‘’বৃষ্টির গুণে বন্যা মায়ের গুণে কন্যা’’

কোনএক বিকেলের কিছু অন্য রকম অনুভুতির কথা। নিজের প্রয়োজনে বিকেলে বের হয়ে ছিলাম বাহিরে। হঠাৎ এক বোনের সাথে দেখা, সাথে ছোট তিন কি সাড়ে তিন অথবা বেশির চেয়ে বেশি চার বছরের কন্যা শিশু। মাথায় স্কার্ফ ও পরনে বোরকা পরিহিত। আমাকে দেখেই সালাম বিনিময় করল যেন আমি ওর মায়ের পূর্ব পরিচিত। 


শিশুটি ওর আঁধভাঙা ও অস্পষ্ট ভাষায় আমার কাছে জানতে চাইছে ভাল আছেন? আমি বললাম আলহাম-দুলিল্লাহ! মেয়েটি আরো জানতে চাইলো বাসা থেকে যখন বের হয়েছেন দোয়া পড়েছেন? আমি বললাম হাঁ! সে আরো কিছু জানতে চাইলো কিন্তু ওর সাথে ছিল শিশুটির ফুপু উনি ধমক বারণ করছে আর প্রশ্ন করতে। কিন্তু বাচ্চাটি প্রশ্ন করবেই। আমি বললাম থাকনা করুক প্রশ্ন আমার ভাল লাগছে।


ওর ফুপু বলল আপা কিছু মনে করবেন না। ও সারাদিনই প্রশ্ন করতে থাকে। বাসায় পরিচিত অপরিচিত যে কেউই আসুক না কেন ও প্রশ্নের ভান্ডার খুলে বসবে। আর প্রশ্ন করতেই থাকবে যত জবাব পাবে ততই প্রশ্ন বাড়বে। অনেকে হয়তো বিরক্তবোধ করেন। আবার অনেকে আনন্দিত মনে জবাব দেয়। দেখেন তো আপনাকে চেনেনা তারপরও কতশত প্রশ্ন করা শুরু করেছে।


আমি বললাম সব শিশুই প্রশ্ন করে এই বয়ষে। ধমক দিয়ে কি আর ওদেরকে থামানো যাবে? বরং ওদের জানার ইচ্ছা গুলো পূরন করে দেয়াই ভাল। নয়তো মনের মাঝে নানান জটলা বেঁধে থাকবে। আর এগুলো করা কখনোর জন্যই ভাল না। যাই হোক আমি বোনের পরিচয় নিলাম আমার পরিচয় দিলাম। কথা হল কিছুক্ষন আমি জানতে চাইলাম ছোট বেবীর কাছে তোমার নাম কি মামনি? মেয়েটি জবাব দিল বুশরা।

আমি বললাম মাশ-আল্লাহ! অনেক সুন্দর তোমার নাম। তোমার নাম কে রেখেছে? বুশরা জবাব দিল ওর মা রেখেছে বুশরা আর বাবা রেখেছে তাবাচ্ছুম। আমি বললাম মাশ-আল্লাহ! তোমার দুইটা নামই খুবই সুন্দর। বুশরা খুব খুশি হল। ওর ফুপু বলল আপা জানেন? আমি চুপ করে থাকলাম মেয়েটি বলে চলেছে আমার এই ভাগীনি সবাইকেই এমন প্রশ্ন করতে থাকে।


কেউ যদি সামান্য সময়ের জন্যও আমাদের বাসায় আসে তাকেও সে প্রশ্ন করে করে বিরক্ত করে দেয়। আর দীর্ঘ সময়ের জন্য কেউ আসলে তো কথাই নেই তাকে পেয়ে ওর যেন ঈদ শুরু হয়। প্রশ্নের পুঁথি গাইতে থাকে যত অজানা বিষয় আছে তা জানতে। আমি বললাম ভাল তো প্রশ্ন করা। উনি আরো বললেন ও আবার মাঝে মাঝে অন্যের ভুলও ধরতে থাকে।


যেমন কেউ কোন খাবার খাবে বুশরা মনে করিয়ে দেবে খানা খাওয়ার দোয়া পড়েছেন? আমার আম্মু বলেছে খানা খাওয়ার শুরুতে দোয়া পড়া সুন্নত। বলবে আপনি কি বাসায় দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খান? বাসার কেউ টয়লেটে যাবে ও বলে বসবে টয়লেটে যাওয়ার দোয়া পড়েছেন? কেউ ঘর থেকে বের হবে বুশরা মনে করিয়ে দেবে ঘর থেকে বের হবার দোয়া পড়েছেন?


বুশরার বাবা সব সময় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওর মায়ের সাথে মুছাফাহা করে বের হয় ও নাকি বলে উঠে বাবা তুমি কি মুছাফাহার দোয়া পড়েছ? ঘুমাতে গেলেও মাকে মনে করিয়ে দেবে ঘুমের দোয়া পড়তে। শুনে আমি বললাম ভালই তো ও সবাইকে ভাল কাজ করার কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এসবকিছুই নাকি বুশরা বুশরার মায়ের কাছে শিখেছে। ওর মা নাকি সব সময় সব কাজে দোয়া পড়ে নেয়।


আর কিছুটা আওয়াজ করে পড়ে যাতে মেয়েও শুনতে পায়। আর বুশরাও শুনতে শুনতে মুটামুটি সব দোয়াই শিখে নিয়েছে। এবং ওর স্বভাব হল সব সময় সবাইকে সব কাজের দোয়া পড়ার জন্য মনে করিয়ে দেয়া। আমি বললাম বুশরার খুবই সুন্দর স্বভাব আসলে আমাদের উচিৎ ওদেরকে শেখানো অথচ বুশরাই আমাদেরকে শেখাচ্ছে। আমি বললাম বুশরা তোমাকে আমার খুব ভাল লেগেছে।


তুমি আমাকে প্রশ্ন করো আমি জবাব দেব। বুশরা তো মহা খুশি হয়ে বলছে ওর ফুপুকে বলচে আন্টি যেন আমাদের বাসায় আসে। ওর ফুপু বলছে আপা সময় করে আমাদের বাসায় আসবেন বুশরা তাই বলছে। আমি বললাম আসবো সময় করে। বুশরা বলল ইনশা-আল্লাহ! সাথে সাথে আরো বলছে আমার মা বলেছে কাজের ইচ্ছা করলে ইনশা-আল্লাহ বলতে।


আমি বললাম তোমার মামনি ঠিক কথাই বলেছে। আমি ও ইনশা-আল্লাহ বললাম। বুশরা ও ফুপুর কাছ থেকে বিদায় নেয়ার জন্য মুছাফাহ্ করলাম, দোয়া পড়লাম। বুশরাও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মুছাফাহ্ করার জন্য। আমি ফিরে আসলাম ঘরে মনে  হতে লাগলো বুশরার আন্টির কথা। মানে বুশরাকে নিয়ে কথা গুলো শুনে মনে হল সব মায়েরা যদি এভাবে তাদের সব সন্তানদের সুন্নত কি তা শেখাতেন।


তাহলে সব মানুষই নবীজি (সঃ) এর জীবনের আদর্শ গুলো আয়ত্ব করতে পারতেন। আর প্রচার হতেও কোন কষ্ট হতোনা। আরো মনে হয়েছে কাঁচা চুলা কাঁচা থাকতে যেভাবে তৈরি করা যায় চুলা পোঁড়ানোর পর আর সেভাবে তৈরি করা যায়না। ঠিক শিশুদেরকে ছুট বেলায় যেভাবে শিখাবে ঠিক সেভাবেই শিখবে। আরো মনে য়েছে বৃষ্টির গুনে বন্যা আর মায়ের গুণের কন্যা।


বিষয়টি আমার খুবই ভাল লেগেছে তাই সবার সাথে শেয়ার করলাম। মহান আল্লাহ পৃথিবীর সব ঘরে ঘরে বুশরার মায়ের মত মা দিন যাতে সব বুশরাই শিখতে পারে, জানতে পারে মহা নবীজি (সঃ) এর আদর্শ। এমন মেয়ের মা হতে কার না ভাল লাগবে? আপনারা সবাই বুশরা মামনির জন্য দোয়া করবেন। আরো দোয়া করবেন সবার ঘরে ঘরে যেন বুশরার মায়ের মত মা পায় আর এই মা-ই বুশরাদের তৈরির কাজে সহযোগীতা করবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (6টি রেটিং)

আকর্ষণীয় শিরোনাম এবং  ভেতরের লেখাগুলো  তারচেয়েও ভালো লেগেছে। 

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ভাললাগা মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক যাযাকাল্লাহু খাইরান।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

সালাম

 

চমৎকার পোস্ট  ।  যাজাক আল্লাহ খায়ের  ।  শিরোনামটা  কি  প্রবাদ  না  আপনার  নিজের  লেখা ?

আপনাকে যাযা-কিল্লাহ খাইরান ফিদ্দারইন।

নিজের লেখা।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

চমত্‍কৃত হলাম। শিরোনাম পড়ে যা অনুধাবন করেছিলাম তার চেয়ে অনেক ব্যাপক লেখা। লেখিকার অনুমতি সাপেক্ষে কি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা যাবে?

আপনাকে পড়ার ওমন্তব্য করার জন্য যাযাকাল্লাহ খাইরান ।

জনাব মেহেদী ভাইকে অনুমতি দেয়া হল। কারন হল কেউ যদি এই লেখা পড়ে উপকার পায় তবে আমার জন্যও ছওয়াবের একটা অংশ থাকবে। আর প্রচারের জন্য আপনার জন্যও  ছওংয়াবের একটা অংশ থাকবে ইন..................লাহ। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

শুকরিয়া।

সুন্দর লেখা।  সন্তানের  বাবা-মায়েরা  প্রেরণা পাবে।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

আপনার মন্তব্য পড়ে মনে আনন্দ পেলাম। আপনাকে যাযা কাল্লাহু খাইরান।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

ইসস কি দারুন সুন্দর লেখা

যদি আমি লিখতে পারতাম

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (6টি রেটিং)