অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল

 

সালাম ,

 

 

 

কিয়ামতের   দিন  তিনজনকে প্রথমে  আগুনে ফেলে দেয়া হবে । এরা  হলো জ্ঞানী , মুজাহিদ  ও দাতা ।   

আল্লাহ  জ্ঞানী বা আলেমকে  প্রশ্ন করবেন : তুমি দুনিয়ায়  কী করেছ ?  সে বলবে :  আমি আপনার  জন্য  জ্ঞান অর্জন  করেছিলাম  ও  আপনার সন্ত্তষ্টির  জন্য  সেই জ্ঞান  দান করেছি । “  

  তখন  তাকে বলা হবে , তুমি  মিথ্যা বলেছো ।  তুমি জ্ঞান অর্জন করেছো  যেন  তোমাকে জ্ঞানী  বলা  হয়  ।   তুমি  যা  চেয়েছিলে  তা  দুনিয়াতে  পেয়ে  গিয়েছো । তখন  আদেশ  করা  হবে  সেই  জ্ঞানীকে  দোযখে  ফেলে  দেয়ার  জন্য  ।   দানকারী ব্যক্তিকে  আল্লাহ  প্রশ্ন করবেন  :  তুমি  দুনিয়ায়  কী করেছো ?  সে  বলবে : আমি আপনার  জন্য  হালালভাবে  সম্পদ  অর্জন  করেছিলাম  ও  আপনার  পথে  তা দান করেছি । “   তখন  তাকে বলা হবে , তুমি  মিথ্যা বলেছো ।  তুমি  সম্পদ  দান করেছো যেন  তোমাকে  দাতা   বলা  হয়  ।   তুমি  যা  চেয়েছিলে  তা  দুনিয়াতে  পেয়ে  গিয়েছো ।   তখন  আদেশ  করা  হবে  সেই  দাতাকে   দোযখে  ফেলে  দেয়ার  জন্য         মুজাহিদকে প্রশ্ন করা  হবে : তুমি দুনিয়ায়  কী করেছিলে ?  সে বলবে :  আমি আপনার  জন্য  মৃত্যু  না  হওয়া  পর্যন্ত  লড়াই করেছিলাম । “  তুমি মিথ্যাবাদী ।  তুমি  এজন্য  লড়াই করেছো  যেন  তোমাকে বীর যোদ্ধা   বলা  হয়  ও তাই হয়েছে  ।   তুমি  দুনিয়াতেই  তোমার পুরষ্কার   পেয়ে  গিয়েছো । এরপর  তাকে  দোযখে  ফেলে  দেয়ার  আদেশ হবে  । 

  আল – নওয়ায়ী  رضي الله عنهم    বলেন :   লোক দেখানো   কাজ করা মানা  ও  তা করলে যে  কঠিন শাস্তি পেতে   হব ,   রাসূল  ﷺ     এর  এই  হাদীস  তার  একটি প্রমাণ  ।   রাসূল  صلى الله عليه وسلم বলেছেন  :  অবশ্যই   কাজের  ফলাফল  ইচ্ছা বা   নিয়তের  উপর  নির্ভরশীল  ;  একজন মানুষ  তাই  যা  সে  নিয়ত  করে  ।      আল্লাহর  উদ্দেশ্যে  নিয়ত  করতে  হবে :    আল্লাহ   এমন  কোন  কাজ  গ্রহণ  করেন  না  যা  তাঁর   সন্ত্তষ্টির   জন্য  করা হয়  নি ।    এক  লোক  রাসূল   صلى الله عليه وسلم   এর কাছে  জানতে   চাইলো :  কেউ যদি  পুরষ্কার   ও সম্মানের  আশায়  যুদ্ধ  করে , তবে  সে  কী পাবে ?  রাসূল صلى الله عليه وسلم           উত্তর  দিলেন ,  কিছু  না  ।   লোকটি  তিনবার  প্রশ্ন  করলো  ,   রাসূল صلى الله عليه وسلم    তিনবার একই  উত্তর  দিলেন ।   তারপর  বললেন :   নিশ্চয়ই   আল্লাহ   কোন  কাজ  গ্রহণ  করেন  না  যদি  না সেটা  আন্তরিকতার  সাথে  ও  আল্লাআহর  সন্ত্তষ্টির  জন্য  করা   হয়  ।   সুরা  কাহফে  আল্লাহ  বলেন  :  যে   তার  রবের  সাক্ষাত  কামনা  করে  সে যেন ভাল  কাজ করে  ও  তার  রবের  ইবাদতে  কাউকেও  শরীক  না করে   (   ১৮  : ১১০ )   ।  

      রাসূল   صلى الله عليه وسلم   জানান  , আল্লাহ  বলেছেন :  আমি  স্বয়ংসম্পূর্ণ -  আমার  কোন  অংশীদারের  দরকার  নেই ।  তাই  কেউ  যদি  কোন  কাজ  করে  যাতে  সে  আমার  সাথে  অন্য  কাউকে  অংশীদার  করেছে ,  তবে  আমি  তার থেকে   মুক্ত  ও  যাকে সে আমার  অংশীদার  বানিয়েছে ,  তার  জন্য  ওকে  ছেড়ে   দেব ( বর্ণনায়   আবু হুরায়রা ) ।    তাই যে  কোন  কাজে   আল্লাহর  জন্য  নিয়ত  করা  জরুরী ।   ইবনে  আল  কাইয়াম  বলেন :   ঠিক  যেমনটি  আল্লাহ   একমাত্র  উপাস্য  কোন  অংশীদার  ছাড়া ,  এটি  অপরিহার্য  যে  উপাসনা  হবে শুধু  তাঁরই  জন্য ।  তাই  যেভাবে  উনি  উপাস্য  হিসাবে  একক ,  ইবাদতের  জন্যও    সবার  থেকে  তাঁকে  আলাদা  করতে  হবে ।   সৎ  কাজ  হচ্ছে  তাই  যা রিয়া বা লোকদেখানো না  ও সুন্নতপন্থী । সুলায়মান  বিন  আবদুল্লাহ  رضي الله عنهم   বলেন :   কোন  কাজ  গ্রহণ   হওয়ার  জন্য  দুইটি  স্তম্ভের  দরকার -  তা  সঠিক   হতে  হবে  ও আন্তরিকতার   সাথে  করতে   হবে  ।  

 সৎ  কাজ  হচ্ছে  তাই  যা  কুরআন  ও সুন্নাহর  সাথে মানানসই  । আন্তরিক  কাজ সেটাই  যা  গোপন  ও প্রকাশ্য  শিরক থেকে  মুক্ত  ।   সুফিয়ান  আস  সাওরী  বলেন ,  নিয়ত  সংশোধনের  মতো কঠিন  চেষ্টা  অন্য কোন  কাজে  আমাকে কখনো করতে  হয়  নি  ।  আল্লাহ  আমাদেরকে  বেশী  বেশী করে ভাল কাজ  ও  সঠিক নিয়ত  করার  সৌভাগ্য  দান করুন , আমীন ।      সূত্র  :The manners of the knowledge seeker  লেখক :  শেখ  আবু আবদুল্লাহ  মুহাম্মদ  সাঈদ রাসলিন , সৌদি আরব  

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None