"মন ভালো নেই"

আকাশে হালকা মেঘের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে! বাহিরে হালকা বৃষ্টির দেখাও মিলেছে! মনটাতেও যেন স্মৃতিরা এসে উঁকি-ঝুকি মারছে! নিঃশব্দে মনের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইছে অতীত! অনুভবে প্রবেশ করেছে ইতিমধ্যে! আকাশের মেঘ জমার মত করে মনের মাঝেও কিছু মেঘ জমেছে! ঝরেছেও কিছু দু-চোখ থেকে কোন কথা বা শব্দ না করেই! অতীতের এমন শক্তি এমন জোর যে সে যখনই পিছনকে স্বরন করাবে তখন দু-চোখ থেকে কিছু অশ্রু বিসর্জন দিতেই হবে নয়তো মনকে কিছুতেই শান্তনা দেয়া যাবেনা। আজিকে মন ভাল নেই! মনটাকে শান্তনা দিতে হলে নিজেকে শান্ত করতে হলে নিরবে কিছুটা লোনাজল ঝরাতেই  হবে! এরপর মন শান্ত হবে নয়তো অশান্তই থাকবে অনেকটা সময় জুড়ে! হতাশায় ভুগতে চাইনা বলেই কিছুক্ষন কেঁদে নিলাম! মনটাকে ঝেরে ফ্রেশ করে নিলাম! এই গ্রীস্মের ফল পাকানো গরম আর চারিদিকের লু-হাওয়া যেন মনকে বারংবার টেনে নেয় অতীতের কোন এক স্মৃতির পাতায়! যে পাতা জুড়ে ছিলো ভালোবাসা আর মমতায় ঘেরা! যেখানে আদরের অভাব ছিলোনা! ছিলোনা মমতায় কোন কার্পন্যতা! সেখানে শুধুই ছিলো আদর আর মমতা!  আরো ছিলো মানুষকে কাছে ডাকার, মানুষের প্রিয়পাত্র হবার প্রেরনা! প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব সেদিন আমাদের পুরো পরিবারকে ভালোবাসার বৃক্ষের ছায়ার আপন করে রেখেছিলো তার আপন ছায়াতলে রেখে! দুরত্ব এমনই হয়! কখনো বুঝানো যাবেনা প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসার অনুভুতিটা! তবে প্রিয়দের স্বরণে কিছুটা অশ্রু বিসর্জনই হয়তো ভালোবাসার বাণী প্রকাশের সহজ উপায়!

প্রিয় ব্যক্তিত্ব থেকে আমরা যে (সিফাতটি গ্রহণ করতে পারি) প্রিয় এই মানুষটির আচরণ ছিলো সাধারণ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত! তিনি মানুষকে সদ্বুপদেশ দিতেন! ভালোবাসতেন! কাছে টেনে নিতেন! জানতে চাইতেন ভীতরের সমস্যাগুলো! এবং সেভাবেই পরামর্শ দিতেন! তিনি কোন কিছুই একাকি খেতেন না! সবাইকে ডেকে একটি বড় বর্তনে করে খেতেন! আর খেতে বসে জানতে চাইতেন ছেলে মেয়ে কার কি সমস্যা? পড়া-শুনার জন্য কার কি লাগবে? ছেলের বউদের পোষাক-আষাক আছে কিনা! এভাবে নাতী-নাতনীদের খবর ও নিতেন কার কি অবস্থা? আমাকে রাখতেন সবার আগে! আমি বড় নাতনী! কোথাও বেড়াতে যেতে আমাকে ধরে রাখতেন মুষ্টি বদ্ধ হাতে যেন ছুটে হারিয়ে যেতে না পারি!  কখনো একাকি বাহিরে গেলেও লম্বা তোপের পকেটে করে নিয়ে আসতেন নাতনীর জন্য পছন্দের খরচাগুলো! কখনো বাদাম, কখনো ইক্ষু, কখনো সুপার বিষ্কিট, কখনো ছোলা ভাজা! কখনো হাতে ধরে নিয়ে যেতেন আব্বুর ফলের দোকানে এবং বেছে বেছে নিতেন পছন্দের ফলগুলো! আর আমাকে দিতেন আমার পছন্দেরটা! আর বলতেন ছেলে-মেয়েকে সবচেয়ে সেরা খাবারগুলো খাওয়াবে ওদের আত্মার দোয়ায় তোমার ব্যবসায় আল্লাহ বরকত দিবেন! আমার এই প্রিয় ব্যক্তিত্বের খুব পছন্দের ছিলো পান-সুপারি! পান-সুপারি পেলে বা কেউ এনে দিলে আমাদের মনে হতো উনি হাতে ঈদের চাঁদ পেয়েছেন! তখনই দু-হাত উপরে তুলে দোয়া করতেন হে আল্লাহ সে আমার কলিজা শীতল করেছে তুমি তার দুনিয়া ও আখেরাত শীতলতার সাথেই কামিয়াব করে দিও! উনার এই দোয়া গুলো আমার কাছে মূল্যবান পরশ পাথরের মত মনে হতো! আমি পেয়েছিলাম সেই প্রিয় ব্যক্তির দোয়া তখনও নামাজ ফজর হয়নি আমার উপর! কিন্তু প্রিয় মানুষটার জন্য অজুর পানি এনে দিতাম! মনে পড়ে উনি ফজর পড়েই সামান্য মুঠো ভাত খেতেন পানি দিয়ে আমি তা এনে দিতাম কারন তখনও বাড়ির বউ থেকে শুরু করে সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন! ডেকে কোনই লাভ নেই! আমি তখন ভালো করে প্লেটে ভাত ও নিতে পারতাম না! কিন্তু প্রিয় মানুষটি ক্ষুধা সহ্য করতে পারতেন না বলেই আমি যেভাবে দিতাম তিনি খুশি হতেন! আর প্রান ভরে দোয়া করতেন আমাকে! আলহামদুলিল্লাহ! প্রিয় মানুষটির অনেক অনেক আদর ভালোবাসা আমি পেয়েছি!

পেয়েছি প্রানের পূর্ণতার দোয়া! কিছু দিতে পেরেছিলাম কি না জানিনা! তবে এখনো ভুলতে পারিনি সেসব স্মৃতিগুলো! মাঝে মাঝে মনের আয়নায় ভেসে ওঠে সেই প্রিয়মুখ! সেই স্মৃতির ছবিগুলো! সেই মানুষটি অনেক অনেক বছর আগে চলে গেছে না ফেরার দেশে! গত একত্রিশে মে ছিলো সেই প্রিয় মানুষটির পৃথিবী থেকে প্রত্যাবর্তনের (ওফাত) দিন! তিনি ছিলেন আমার প্রিয় দাদা ভাই! আমার নেক কাজের প্রতি উৎসাহ দানকারি! আমার প্রিয় নবী (সঃ) এর আদর্শের সাথে পরিচয় দানকারি! তিনি নিজেও নামাজের খুব পাবন্দী করতেন এবং বাড়ির ও প্রতিবেশী সবাইকে উৎসাহ দিতেন নামাজের ব্যপারে! এবং নিজেই নানান রকমের হাদীসের বই পড়ে পড়ে সবাইকে কবর আযাবের কথা জানাতেন! আজকে তিনি নেই পৃথিবীর মাঝে! কিন্তু উনার জীবন বৃত্তান্তগুলো মনে হলেই চোখে পানি এসে যায়! কষ্ট থাকলেও নিজের প্রয়োজনটা গোপনই রাখতেন আর অন্যের চাহিদা পূরন করে দিতেন! কাউকে বুঝতেই দিতেন না তিনি কষ্টে আছেন! তিনি আমার প্রিয় দাদা! প্রিয় মানুষ! প্রিয় দাদার স্বরণে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমার দাদা ভাইয়ের সকল গুনাহকে ক্ষমা করে উনার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেন! উনাকে দান করেন জান্নাতের উত্তম স্থান (জান্নাতুল-ফিরদাউস)! আর উনার বংশধরদেরকে নেক বান্দা হিসেবে কবুল করুন! আমিন! ছুম্মা আমিন! পৃথিবীতে কেউই চিরদিন থাকবেনা তবে তাদের উত্তম চরিত্রের স্মৃতিগুলো উড়ন্ত পাখি হয়ে গায় গান আগামির! চরিত্রবান মানুষগুলো যেন পৃথিবীর আয়না যে কেউই এই আয়না দেখে নিজের দোষগুলো ধরতে পারে! নিজেকে করতে পারে গুনাহ মুক্ত, প্রিয় ব্যক্তিদের চরিত্র থেকে গ্রহন করতে পারে উত্তম ব্যবহার ও উত্তম চরিত্র! যে চরিত্র দিয়ে পৃথিবীর সবকিছুতে বিজয় লাভ করা যায়! মহান আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিন প্রিয় নবী (সঃ) এর যারা অনুসারি তাদের মত করে চলার! তাদের ঈমানের বলে বলিয়ান হওয়া জীবনী থেকে আদর্শগুলো গ্রহন করার! মহান আল্লাহ আমার দাদা ভাইকে তার প্রিয় বান্দাদের কাতার শামিল করুন এবং তার নৈকট্য দান করুন!

সাহিত্যঃ

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

মানুষ তার কর্ম দ্বারা মৃত্যুর পরও বহুদিন উত্তরসূরীদের স্মৃতিতে, স্মরণে নন্দিত অথবা নিন্দিত হয়ে থাকে। ভালো লাগলো নন্দিত স্মৃতিতে দাদা ভাইয়ের স্মরণ। আল্লাহ্ দাদা ভাইকে ক্ষমা করুন, ভালো কাজগুলো কবূল করুন, মন্দগুলোকে ক্ষমা করে তার বদলে ভালো দিয়ে আমলনামা ভরে দিন এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

আপনার দোয়ার সাথে আমিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

সালাম

আল্লাহ   আপনার   দাদাভাইকে  জান্নাতবাসী  করুন , আমীন ।

ওয়ালাই কুম-আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওবারকাতুহু....

আপনার দোয়ার সাথে আমিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

জীবনে কত যে দুঃখ উপলব্ধি করলাম.
তা বলবো কি করে, আমি জানতাম না যে সব দুঃখ গুলো দুঃখ না.
মনটা বড় পাশান হয়ে গেছে একটু ও পানি ঝরে না.
ডুগরে ডুগরে কেদেছি বহু রাত.
দুঃখের যন্ত্রণায় ছটফট করেছি কাউকে কিছুই বলিনি
আর বলবো কী কথা ?
শুধু স্মৃতির কথা স্বরনে একটি কথা বলবো.
দুঃখ যে মানুষ কে হাটতে শিখায় .
একা একা পথ চলতে শিখাই তা আমি বুঝেছি.

তাই দুঃখ কে জীবনে স্বাদরে অভিনন্দন জানায়.

লেখাটা সুন্দর হয়েছে.

আমি মনে মনে ভাবছিলাম..
আপনি অনেক সুন্দর
just funny
হা হা হা

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)