এক ঘরে দুই প্রতিযোগী

Asalamu'alaikum 

এখন দম্পতি বলতে একজন স্বামী , একজন স্ত্রী না ; বরং সমান শক্তি ও অধিকারের দু’জন প্রবল প্রতিযোগীকে বোঝায় । এই দু’জন একজন অন্যের সুখ – দু:খ একসাথে ভাগ করে নেয় না । এরা যেন জীবনসাথী না , বরং সব কাজে , সব সিদ্ধান্তে একজন আরেকজনকে হারানোর তুমুল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দুই যোদ্ধা । 

যুদ্ধের ময়দান বা খেলার মাঠে তো বটেই , পারিবারিক কোন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সামান্য লুডু খেলায় ভাই – বোনরা কেউ কারো কাছে হারতে চায় না - আমরা সবাই জিততে চাই ।

 স্বামী –স্ত্রীর এই যুদ্ধেও কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দেয় না । যারা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করে , তারা আহত বা নিহত হয় ; কিন্ত্ত স্বামী - স্ত্রীর লড়াইতে আহত হয় , প্রাণ যায় সন্তানের । 

সত্যিকারের প্রাণ যাওয়ার চেয়েও যেটা ভয়ংকর - মা – বাবার লড়াই দেখতে দেখতে বাচ্চাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় , কেউ কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে , কেউ বা আশ্রয় নেয় মরণনেশার । 

এসব নারীদের কী দূর্ভাগ্য । স্বামীর উপর একজন স্ত্রীর যে আসলে কতটা প্রভাব , সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই । একটি বিখ্যাত প্রবাদ হলো : পুরুষরা হলো মেয়েদের আঙুলের আংটির মতো -মেয়েরা যেমন ইচ্ছা তেমন এই আংটিকে ঘুরাতে পারে । চিৎকার , চেচামেচি , গালিগালাজ , কখনো বা হাতের কাছে যা থাকে স্বামীকে তাই ছুড়ে মারা - এসব করে যা আদায় করা যায় , তার থেকে মিষ্টি হেসে , নরম কথায় তার লক্ষ গুণ বেশী যে আদায় করা সম্ভব , এ সহজ সত্যটি কেন এসব মেয়েরা জানেন না ? 

আল্লাহ বলেছেন , নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের ; কিন্ত্ত নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে ( সুরা বাকারা ; ২ : ২২৮ ) । এখানে মর্যাদা বলতে সম্মান , দায়িত্ব , কর্তব্যসহ অনেক কিছুই বোঝায় যে ব্যপারে নারী - পুরুষ উভয়েই উদাসীন।

এটা দু:খজনক যে এখন স্বামী - স্ত্রী দু’জনেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন । স্বামী যেমন স্ত্রীর কাছে আনুগত্য দাবী করে , তেমনি স্ত্রীর প্রতি তার যে কর্তব্য আছে , সেটা তিনি ভুলে যান । আবার অনেক মুসলমান স্ত্রীও স্বামীর অবাধ্যতা , প্রতিটি কথায় স্বামীকে অমান্য করাকে মনে করেন নারী স্বাধীনতা । অনেক মেয়েকে বলতে শোনা যায় , আমি তো আমার স্বামীর সমান বা তার থেকে বেশী আয় করি ; আমি ওর চেয়ে কম কীসে ?

মনে রাখতে হবে আল্লাহ পুরুষদের উপর রোজগার করা ও পরিবারের জন্য খরচ করা বাধ্যতামূলক করেছেন - মেয়েরা এই দায় থেকে মুক্ত । তাই কোন মেয়ে যদি স্বামীর সমান বা তার থেকে বেশী রোজগার করেন , তাহলেও তিনি স্বামীকে অসম্মান করার অধিকার রাখেন না । 

রাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করার অনুমতি থাকলে আমি স্ত্রীদের বলতাম স্বামীকে সিজদা করতে ।

কুরআনের একাধিক আয়াত ও বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বলা যায় , স্বামীর শরীয়াহসম্মত যে কোন কথা স্ত্রী শুনবেন - বর্তমানের নারী স্বাধীনতার আলোকে ‘ এক ঘরে দুই স্বামী “ বা সমান শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষ মতবাদে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই । 

একজন স্বামী ঘরে কোন কর্তৃত্বপরায়ন প্রতিযোগীকে না , বরং প্রেমময়ী স্ত্রীকে চায় । তেমনি মেয়েরাও আশা করেন স্বামী তাকে কেনা দাসী নয় বরং স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন । মুসলমান নারী – পুরুষ যেন একে অন্যকে সম্মান করতে শেখেন , আমীন । 

সহায়ক সূত্র : Why Marriages Fail” By, Haitham Haddad

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

জীবনের কঠিন কিছু সত্য তুলে ধরেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে যেন এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না কেউ। মানে বেশির ভাগের অবস্থাই নাজুক।

-

"এই হলো মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়াত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।" [আলে-ইমরান: ১৩৮]

 

বাস্তবতা  হলো  নারী  নির্যাতন  আশংকাজনকভাবে হচ্ছে , এর  পাশাপাশি   কিন্ত্ত  পুরুষরাও   অনেক  নির্যাতিত হচ্ছেন । যেহেতু  তারা  মূলত:  মানসিক নির্যাতনের  শিকার  হোন  , তাই  গণমাধ্যমে  তাদের  খবরটা  তেমন  আসে  না ।

একটা খুব  মজার  কার্টুন  ই-মেলে পেয়েছি ।   বলা যায় সব যুগের  প্রতিনিধিত্ব  করছে  কার্টুনটি।

 

 

 

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)