আয়, বোনাস ও আমাদের ধান্ধা ...

আয়, বোনাস ও আমাদের ধান্ধা ... আপনি একটি অফিসে চাকরী করেন। আপনার মাসিক বেতন ৩০,০০০/০০ (ত্রিশ হাজা টাকা)। তাহলে, আপনার দৈনিক বেতন দাঁড়ায় ১,০০০/০০ টাকা, যা আপনি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘন্টা কাজ করে আয় করেন। সেই হারে আপনার প্রতি ঘণ্টায় রুজী ১২৫/০০ টাকা।

এখন আপনার বস অতিরিক্ত ডিউটিতে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা করলেন যে, যেই ব্যক্তি ওভারটাইম করবে তাকে প্রতি ঘন্টা ওভারটাইমের জন্য তার একদিনের পুরা বেতনের সমান টাকা দেয়া হবে এবং এই ওভারটাইমের কোন 'লিমিট' নেই, অর্থাৎ আপনি দৈনিক যত ঘন্টা ইচ্ছা ওভারটাইম করতে পারবেন, এমনকি ছুটির দিনেও! আপনি যদি তখন ওভারটাইম কাজ করেন তাহলে প্রতি ঘন্টা ওভারটাইমের জন্য আপনার অতিরিক্ত আয় হবে ১,০০০/০০ টাকা! আপনি যদি দৈনিক গড়ে তিন ঘন্টা ও ছুটির দিনে একটু বেশী ওভারটাইম করেন, তাহলে মাসে প্রায় লাখ খানেক টাকা অতিরিক্ত কামাই করার একটি মহাসুযোগ আপনার সামনে! এমন একটি সুযোগ কি আপনি হাতছাড়া করবেন? কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ কি এ ধরণের বিশেষ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে? অবশ্যই নয়। বরং, এমন সুযোগ লুফে নিয়ে যত বেশী সম্ভব কামাই করে নিতে সবাই চেষ্টা করবে।

আসলে, আমাদের সকলের ধান্ধাই এক - নিজের জন্য যত বেশী লাভ বা কামাই করে নেয় যায়। এক্ষেত্রে, বৈধ উপায়ে, আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখার ভিতরে থেকে বেশী আয় কিন্তু মহান আল্লাহ কোথাও নিষেধ করেন নি। তবে, সবচেয়ে আশ্চার্য ও অত্যন্ত দূঃখজনক হলো, আমাদের এই ধান্ধা কেবল "দুনিয়া লাভের" ক্ষেত্রেই অনেক প্রবল দেখা যায়; কিন্তু আখেরাতের "লাভ" নিয়ে আমাদের কোন পেরেশানী নেই! কোন দৌড়াত্ত নেই! কি করলে বা বললে আখেরাতে "লাভ" বেশী হবে কিংবা কি না করলে বা না বললে আখেরাতে ফায়দা বেশী হবে - এসব আমরা জানিনা, জানতে চাই না; আর জানলেও তা পালনে আমাদের মাঝে তা পালনে আন্তরিকতার অভাব পুরো মাত্রায়! এই উদাসীনতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

রমাদ্বান মাস এলো চলেও গেলো "ওপারের জীবনের" জন্য "কামাই" করার এক মহাসুযোগও আমরা পেলাম। কিন্তু কে কতটুকুন সেই মহা সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলাম? কে কত বোনাস এড করতে পারলাম আখেরাতে ব্যাংকে? আমাদের আখেরাতে আয় কত হলো? কত বোনাস নেকী আমরা অর্জন করলাম? আমাদের ধান্ধা কি সঠিক কাজে লেগেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের মনে তো আসেই না। বরং প্রশ্নটারও উদয় হয়না। এই মাসে আপনার অফিসের সেই একঘণ্টায় একদিনের আয়ের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে! আসলে, এটা একঘন্টায় একদিনের কামাই নয়, বরং অনেক অনেক গুণ বেশী, একঘন্টায় এক সপ্তাহেরও বেশী কামাই করার সুযোগ এই মাসে। আমরা যারা আখেরাতের "ব্যালেন্স" বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করি, এটা আমাদের অপূর্ব এক সুযোগ!
 আফটার অল, আমার ধান্ধা তো আমাকেই করতে হবে। তাই, যখন "কেউ কারো নয়", সেই সময়ে আমার জন্য আমাকেই কিছু করে রাখতে হবে। কেবল দুনিয়ার ধান্ধায় ব্যস্ত থেকে 'দম ফুরাইলেই শেষ' হয়ে যাবার পর যে অনন্ত অসীম জীবন, সেটার ধান্ধা না থাকাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নিজের ভাল নাকি পাগলও বুঝে! তবে আমরা ভালো মানুষেরা কেন বুঝিনা?????????????????

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)
টাকা-পয়সা ও বাড়ি-গাড়ি নিয়ে আয়-বোনাসের ধান্ধার না হয় একটা যুক্তি আছে, এগুলোর বাস্তব উপযোগ থাকায় এগুলোর পিছনে ছোটার একটা বোধগম্য কারণ আছে। কিন্তু আজকাল অনেক মানুষ নিছক নম্বর তোলার মত এক হাওয়াই জিনিসের পিছনে ছুটে বাচ্চাদের নামায-কালাম শেখার সময়টুকুও কেড়ে নিচ্ছে, তার কারণ বোধগম্য নয়।
দুনিয়া ও আখেরাতের তুলনার জন্য অংকজ্ঞানই যথেষ্ট। সসীম আর অসীমের মধ্যে কি কোন তুলনা চলে? এমন যদি হতো, ১০ হাজার কোটি বছর, তাও কিন্তু একদিন শেষ হবার সম্ভাবনা থাকত? কিন্তু অসীম সময়, অনাদি কাল, অনন্ত কাল, চিরকাল- এর অর্থ কী! আমাদের কারো সামনে যদি একপাশে হাতরে কাছেই ১০ হাজার টাকা পড়ে থাকে, অপরদিকে যদি এক ঘন্টার দূরত্বেও ১০ কোটি টাকা পড়ে থাকে; তাহলে আমরা কেউ সেই দশ হাজার টাকা স্পর্শ না করে, ওদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে ফিরে না তাকিয়ে সোজা ১০ কোটি টাকা যেখানে আছে সেটা আহরণ করার দিকেই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে ছুটব। এই তো গেল টাকার হিসাব। বছরের হিসাবে দেখুন, একদিকে ৭০/৮০ বড়জোর ১০০ বছর; অপরদিকে ১০০০ নয়, ১০ হাজার নয়, ১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি নয়, ১০ লক্ষ কোটি নয়, হাজারটা ১০ লক্ষ কোটি বছর একের পর এক শেষ হতে থাকলেও সময় এতটুকু কমবে না, যে সময় আর ফুরাবে না; সে সময়কালটা অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে রাখে কোন্‌ বেকুবে? অথচ আমাদের সামনে একদিকে সীমিত হাতেগোনা সংখ্যা সর্বোচ্চ ৭০ বা ৯০, অপরদিকে অসীম তথা infinity। আমরা সেই অসীমকে ভুলে সেই সসীমের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছি, যে সময়টুকু কিনা কয়েকটা শ্বাস নিতে নিতেই পার হয়ে যাবে।

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ!‍ মানুষের কোন পথে চলা উচিৎ আর কোন পথে চলে। আল্লাহ হেদায়াত দিন। পড়ে মন্তব্য রেখে যাবার জন্য জাযাকুমুল্লাহ্

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

ধন-সম্পদের বেলায় আমাদের নজর থাকে উপরের দিকে, অর্থাৎ আমার চেয়ে বেশি টাকা-পয়সা কয়জনের আছে এবং আমার চাইতে কি পরিমাণ বেশি আছে সেই দিকে। বাচ্চার পরীক্ষার নম্বরের বেলায়ও আমাদের নজর থাকে উপরের দিকে, অর্থাৎ তোমার চেয়ে বেশি নম্বর কয়জনে পেল, সর্বোচ্চ নম্বরের সাথে তোমার প্রাপ্ত নম্বরের ব্যবধান কত সেই দিকে। কিন্তু ধর্ম ও নৈতিকতার বেলায় আমাদের দৃষ্টি থাকে নিচের দিকে, অর্থাৎ আমাদের চেয়ে খারাপ কারা আছে তাদের চাইতে তুলনামূলক ভাল থাকতে পেরেই আমরা সন্তুষ্ট। ঈমান ও চরিত্রের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায় সেই ব্যাপারে আমরা খুব একটা সিরিয়াস নই। এই একটা ব্যাপারেই আমরা 'অল্পেতুষ্ট' থাকতে পেরেছি! আল্লাহ আমাদের প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন কোন্‌ কাজে, আর আমরা প্রতিযোগিতা করছি কী নিয়ে!

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ!‍ আপনার মন্তব্য খুবই যৌক্তিক। ভালো লেগেছে।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)