স্বাগতম হে মাহে রমাদ্বান!!

স্বাগতম হে মাহে রমাদ্বান!!
আহলান! সাহলান! মারহাবা ইয়া মাহে রমাদ্বান!!
স্বাগতম! স্বাগতম! সু-স্বাগতম! হে মাহে রমাদ্বান! সাথে মুসলমান ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।


সূচনাতেঃ- বছর ঘুরে আবার এলো আমাদের পবিত্র মাহে রমাদ্বান। প্রত্যেক মুসলমানের উপর রোজা যে ফরজ তা আবার মনে করিয়ে দিতে, এবং প্রত্যেকের দায়িত্বকে স্বরণ করিয়ে দিতে, আমরা মানুষ তাই আমাদের মাঝে ভূল আসবেই আবার সেই ভূল থেকে সংশোধনে আশার জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালা মাহে রমাদ্বান রেখেছেন আমাদের মুসলমানদের জন্য। রোজা হল ইসলামের পাঁচটি রোকনের একটি বিরাট স্তম্ভ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রমাদ্বানের গুরুত্ব বুঝার, এবং মানার তৌফিক দিন।


বিবেচনায়ঃ- মাহে রমাদ্বান এসেছে, যাতে করে আমরা সারা বছর যে, যেভাবেই থাকি না কেন রমাদ্বানে সবাই চাই নিজেকে ভাল করতে, নামাজী হতে, কোরআন তেলোয়াত করতে, এর সাথে আরও চাই মানুষ আমাদের ভাল বলুক, এমনটাই ইদানিং চোখে পড়ে বেশি। কে কয়টা রোজা রেখেছে, কে কয় রাকা’ত তারাবী পড়েছে, কে কয় রাতে তাহাজ্জুদ পড়েছে, এই হল রমাদ্বান নিয়ে লোকের আলোচনা। আরও আরও গুনাহের কথা বাদ দিলেও, আমাদের মহিলাদের একটি স্বভাব না বললেও নয়, তা হল আমরা কয়েকজন একসাথে হলেই নানান প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেই, এবং এতটাই বিভোর হই যে, এতে কি পরিমানে গুনাহ হওয়ার আশংকা আছে তা ভাবিই না, বরং ভুলে যাই।


রোজার মূল্যায়নঃ- আমরা সবাই রোজা রাখি মানে যাদের উপর রোজা ফরজ তারাও, এবং যাদের উপর রোজা ফরজ নয় তারাও। তবে আমাদের খেয়াল করার বিষয় হল, আমরা যে রোজা রাখছি তা যেন শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য  হয়। এবং আল্লাহর হাবীব (সঃ) এর দেখানো পথে হয়। আমরা যারা আলেম নই তারা সবাই যেন আবার নতুন করে আলেমগণের থেকে জেনে নেই রমাদ্বানে আমাদের জন্য কি কি করনীয়, এবং কি কি বর্জনীয়, তাহলে তা থেকে আমরা আমাদের আখলাক (চরিত্রকে) সুন্দর করতে পারি।


নিজের আমলকে ভাল করার মাসঃ- যখন ছোট ছিলাম তখন, যখনই ঐসময় আসতো, মানে যখন রমাদ্বান মাস আসতো, মনে হতো এই তো ক’দিন পরে ঈদ, কি মজা হবে, তখন বুঝতামই না যে, রোজা রাখা ফরজ, এর কত মূল্যায়ন, কত দামী এই মাস। আলহাম-দুলিল্লাহ! আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে আল্লাহ তা বুঝার তৌফিক দিয়েছেন, এবং চেষ্টা করি মানতে, চেষ্টা করি সবাই যেন আল্লাহর বিধান মত চলে সে জন্যে। এমাস অন্য মাসের তুলনায় অনেক ফজিলতপূর্ণ মাস। এমাস নিজের আমলকে ভাল করার মাস। এমাস নবী (সঃ) এর  জীবনি মনে করিয়ে দেয়ার মাস। এমাসে এমন এক রাত্রি আছে যা হাজার রাতের চেয়েও মূল্যবান। আসুন এমাসে আমরা সবাই আমাদের আমল গুলো ভাল করার চেষ্টায় লেগে যাই, যাতে করে অন্তত আল্লাহকে বলতে পারি হে আল্লাহ আমরা তো নবীজিকে পাইনি, সাহাবেগণকে পাইনি, তাবেঈগণকে পাইনি, তাবে-তাবেঈগণকেও পাইনি আমরা পেয়েছি আল্লাহর বাণী আল কোরআন, রাসূল (সঃ) এর হাদীস, এই নিয়েই চলেছি। এখন তুমি আমাদের এই ছোট ছোট কাজকেই কবুল করে নাও। আর আমাদের সবাইকে মাফ করে দাও।


যায়দিন ভাল আসেদিন খারাপঃ- কথায় বলে যায়দিন ভাল, আর আসেদিন খারাপ! একথাটির মর্মার্থ একসময় বুঝতাম না, বলতাম এ আবার কি রকম কথা, যায়দিন ভাল আসেদিন খারাপ? তখন তো মনে হতো আসেদিনই ভাল কারন বছর ঘুরে এলেই ঈদ আসে নতুন নতুন জামা-কাপড় পাই, মজা মজা রান্না হয়, সবাই সবার বাসায় রেড়াতে যায়, কি মজার তাই না? আসলে সে মজার মাঝে কোন জ্ঞান ছিলনা, কোন বিবেক ছিলনা, ছিল শুধু নির্বুদ্ধিতা, আল্লাহ সে সময়টার সবকিছু মাফ করে দেন মানুষ তখন অবুঝ থাকে বলে। বর্তমানে মনে হচ্ছে লোকের সেই কথাই ঠিক। কারন হিসেবে বলা যায়, মানুষ দিন দিন আল্লাহর ভালবাসা ও নবীজির ভালবাসা থেকে দুরে সরে যাচ্ছে, দুনিয়ার ভালবাসায় মত্ত হয়ে।


সুযোগ বার বার আসেনাঃ- মানুষের জীবনে সব সুযোগ বার বার আসেনা। আবার বছর ঘুরে ঘুরে ঠিকই আসে কিন্তু মানুষই বেঁচে থাকেনা। তাই সামনে পেয়েছি রমাদ্বান তারই মূল্যায়ন করতে সবাই সচেষ্ট হই। সামনে আবার হয়তো রমাদ্বান আসবে, কিন্তু আমি, আমরা হয়তো বা বেঁচে না ও থাকতে পারি, তাই যথা সময়ে যোগ্য জিনিসের মূল্যায়ন করা আমাদের কর্তব্য। আসুন এই রমাদ্বানে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই কিছু কিছু কাজ থেকে আমরা বিরত থাকার।
× ইচ্ছে করে রোজা ভঙ্গ করা থেকে
× নামাজ ত্যাগ করা থেকে
× মানুষের পিছনে কিছু বলা থেকে
× অন্যের অধিকার নষ্ট করা থেকে
× যে কোন খারাপ কাজের সহযোগীতা থেকে
× দল বেঁধে কারো ক্ষতি করা থেকে
× যে কোন জিনিসের অপচয় থেকে
× ছোট বড় সব রকমের গুনাহ থেকে
আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।
আর বেশি বেশি দোয়া করি আল্লাহ যেন সবাইকে উত্তম ভাবে রোজা রাখার সুযোগ দেন।
× এমাসের বরকতে সবার সব চাহিদাকে পূর্ণ করে দিন।
× সবার ঋন মুক্ত করে দিন।
× সবার আমলকে সুন্দর করে দিন।
× বেশি বেশি তেলোয়াত করার তৌফিক দিন।
× দান করার মন-মানষিকতা তৈরি করে দিন।
× আর আমাদের সবার আমলগুলোকে কবুল করে নিন।


আমরা যেন এই মহা পবিত্র একটি মাসের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি। নিজেও রোজা রাখবো, অন্যকেও রোজা রাখতে সহযোগীতা করবো ইন.....লাহ। বর্তমানে তো এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ কাউকে ভয়েও ডাকতে চায়না, কেউ বিরক্তবোধ করে, কেউ বা বলে আমার ইচ্ছে, আবার কেউবা বলে ইসলামে জোড় করে কোন কাজ করানোর হুকুম নেই। আবার দেখা যায় যে, কেউ জাগতে পারে নি বলে সাহরীও খেতে পারেনি, আর সাহরী খেতে পারেনি বলে মূল্যবান রোজাও রাখেন না। আসলে এমনটি হওয়া উচিৎ নয়, বা কাম্যও নয়।


পরিশেষেঃ- আসুন আমরা আমাদের আশে-পাশের প্রতিবেশীদের ঘরে ক্রলিং বেল দিয়ে জাগিয়ে দেই, অথবা মোবাইলে নিজের ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে দেই এবং রোজা রাখতে সুযোগ করে দেই। যাতে করে কারোর রোজাই যেন কা’যা না হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সবার হক্ব আদায় করার তৌফিক দিন। এবং সহযোগীতা করার জন্য মন-মানষিকতা তৈরি করে দিন। আর এই রমাদ্বানে সবার সব গুনাহ মাফ করে দিন। সবার আমলকে কবুল করে নিন।

২০ শে জুলাই ২০১২

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)


أهلاً وسهلاً رمضان
সূ্ত্র

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

সালাম

আপনাকে জানাই অনেক অনেক যাযা-কিল্লাহ খায়ের!!

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

অনেক অনেক ভাল লাগলো!

আপনাকে ধন্যবাদ

''সাদামেঘ''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)