"একান্ত নিভৃত ভাবনা"

 

 

 


কয়েকদিন
থেকে জ্বরে ভুগছি! ব্লগে আসতে পারিনি! আজকে মদিনার সময়ুনুযায়ী আসর পড়ে
ভাবলাম ব্লগ থেকে জেনে নেই দেশের খবর! আর ব্লগেও একটু চোখ বুলিয়ে নেই সব
সময় তো ব্লগার হয়েই আসি আজকে না হয় পাঠক হয়েই থাকলাম! দূর্বলতার কারনে
লিখতে ইচ্ছে না করলেও একটি লেখা দেখে হাতে জোর না পেলেও মনে জোর পেলাম! তাই
কী বোর্ডে হাত রেখে চালালাম আঙ্গুল গুলো!

 

প্রবাসী আব্দুল্লাহ
শাহীনের লেখা ( আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ও ঘুম) লেখাটি পড়েই মনে হলো কিছু কথা!
শেয়ার করছি সবার সাথে! একটি ফুটবল ও সাথে বিশ্বকাপ! একটি ফুটবল নিয়ে
এগার+এগার= বাইশ জনের টানাটানি! পরিশেষে পরাজয় বা বিজয়! আর এই ফুটবল খেলা
দেখার জন্য রাত জাগা, রাত জাগার জন্য নানা রকম খাবারের আয়োজন, বন্ধু বন্ধকে
স্বরন করিয়ে দেয়া (যেমন কাল অমুক অমুক দেশ খেলবে দেখিস কিন্তু) আমি দেখবো!
আবার কখনো দেখা যায় একজন একজনকে বলে রাখে কোনদিন কোন খেলা মনে করিয়ে দিতে!
এই ফুটবল খেলা বা ক্রিকেট খেলা নিয়ে আমরা একে অপরকে যতটা সাহায্য করি বা
মনে করিয়ে দেই অথবা খেলা নিয়ে কতটা আয়োজন করি তা বলার বা লেখার অবকাশ
রাখেনা! অনেকে তো আবার নিজের কর্মগুলোকেও সেটিং করে নেয় কোনটা কখন করলে খেলা দেখার বিলম্ব হবেনা সেটা করে রাখে! আবার আমার জানা কয়েকজনকে দেখেছি
খেলা শান্তিমত দেখার জন্য বউকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়! কারন বউয়ের ঝা ঝা
মার্কা কথায় খেলা দেখতে বিব্রত হতে হয়! আর ছোট ছোট সন্তানের কারনেও সমস্যা
হয়! আমি সবার কথা বলছি না! আবার অনেকে বউকেও সাথে জাগিয়ে রাখে লেখা দেখার
জন্য! কারন একা খেলা দেখে মজা নাই! অনেকে খেলা নিয়ে বাজি ও ধরে অমুক দল
জিতলে এত কেজি মিষ্টি খাওয়াবো! বউয়ের সাথে বাজি ধরে যদি অমুক দল জিতে হবে
তোমাকে গয়না কিনে দেব! যাই হোক বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা বলে কথা! আমি খেলা
দেখার জন্য না বলছি না! যদিও আমরা ( মানে বাংলাদেশীরা বা দর্শকরা কখনো এই
বিশ্বকাপের ছবি ছাড়া কিছুই দেখতে পায়না)!

 

আমি আমার মনের ভাবটা শুধু
প্রকাশ করতে চাইছি! একটি ফুটবল ও বিশ্বকাপের জন্য যদি আমরা রাতের ঘুম
হারাম করতে পারি! প্রিয়তমা বউকে বাপের বাড়ি পাঠাতে পারি! সন্তানের মায়া
কমিয়ে দুরে পাঠাতে পারি! খেলার জন্য বাজি ধরতে গিয়ে নিজের পকেট খালি করতে
পারি! বউকে গয়না কিনে দিতে পারি শুধুমাত্র দুনিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা
নিয়ে যার কিছুই পাবোনা বা পাবেনা শতভাগ নিশ্চিত জেনেও! নিজেদের অনেক ক্ষতি
করে হলেও আমরা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখি! এভাবে যখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট
টুনামেন্ট হয় তখনো অনেক ছাড় দেই! তবে যে মহান রব আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন!
কথা বলা শিখিয়েছেন! প্রতিনিয়ত লালন পালন করছেন এবং ভালো কাজের প্রতিদান
হিসেবে জান্নাত দানের কথা বলেছেন! সেই মহান মহীয়ানের জন্য কে কতটুকুন
প্রস্তুতি নিয়েছি? কত রাতের ঘুম হারাম করে তাহাজ্জুদ আদায় করেছি? কতটুকুন
চোখের পানি ফেলে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছি? কতদিনই বা বউকে ইবাদত
করতে উৎসাহ দিয়েছি? যেভাবে খেলা দেথার জন্য রাত জাগতে উৎসাহ দিচ্ছি? আমাদের
কি করনীয়? আর আমরা কি করছি? আমরা কি ভুলেও প্রতিদিন একবারও ভেবেছি
আল্লাহ মহান আমাদের কাছে কি চান আর আমরা তাকে কি দেই? শুধু কি আলেমরাই
আল্লাহর বান্দা যে তারাই সময়মত নামাজ পড়বে! সময়মত পারলে হজ্জ করবে! যাকাত
দেবে! রমাদ্বনে রোজা রাখবে! প্রতিবেশী ও স্বজনের হক্ব আদায় করবে! তাহলে তো
আপতদৃষ্টিতে আলেম সমাজই আল্লাহকে ভয় করে চলছে! আল্লাহর হুকুম পালন করছে!
আল্লাহর হক্ব আদায় করছে! আর সেজন্য তারাই জান্নাতের বেশী হক্বদার! আসলে কি
তাই? নাকি আপনাকে আমাকে এবং পৃথিবীর সকলকেই আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে
হবে? আমরা কে কতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছি আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে জবাব দিহিতা
করার জন্য? কোরআন বা হাদীসের কোথাও নেই যে শুধু মুসলমানের বিচার হবে! বরং
সেখানে আছে আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য এর অর্থ
দাড়ায় মানুষ ও জিন জাতির বিচার হবে! হোক সে মুসলমান! হোক হিন্দু! হোক সে
খ্রীষ্টান! হোক সে বৌদ্ধ!

 

আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় যখন দাড়াতেই
হবে! তখন উপযুক্ত জবাব দেবার ও মূল্যবান পুরষ্কার পাবার মত কাজ কি আমরা
করছি? ভাবুন সবাই! ভাবছি আমিও! এই ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের যত ভাবনা!
যত কল্পনা! যত আয়োজন! ঠিক অতটাই যদি থাকতো আমাদের আখেরাতকে নিয়ে ভাবনা!
কল্পনা! আয়োজন! তবে আমাদের চরিত্র হতো হযরত আবু বকর (রাযিঃ) হযরত উমর
(রাযিঃ) হযরত উসমান (রাযিঃ) আলি (রাযিঃ) এর চরিত্রের মত! আমরা হতাম পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ নবী (সঃ) এর শ্রেষ্ঠ উম্মত! আর আমরা পৃথিবীর আসবাব নিয়ে যতটা
ব্যস্ত নিজেদের আমল-আখলাক নিয়ে, নিজেদের আখেরাত নিয়ে ততটা ব্যস্ত নই! তবে
কিভাবে আমরা আল্লাহর সামনে দাড়াবো? কি জবাব দেবো? আমরা আমাদের কাজ কর্ম
দ্বারা কি জাহান্নামের নিকটবর্তী হচ্ছিনা? আমরা কি তবে জাহান্নামের উপযুগী
হয়েই বিদায় নেবো? হে আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়াত দাও আ'ম ভাবে! আমাদের ঈমানকে
মজবুত করো পাথরেরমত! আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দাও নিত্য কাজের মত! ইসলামকে
প্রতিষ্ঠিত করো পৃথিবীর বুকে! সকল মানুষে মানুষে ঐক্যতা দাও এবং তাতে অটল
রাখো পাহাড়ের মত! আমিন! আমিন! আমিন! ছুম্মা আমিন!

আমি মানুষ ও জিনকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যে সৃষ্টি করেছি ( সুরা আয যারিয়াত আয়াত ৫৬)

বিষয়: সাহিত্য

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

খুবই সুন্দর বিশ্লেষন করেছেন। ধন্যবাদ

আমি শুধু মনের ভাবটা প্রকাশ করতে চেয়েছি আরো চেয়েছি নিজেকে সংশোধন করতে এবং সবাইকে মনে করিয়ে দিতে এই জীবন আসল নয় পরের জীবনই আসল।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

অসাধারণভাবে আপনি সত্য কথাটাকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন! তাই শুধু ধন্যবাদ দিয়ে আপনার প্রতি আমাদের ঋণ কমানো যাবেনা| আল্লাহ্ আপনার ভাল করুক! তবে একটা কথা না বললেই নয়,বানানের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন| আমরা অনেক সময় জানা বানানও ভুল লিখে ফেলি|

-

জাকির হোসেন

জাকির ভাই এডিট করেছি এবার দেখুন তো বানান ঠিক হয়েছে কিনা। এভাবে সবসময় বানান ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

আসলে লায়লা আপা,বানান শুদ্ধভাবে লিখে আমরা বাংলা ভাষাকে সম্মানিত করতে পারি| আর আমাদের ভাষা আমরা কীভাবে পেয়েছি সেটাতো আমরা সবাই জানি| তবে যেহেতু মানুষের ভুল হবেই,তাই এটার মুলোৎপাটন না করতে পারলেও আমরা এটা কমাতে পারি| তাই আমি বানানের কথা বলেছিলাম| এডিট করার পর ভুল বানানগুলো চোখে লাগছেনা| ধন্যবাদ!

-

জাকির হোসেন

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)