বর্তমানে দ্বীনি শিক্ষার গুরত্ব

কোরআন হাদীসের জ্ঞান ছাড়া মানুষ কখনো প্রকৃত মানুষ হতে পারেনা। সমস্ত আদম সন্তান জ্ঞানবান হয় শিক্ষার বদৌলতে, ধর্মীয় শিক্ষা বা দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে মানবতার আসনে আশীন করে। এই দ্বীনি জ্ঞান মানুষকে সামাজিক, আদর্শিক, মানবতাবাদী, বিজ্ঞানী, গবেষক, আবিষ্কারক ও দেশ প্রেমীক করে গড়ে তুলে। এই দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ পেতে পারে ইহকাল ওপরোকালের মুক্তির পথ। দ্বীনি জ্ঞান দ্বারাই মানবজাতী লাভ করে বিশ্বস্রষ্টা মহান আল্লাহর পরিচয় ও জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে দূর্লভ যোগ্যতা। এই ধর্মীয় জ্ঞান দ্বারাই মানুষ হতে পারে সুবিচারক, ন্যায়পরায়ন শাষক, সুসন্তান, এবং সববিষয়ে বিবেচক হাদীস শরীফে হযরত রাসূল (সঃ) এরশাদ করেন জম্মগত ভাবে প্রতিটি মানব শিশু ইসলামী ফিতরের উপর জম্ম গ্রহন করে, অতঃপর তার পারিপার্শিক সমাজ-সংস্কৃতি তাকে বিকৃত করে তোলে, সে হয়ে উঠে নাফরমান, লিপ্ত হয় জৈবিক কুক্রিয়ায়। জম্মগত সেই ঈমানী সম্পদ প্রকৃত শিক্ষার অভাবে ধাপে ধাপে নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ হয়ে যায় বাতিলপন্থি, হয়ে উঠে ধীরে ধীরে ইয়াহুদী, খৃষ্টান, মূর্তি পূজারী অথবা নাস্তিক্যবাদী। এসবের মূল কারন তার পারিপার্শিক কুসংস্কারের অন্ধকার। সেই অন্ধকার ও জাহেলিয়্যতকে দূর করার জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা। আর সেটাই হচ্ছে দ্বীনি শিক্ষা বা ইসলামী শিক্ষা। দ্বীনি শিক্ষার চর্চা, প্রচার ও প্রসারের নিমিত্তে মাদ্রাসা বা দ্বীনি শিক্ষা নিকেতনের গুরত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রের গুরুত্ব পূর্বের তুলনায় বর্তমান সমাজ পেক্ষাপটে আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হযরত রাসূল (সঃ) কোরআন, হাদীস, ফিকাহ ও দ্বীনের আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি শিক্ষার জন্য তাকিদ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেন ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। (বোখারী শরীফ)
তিনি সাহাবীগণকে দ্বীনি শিক্ষা প্রচার ও দাওয়াত দিতে উৎসাহ দিতে বলেন, তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌছাইয়া দাও। সাহাবীগণ এই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেছেন। সেই কারনেই পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে, দ্বীনের প্রচার প্রসার ও আদর্শ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যায়। এই দ্বীনি প্রচারের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে আমাদের সুশীল সমাজ, আদর্শবাদী মানব, সুমানবতাবাদী, সঠিক বিজ্ঞানী, গবেষক, আবিষ্কারক, ও দেশ প্রেমীক গঠনে দ্বীনি শিক্ষা কতটা প্রয়োজন ও অপরিসীম। আমরা দ্বীনি শিক্ষা বলতে বুঝি আরবী শিক্ষা। আর এই দ্বীনি শিক্ষা বা আরবী শিক্ষা অর্জন করার ক্ষেত্রে হযরত রাসূল (সঃ) একটি হাদীসে এরশাদ করেন, তোমরা তিন কারনে আরবীকে ভালবাসবে মুহাব্বত করবে।
১/ আমার ভাষা আরবি।
২/ কোরআনের ভাষা আরবী।
৩/ জান্নাতের ভাষা আরবী।
এই হাদীস দ্বারা সহজে বুঝে আসে যে, আরবীকে মুহাব্বত করা এবং দ্বীনি এলেম শিক্ষা অর্জন করা সকল মুসলমানের জন্য একান্ত কর্তব্য। আরবী শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে দ্বীন ইসলাম এই ধরা পৃষ্ঠে টিকে থাকা দ্বায় হবে। কারন দ্বীনি ইসলামের আইনকে বিশ্লেষনকারী মহাগ্রন্থ হচ্ছে আল কোরআন এবং এর ব্যখ্যা বিশ্লেষনকারী হচ্ছে হাদীস শরীফ। কোরআন শরীফ আল্লাহর বাণী এবং হাদীস শরীফ রাসূল (সঃ) এর জীবনাদর্শ। এই কোরআন হাদীস সম্পর্কে জানতে হলে তথা দ্বীন ইসলামের বিধি বিধান জানতে হলে, আরবী শিক্ষায় পুরোপুরি দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করা একান্ত অপরিসীম।
×× ধর্মীয় জ্ঞান আল্লাহ ভীতি বৃদ্ধি করে, যা দ্বারা মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারে।
×× ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে সরল সঠিক পথ দেখায়, যার শেষ ঠিকানা জান্নাত
×× ধর্মীয় জ্ঞান মানুষের হক্ব আদায় কিভাবে করতে হয় তা শিখায়।
×× ধর্মীয় জ্ঞান পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য পালন শিখায়।
×× ধর্মীয় জ্ঞান পৃথিবীর খারাবী রোধ করে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করার তৌফিক দান করুন। এবং তদনুযায়ী আমল করার সুযোগ করে দিন। আর আল্লাহ আমাদের সবার ছোট বড় সব আমল কবুল করে নিন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)

sl

 

*****

দ্বীনী শিক্ষার ব্যাপারটা বোধহয় আরো ব্যাপক। আশা করছি ভবিষ্যতে আরো সুস্পষ্ট লেখনী পাবো আপনার কাছ থেকে এ ব্যাপারে। তবে দ্বীনী পোষ্টে *****।

-

"প্রচার কর আমার পক্ষ হতে, যদি একটি কথাও (জানা) থাকে।" -আল হাদীস

সালাম

আপনাকে ধন্যবাদ

দোয়া করবেন আমার জন্য

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)