যখন আল্লাহর অনুগ্রহ আসে

"যখন আল্লাহর অনুগ্রহ আসে কে বাঁধ সাধতে পারে সেথা? যেকোন ভাবেই মানবের কাছে পৌছবে তা।"
মনের আকাশে অনেকদিন আনন্দের সূর্যদ্বয় ঘটেনা। প্রতিফলিত হয়না মুখের হাসি হয়ে। কারো কারো জীবন যেন আমাবশ্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে অনেকাংশে। আমরা সাধারণে বুঝিনা, বুঝার সেই জ্ঞানও আমার ছোট্ট মুন্ডে নেই। তবে মহান স্রষ্টা সেই জ্ঞান যাকে দান করেন তারাই পারেন মহিমান্বিত মহান সৃষ্টিকর্তার পংখানুপংখু শুকরিয়া আদায়ের চেষ্টায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে।

আমার মতো নালায়েক তো শুধু ভাবনাতেই ব্যস্ত। হাজারো কষ্টে, হতাশায় তারাই প্রশংসার বাক্য উচ্চারণ করতে পারে। পারে ধৈর্যের মতো অটল পাহাড় হয়ে সবকিছু সইতে। সে বেলাতেও আমার অপারগতা। বড় বড় মহীয়ষী ব্যক্তিত্ব থেকে যখন জানতে পারি তারা মহান আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা রেখে চলেন তখন নিজের অপারগতাই প্রকাশ পায়। মনের মাঝে অনুশুচনা আসে আমি কেন পারিনা কষ্টের মাঝে ধৈর্য ধরতে? আমি কেন পারিনা সকল কাজে শুধুই একজনের প্রশংসায় মত্ত হতে। কেন নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারিনা মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির পথে? ভাবলে শুধুই হতাশ লাগে।

আলহামদুলিল্লাহ জীবন সাথি করে যাকে পেয়েছি তার অনুপ্রেরণায় অনেককিছু শিখতে পেরেছি। জানতে পেরেছি। অবলোকন করতে পেরেছি। লেখা লেখির কাজটা খুব ছোট্ট বেলা থেকেই শুরু করি। কিন্তু তার যত্ন করতে পারিনি বিধায় অনেক লেখা হারিয়ে গেছে। পাছে কিছু লোকে পছন্দ হয়েছে বলে নিয়ে গেছে। যখন থেকে বুঝতে পেরেছি লেখা গুলোর যত্ন করার প্রয়োজন তখন থেকে জমা করে রাখতাম। কিন্তু প্রকাশ করার মাধ্যম পাইনি। আমার জীবনের সবকিছুই পূর্ণতার রুপ লাভ করেছে তবে কিছুটা সময় নিয়ে। তারপরও মহান স্রষ্টার প্রশংসা এইজন্যে যে, তিনি কিছুটা সময়ের ব্যবধানে হলেও পরিপূর্ণতা সহকারে দিয়েছেন।

জীবন সাথির কাছ থেকে সকল বিষয়ে মূল্যায়ন পাওয়াটা খুবই মূল্যবান বিষয়। আমার সাথি আমাকে আমার লেখাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেছে এবং করে। আমাকে লেখার প্রতি খুবই উৎসাহ দেয় সবসময়। এই আমি তো ব্লগ কি? জানতামই না। অথচ আমার বিয়ের পর তিনিই সোনার বাংলা ব্লগ, বির্সগ ব্লগ, টুডে ব্লগ ফেইজবুক সবখানে আমার নামে আইডি খুলে রেখেছে। আর প্রবাসে থেকে মোবাইলে স্কাইপিতে লেখার জন্য খুবই উৎসাহ যুগিয়েছেন। যার উৎসাহ অনুপ্রেরণায়, যার একান্তই সহযোগীতায় আমার লেখাগুলো প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে পেয়েছি বিভিন্ন ব্লগাঙ্গনকে। যাকে প্রথমে শিক্ষাঙ্গন পরে প্রকাশাঙ্গনের মাধ্যম বানিয়ে চলছি। ব্লগ কখনো কখনো শিক্ষক হয়ে শেখায়, কখনো কখনো সহপাঠি হয়ে শেখায়।
আমার সাথি কখনো আমার শিক্ষক, কখনো আমার সহযোগী, কখনো আমার সহকর্মী, কখনো বন্ধু, কখনো আমাকে সঠিক পথ দেখাতে পথ প্রদর্শক, জীবনের সর্ব বিষয়ে উত্তম পরামর্শদাতা,  উত্তম জীবন সাথি। আমার সাথি আমার আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ উপহার আমার জন্য। মহান আল্লাহর কাছে তার নেক হায়াত ও শারিরিক সুস্থতা প্রার্থনা করি। অনেকদিন ব্লগাঙ্গনে অনুস্পিত তারই অসুস্থতা আর অসুস্থতার কারনে কর্ম অবসরতায় তার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এখন থেকে ইনশা-আল্লাহ আবারো নিয়মিত হবার ইচ্ছা রাখি।  জীবনের কিছু ঘটে যাওয়া কিছু কথা নিয়ে আজকের লেখা।

বিয়ের কিছুদিন আগে......... জীবনের সব স্বপ্ন যখন অপূর্ণই রয়ে গেল সব আশা আকাংখার মুখে কালির লেপন হল! ছেড়ে দিলাম স্বপ্ন দেখা বাদ দিলাম আগামিকে নিয়ে আকাংখার! যখন আশা ভরসা সবকিছু যেন নিরাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত! যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম নিরাশার চোরাবালিতে, ভালো কথাও যখন খারাপ লাগা শুরু করল মনের মাঝে, নিজেকে কোন ভাবেই আর ধৈর্য্যের কথা শুনাতে পারছিলামনা। কোন ভাষাও খুজে পাচ্ছিলাম না নিজেকে শান্তনা দিতে, সুন্দর ভাবে নতুন করে পুরোনো স্বপ্ন গুলোকে সাজাতে ও পারছিলাম না।

বারংবার যেন পৃথিবীর ধরা নিয়ম নীতির কাছে হেরে যাচ্ছিলাম, হামাগুড়ি দিয়েও যেন আর সামনে আগাতে পারছিলাম না, পারছিলাম না নিজেকে আরেকটু সুন্দর করে সাজাতে, গুছাতে, মন যেন নিরাশার মেঘে ঢেকে গেল, কোথাও যেন একটু সুখের ছোঁয়া পেলাম না। পেলাম না আলোর রশ্মি যা দিয়ে সামনে আগানো যায়, আরেকটু ধৈর্য সঞ্চয় করা যায়, আরেকটা নতুন স্বপ্নের ছক আঁকা যায়, কিছুটা প্রেরনা পাওয়া যায়,  মনের ইচ্ছা, আকাংখা, স্বপ্ন, ভালোলাগা, ভালবাসার চাহিদা, বুঝতে পারছিলাম প্রার্থনা গুলোও যেন কবুল হচ্ছেনা, সবকিছু যখন নিরাশার চাদরে ঢেকে গেল, আমি যেন নিজেকে ভাবতে শুরু করলাম একজন রিক্ত মানুষ রুপে, সর্ব সময় শুধু একটিই প্রার্থনা করে যেতাম হে আল্লাহ! আমাকে আপনার প্রতি বিশ্বাস থেকে সরাবেন না কখনোই। আমাকে আরো ধৈর্য দান করেন সর্ব বিষয়ে। ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙে যাবার  উপক্রম ঠিক সেই মুহুর্ত্ব হতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ আসতে শুরু করল আমার জন্য, আমাদের জন্য!

বাটি টুকুন পড়ুন আমার ওয়েব সাইট থেকে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)