গুনাহ মাফের রাত :

আসসালামু আলাইকুম

আজকাল অনেকেই শবে বরাত  বলে কিছু নেই , এ রাতে ইবাদত    করা ঠিক নয় , এমন কথা বলে থাকেন ;কিন্ত্ত  পবিত্র কুরআন বা হাদীসে বিশেষ কোন রাতে ইবাদত  করা যাবে না , এমন কোন নিষেধ নেই ।

যে কোন রাতেই কেউ যদি নফল নামাজ পড়ে , কুরআন তেলাওয়াত করে , তাহলে সওয়াব পাবে - এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই । তাহলে আজকের রাতে নফল ইবাদত করতে অসুবিধা কোথায় ?


আজ রাতে  ভাগ্য ঠিক হয় , এতে আমি বিশ্বাস করি না কেননা কুরআনে তা বলা হয় নি ।

 তবে  যেহেতু রোজার মাসের প্রস্ত্ততি হিসাবে আগের মাসে রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নফল রোযা রেখেছেন ,ইবাদত করেছেন , তাই এ রাতে ইবাদত না করার কি কারণ থাকতে পারে ?

তবে সাবধান , সারা  রাত  নফল  ইবাদতে   মশগুল থেকে   কেউ  যেন  ফজরের  সালাতের  সময়  ঘুমিয়ে না পড়েন । মনে  রাখবেন  ,    ফজরের  সালাত  হলো  ফরয  অর্থাৎ এটা  আদায় করতেই  হবে  ;  নাহলে   গুনাহগার হতে  হবে  কিন্ত্ত   আজকে   গুনাহ  মাফের  রাতে  সালাত  আদায় করলে   সওয়াব পাবেন কিন্ত্ত   না   করলে  গুনাহ   নেই ।  তাই  কোন অবস্থাতেই  ফরয  থেকে   নফলকে  বেশী   গূরুত্ব  দেবেন  না । 

দয়া করে  বোমা  ফাটিয়ে    ইবাদতকারীদের  মনোযোগে  বিঘ্ন  ঘটাবেন  না  , কাউকে  নফল  সালাত আদায়  করতে  জোর  করবেন  না     আবার  বাঁধাও  দেবেন  না । 

যারা  গুনাহ  মাফের   রাত  পালনের  বিরোধী :

যারা  এই রাতের গূরুত্বকে  অস্বীকার করেন , তারা কিভাবে   আজ  সন্ধ্যা ও
রাতের  সময়টুকু কাটাবেন ?
  এদের  অনেকেই  সময়  কাটাবেন   টিভিতে     হিন্দী বা ইংরেজী  সিনেমা দেখে  ,  এমটিভির  অশালীন   যৌনউদ্দীপক  গান  শুনে  , অনলাইনে  ফেইসবুকে  বন্ধুবান্ধবীর সাথে  চ্যাট করে    বা   ঘন্টার পর ঘন্টা   কম্পিউটারে  গেমস  খেলে ।   এসবের  থেকে   সালাত আদায় , কুরআন  তেলাওয়াত ,   আল্লাহর  নামে  যিকির  করা ,   আল্লাহর  রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লামের উপর  দরুদ  শরীফ পাঠ  করা   কি উত্তম  কাজ  নয় ?  বিবেকবান মানুষরা  কী বলেন ?

আল্লাহ  আমাদের  বেশী বেশী করে  ইবাদত করার  তওফীক  দিন ।

 

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)

প্রশ্ন সাধারণ ইবাদাতের জন্য না। প্রশ্ন থেকে যায় এ রাতকে মানা না মানার মধ্যে। শবে বরাত নামে কোন রাত কি রাসূল (স) পালন করেছিলন?
সাহাবীরা পালন করেছিলেন?
অথবা শাবানের মধ্যরাত্রি নামে করেছিলেন?
না করলে পরবর্তী মুসলমানদের জন্য এ রাতের ইবাদাতে অকল্যাণ ছাড়া কোন কল্যান নেই।

তবে হাঁ দৈনিক যারা তাহাজ্জুদ পড়েন তারা আজো পড়বেন তাতে সমস্যা কোথায়? ইবাদাত মানে কিন্তু শুধু উঠাবসা নয়। ইবাদাত মানে কুরআন-সুন্নাহর নির্ধারণ, নিয়ত, ইখলাছ, কার্যক্রম ও সওয়াবের আশা। এটা ভুলে গেলে ভালো করতে গিয়ে নির্ঘাৎ নিজের বিপদ ডেকে আনাই সার হবে।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

সালাম

 

আল্লাহর  রাসূল   সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  কখনো   ১৪ই শাবানের রাতে  বিশেষ ইবাদত করেন  নি , আপনি   কি নিশ্চিত ?  

আজকাল  অনেক  (  আশংকা এই যে  বেশীরভাগ )   মুসলমান  সারা বছর  সন্ধ্যা   থেকে  গভীর রাত পর্যন্ত   জেগে  থেকে  টিভিতে   বাংলা -  হিন্দী  সিরিয়াল ,  ইংরেজী সিনেমা    দেখা  বা  অনলাইনে চ্যাট  নিয়ে  ব্যস্ত থাকে ।  তাদের  অনেকেই  যদি আজকের  রাতে  নফল ইবাদতে  ব্যস্ত থাকে , তাতে  ক্ষতি  কী ?

আমরা  মুসলমানদের বড় দোষ ত্রুটি / পাপ ,  বড় সমস্যাগুলি নিয়ে যতটা না বিচলিত , তার চেয়ে বেশী মাথা ঘামাই  কেন মুসলমানরা  আজকে রাত জেগে  ইবাদত করবে   সেটা  নিয়ে ।  এই  নিয়ে  কত না  বিতর্ক  , কত না ফতোয়া  জারি  , সত্যি আফসোস ।

-

এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেয়ার যোগ্যতা আমি রাখি না। তবে ইসলামী গবেষকদের মুখে যা শুনেছি অথবা যে যৎসামান্য পড়েছি তাতে আমার মন্তব্যের যে জবাব আপনি দিয়েছে তার সাথে আমার দ্বিমত আছে।

ইবাদাতের ক্ষেত্রে ইসলামের কনসেপ্ট হলো- যদি তা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হয়, যদি তা রাসূল (স)এর পদ্ধতি অনুযায়ী হয় তবে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

এখন যদি কেউ এমন কোন ইবাদাত করে যা রাসূল(স) থেকে অনুমোদিত নয় কিংবা ইবাদাতে এমন কোন পদ্ধতির অনুসরণ করে যা রাসূল(স) এর করা প্র্যাকটিসের সাথে মেলে না, তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবার নয়। বরং তা বিদাত বা নব আবিস্কৃত বিষয় বলে বিবেচিত হবে। যার পরিণাম আগুন।

তাই আপনার "তাদের  অনেকেই  যদি আজকের  রাতে  নফল ইবাদতে  ব্যস্ত থাকে , তাতে  ক্ষতি  কী ?" -এ কথাটি ইসলামে ইবাদাতের মৌলিক ধারনার আলোকে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হারায়।

মনে রাখা জরুরী যে নফল ইবাদাত (তাহাজ্জুদ) রাসূল (স) এর জন্য ছিল ফরয। আমাদের জন্য নফল।

মানুষ পাপ করছে রাত জেগে এটা সর্বজন বিদিত। কিন্তু ইবাদাতের নামে কেউ সিনেমা-নাটক দেখে না। কিন্তু যদি ইবাদাতের নামে বিদাত করে বসে এবং তা সমাজে প্রচলিত করে বা করার সুযোগ দিতে থাকে তাহলে শুধু ব্যক্তি নয় ইসলাম ও মুসলিম সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আর পাপাচারের কারণে ব্যক্তি কলংকিত হবে, ইসলামকে কেউ সেজন্য কলংক দিতে পারবে না। যা পারবে বিদাতকে প্রশ্রয় দেয়ার কারণে।

আল্লাহ সঠিক পথ দেখানোর মালিক।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

And this is from your translated works:

সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنهم      বলেন: কোন কাজ গ্রহণ হওয়ার জন্য
দুইটি স্তম্ভের দরকার - তা সঠিক হতে হবে ও আন্তরিকতার সাথে করতে হবে। সৎ
কাজ হচ্ছে তাই যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মানানসই যেমনটি কুরআনে আদেশ দেয়া
হয়েছে: সে যেন ভাল কাজ করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০ )।

সালাম

 

রাত  জেগে  আল্লাহর জিকির করা , কুরআন  পাঠ , সালাত  আদায়   কিভাবে  বেদাত হতে  পারে , তা আমার  মাথায় আসে না ।

যাই হোক , এ নিয়ে  বিতর্ক  বাড়াতে চাই  না ।   যে কোন বিষয়ে  মতভেদ   আর তর্ক করে  করেই  দুনিয়াতে  মুসলমানদের  আজ  এই   মূমূর্ষ দশা ।    আল্লাহ  আমাদের  হেফাযেত করুন ।

-

প্রশ্নঃ এ রাত্রি কি ভাগ্য রজনী?

উত্তরঃ না, এ রাত্রি ভাগ্য রজনী নয়, মূলতঃ এ রাত্রিকে ভাগ্য রজনী বলার
পেছনে কাজ করছে সূরা আদ-দুখানের ৩ ও ৪ আয়াত দু’টির ভূল ব্যাখ্যা। তা হলোঃ

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ* فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ – سورة الدخان:3ـ4
আয়াতদ্বয়ের অর্থ হলোঃ “অবশ্যই আমরা তা (কোরআন) এক মুবারক রাত্রিতে
অবতীর্ণ করেছি, অবশ্যই আমরা সতর্ককারী, এ রাত্রিতে যাবতীয় প্রজ্ঞাপূর্ণ
বিষয় স্থিরীকৃত হয়”।

এ আয়াতদ্বয়ের তাফসীরে অধিকাংশ মুফাসসির বলেনঃ এ আয়াত দ্বারা রমযানের
লাইলাতুল ক্বাদরকেই বুঝানো হয়েছে। যে লাইলাতুল কাদরের চারটি নাম রয়েছে:
১. লাইলাতুল কাদর, ২. লাইলাতুল বারা’আত, ৩. লাইলাতুচ্ছফ, ৪.লাইলাতুল
মুবারাকাহ। শুধুমাত্র ইকরিমা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে,
তিনি বলেন, এ আয়াত দ্বারা শা’বানের মধ্যরাত্রিকে বুঝানো হয়েছে। এটা একটি
অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা।

আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আলোচ্য আয়াতে ‘মুবারক
রাত্রি’ বলতে ‘লাইলাতুল ক্বাদর বুঝানো হয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ – سورةالقدر:1
আমরা এ কোরআনকে ক্বাদরের রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি। (সূরা আল-কাদরঃ১)।

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেনঃ

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ- سورة البقرة:185
রমযান এমন একটি মাস যাতে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। (সূরা আলবাকারাহঃ১৮৫)।

যিনি এ রাত্রিকে শা‘বানের মধ্যবর্তী রাত বলে মত প্রকাশ করেছেন, যেমনটি
ইকরিমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি অনেক দূরবর্তী মত গ্রহণ করেছেন; কেননা
কোরআনের সুস্পষ্ট বাণী তা রমযান মাসে বলে ঘোষণা দিয়েছে’। (তাফসীরে ইবনে
কাসীর (৪/১৩৭)।

অনুরূপভাবে আল্লামা শাওকানীও এ মত প্রকাশ করেছেন। (তাফসীরে ফাতহুল ক্বাদীর (৪/৭০৯)।

সুতরাং ভাগ্য রজনী হলো লাইলাতুল ক্বাদর যা রমযানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাত্রিগুলো।

আর এতে করে এও সাব্যস্ত হলো যে, এ আয়াতের তাফসীরে ইকরিমা (রাহমাতুল্লাহি
আলাইহি) মতভেদ করলেও তিনি শা’বানের মধ্য তারিখের রাত্রিকে লাইলাতুল বারা’আত
নামকরণ করেননি।

দ্বিতীয় প্রশ্নঃ শা’বানের মধ্যরাত্রি উদযাপন করা যাবে কিনা?

উত্তরঃ শা’বানের মধ্যরাত্রি পালন করার কি হুকুম এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে তিনটি মত রয়েছে:

এক. শা‘বানের মধ্য রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের সাথে নামায ও অন্যান্য ইবাদত
করা জায়েয । প্রসিদ্ধ তাবেয়ী খালেদ ইবনে মি‘দান, লুকমান ইবনে আমের সুন্দর
পোশাক পরে, আতর খোশবু, শুরমা মেখে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের নিয়ে এ
রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ থেকেও
বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল মা‘আরেফ পৃঃ১৪৪)। তারা তাদের মতের পক্ষে কোন
দলীল পেশ করেননি। আল্লামা ইবনে রাজাব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের মতের
পক্ষে দলীল হিসাবে বলেনঃ তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলি তথা পূর্ববর্তী
উম্মাতদের থেকে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছিল, সে অনুসারে তারা আমল করেছিলেন। তবে
পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন দুর্বল হাদীস তাদের দলীল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকবে।
দুই. শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত বন্দেগী করা জায়েয। ইমাম
আওযা‘য়ী, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, এবং আল্লামা ইবনে রজব
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত পোষণ করেন। তাদের মতের পক্ষে তারা যে সমস্ত
হাদীস দ্বারা এ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ হাদীসের উপর
ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাকে জায়েয মনে করেন।
তিন: এ ধরণের ইবাদত সম্পূর্ণরূপে বিদ’আত — চাই তা ব্যক্তিগতভাবে হোক বা
সামষ্টিকভাবে। ইমাম ‘আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আবি মুলাইকা, মদীনার
ফুকাহাগণ, ইমাম মালেকের ছাত্রগণ, ও অন্যান্য আরো অনেকেই এ মত পোষণ করেছেন।
এমনকি ইমাম আওযায়ী যিনি শাম তথা সিরিয়াবাসীদের ইমাম বলে প্রসিদ্ধ তিনিও এ
ধরনের ঘটা করে মাসজিদে ইবাদত পালন করাকে বিদ‘আত বলে ঘোষণা করেছেন।
তাদের মতের পক্ষে যুক্তি হলো :

১.এ রাত্রির ফযীলত সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন দলীল নেই। রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ রাত্রিতে কোন সুনির্দিষ্ট ইবাদত করেছেন বলে সহীহ
হাদীসে প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে তার কোন সাহাবী থেকেও কিছু বর্ণিত
হয়নি। তাবেয়ীনদের মধ্যে তিনজন ব্যতীত আর কারো থেকে বর্ণিত হয়নি। আল্লামা
ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ শা‘বানের রাত্রিতে রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অথবা তার সাহাবাদের থেকে কোন নামায
পড়া প্রমাণিত হয়নি। যদিও শামদেশীয় সুনির্দিষ্ট কোন কোন তাবেয়ীন থেকে তা
বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল মা‘আরিফঃ১৪৫)। শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ ‘এ রাত্রির ফযীলত বর্ণনায় কিছু দুর্বল হাদীস
এসেছে যার উপর ভিত্তি করা জায়েয নেই, আর এ রাত্রিতে নামায আদায়ে বর্ণিত
যাবতীয় হাদীসই বানোয়াট, আলেমগণ এ ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন’।
২. হাফেজ ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) যিনি কোন কোন তাবেয়ীনদের থেকে এ
রাত্রির ফযীলত রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ ঐ সমস্ত
তাবেয়ীনদের কাছে দলীল হলো যে তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলি কিছু বর্ণনা
এসেছে। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, যারা এ রাত পালন করেছেন তাদের দলীল
হলো, যে তাদের কাছে ইসরাইলি বর্ণনা এসেছে, আমাদের প্রশ্নঃ ইসরাইলি বর্ণনা এ
উম্মাতের জন্য কিভাবে দলীল হতে পারে?
৩. যে সমস্ত তাবেয়ীনগণ থেকে এ রাত উদযাপনের সংবাদ এসেছে তাদের সমসাময়িক
প্রখ্যাত ফুকাহা ও মুহাদ্দিসীনগণ তাদের এ সব কর্মকান্ডের নিন্দা করেছেন।
যারা তাদের নিন্দা করেছেন তাদের মধ্যে প্রখ্যাত হলেনঃ ইমাম আতা ইবনে আবি
রাবাহ, যিনি তার যুগের সর্বশ্রেষ্ট মুফতি ছিলেন, আর যার সম্পর্কে সাহাবী
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিলেনঃ তোমরা আমার কাছে
প্রশ্নের জন্য একত্রিত হও, অথচ তোমাদের কাছে ইবনে আবি রাবাহ রয়েছে। সুতরাং
যদি ঐ রাত্রি উদযাপনকারীদের পক্ষে কোন দলীল থাকত, তাহলে তারা ‘আতা ইবনে
আবি রাবাহর বিপক্ষে তা অবশ্যই পেশ করে তাদের কর্মকাণ্ডের যথার্থতা প্রমাণ
করার চেষ্টা করতেন, অথচ এরকম করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি।
৪. পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, যে সমস্ত দুর্বল হাদীসে ঐ রাত্রির ফযীলত
বর্ণিত হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র সে রাত্রিতে আল্লাহর অবতীর্ণ হওয়া এবং
ক্ষমা করা প্রমাণিত হয়েছে, এর বাইরে কিছুই বর্ণিত হয়নি। মুলতঃ এ অবতীর্ণ
হওয়া ও ক্ষমা চাওয়ার আহবান প্রতি রাতেই আল্লাহ তা’আলা করে থাকেন। যা
সুনির্দিষ্ট কোন রাত বা রাতসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এর বাইরে দুর্বল
হাদীসেও অতিরিক্ত কোন ইবাদত করার নির্দেশ নেই।
৫. আর যারা এ রাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে আমল করা জায়েয বলে মন্তব্য করেছেন
তাদের মতের পক্ষে কোন দলীল নেই, কেননা এ রাত্রিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বা তার সাহাবা কারো থেকেই ব্যক্তিগত কিংবা
সামষ্টিক কোন ভাবেই কোন প্রকার ইবাদত করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি। এর বিপরীতে
শরীয়তের সাধারণ অনেক দলীল এ রাত্রিকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করাকে
নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে, তম্মধ্যে রয়েছেঃআল্লাহ বলেনঃ“আজকের দিনে আমি তোমাদের
জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম”। (সূরা আল-মায়েদাহঃ ৩)।রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের
মধ্যে এমন নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাবে যা এর মধ্যে নেই, তা তার উপর নিক্ষিপ্ত
হবে)। (বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭)।তিনি আরো বলেছেনঃ (যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ
করবে যার উপর আমাদের দ্বীনের মধ্যে কোন নির্দেশ নেই তা অগ্রহণযোগ্য)।
(মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৮)।শাইখ আব্দুল আজীজ ইবনে বায (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
বলেনঃ আর ইমাম আওযা‘য়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) যে, এ রাতে ব্যক্তিগত
ইবাদত করা ভাল মনে করেছেন, আর যা হাফেয ইবনে রাজাব পছন্দ করেছেন, তাদের এ
মত অত্যন্ত আশ্চার্যজনক বরং দুর্বল; কেননা কোন কিছু যতক্ষন পর্যন্ত না
শরীয়তের দলীলের মাধ্যমে জায়েয বলে সাব্যস্ত হবে ততক্ষন পর্যন্ত কোন
মুসলিমের পক্ষেই দ্বীনের মধ্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটাতে বৈধ হবে না। চাই তা
ব্যক্তিগতভাবে করুক বা সামষ্টিক- দলবদ্ধভাবে। চাই গোপনে করুক বা প্রকাশ্য।
কারণ বিদ‘আতকর্ম অস্বীকার করে এবং তা থেকে সাবধান করে যে সমস্ত প্রমাণাদি
এসেছে সেগুলো সাধারণভাবে তার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। (আত্‌তাহযীর মিনাল
বিদ‘আঃ১৩)।
৬. শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) আরো বলেনঃ সহীহ
মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমরা জুম‘আর রাত্রিকে
অন্যান্য রাত থেকে ক্বিয়াম/ নামাযের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নিও না, আর
জুম‘আর দিনকেও অন্যান্য দিনের থেকে আলাদা করে রোযার জন্য সুনির্দিষ্ট করে
নিও না, তবে যদি কারো রোযার দিনে সে দিন ঘটনাচক্রে এসে যায় সেটা ভিন্ন
কথা”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪৪, ১৪৮)।যদি কোন রাতকে ইবাদতের জন্য
সুনির্দিষ্ট করা জায়েয হতো তবে অবশ্যই জুম‘আর রাতকে ইবাদতের জন্য
বিশেষভাবে সুনির্দিষ্ট করা জায়েয হতো; কেননা জুম‘আর দিনের ফযীলত সম্পর্কে
হাদীসে এসেছে যে, “সুর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয় তম্মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ট
দিন, জুম‘আর দিন”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৪)।সুতরাং যেহেতু রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুম‘আর দিনকে বিশেষভাবে
ক্বিয়াম/নামাযের জন্য সুনির্দিষ্ট করা থেকে নিষেধ করেছেন সেহেতু অন্যান্য
রাতগুলোতে অবশ্যই ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নেয়া জায়েয হবে না। তবে
যদি কোন রাত্রের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন দলীল এসে যায় তবে সেটা ভিন্ন কথা।
আর যেহেতু লাইলাতুল ক্বাদর এবং রমযানের রাতের ক্বিয়াম/নামায পড়া জায়েয
সেহেতু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ রাতগুলোর ব্যাপারে
স্পষ্ট হাদীস এসেছে।
তৃতীয় প্রশ্নঃ শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে হাজারী নামায পড়ার কী হুকুম?

উত্তরঃ শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে একশত রাকাত নামাযের প্রতি রাকাতে দশবার সূরা
কুল হুওয়াল্লাহ (সূরা ইখলাস) দিয়ে নামাজ পড়ার যে নিয়ম প্রচলিত হয়েছে
তা সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আত।

এ নামাযের প্রথম প্রচলন

এ নামাযের প্রথম প্রচলন হয় হিজরী ৪৪৮ সনে। ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের ইবনে
আবিল হামরা নামীয় একলোক বায়তুল মুকাদ্দাস আসেন। তার তিলাওয়াত ছিল
সুমধুর। তিনি শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে নামাযে দাঁড়ালে তার পিছনে এক লোক এসে
দাঁড়ায়, তারপর তার সাথে তৃতীয় জন এসে যোগ দেয়, তারপর চতুর্থ জন। তিনি
নামায শেষ করার আগেই বিরাট একদল লোক এসে তার সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তী বছর এলে, তার সাথে অনেকেই যোগ দেয় ও নামায আদায় করে। এতে করে
মাসজিদুল আক্‌সাতে এ নামাযের প্রথা চালু হয়। কালক্রমে এ নামায এমনভাবে
আদায় হতে লাগে যে অনেকেই তা সুন্নাত মনে করতে শুরু করে। (ত্বারতুসীঃ
হাওয়াদেস ও বিদ‘আ পৃঃ১২১, ১২২, ইবনে কাসীরঃ বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/২৪৭,
ইবনুল কাইয়েমঃ আল-মানারুল মুনিফ পৃঃ৯৯)।

এ নামাযের পদ্ধতি

প্রথা অনুযায়ী এ নামাযের পদ্ধতি হলো, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা
ইখলাস দশবার করে পড়ে মোট একশত রাকাত নামায পড়া। যাতে করে সূরা ইখলাস ১০০০
বার পড়া হয়। (এহইয়ায়ে উলুমুদ্দীন (১/২০৩)।

এ ধরণের নামায সম্পূর্ণ বিদ‘আত। কারণ এ ধরণের নামাযের বর্ণনা কোন হাদীসের
কিতাবে আসেনি। কোন কোন বইয়ে এ সম্পর্কে যে সকল হাদীস উল্লেখ করা হয়
সেগুলো কোন হাদীসের কিতাবে আসেনি। আর তাই আল্লামা ইবনুল জাওযী (মাওদু‘আত
১/১২৭-১৩০), হাফেয ইরাকী (তাখরীজুল এহইয়া), ইমাম নববী (আল-মাজমু‘ ৪/৫৬),
আল্লামা আবু শামাহ (আল-বা‘েয়স পৃঃ৩২-৩৬), শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা,
(ইকতিদায়ে ছিরাতুল মুস্তাকীম ২/৬২৮), আল্লামা ইবনে ‘আররাক (তানযীহুশ
শরীয়াহ ২/৯২), ইবনে হাজার আল-আসকালানী, আল্লামা সূয়ূতী (আল-আমর বিল
ইত্তেবা পৃঃ৮১, আল-লাআলিল মাসনূ‘আ ২/৫৭), আল্লামা শাওকানী (ফাওয়ায়েদুল
মাজমু‘আ পৃঃ৫১) সহ আরো অনেকেই এ গুলোকে “বানোয়াট হাদীস” বলে সুস্পষ্ট
ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ধরণের নামাযের হুকুম

সঠিক জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণের মতে এ ধরণের নামায বিদ‘আত; কেননা এ ধরনের
নামায আল্লাহর রাসূলও পড়েননি। তার কোন খলীফাও পড়েননি। সাহাবাগণও পড়েননি।
হেদায়াতের ইমাম তথা আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ, সাওরী, আওযায়ী,
লাইস’সহ অন্যান্যগণ কেউই এ ধরণের নামায পড়েননি বা পড়তে বলেননি।

আর এ ধরণের নামাযের বর্ণনায় যে হাদীসসমূহ কেউ কেউ উল্লেখ করে থাকেন তা
উম্মাতের আলেমদের ইজমা অনুযায়ী বানোয়াট। (এর জন্য দেখুনঃ ইবনে তাইমিয়ার
মাজমুল‘ ফাতাওয়া ২৩/১৩১,১৩৩,১৩৪, ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীম ২/৬২৮, আবু
শামাহঃ আল-বা‘য়েছ পৃঃ ৩২-৩৬, রশীদ রিদাঃ ফাতাওয়া ১/২৮, আলী মাহফুজ, ইবদা‘
পৃঃ২৮৬,২৮৮, ইবনে বাযঃ আত্‌তাহযীর মিনাল বিদ‘আ পৃঃ১১-১৬)।

চতুর্থ প্রশ্নঃ শা‘বানের মধ্যরাত্রির পরদিন কি রোযা রাখা যাবে?

উত্তরঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বহু সহীহ হাদীসে
প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি শা‘বান মাসে সবচেয়ে বেশী রোযা রাখতেন। (এর জন্য
দেখুনঃ বুখারী, হাদীস নং ১৯৬৯, ১৯৭০, মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬, ১১৬১, মুসনাদে
আহমাদ ৬/১৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩১, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস
নং ২০৭৭, সুনানে তিরমিঝি, হাদীস নং ৬৫৭)।

সে হিসাবে যদি কেউ শা‘বান মাসে রোযা রাখেন তবে তা হবে সুন্নাত। শাবান মাসের
শেষ দিন ছাড়া বাকী যে কোন দিন রোযা রাখা জায়েয বা সওয়াবের কাজ। তবে
রোজা রাখার সময় মনে করতে হবে যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) যেহেতু শা‘বান মাসে রোজা রেখেছিলেন তাকে অনুসরন করে রোযা রাখা
হচ্ছে।

অথবা যদি কারও আইয়ামে বিদের নফল রোযা তথা মাসের ১৩,১৪,১৫ এ তিনদিন রোযা
রাখার নিয়ম থাকে তিনিও রোযা রাখতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র শা‘বানের পনের
তারিখ রোযা রাখা বিদ‘আত হবে। কারণ শরীয়তে এ রোযার কোন ভিত্তি নেই।

আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূলের পরিপূর্ণ পদাঙ্ক অনুসরন করে চলার তৌফিক দিন। আমীন।

টীকা: 7. যদি শা‘বানের মধ্যরাত্রিকে উদযাপন করা বা ঘটা করে পালন করা জায়েয
হতো তাহলে অবশ্যই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে
আমাদের জানাতেন। বা তিনি নিজেই তা করতেন। আর এমন কিছু তিনি করে থাকতেন
তাহলে সাহাবাগণ অবশ্যই তা উম্মাতের কাছে বর্ণনা করতেন। তারা নবীদের পরে
জগতের শ্রেষ্টতম মানুষ, সবচেয়ে বেশী নসীহতকারী, কোন কিছুই তারা গোপন
করেননি’। (আত্‌তহযীর মিনাল বিদা‘১৫,১৬)।

 
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, কুরআন, হাদীস ও গ্রহণযোগ্য
আলেমদের বাণী থেকে আমরা জানতে পারলাম শা‘বানের মধ্য রাত্রিকে ঘটা করে
উদযাপন করা— চাই তা নামাযের মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোন ইবাদতের মাধ্যেমে—
অধিকাংশ আলেমদের মতে জগন্যতম বিদ‘আত। শরীয়তে যার কোন ভিত্তি নেই। বরং তা’
সাহাবাদের যুগের পরে প্রথম শুরু হয়েছিল। যারা সত্যের অনুসরণ করতে চায়
তাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা করতে বলেছেন তাই যথেষ্ট।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

শবে বরাত বা লাইলাতুল বারা'আত পরিভাষা কুরআন করীমে কোথাও ব্যবহৃত হয় নি।
"লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান" বা "মধ্য-শাবানের রজনী" পরিভাষাটিও কুরআন
কারীমে কোথাও ব্যবহৃত হয় নি। তবে কুরআন কারীমের একটি আয়াতের ব্যাখ্যায়
মুফাসসিরগণ "শবে বরাত" প্রসঙ্গ আলোচনা করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "আমি তো তা অবতীর্ণ করেছি এক মুবারক (বরকতময়) রজনীতে
এবং আমি তো সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত
হয়।" সূরা দুখান : আয়াত ৩-৪

এবার এসুন একটু বিস্তারিত আলোচনা করি। মহান আল্লাহপাক বলেন "এ কোরআন যদি
কোন গাইরুল্লাহ কর্তৃক রচিত হতো তাহলে এখানে অনেক অসংগতি থাকতো"

আলহামদুল্লিাহ আমরা জানি আজঅব্দি কোন মানব সৃষ্ট আল কোরআনে একটা অসংগতি
খুঁজে পায় নি। এখন কথা হলো আল্লাহ কোন রাতকে এতো বরকতময় করেছনে? ১) শবে
বরাত ? নাকি ২) শবে ক্বদর

যদি শবে বরাত হয় তাহলে আমরা ভাগ্যবান যে আল্লাহ আমাদের নির্দ্দিষ্ট করে
একটা মাগফেরাতের রাথ ধার্য করে দিয়েছেন "সুবহানাল্লাহ" কিন্তু যদি দিনটি
শবে ক্বদর হয় তাহলে তিনি রমজানের শেষ দশক এর যে কোন একটা বেজোড় রাতকে শবে
ক্বদর বলেছেন কেন? ২৭ শে বা ২৯ শে- কে নির্দ্দিষ্ট করে দিলেন না কেন? শবে
ক্বদর নিয়ে বিশ্ব মুসলিম উম্মার মধ্যে তো কোন মত বিরোধ নাই, তাহলে শবে
বরাত নিয়ে এতো সমালোচনা কেন? আমরা জানি আল্লাহ পাক যে রাতে পবিত্র কোরআন
নাযিল করেছেন সেই রাত্রিই মহিমান্বিত রজনী এবং সেই রজনীতেই আল্লাহ পাক তার
সকল বান্দাদের বলেন "কে আছ এমন যে আমার কাছে চাই আর আমি তাকে দিব" এখন আমার
প্রশ্ন সেই কোরআন নাযিলের রজনী কোনটি? শবে বরাত না-কি শবে ক্বদর? এখানে
একটা সংঘর্ষ লক্ষ করা যাচ্ছে 'নাউ যুবিল্লাহ"

"মুবারক রজনী'র ব্যাখ্যায় বিভিন্ন সাহাবী ও তাবিয়ী বলেছেন যে, এ রাতটি
হলো "লাইলাতুল কাদর" বা "মহিমান্বিত রজনী"। সাহাবীগণের মধ্য থেকে ইবনু
আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু উমার (রাঃ) থেকে অনুরূপ ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে।
তাবেয়ীগণের মধ্যে থেকে আবু আব্দুর রহমান আল-সুলামী (৭৪ হিঃ), মুজাহিদ বিন
জাবর (১০২ হিঃ), হাসান বসরী (১১০ হিঃ), ক্বতাদা ইবনু দি'আমা (১১৭ হিঃ) ও
আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম (১৮২ হিঃ) বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা
সকলেই বলেন যে, লাইলাতুল মুবারাকাহ অর্থ লাইলাতুল ক্বাদর। (তাবারী, জামিউল
বায়ান (বৈরুত, দারুল ফিকর ১৯৮৮) ২৫/১০৭-১০৯; নাহহাস মা'আনিল কুরআনির
কারিম (মক্কা মুকাররমা, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, ১ম সংস্করণ,
১৯৮৮) যামাখুশরী, আল কাশশাফ (বৈরুত, দার আল মারেফা তা, বি), ইবনুল আরাবী,
আহকাকুল কুরআন, ইবনু আতিয়্যাহ, আল-মুহারার আল ওয়াজীয, শাওকানী, ফাতহুল
ক্বাদীর ইত্যদি)

এসকল সাহাবী-তাবিয়ীর মতের বিপরীতে একজন তাবিয়ী মত প্রকাশ করেছেন যে, এ
আয়াতে 'বরকতময় রাত্রি' বলতে শবে বরাত বুঝানো হয়েছে। সাহাবী ইবনু আব্বাস
(মৃ. ৬৮ হিঃ) এর খাদেম তাবিয়ী ইকরিমাহ (মৃ. ১০৪ হিঃ) বলেন, এখানে 'মুবারক
রজনী' বলতে মধ্য শা'বানের রাতকে বুঝানো হয়েছে। ইকরিমাহ বলেন, এই রাতে গোটা
বছরের সকল বিষয়ে ফয়সালা করা হয় । তাবারী, জামিউল বায়ান ২৫/১০৭-১০৯।

অধিকাংশ বর্ণনাকারী এ বক্তব্যটি ইকরিমার বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় হিজরী শতকের একজন বর্ণনাকারী বক্তব্যটি ইবনু আব্বাসের বক্তব্য বলে
উল্লেখ করেছেন। আন-নাদর বিন ইসমাঈল (১৮২ হিঃ) নামক এক ব্যক্তি বলেন, তাকে
মুহাম্মদ বিন সুক্কা বলেছেন, তাকে ইকরিমাহ বলেছেন ইবনু আব্বাস থেকে, তিনি
উপরে উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন; মুবারক রজনী হলো মধ্য - শা"বানের
রাত। এতে মৃত্যু বরণকারীদের নাম বর্ননা করা হয়, হাজ্বীদের তালিকা তৈরী করা
হয়, অতঃপর কোন বাড়তি-কমতি করা হয় না। (যাহাবী, মীযান-ইতিদাল ৭/২৬)

এ সনদের রাবী 'আন-নাদর ইবনু ইসমাঈ (১৮২ হিঃ) কুফার একজন গল্পকার ওয়ায়েয
ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সৎ হলেও হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার ভুলের
কারণে মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আবুল হাসান ইলি বলেছেন, এ
ব্যক্তি বিশ্বস্ত। ইয়াহয়িয়া বিন আঈদ বরেছেন, সে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও
মূল্যহীন। ইমান নাসায়ী ও আবু যুর'আ বলেছেন, সে শক্তিশালী বা গ্রহণযোগ্য
নয়। ইয়াহয়িয়া বিন মাঈন বলেছেন ; নাদর বিন ইসমাঈল সত্যবাদী তবে সে কি
বর্ণনা করে তা নিজেই জানে না। ইমামা বুখারী ইমাম আহমদের বরাত দিয়ে বলেন, এ
ব্যক্তি সনদ মুখস্থ রাখতে পারত না। ইবনু হিব্বান বলেন, তার ভুল খুব
মারাত্মত, যে কারনে তিনি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হয়েছেন। (ইবনু আদী, আল -
কামিল ৮/২৬৬, ২৬৭, যাহাবী, মীযা আল - ইতিদাল ৭/২৬।

আন নাদর ইবনু ইসমাঈলের অবস্থা অবলোকন করলে আমরা বুঝতে পারি যে, তিনি ভুল
বশত ইকরিমার বক্তব্যকে ইবনু আব্বাসের বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি
সম্ভবত মুহাম্মদ ইবনু ষূক্কাকে বলতে শুনেছে "ইকরিমা থেকে, ইবনু আব্বাসের
মাওলা"। তিনি ভুলে বলেছেন "ইকরিমা থেকে, ইবনু আব্বাস থেকে,"। এভাবে মাকতু
হাদীস বা তাবিয়ীর বক্তব্য মাওকুফ বা সাহাবীর বক্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বস্ত অনেক রাবীই স্মৃতির দুর্বলতা, নিয়মিত চর্চা ও পান্ডুলিপি
সংরক্ষনের অভাবে এভাবে অনেক সময় মাকতূ হাদীসকে মাওকূফ বা মাওকূফ হাদীসকে
মারফূ রূপে বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য রাবীদের বর্ণার সাথে তুলনামূলক
নিরীক্ষার মাধ্যমে মুহাদ্দিসণ এসকল ভুল নির্ধারণ করেছেন।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পরিযে, তাবিয়ী ইকরিমা থেকে প্রমাণিত হয়েছে
যে, তিনি সূরা দুখানে উল্লিখিত "মুবারক রজনী" বলতে "মধ্য শাবানের রজনী"
বুঝাতেন।

উল্লেখ্য যে, মুফাসসিরগণ ইকরিমার এ মত গ্রহণ করেন নি। প্রসিদ্ধ মুফাসসিরদের
মধ্যে কেউই ইকরিমার এ মত গ্রহণ করেন নি। কোন কোন মুফাসসির দুটি মত উল্লেখ
করেছেন এবং কোনোটিরই পক্ষে কিছু বলেন নি। আর অধিকাংশ মুফাসসির ইকরিমার মতটি
বাতিল বলে উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্য সাহাবী-তাবিয়ীর মতটিই সঠিক বলে
গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বরেন যে, সঠিক মত হলো, এখানে 'মুবারক রজনী' বলতে
লাইলাতুল ক্বাদর' কে বুঝানো হয়েছে।

মহান আল্লাহ যে রাত্রিতে কুরআন কারীম অবর্তর্ণ করেছেন সে রাত্রিকে এক
স্থানে লইলাতুল ক্বাদর বা 'মহিমাম্বিত রজনী' বলে অভিহিত করেছেন। (সূরা
ক্বাদর: আয়াত ১)। অন্যত্র এ রাত্রিকেই 'লাইলাতুল মুবারাকা' বা "বরকতময়
রজনী" বলে অভিহিত করেছন। এবং এ রাত্রিটি নিঃসন্দেহে রামাদান মাসের মধ্যে;
কারণ অন্যত্র আল্লাহ ঘোষনা করেছেন যে, তিনি রামাদান মাসে কুরআন নাযিল
করেছেন।" ( সূরা বাকারা আয়াত ১৮৫)

এ থেকে প্রমানিত হয় যে, মুবারক রজনী রামাদান মাসে, শাবান মাসে নয়। তাঁদের
মতে 'লাইলাতুম মুবারাকা' এবং 'লাইলাতুল ক্বাদর" একই রাতের দুটি উপাধি।

এ সকল মুফাসসিরের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনু জারীর তাবারী (মৃ. ৩১০
হিঃ), আবু জাফর ইবুনু মুহাম্মাদ আন নাহহাস (৩৩৮ হিঃ), আবুল কাসেম মাহমুদ
ইবনু উমর আয-যামাখশারী (৫৩৮ হিঃ), ইবনুল আরাবী, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনু
আব্দুল্লাহ (৫৩৪ হিঃ), আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক ইবনু আতিয়্যা (৫৪৬ হিঃ),
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আহমদ আল কুরতুবী (৬৭১ হিঃ), আবু হাইয়্যান
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ গারনাতী (৭৪৫ হিঃ, ইসমাঈল ইবনু উমার আবুল ফিদা, ইবনু
কাসীর (৭৭৪ হিঃ), আবুস সাঊদ মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ আল ইমাদী (৯৫১ হিঃ),
মুহাম্মদ ইবনু আলী আল শাওকানী (১২৫০ হিঃ), সাইয়্যেদ মাহমুদ আলুসী (১২৭০
হিঃ, আশরাফ আলী থানবী (১৩৬২ হিঃ), মুহাম্মদ আমীন আল শানক্বীতী (১৩৩৯ হিঃ),
মুফতী মুহাম্মদ শফী, মুহাম্মদ আলী আল-সাবুনী প্রমূখ। (তারারী, জামিউল
বায়ান ২৫/১০৭-১০৯, নাহহাস, মা'আনিল কুরআনির কারিম ৬/৩৯৫; যাশাখশরী,
আল-কাশশাফ ৩/৪২৯, ইবনু কাছীর, তাফসীর আল কুরআন আল আযীম ৪/১৪০, শাওকানী,
ফাতহুল ক্বাদীর ৪/৫৭০-৫৭২, শা'আরেফ আল-কুরআন ৭/৮৩৫-৮৩৬ ইত্যাদি)

ইমাম মুহাম্মদ ইবনু জারীর তাবারী বিভিন্ন সনদে ইকরিমার এ ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করার পরে তার প্রতিবাদ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন;

"সঠিক মত হলো তাদের মত যারা বলেছেন যে, লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময়
রাত্রি হলো লাইলাতুল ক্বাদর বা মর্যাদার রাত্রি" ।( তাবারী, জামিউল বায়ান
২৫/১০৮)

অতঃপর তিনি বলেন যে, বরকতময় রাত্রির ব্যাখ্যার ভিত্তিতে "প্রত্যেক
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফয়সালার বিষয়েও মতভেদ করেছেন। অনেকে বলেছেন এ হলো
"লাইলাতুল ক্বাদর" এ রাত্রিতেই পরবর্তী বছরের জন্ম, মৃত্যু, উন্নতি, অবনতি ও
অন্যান্য বিষয় নির্ধাণ করা হয়। হাসন বসরী, কাতদিা, মুজাহিদ, আবু আব্দুর
রাহমান, আস-সুলামী, উমার মাওলা গাফরা, আবূ মালিক, হিলাল ইবনু ইয়াসাফ
প্রমুখ তাবিয়ী-তাবি-তাবিয়ী থেকে উদ্ধৃত করেন যে, এদের সকলের মতেই
লাইলাতুল ক্বাদরে এ সকল বিষয়ের ফয়সালা করা হয়। এরপর তিনি ইকরামা থেকে
উদ্ধৃত করেন যে, তার মতে লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বানে এ সকল বিষয়ের ফয়সালা
করা হয়। অতঃপর তিনি বলেন; "এতদুভয়ের মধ্যে সঠিকতর মত হলো যারা বলেছেন
যে, লাইলাতুল ক্বাদরে এ সকল বিষয়ের ফয়সালা হয়; কারন আমরা বলেছি যে,
এখানে লাইতুম মুবারাকা বলতে তো লাইলাতুল ক্বাদরকেই বুঝানো হয়েছে। (তাবারী,
জামিউল বায়ান ২৫/১০৮-১০৯)

এ বিষয়ে আল্লামা আবূ বাকর ইবনুল আরাবী (মৃত্যু ৫৪৩ হিঃ) বলেন; "অধিকাংশ
আলিম বলেছেন যে, লাইলাতুল মুবারাকা বা বরকতময় রজনী হলো লাইলাতুল ক্বাদর।
কেউ কেউ বলেছেন, তা হলো 'মধ্য শাবানের রজনী"। এ মতটি বাতিল; কারণ মহান
আল্লাহ তাঁর সন্দেহাতীভাবে সত্য গ্রন্থে বলেছেন: "রামাদান মাস যার মধ্যে
কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। (সূরা বাকারা ১৮৫ আয়াত)। এ কথাটি দ্ব্যর্থহীনভাবে
জানাচ্ছে যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় রামাদান মাস। অতঃপর এ আয়াত
অবতীর্ণ হওয়ার সময় জানিয়ে বলা হয়েছে "বরকতময় রাত্রিতে"। কাজেই কেউ যদি
মনে করে যে, এ বরকতময় রাত্রিটি রামাদান ছাড়া অন্য কোনো মাসে তাহলে সে
আল্লাহর নামে মিথ্যা বানিয়ে বললো। (আবূ বাকর ইবনুল আরাবী, আহকামূল কুরআন
(বৈরুত, দারু ইহইয়াউত তুরাস আল-আরাবী ৪/১৬৯০)

আল্লামা কুরতুবী (৬৭১ হিঃ) বলেন; "লাইলাতুম মুবারাকা- বরকতময় রজনী- হলো
লাইলাতুল ক্বাদর.....ইকরিমাহ বলেছেন, এখানে বরকতময় রজনী বলতে মধ্য শাবানের
রজনী বুঝানো হয়েছে। প্রথম মতটিই সঠিকতর। (তুরতুবী, আল-জামি'লি-আহকামিল
কুরআন ১৬/১২৬)

আল্লামা ইবনু কাসীর (৭৭৪ হিঃ) নিশ্চিত করেন যে, বরকতময় রজনী বলতে
"লাইলাতুল ক্বাদর"-ই বুঝানো হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: "ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত
হয়েছে যে, বরকতময় রাত্রিটি শাবানের মধ্যম রজনী। এমতটি একটি অসম্ভব ও
অবাস্তব মত। কারন কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে, এ রাত্রটি
রামাদানের মধ্যে। (ইবনু কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/১৪০)

আল্লামা আশরাফ আলী থানবী (১৩৬২ হিঃ) বলেন: "অধিকাংশ তাফসিরকারকই 'লাইলাতুম
মুবারাকা'- কে এখানে 'শবে ক্বদর" বলিয়া থফসীর করিয়াছেন এবং এ সম্মন্ধে
হাদীসও যথেষ্ট রহিয়াছে।.........আর কেহ কেহ 'লাইলাতুম মুবারাকা'-এর তাফসীর
করিয়াছেন "শবে বরাত"। কেননা শবে বরাত সম্মন্ধেও বহু হাদীস বর্ণিত হইয়াচে
যে, শবে বরাতে বৎসরের যাবতীয় কার্যের মীমাংসা হইয়া থাকে। কিন্তু যেহেতু
শবে বরাতে কোরআন নাযিল হইয়াছে বলিয়া কোনো রেওয়ায়াত নাই এবং শবে ক্বদরে
নাযিল হইয়াছে বলিয়া স্বং কোরআনের "নিশ্চই আমি তা লাইলাতুল ক্বাদরে
অবতীর্ণ করেছি" আয়াতেই উল্লেখ রহিয়াছে; সেহেতু শবে বরাত বলিয়া লাইলাতুম
মুবারাকা-এর তফসীর করা শদ্ধ নহে বলিয়া মনে হয়। (থানবী, আশরাফ আলী,
তাফসীর-ই আশরাফী ৫/৬১৫-৬১৬)

ইকরিমার মতটি প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মুফাসসিরগণের এরূপ ঐকমত্যের কারন হলো,
ইকরিমার এ মতটি কুরআনের স্পষ্ট বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ কুরআনে স্পষ্ট
বলা হয়েছে যে, আল্লাহ রামাদান মাসে কুরআন নাযিল করেছেন। অন্যত্র বলা
হয়েছে যে, একটি মুবারক রাত্রিতে ও একটি মহিমাম্বিত রাত্রিতে তিনি কুরআন
নাযিল করেছেন। এ সকল আয়াতের সমন্বিত স্পষ্ট অর্থ হলো, আল্লাহ পাক রামাদান
মাসের এক রাত্রিতে কুরআন নাযিল করেছেন এবং সে রাত্রটি বরকতময় ও
মহিমাম্বিত। বুবারক রজনীর ব্যাখ্যায় মধ্য শাবানের রজনীর উল্লেখ করার অর্থ
হলো এই আয়াতগুলির স্পষ্ট অর্থ বিভিন্ন অপব্যাখ্যা ও ঘোরপ্যাঁচের মাধ্যমে
বাতিল করা।

এভাবে দেখা যায় কোরআনে "শবে বরাত" বা লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান" সম্পর্কে
কোনোরূপ নির্দেশনা নেই। তবে এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মধ্য
শা'বানের রজনী বা শবে বরাত সম্পর্কে প্রচলিত হাদীসগুলিকে সেগুলির অর্থ ও
নির্দেশনার আলোকে সাত ভাগে ভাগ করা যায়:

১) সাধারণ ফযীলতের হাদীস, যেগুলিতে কোন আমলের কথা উল্লেখ নেই।
২) এ রাতে দোয়া-মুনাজাত করতে উৎসাহজ্ঞাপক হাদীস।
৩) এ রাতে অনির্দ্ধারিত সালাত আদায়ে উৎসাহজ্ঞাপক হাদীস।
৪) এ রাতে হায়াত, মওত ও রিযিক নির্দ্ধারণ বিষয়ক হাদীস
৫) নির্দ্ধারিত রাক'আত নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে আদয়ে উৎসাহজ্ঞাপক হাদীস।
৬) সনদ বিহীন কিছু প্রচলিত প্রথা।
৭) উক্ত রাত সম্বন্ধে সাহাবা ও তাবেয়ীগণের পক্ষ থেকে কিপয় বক্তব্য ও আমল

এগুলো নিয়ে আলোচনা আর দীর্ঘ করতে চাই না। শুধু এতোটুকু বুঝি
ওলামায়েকরামগণ পারেন আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে। এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ
রাত শুধু আমাদের উপমহাদেশের ওলামায়েকরামগণের নিকটই ধরা দিল? যেখানে ইসলাম
এসেছে, যেখানে গোমরাহী প্রবেশ করতে পারবেনা বলে আল্লাহর নাবী (সাঃ) হাদীস
বর্ণনা করে গেছেন সেখানকার মুসলমানগন কিছুই জানতে পারলেন না?

এ রাতে যা করনীয়ঃ

ক) অন্য রাত্রির ন্যায় নফল নামায পড়া, মৃতের জন্য দোয়া করা
খ) পটকা ফুটিয়ে আনন্দ উল্লাহ করা থেকে বিরত থাকা
গ) আগরবাতি, মোমবাতি বা মসজিদ আলোকসজ্জা না করা
ঘ) প্রমাণহীন বানোয়াট নিয়মে নামাজ না পড়া
ঙ) শবে ক্বাদরকে সেই ভাগ্যের রজনী মনে করা এবং তার খোঁজে রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিতে আল্লাহর অনুগ্রহ খোঁজ।

আল্লাহ পাক বিশ্বের সকল মুসলিমকে তাঁর অনুগ্রহ দিবসের দাওয়াত স্পষ্ট করে
পৌঁছে দিক এবং সকল ভেদাভেদ দুর করে সঠিক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন

Link: http://www.somewhereinblog.net/blog/wwwdotmamundotcom/29630354

আসলে বিতর্কের বিষয় নয় এটা; বরং বুঝার বিষয় ও যথাযথভাবে মেনে চলার বিষয়।

যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পদ্ধতি ও সীমানার বাইরে গিয়ে-যত ভালো কিছুই হোক-করার কোন সুযোগ নেই। সেহেতু "শবে বরাত" নামক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়টি আমাদের এড়িয়ে চলাই উত্তম। বরং যেসব ইবাদাত সহীহ্ সুন্নাহ্ কর্তৃক প্রমাণিত; সেগুলোই বেশী ও হক আদায় করে পালন করার মধ্যেই কল্যাণ আছে। মনে রাখতে হবে যে, আমাদের শ্রম যেন বৃথা না যায়। আর সেজন্য সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে গিয়ে নিশ্চিত ও নিঃসন্দেহ ইবাদাতে বেশী পরিমাণ মশগুল হওয়াই বুদ্ধিমান মুসলমানের কাজ হবে।

আল্লাহ্ তৌফিক দিন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)