতে হবে।
. ৩) হক পথে চলার সময় বাধা বিপত্তি অবশ্যই ধৈর্য় ধরে সামনে অগ্রসর হতে হবে।
সমাপ্ত
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)