প্রবাসীর বউ! (তিন পর্বের ছোট গল্পের ১ম পর্ব)

হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলা শিশুর মত মানুষের জীবনের শৈশবকালটাও এক
সময় পা রাখে যৌবনে! ঢেউয়ের তালে তালে গড়িয়ে যাওয়া সময় একসময় যৌবন এনে দেয়
জীবনে! এনে দেয় যৌবন বসন্তকাল! ঋতুর পূর্ণতা যেমন বসন্তে জীবনের পূর্ণতা
তেমনী যৌবনে! একটা সময় সামান্য কিছু জানার বা পাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা
মানুষই ব্যকুল থাকে বা মানুষের মাঝে থাকে আকুল আকর্শন! বয়ষের চাপে কখনো
কখনো সেটাতে আর আকর্শন থাকেনা! কারন হাতিয়ে দেখলে পাওয়া যাবে আবেগের জন্যই
একসময় সবকিছু ভালোলাগে পেতে ইচ্ছে করে! বয়ষ বাড়ার সাথে সাথে বিবেগটাও যখন
বুঝতে শিখে তখন আর সেই আবেগের মূল্যায়ন থাকেনা! সজাগ বিবেগ আবেগকে শোধরিয়ে
নেয়! যারাই আবেগের আবেগী থেকে সময়মত বাঁচতে পেরেছে তারাই জীবনে সুখের খোজ
পেয়েছে! আবেগ ক্ষনিকের এবং বিবেগের কাছে আবেগ সবসময়ই মূল্যহীন! অনেকেই
বিবেগকে মূল্যায়ন করে আবেগকে বশ করে জীবনে সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েছেন! আর
যারাই আবেগের বর্শবর্তী হয়ে বিবেগকে বোকা বানিয়ে সামনে যেতে চেয়েছেন বা
গিয়েছেন তারাই ধরা খেয়েছেন!

লোপা পূর্ণ বয়ষে বাবা মায়ের সম্মতিতেই
বিয়ে করেন প্রবাসী স্বামীকে! যদিও মনের দিক থেকে প্রবাসীদের তেমন একটা
পছন্দ করতেন না! তথাপি যার রিযিক যেখানে থাকে বলে কথা! শশুর শাশুড়ীর অনেক
পছন্দেই বিয়ে সম্পন্ন হয় যদিও স্বামী পরিবারের অনেকেই পছন্দ করেন নি!
কিন্তু শশুর শাশুড়ীর একার মতেই হয়ে যায় বিয়ে! শুরু হয় লোপার বিবাহিত জীবনের
নতুন জীবন! দুই ভাসুর তিন দেবর আর চার ননদের বড় সংসার! বড় সংসারের সেজু
বউ! কিন্তু কাজে কামে বড়দেরকেও হার মানায়! বড় জা দের হাত থেকেও কাজ কেরে
নিয়ে করে দেয় হাসি মুখে! ভালোই চলছিলো লোপার নতুন জীবনের নতুন বাসস্থলে!
স্বামীর সোহাগ সবকিছু নিয়ে যেন লোপার সর্গবাস চলছে! কিন্তু সে সর্গে লোপা
বেশীদিন স্থায়ী হতে পারেনি! কারন সবার মুখে মুখে লোপার সুনাম আর ভালো
ব্যবহারের প্রশংসা যেন লোপার জীবনের সুখের নদীতে বাঁধ সাধলো! যতদিন প্রবাসী
স্বামী দেশে ততদিন তার সুখের অভাব ছিলোনা! এরপর স্বামী চলে গেলো প্রবাসে!
আর লোপার জীবনেও নেমে এলো কষ্টের ঝড়!

এরই মাঝে লোপা অনুভব করতে
থাকলো নিজের ভেতরে আরেক সত্তা! আর আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করলো কষ্ট কাকে
বলে? কত প্রকার? ও কি কি? যৌথ পরিবার বড় ভাইয়ের নামেই টাকা পাঠায় লোপার
স্বামী! বর্তমানের মত মোবাইলের ও এত সুযোগ সুবিধা ছিলোনা তাই লোপারও
স্বামীর সাথে কথা বলা হতোনা! কিন্তু মানুষটি তো বলে গেছে এক বছর শেষে দেড়
বছরের মাথায়ই ছুটিতে আসবে! কই দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর, বছর গড়িয়ে
কয়েক বছর হলো লোপার স্বামীতো এখনো এলোনা! সে কি ভুলে গেলো লোপাকে? এদিকে
লোপার কোল জুড়ে আসলো ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যা যেন চাঁদকেও হার মানায় সে
কন্যার রুপ! লোপা শুশরালয়ে বুঝতে থাকে তেলের কষ্ট, সাবানের কষ্ট, খাওয়ার
কষ্ট, পোষাকের কষ্ট, আর এমন কি এবংশের বংশধরকেও তারা আদর যত্ন করেনা! লোপা
যেন কন্যা সন্তান জম্ম দিয়ে পাপ করেছে আর সেই পাপে লোপার বুকের ধনকেও কষ্ট
দিচ্ছে! আর সবকিছুর পরে যে কথাটা বাকি থেকে যায় তা হলো আত্ম সম্মান নিয়ে
এখানে আর কতদিন টিকে থাকবে? কিভাবে থাকবে? যার ভালোবাসার অপেক্ষায় রয়েছে সে
তো কোন খবরই রাখছেনা! কি করবে লোপা? পিতৃপরিবারের থেকে সবাই বলছে ওদের
মেয়েকে রেখে চলে আয়! লোপা শুধু বলে বিয়ে তো জীবনে একটিই হয় আর তাতো আমার
হয়েছেই! আমাকে আমার তাকদ্বীরের উপর ছেড়ে দিন! দেখি আল্লাহ কি করেন?

(ক্রমশ..............।)

বিষয়: সাহিত্য

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)
"পিতৃপরিবারের থেকে সবাই বলছে ওদের মেয়েকে রেখে চলে আয়!" এ প্রসঙ্গে বলা যায়, যখন মানুষের দু'পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়, তখন প্রত্যেক পক্ষের কাছেই অসহায় শিশু বাচ্চা হয়ে যায় 'ওর' বা 'ওদের', 'আমার' বা 'আমাদের' থাকে না। এমনটি হয়ে থাকে দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে (যেমন- স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে), দুই পরিবারের মধ্যে (যেমন- স্ত্রীর পরিবার ও স্বামীর পরিবার) এবং দুইটি দলের মধ্যেও। যেমন, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিবদমান প্রত্যেক পক্ষই জনগণকে মনে করে 'ওদের' মানে প্রতিপক্ষের।

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ভাইয়া! আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু কাউকে বিয়ে করে প্রবাসে চলে যাওয়া, খোজ-খবর না নেয়া, এসব পারিবারিক কর্মকান্ডে শুধু নিজ পরিবারকে বুঝা, অন্যকে না বুঝা এক সময় আপন করা সবকিছুকে পর করে দেয়। পরের পর্বগুলো পড়লে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। মানুষ কতটা অসহায় হলে কোলের সন্তান রেখে চলে যেতে চায়, চলে যায়। পড়ে মন্তব্য দিয়ে যাবার জন্য ধন্যবাদ।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)