হে আল্লাহ! পশুর মত কেন?

কি হল মানুষের? কি হল বিবেকের? কি হল এই সময়ের? অবাক! বড়ই অবাক করা ঘটনা ঘটছে এই জামানায়, যেন নতুন পৃথিবীতে আছি। কেন এমন হচ্ছে? এর জবাব কে দেবে? প্রত্যেক ভাল বিষয়েরও যেন বর্তমানে কুৎষিত মানে। আর খারাপ বিষয়ের যেন তুলনা নেই। কেন এমন পরিবেশ, কে সৃষ্টি করেছে এই পরিবেশ? কেন এই পরিবেশের এত নগ্নতা? কার কাছে জবাব পাবো? কে দেবে এর জবাব? হে আল্লাহ্! পশুর মতন কেন আজ মানুষের আচরণ? ভাবতে অবাক লাগে।


পরিচিতিঃ- কিছুদিন আগের এক ঘটনা, ফেনী জেলার বাসপাড়া নামক এক গ্রামের এক অসহায় নারীর দূর্ভাগ্যের কথা। স্বামী শহরে এসে ব্যবসা করে আর বউ গ্রামের গৃহস্থালি করে, সন্তান পালন, সাথে হাঁস মুরগী পালন ও গাছ-গাছালি লাগিয়ে, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মোটামুটি সুখের সংসার। স্বামী যা আয় করে তা দিয়ে ভালই কেটে যায় হুসনেআরা’র পাঁচ সদস্যের সংসার।
হুসনেআরা’র বাবা নেই, তাই মা অনেক ভাবতেন তাকে নিয়ে। মা কোন মতে অনেক কষ্ট করে হুসনেআরাকে চার ক্লাস পর্যন্ত পড়ান। এর মাঝেই বাবা মারা গেলে সংসার চালানোর বোঝা এসে পড়ে মায়ের উপর। আর সে থেকেই তার পড়াশোনা বন্ধ। কি আর করা, যেখানে খেয়ে পরে বাঁচাই কষ্ট, সেখানে পড়ার কথা ভাবাই তো যায়না। মা ওদের চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসার নিয়ে খুবই ভাবতেন, আর আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে দোয়া করতেন যেন কোন মতে মোটা ভাত, মোটা কাপড় পরাতে পারে এমন ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে পারে হুসনেআরাকে। দোয়া করতে করতে একদিন মায়ের দোয়া কবুল হয়ে গেল। মায়ের ভাবনার চেয়েও বেশী টাকা ইনকাম করে; এমন ছেলেই পছন্দ করে হুসনেআরাকে। হুসনেআরা প্রথমে এ বিয়েতে রাজী হয়নি। আর তার মা এই ভেবে রাজী হয়েছে যে, ওর বাবা নেই, এরপর যদি আমিও মরে যাই তবে কে দেখবে ওদের চার বোনকে? মায়ের সম্মতি আর সংসারের অভাব দেখে অবশেষে হুসনেআরা রাজী হয় বিয়েতে। বিয়ে হয়ে গেল; হুসনেআরাদের থেকে দু’গ্রাম পরের এক গ্রামে। বছর না শেষ হতেই এক ফুটফুটে ছেলে সন্তান আসল হুসনেআরার কোল জুড়ে। গাঁয়ের মেয়ে হুসনাআরা যেন আরও সংসারী হয়ে গেল। দিন যায়, মাস যায়, এভাবে ঘুরে ঘুরে বছর পেরিয়ে হুসনেআরা’র সংসারও বড় হতে থাকে। দু’জনের সংসারে এখন সদস্য তারা পাঁচজন। ভালই কাটতে থাকে তার সংসার। স্বামী কয়েক মাস পরপর শহর থেকে কাজ করে আয় রোজগার করে বাড়ি আসে, দু’তিন দিন থেকে আবার চলে যায় শহরে।

মূল ঘটনাঃ- এমনই একদিন হুসনেআরা সারাদিন সন্তান, সংসার আর গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়ে, ছেলে-মেয়েদেরকে শুইয়ে দিয়ে, ছোট ছেলেকে নিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় পিঠ লাগাতেই যেন দু’চোখে নেমে আসে রাজ্যের ঘুম। হঠাৎ মাঝরাতে কে যেন তার বিছানায়, সে যখন চোখ খোলে তখন তার মনে আসে তার স্বামী তো শহরে, কে এলো তার ঘরে? নানান চিন্তা করতে করতে সে চিৎকার শুরু করে দিল এবং নানান গাল-মন্দ করতে শুরু করল। লোকটি দৌড় দিয়ে বের হয়ে যেতেই দেখতে পেল; এ যে তার শ্বশুর। সে আর রাতে ঘুমাল না। ভাবতে ভাবতে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসে কাটাল সেই রাত। সকাল বেলা তার আর কোন কাজে মন বসেনা, মাকেও সে বলতে পারছেনা তার মনের কথা। তার স্বামীর হাতে মোবাইল নেই যে, কল করে বলবে। কি করা কোন মতে ছেলে-মেয়েদেরকে খাইয়ে সে টুকিটাকি কাজ করতে লাগল, এদিকে তার শ্বশুর তকে তকে থেকে দেখেছে যে, হুসনেআরা কি করে। আর বসে বসে দাও ধার দিচ্ছে। আল্লাহই জানেন তার মনের খবর, কি করবে এ দাও দিয়ে? হুসনে আরা’র শ্বাশুড়ী নেই, তিনি আরও কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এ বাড়িতে হুসনে আরা তার সন্তানদের নিয়ে থাকে, আর তার শ্বশুর একা থাকে, যার যার ঘর আলাদা। এ দিকে হুসনে আরা তো মনে মনে দোয়া করছে তার স্বামী যেন রাতে বাসায় ফেরে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দুপুর ও বিকেলের মধ্যবর্তী সময়ে তার শ্বশুর সুযোগ বুঝে তাকে সেই দাও দিয়ে ন’টি কোপ দেয়! তারপরও যখন সে মারা যাচ্ছে না, তখন সে লোকটি পেট কেটে ফাঁক করে নাড়ীভুড়ি বের করে ফেলে! আল্লাহর অপার কৃপা যে, হুসনে আরা’র হায়াৎ বেশী ছিল হয়ত, তাই সে মারা পড়েনি। আশ-পাশের কয়েকটা মেয়ে দৌড়ে এসে হুসনে আরাকে ধরে গ্রামের-হাসপাতালে নিলে তারা এ রোগী রাখবে না বলে বিদায় করে দেয়। তখন ফেনী জেলা সদর-হাসপাতালে নিলে তারা ভর্তি করে এবং তার পেটে ৭০ টার মত সেলাই পড়ে। আল্লাহ্ তাকে তার সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে বাঁচিয়ে রাখেন। সে বেঁচে যায় এবং হাসপাতালে নার্সদের বলে দেয় যে, কেমন করে ঘটনা ঘটলো। ওখান থেকে পুলিশ জেনে যায় এবং হুসনে আরা’র জবানবন্দী শুনে তার শ্বশুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

মৃত্যু মুখেও চালাকিঃ- এদিকে হুসনে আরা’র স্বামী কারো মাধ্যমে শুনে বাড়ী এসে দেখে হুসনে আরা’র দুরবস্থা। স্বামী হুসনে আরা’র মুখে শুনে কি করা যায় ভাবতে থাকে। এদিকে পুলিশ সরাসরি হুসনে আরা’র জবানবন্দী নিয়ে তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে সরকারবাদী মামলা করে। স্বামী অনেক ভেবে চিন্তে হুসনে আরাকে বলে যে, যদি তুই আমার বাবার বিরুদ্ধে কোন উল্টা-পাল্টা বলিস, আর এ কারণে আমার বাবার শাস্তি হয়, তবে তোকে ছেড়ে দেব। আর যদি আমার সংসার করতে চাস্ তো আমার বাবাকে যেভাবে পারিস্ মুক্ত করে নিয়ে আয়। আর নয়তো আমার সন্তানদের রেখে তোকে বিদায় দেব। হুসনেআরা আর কিছু ভাবতে পারেনা। সে কি করবে? তার সন্তানদের কি হবে? কে দেখবে এই সন্তানদের? আর সেই বা কোথায় গিয়ে দাড়াবে? বাবা নেই তার মায়ের কষ্টের সংসার, কি করবে? এসব ভাবতে ভাবতে সে সিদ্ধান্ত নিল যে, সন্তানদের জন্য হলেও তার সংসার ঠিক রাখা দরকার। এসব ভেবে স্বামীর কথা মেনে নিল হুসনেআরা। ওদিকে তার শ্বশুরকে হাতে, পায়ে; এমন কি পুরো শরীরে শিকল পরিয়ে বন্দি করে রাখে পুলিশ। সে থানায় থাকতে থাকতে একেবারে মুসল্লীদের মত নামাজ পড়ে, সবার আগে গিয়ে সবাইকে নামাজের জন্য বলে এতে করে সবাই তার প্রতি অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। ধীরে ধীরে সবাই তাকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। হঠাৎ একদিন সে তার প্রহরীদেরকে বলে যে, আমার খুবই ইচ্ছে হয় যে, আমি পানিতে নেমে ডুব দিয়ে গোসল করি, তোমরা কি আমাকে অনুমতি দেবে বাবারা? শীতের দিন কয়েদী লোকটি কি বলে, এজন্য দু’জন পুলিশ মুখ চাওয়া চাওয়ি করে, পরে  অনুমতি দিয়ে হাত-পায়ের শিকল খুলে দেয়। লোকটি হাত, পা খোলা পেয়ে আস্তে আস্তে পানিতে নেমে গোসল করার ভান করে সাঁতার কাটতে থাকে যেন জীবনে এই প্রথম পানির দেখা পেল এবং একপর্যায়ে ডুব দিয়ে দিয়ে একেবারে ওপারে চলে যায়। পুলিশেরা ওপারে যেতে যেতে লোকটা কোথায় হারিয়ে যায়। সেই যে গেছে আর ফিরে আসেনি। হুসনেআরা এখনো সংসার করছে তার সন্তানদের দিকে চেয়ে। আর ভাবতে থাকে, এই তো পৃথিবীর নিয়ম; কেউ নেই বলে আজ আমি ন্যায় বিচার পেলাম না। আমার মত আরও অনেক হুসনেআরা আছে, যারা ন্যায় বিচার পায়না। এভাবে অপারগ হয়েই হুসনেআরা'র আজীবন কাটাতে হবে।


পরিশেষেঃ- কি হল পৃথিবীর? কি হল মানুষের? আমরা কি আনমনে একবারও ভেবে দেখি কিভাবে এই নগ্ন চরিত্র নিয়ে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবো? হে আল্লাহ্! পশুর মতন কেন এই সময়ের মানুষগুলো? তুমি মানুষকে হেদায়াত দাও নয়তো মৃত্যু দাও; আর কি বলার আছে এই অবস্থায়? পাঠক/পাঠিকাদ্বয় আপনারাই বলুন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

সালাম

 

ঘটনা  কি সত্যি ? 

 

আল্লাহ আমাদের  হেদায়েত করুন ।

সালাম

হাঁ ঘটনা সত্য, আর এমন অনেক সত্য আছে যা, আমাদের অজানা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব রকম গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

ওয়ালাইকুম আস  সালাম

খুবই  দু:খজনক । মানুষ  এখন পশু নয় , পশুর থেকেও  নীচু  স্তরে  চলে যাচ্ছে । আল্লাহ  হেফাযত করুন ।

এ সব মেয়েদের বাপের  বাড়ির  লোকজন  কেউ  এত  বিপদে  এগিয়ে  আসে  না  কেন  ?   যে সব নারী - পুরুষ  একাকী জীবন কাটাচ্ছেন , তাদের   বিয়ের ব্যবস্থা  করা   খুব জরুরী  । তাহলে  হয়তো   তারা  এরকম  বিকৃত  আচরণ করবে না ।

সালাম

আপনি ঠিকই বলেছেন, তবে এমনও আত্মীয় স্বজন আছেন পৃথিবীতে, যারা বড়লোক হওয়ার কারনে দরিদ্র আত্মীয়ের খবরও নেয়না। আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে আত্মীয়-স্বজনের হক্ব আদায় করার তৌফিক দিন।

আমিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

আশ্চর্য।

আপনার লিখার জন্য ধন্যবাদ। তবে এসব বিকৃত মানুষদের বিকৃত জঘন্য কাজের খবরটা কি নেটে ছড়ানো ঠিক হলো? আমি জানি না। তবে আমার আশংকা যারা এটা পড়বে সেই সূস্থ মানুষদের অনেকেই মানষিক অস্বস্থি বা চাপে আক্রান্ত হবে। না চাইলেও মন থেকে সন্দেহ ও ভয় আসবে। অবিবাহিত ছেলে মেয়েদের মানষিক অবস্থা কি হতে পারে? 

মানব সৃষ্টির প্রথম থেকেই অপরাধ ছিল। আছে, থাকবে। সেটা এ দেশে হোক আর যে দেশেই হোক। এ সবের নানা ফ্যাক্টর আছে। কাজেই সবার উচিত ইসলামের/অন্য ধর্মের মৌলিক জীবনাচরণগুলো, মানবিক নৈতিকতা সমূহ শিখা, শেখানো এবং ছড়িয়ে দেয়া। শুধু নিজে শিখব আর নিজে বাচব এমন হলে কোন না কোন ভাবে আ্যফেক্টেড হবো।

সালাম

 

এসব  সমস্যা নিয়ে  শালীনভাবে  আলোচনা   হওয়া  জরুরী ।

সমস্যা  গোপন করলে  বা চেপে  রাখলে  তাতে সমাধান  আসবে  না ।  এ ধরণের বিকৃত রুচির  মানুষ  সমাজে  অনেক  আছে  । মানুষকে সাবধান করার জন্য    এ নিয়ে আলোচনার   প্রয়োজন আছে ।

 

যাদের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী  ,  সে সব  নারীদের মনে হয়   বাপের বাড়িতে থাকাই  ভাল । বিশেষত  যদি  শ্বশুরবাড়িতে   অন্য কোন   মহিলা সদস্যা  না  থাকেন ।

 

এসব  সমস্যা নিয়ে আলোচনা  হয়  না  বলে    সহজেই অনেক  নারী   বিপদে  পড়তে পারেন  । 

সালাম
আপনাকে ধন্যবাদ
আমিও অনেক ভেবে দেখেছি যে, লেখাটা পোষ্ট করা ঠিক হবে কি না? আবার এটাও ভেবেছি যে, অন্যায় সহ্য করা ও একধরনের অন্যায়। আর মানুষ না জানলে সতর্ক থাকবে কেমন করে? অনেক ভাবার পরে লেখাটা পোষ্ট করেছি, যদি আমার ভূল হয়ে থাকে তো, আল্লাহ আমাকে মাফ করুন। আর সব মানুষকে সঠিক বুঝ দিন। কার কি হক্ব, তা বুঝে যেন মানুষের হক্ব আদায় করে। আল্লাহ আমাদের চরিত্রকে উত্তম করে দিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

লেখাটি পড়ে থ' বনে গিয়েছিলাম। পড়তে পড়তে ভয় হচ্ছিল যে, পশুটা আবারো হামলা করে কি না। কিন্তু না, পশুটা বনে চলে গেছে।

হোসনে আরা'র প্রতি সমবেদনা ও দো'আ রাখলাম।

আর লেখিকাকে ধন্যবাদ। সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর হয়েছে লেখাটি।

সালাম
আপনাকেও  ধন্যবাদ
আল্লাহ যেন এই ধরণের পশুদের থেকে সব মা, বোনদের সম্মান বাঁচিয়ে রাখেন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)