মায়ের দাম

sl

 


মায়ের  দাম


বাজারে  জিনিষপত্রের  দাম  যেভাবে   বাড়ে  বা  কমে  ,   এই  সমাজ -সংসারে   মায়েদের  দামও  তেমনি কখনো   কমে  , কখনো  বা খুব বেড়ে যায় ।

দাম  যখন  কমে :

একজন ছেলে যখন  বিয়ে করে ,  তখন  বলা যেতে পারে কিছুদিন  পর্যন্ত  মায়ের দাম  একই থাকে বা সামান্য কমে  ।  তারপর   যখন  বউ –শাশুড়ির  ঝগড়া  শুরু হয়  ,  মায়ের  দাম  কমতে কমতে  একেবারেই   শূন্যের বা বিয়োগের  খাতায় নেমে  আসে ।

সামান্য  অজুহাতে  বিশ্রী  ভাষায়  মায়ের সাথে ঝগড়া  করতে  অনেক  ছেলেরই  কোন   অসুবিধা হয় না ,  বিবেকে আটকায় না।   মায়ের  বিরুদ্ধে  ছেলের অভিযোগগুলি   শুনলে  কখনো  হাসি পায় , কখনো  স্তম্ভিত হতে হয় ।  মায়ের ‘ গুরুতর ’ অপরাধগুলি   হলো -  মা কেন  বৌমার অনুমতি ছাড়া কাজের বুয়াকে  মিষ্টি  খেতে দিল , কোন সাহসে  মায়ের  বুয়া   ‘ ভাবীকে ’ চা  আগে না দিয়ে  বাসায় বেড়াতে আসা  বড় আপার বাচ্চার দুধ গরম করলো ,  তার শ্বশুরবাড়ি থেকে  ড্রাইভার এসেছিল  কিন্ত্ত  তাকে ঠিকমত  নাস্তা  দেয়া হয়  নি  ইত্যাদি ইত্যাদি  ।

যার সামর্থ্য আছে ,  সে   মায়ের   ও  মায়ের  পছন্দে রাখা  কাজের  বুয়ার এরকম   নানা গুরুতর  অপরাধে  বাড়ি  ছেড়ে  চলে  যায়  ।  মায়ের  কান্না  তার মনকে  স্পর্শ করে  না  ।

মায়ের দাম  যখন বাড়ে :

সেই  একই  ছেলের  কাছে  মায়ের  দাম   কিছুটা বাড়ে  যখন   বউ   কিছুদিন পর  সন্তানসম্ভবা হয় ।  মাঝেমাঝেই  বউয়ের  অসুস্থ  হওয়া  ও  নিজের  বাসায়  কাজের  লোক  না  থাকার  সমস্যায়  ছেলেটি তখন  হিমসিম  খায় ।   যে  ছেলে  মায়ের সংসারে   এতদিন অভ্যস্ত  ছিল   সকালে  ঘুম  থেকে  উঠে   খাবার টেবিলে   নাস্তা  দেখে  ,  তাকে  এখন  সকালে খালি  পেটে    এমন কি  এক  কাপ  চা না খেয়ে   অফিসে যেতে  হয়   ।  প্রথমবারের মত  সংসারের  ঝামেলা  কী  জিনিষ  বা মায়ের কাছে কতটা  আরামে  এতদিন   ছিল  ,   তা সে  কিছুটা  বুঝতে  পারে  । 


কিছুদিন  বাইরের  খাবার  খেয়ে  ত্যক্ত – বিরক্ত  হয়ে  তাকে  তখন   ‘ খোঁজখবর ’  নেয়ার অজুহাতে   আবার  আসতে  হয়    অবহেলায়   ছেড়ে  চলে  যাওয়া  মায়ের কাছে ।  তারপর   সেই   ‘খারাপ মা ‘ ও ‘জঘন্য পরিবেশের ’  বাসাতেই    মাঝেমাঝেই  এসে  থাকতেও শুরু  করে  ছেলেটি  , না  একা নয়  - বউসহ ।  এরকম নির্লজ্জ  আচরণ   স্রষ্টার সেরা সৃষ্টি  মানুষ  কত  অনায়াসেই  না  করছে  ।    আসতাগফিরুল্লাহ ।


মায়ের  দাম  উঠা – নামা করে :

মায়ের  দাম   আরো বাড়ে  যখন   নতুন অতিথি আসে সংসারে   আর যদি  বউয়ের  মা   অন্য জেলায় থাকায় বা কোন সমস্যার  জন্য  মেয়ের  কাছে  এসে  বেশীদিন  থাকতে  না পারেন  ।   বউয়ের  মা  কতদিন  তাদের  কাছে  এসে বাচ্চা  সামলাতে পারবেন  , তার  উপর  ছেলের  কাছে  নিজের   মায়ের  দাম  উঠা – নামা করে । 


মায়ের  দাম  যখন  আকাশচুম্বী :


শিশুর  মা যদি  কর্মজীবি   হন  ও  ছুটি   ফুরিয়ে যাওয়ায়  অফিসে যোগদানের  সময়  ঘনিয়ে  আসে , তখন     ছেলের  কাছে   মায়ের  দাম   সর্বোচ্চ পর্যায়ে  যায় । তখন  যেভাবে  হোক  মাকে  নিজের  কাছে  নিয়ে  আসা  চাই –ই  চাই ।   রাগ  করে , জেদ  ধরে , অনুরোধ  করে  হোক -  অল্প  কয়েকদিনের কথা  বলে     বাচ্চা  কিছুটা বড়  বা ভাল কোন  কাজের বুয়া না পাওয়া পর্যন্ত মাকে নিজের বাসায়  নিয়ে  আসার  সর্বাত্মক  চেষ্টা চালায়  ছেলে ।  মানুষ  যে  দরকারে  কতটা স্বার্থপর  ও  নির্লজ্জ হতে  পারে  ,  তা  এসব গুণধর  ছেলেদের  দেখলে  কিছুটা  আন্দাজ  করা  যায়  ।

আল্লাহ  আমাদের  হেদায়েত করুন  ।

মায়ের  মর্যাদা  নিয়ে  ইসলাম  কী বলে ?

আর  আল্লাহ  সুবহানু  ওয়া তাআলা  বলেন ,  “ আমি  মানুষকে  তার  মাতা – পিতার প্রতি সদয়  ব্যবহারের নির্দেশ  দিয়েছি ।  তার মা  তাকে গর্ভে  ধারণ  করে   কষ্টের  সাথে  ও প্রসব করে  কষ্টের  সাথে  ( সুরা  আহকাফ ;  ৪৬ : ১৫ ) ।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাললাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেছেন  যার মানে ,   সাবধান ,  মা – বাবাকে অসন্ত্তষ্ট  করবে না ।  বেহেশতের সুবাস হাজার বছরের  দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে , কিন্ত্ত যে মা – বাবার অবাধ্য ও যারা  রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে ,  তারা এর সুবাস পাবে না ।

এক লোক   একবার রাসূল  সাল্লাললাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর  কাছে এসে  বললো ,  আমি আমার মাকে  পিঠে  করে   ইয়ামেন থেকে   মক্কায়  বয়ে  এনেছি  যাতে  মা  হজ্জ করতে  পারেন ।


এরপর   তাওয়াফ ও  সায়ী করার সময়ে ,  আরাফাত, মুজদালিফা  ও  মীনাতেও  তাকে  পিঠে  বহন করেছি ।   আমার  উপর তার যা অধিকার আছে  ও মায়ের  প্রতি  আমার যা কর্তব্য  , তা  কি  আমি  পুরোটা পালন  করি  নি   অর্থাৎ  মায়ের ঋণ শোধ  করেছি  কি ?

 


রাসূল  সাল্লাললাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম   বললেন :  না ,  একটি  ধূলিকণার সমানও  শোধ হয় নি ।
  রাসূল সাল্লাললাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেছেন  যার মানে ,    যে  মা – বাবাকে  অসন্ত্তষ্ট করলো ,  সে  যেন আল্লাহকেই  অসন্ত্তষ্ট  করলো ।  যে মা – বাবাকে  রাগালো  ,   সে  যেন আল্লাহকেই  রাগালো  ।  আরেকটি    হাদীসে  আছে ,  যে  মা – বাবাকে  কষ্ট  দিল  , সে  আমাকে  কষ্ট দিল  এবং যে  আমাকে কষ্ট দিল  , সে  আল্লাহকে  কষ্ট  দিল ।  যে  আল্লাহকে  কষ্ট দেয়  সে অভিশপ্ত ।

 

***  নব- দম্পতিদের  প্রতি  অনুরোধ :


 যৌথ সংসারে  থাকতে  না চাইলে  দয়া  করে   মা-বাবা / শ্বশুর – শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করবেন  না ।  তাদের  ভালভাবে  বুঝিয়ে   কাছাকাছি  কোন  বাসায় আলাদা থাকুন  , নিয়মিত তাদের সাথে  যোগাযোগ  রাখুন , আল্লাহ  তওফীক দিন   ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)