মানত কি?

আমরা অনেকেই অনেক কাজের জন্য মানত করি। কোন স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার জন্য মন্ত করি। বাস্তবতায় আমরা জানিনা মানত কি? মানত করলে কি লাভ হয় আর কি ক্ষতি হয়। কোন গুনাহ হয় কিনা তা অনেকেরই জানান নেই। তাই আসুন না জেনে নেই কোরআন হাদীসের আলোকে মানত কি? লেখাটি সংগৃহীত সুত্র ও মূলঃ ইসলাম হাউজ.কম
(শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ এর নির্দেশনায় সংগঠিত)
রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে। লেখাটি পড়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাই আমার ব্লগে পোস্টাকারে পোস্ট করলাম কারো উপকারে আসলে আমিও নিজেকে নেকী অর্জনের আকাংখা রাখি।
মানত কি?
--------
‘মানত’ বা ‘মান্নত’ আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। যেমন আমরা কখনো কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি তাহলে মাদরাসায় একটি ছাগল দান করব। এটি একটি মানত। অতএব, কোনো বিষয় অর্জিত হওয়ার শর্তে কোনো কিছু করার ওয়াদাকে সাধারণত: আমরা মানত বলে থাকি। কেউ বলে মানত, আবার কেউ বলে মান্নত। তবে এটি শর্তযুক্ত মানত। আবার শর্তহীন মানতও আছে। যেমন, আনন্দের খবর শুনে কেউ বলল, আমি এটা লাভ করেছি? তাই আমি মসজিদে একটি ফ্যান দান করব। এটাও মানত। তবে শর্তহীন।
 
মানত কাকে বলে?
---------------
আমরা বাংলাতে বলি মানত। আরবিতে বলা হয় نذر (নযর), বহুবচনে নুযুর।
মানত বা নযরের আভিধানিক অর্থ হল, নিজের দায়িত্বে নেয়া। যা নিজের দায়িত্ব নয় তা অপরিহার্য করে নেয়া। শরীয়তের পরিভাষায় মানত বলা হয় – নিজের উপর এমন কিছু ওয়াজিব (আবশ্যিক) করে নেয়া যা আসলে ওয়াজিব ছিল না। সেটা শর্তযুক্তও হতে পারে আবার শর্ত মুক্তও হতে পারে।
মানতের হুকুম
-----------
আসলে মানত করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে সব সময় উম্মতদের নিরুৎসাহিত করেছেন। বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না। বরং মনে করি মানত করা খুব সওয়াবের কাজ। আসলে এটি কোনো সওয়াবের কাজ নয়। বরং মাকরূহ।
অধিকাংশ ইমাম ও ফিকাহবিদের অভিমত এটাই। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন।
তবে যদি কেউ মানত করে ফেলে তাহলে তাকে তা পালন করতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলী ও নিয়ম-নীতি আছে। আমরা সে বিষয়ে পরে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।
মানত করা নিষেধ
---------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীসে এসেছেঃ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদি আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, "মানত কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। তবে মানতের মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়"।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৫)
হাদীসে আরো এসেছেঃ
ইবনে উমর (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মানত কোনো কিছুকে আগেও করে না, পিছেও করে না। বরং এর দ্বারা কেবল কৃপণ ব্যক্তি থেকে বের করা হ"য়।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৬, সহীহ সুনান নাসায়ী)
হাদীসে আরো এসেছেঃ
ইবনে উমর (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ বের করে"।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৭, আহমাদ)
 হাদীসে এরপরে আরো বর্ণিত হয়েছেঃ
 হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত তাকদীরের কোনো কিছু-কে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু কৃপণ থেকে সম্পদ খসায়"।
(সহীহ বুখারি ও মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৯, সহীহ সুনান তিরমিজী, সহীহ সুনান নাসায়ী)
হাদীসে তারপরে আরো এসেছেঃ
আবু হুরাইরা (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা সে খরচ করতে চায় নি"।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩৩১)
উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম–
(এক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। অতএব মানত করা ঠিক নয়। আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পতিত হলে মানত করে থাকি। আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ। আল্লাহ খুশী হবেন। কিন্তু আসলে তা সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে নিষেধ করেছেন তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিত হবে কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
(দুই) মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়। এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝিয়েছেন, মানত করা একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে দান-সদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
(তিন) তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না। তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত তারাই মানত করে থাকে।
(চার) মানত করা হোক বা না হোক - ফলাফল একই হবে। তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে অবধারিতভাবে।
(পাঁচ) আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত না করার জন্য মুসলিমদের-কে নিরুতসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলা হয়েছে, এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ করায়।
এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো প্রকার মানত করা উচিত নয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, আমরা সেটাকে সুন্নাত মনে করি। অনেককে বলতে শুনা যায়, আপনি ওখানে মানত করেন, তাহলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে, বিপদ দূর হয়ে যাবে। অনেক খানকাহ ও দরবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের দরবারে বা খানকায় মানত করার জন্য মুসলিম জনগণকে উৎসাহিত করে থাকে। দরাজ গলায় বলে, আমাদের এই খানকায় মানত করে কেহ বিফল হয়নি। এমনটি কতটুকু যৌক্তিক - আসা করি বুঝতে পারছেন। মহিমান্বিত আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হিফাজত করুন! ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন!
সূত্র ও মূলঃ ইসলাম হাউজ.কম
(শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ এর নির্দেশনায় সংগঠিত)
রিয়াদ, সৌদি আরব

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)
রসূলুল্লাহ (স:) যদিও মানত করাকে নিরুৎসাহিত করেছেন, কিন্তু মানতকে নিষেধ মনে করার কারণ নেই। কারণ, যদি মানত করা নিষেধই হতো, তাহলে কোরআনে মানত পূর্ণ করার আদেশ থাকত না। আর পূর্ণ করার আদেশ দেয়া মানে ঐ জিনিসের বৈধতাকে স্বীকৃতি দেবারই ইঙ্গিত। অতএব, মানত করাটা অনভিপ্রেত হলেও নিষিদ্ধ বা অবৈধ নয়।
অবশ্য একথা ঠিক যে, মানত করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয় এবং নিরাপদ পন্থাও নয়। কারণ, ওয়াদা যখন শর্তযুক্ত হয়, তখন তা চুক্তিতে পরিণত হয়; আর আল্লাহর সাথে কৃত চুক্তি পালন করতে না পারলে তার পরিণাম শুভ হয় না। সুতরাং যে জিনিস আমার দায়িত্বে ছিল না, তা নিজের ঘাড়ে নিয়ে এসে সেটা পূরণ করতে না পারার ঝুঁকি নেয়াটা বোকামি।
মানতের দ্বারা তাকদীর পরিবর্তন হোক বা না হোক, শর্তহীন দানের দ্বারা তাকদীরের পরিবর্তন হতে পারে। তাকদীর দুই প্রকার- পরিবর্তনশীল আর অপরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীল তাকদীর দানের দ্বারা পরিবর্তনযোগ্য। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, দান-সদকার দ্বারা অনেক বিপদ দূর হয়।
একথা সত্য যে, আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ সত্যিকার মুমিন বান্দা এমনিতেই আল্লাহর পথে দান ও খরচ করবে। কোন বিপদ থেকে বাঁচা বা পার্থিব ফায়দা হাসিলের জন্য ঠেকায় পড়ে দান করার প্রয়োজন তার হয় না। অনেককে আবার একটা হাস্যকর মানত করতে দেখি যে, পুত্র সন্তান হলে হাফেজি পড়াব। কিন্তু আল্লাহর বান্দা হিসেবে এটা তো আমাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব যে, সন্তানকে দ্বীন শিক্ষা দেয়া, দ্বীনের পথে গড়ে তোলা। পুত্র সন্তান হলে হাফেজি পড়াবেন, আর কন্যা সন্তান হলে কি নাচের স্কুলে দেবেন!

আস-সালামু আলাইকুম
ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীসে এসেছেঃ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদি আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ
করেছেন। আর বলেছেন, "মানত কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। তবে মানতের মাধ্যমে
কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়"।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৫)
হাদীসে আরো এসেছেঃ
ইবনে উমর (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মানত কোনো কিছুকে আগেও করে না, পিছেও করে না। বরং এর
দ্বারা কেবল কৃপণ ব্যক্তি থেকে বের করা হ"য়।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৬, সহীহ সুনান নাসায়ী)
হাদীসে আরো এসেছেঃ
ইবনে উমর (রাযিঃ আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে
আনে না। এটা শুধু কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ বের করে"।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৭, আহমাদ) আপনাকে বুঝাতে পারলাম না হয়তো। সময় করে লেখাটা ভালো করে পড়ুন আর বুঝতে  চেষ্টা করুন এটাই অনুরোধ। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান ফিদ্দারইন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)