আল্লাহর সন্ত্তস্টির জন্য তারাবীতে ধীরে ও স্পষ্টভাবে কুরআন তেলাওয়াত করুন

sl

তারাবীর সময় খুব তাড়াতাড়ি কুরআন তেলাওয়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রিটেনের শেখ হাইতাম আল হাদদাদ  ইন্টারনেটে ইমামদের প্রতি এই অনুরোধ করেছেন ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত সময় উপযোগী । তাই মূল লেখার কিছু অংশের অনুবাদসহ নিজের মতামত এখানে তুলে ধরলাম ।

Tarawih Recitation: A message to all Imams

-- Haitham Al-Haddad   (   www.­islam21c.­com   )

আমি ইমামদের অনুরোধ করছি - আপনারা আল্লাহর সন্ত্তস্টির জন্য তারাবীর সালাতে কুরআন তেলাওয়াত করুন , মুসল্লী বা অন্য কোন মানুষকে খুশী করার জন্য নয়। । 

তারাবী পড়ানোর সময় ইমামদের উচিত কুরআনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা । সব মসজিদ কমিটির উচিত এ ব্যপারে ইমামদের সঠিক নির্দেশ দেয়া ও কোন ইমামকে দ্রুত তারাবী খতম করতে বাধ্য না করা ।

কুরআনের মাধ্যমে স্রষ্টার সাথে বান্দার যোগাযোগ হয় ; কেননা কুরআনই একমাত্র আসমানী কিতাব যা আজো অবিকৃত ও সবসময় তাই থাকবে । মানবজাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর আদেশ - নিষেধ বা হালাল - হারামের বিধান আমরা কুরআনের মাধ্যমে পাই । এটা এসেছিল সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে । তিনি শিখিয়ে গিয়েছেন বিশ্বাসীদেরকে কিভাবে কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে ।

রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেলাওয়াত ও বর্তমান সময়ের ইমামদের তেলাওয়াতের মধ্যে তুলনা : 

রাসূল ﷺ খুব ধীরে ধীরে স্পষ্ট উচ্চারণে কুরআনে তেলাওয়াত করতেন ও যে সব আয়াতে বেহেশত ও দোযখের কথা এসেছে , সে সব পড়ে তিনি থামতেন । একবার তিনি সারা রাত এই আয়াত তেলায়াত করেছিলেন : 

( হে আল্লাহ ) , আপনি যদি ওদেরকে শাস্তি দেন , তবে তারা তো আপনারই দাস ; আর যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন তবে আপনি , কেবল আপনিই তো পরাক্রমশালী , মহাজ্ঞানী ( সুরা মায়িদা ; ৫:১১৮ ) । 

ইমাম আবু হানীফা একবার সুরা যালযালাহ সারা রাত ধরে পড়েছিলেন । 
আজ মসজিদে মসজিদে যেভাবে তাড়াহুড়া করে কুরআন পড়া হয় , তা কী সঠিক ? এ প্রশ্ন নিজের মনকেই করুন । 

এখন যে দ্রত গতিতে ইমামরা তারাবী পড়ান , তা অত্যন্ত দোষণীয় , ক্ষমার অযোগ্য । তাড়াহুড়া করে তারাবীতে এমনভাবে কুরআন তেলাওয়াত করা হয় যাতে মনে হয় ইমামরা সময়ের সাথে লড়াইতে নেমেছেন - নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবশ্যই তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন পাঠ করতে হবে , নইলে তারাবী আদায় হবে না বা গুনাহ হয়ে যাবে ।

তাদের তাড়াহুড়া দেখে আরো মনে হয় ভারী কোন বোঝা তাদেরকে এক্ষুনি ঘাড় থেকে নামাতে হবে । অথচ এমন তাড়াহুড়া করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর সাহাবীরা কখনোই সালাতে বা অন্য কোন সময়ে কুরআন তেলাওয়াত করেন নি । 

ব্রিটেন ও বাংলাদেশের তারাবী সালাতে কুরআন তেলাওয়াত : 

ব্রিটেনের কিছু মসজিদ সম্পর্কে জানা গিয়েছে , সেখানে মাত্র ৩০ মিনিটে ২০ রাকাত তারাবী পড়ানো হয় । এর মানে প্রতি রাকাত নামাজ মাত্র দেড় মিনিটে পড়ানো হচ্ছে ।

কিভাবে এই অল্প সময়ে কুরআনের কোন পাতা শুদ্ধ উচ্চারণে তেলাওয়াত করা সম্ভব ? মনে রাখবেন , তাড়াহুড়া করে কেউ যদি সুরা ফাতিহায় ভুল করে বসেন , তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে । তাছাড়া , আপনি কী মনে করেন এই তাড়াহুড়া করে কুরআন তেলাওয়াত আল্লাহর পছন্দের বা এতে তাঁর অনুমতি আছে ? 


বাংলাদেশে অবশ্য সময় আরো বেশী নিয়ে ইমামরা তারাবী পড়ান কিন্ত্ত তাদের পড়ানো নিয়েও অনেক অভিযোগ আছে । ইমামরা রকেটের গতিতে কী পড়েন , তা সাধারণ মুসল্লীরা কিছুই বুঝতে পারেন না । দু’রাকাত ও চার রাকাত তারাবীর পরে দোয়া - দরুদ পড়ার কোন সময় পাওয়া যায় না । 

তারাবীসহ যে কোন সালাতেই বা অন্য যে কোন সময়ে তাড়াহুড়া না করে বরং স্পষ্ট উচ্চারণে শুদ্ধ তেলাওয়াতের উপর জোর দেয়া উচিত ।

আমাদের মনে রাখতে হবে তারাবীতে পুরো কুরআন খতম করা সওয়াবের কাজ তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় । আমাদের অনেক ইবাদতই আজ অর্থহীন কাজে পরিণত হয়েছে কেননা আমরা কিছু না বুঝেই , শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার খাতিরে তা পালন করি । কুরআন কোন আবৃত্তির বই নয় , এটা আমাদের অনন্ত মুক্তির পথ দেখায় । পবিত্র রামাদান মাসের তারাবী যেন অর্থহীন এক কষ্টকর নিয়মে পরিণত না হয়ে যায় , সেজন্য সময় এসেছে এটা নিয়ে আলোচনা করার । 

যাদের তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরা দরকার , তারা প্রয়োজনে পিছনের কাতারে আট রাকাত পড়ে জামাত থেকে বেরিয়ে আসুন । কিন্ত্ত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ রাকাত শেষ করার জন্য ইমাম বা মসজিদ কমিটির উপর চাপ দেবেন না ।

মনে রাখবেন , রামাদান বরকতের মাস ও তারাবী কেবল রামাদান মাসেই আদায় করা যায়। রামাদান মাসে যে কোন ভাল কাজের প্রতিদান বছরের অন্য যে কোন সময়ের থেকে অনেক অনেক গুণ বেশী ।

 

 

 তাই তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে টিভিতে প্রিয় সিরিয়াল বা অনুষ্ঠান দেখার জন্য বছরে এই একবার সালাতে কুরআন খতম শোনার সৌভাগ্য থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না ।

একই  নিয়মে  কুরআন  খতম :

সরকার  প্রতি  বছর  রামাদান  মাস  শুরুর  আগে ঘোষণা  দেয়  তারাবীতে  কিভাবে কুরআন  খতম  করতে  হবে ;  কিন্ত্ত  অনেক মসজিদেই  তা  মানা  হয়   না  ।  তারা  নিজেদের সুবিধামত  একের  দিন  পড়ার  পরিমাণ  ঠিক  করে  । 

তাই অনেক  মুসলমান  ভাই  কোন  কারণে  প্রতি রাতে  নির্দিষ্ট  একটি মসজিদে তারাবি  পড়তে না পারলে কুরআন  খতম  শোনা  থেকে  বঞ্চিত   হয়ে  হায় , আফসোস করেন ।  

  প্রতি বছরই  এমনটি  ঘটে  অথচ  সব মসজিদে  একই  নিয়মে  কুরআন খতম  কিভাবে  করা যেতে পারে , এ নিয়ে    কাউকে মাথা ঘামাতে  দেখা যায়  না ।  আশা  করি ,  রামাদানের  এক সপ্তাহ  বাকী থাকতে    সরকার বা  মসজিদ  কমিটিগুলি  নিজেদের  উদ্যোগে  এ নিয়ে  সফল  আলোচনা করবেন ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

রমজানের আগে এমন লেখা অনেক কাজে লাগবে। অবশ্য যদি আমাদের ইমামদের নজরে পড়ে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

সালাম

এটি আসলে  গত  বছর  লিখেছিলাম , শেষ  দুটো প্যারা  যোগ  করে  এবার  বিসর্গে  দিলাম ।

  কোন ইমাম সাহেব  বা মসজিদ কর্তপক্ষের  নজরে  পড়েছে  বলে  মনে  হয়  না ।  তারা  কি  ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ?

পড়ে খুব ভাল লাগল।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)