"যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনে করণীয় আমল"

জিল-হজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও করণীয়: প্রথমত: গুরুত্ব ও ফজিলত:

১. আল্লাহ তা'য়ালা এ দশ দিনের রাতসমূহেরو কুরবানির দিনের ও আরাফাতের দিনের কসম করেছেন। ( সূরা আল-ফাজর) এর দ্বারা এ দিনগুলোর গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

২. রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন: :
ما من أيام العمل الصالح فيها أحب إلى الله من هذه الأيام قيل: ولا الجهاد في سبيل الله ؟ ولا الجهاد في سبيل الله ، إلا خرج رجل بنفسه وماله فلم يرجع. (ابو داود، رقم- ٢٤٣٨)
 এ দশ দিনের নেক আমলসমূহ আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় (অন্য বর্ণনায় এসেছে: গুরুত্বপূর্ণ) (বুখারী)
দ্বিতীয়ত: এ দশ দিনের যে সকল নেক আমল করা সম্ভব: (তা ১০ প্রকার)

১. জিল-হজ্ব মাসের চাঁদ উঠা থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত সাধারণভাবে বেশি বেশি তকবীর পড়া। আর বিশেষভাবে আরাফাতের দিনের ফজর সালাত হতে ১৩ তারিখের আসর সালাত পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পর তাকবীর পড়া।
তাকবীর হচ্ছে:
আল্লাাহু আকবার, আল্লাাহু আকবার,আল্লাাহু আকবার, লাা ইলাাহা ইল্লাাহ, ওয়াল্লাাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাাহিল হামদ্।

২. প্রথম দিন হতে আরাফাতের দিন পর্যন্ত রোজা রাখা। বিশেষ করে আরাফাতের রোজা যা বিগত ও আগত দুই বছরের পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। (মুসলিম)

৩. ফরজ ও সুন্নত সালাতের গুরত্ব দেওয়া এবং নফল সালাত বেশি বেশি আদায় করা। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য শেষ রাতে উঠে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক কায়েম করা।

৪. মাবরুর হজ্ব করার জন্য চেষ্টা করা। নিশ্চয়ই মাবরুর হজ্বের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত।
মাবরুর হজ্বের শর্ত ৬টি:
 (ক) একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইখলাসের সাথে হজ্ব করা।
(খ) শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সহীহ সুন্নত তরীকায় হজ্ব করা।
(গ) হালাল টাকা-পয়সা দ্বারা হজ্ব করা।
 (ঘ) হজ্ব প্রিয়ডে সকল প্রকার পাপ হতে বিরত থাকা।
(ঙ) হজ্ব প্রিয়ডে বেশি বেশি নেকির কাজ করা।
 (চ) হজ্বের পরে জীবনের অমল পরিবর্ত হওয়া।

৫. উমরাহ করা।

৬. বেশি বেশি দান-খয়রাত করা।

৭. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।

৮. বেশি বেশি সাধারন ও বিশেষ জিকির ও দোয়া করা। বিশেষভাবে বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত করা।

৯. সুন্নত মোতাবেক কুরবানী করা।

১০. সব ধরনের পাপ ছেড়ে দেওয়া।

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত আরো নেক আমল সমূহ:

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের  ফযিলত অনেক বেশী যেমন:
১- মহান রাব্বুল আলামিন এ দিন রাত গুলো নিয়ে শপথ করেছেন । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ দিন, রাত ,ও সময়ের শপথ    করেন ।
والفجر وليال عشر( سورة الفجر)
আল্লাহ্ ফজর ও দশ রাত তথা জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের শপথ করেছেন।

২-   রাসূল (সঃ) ঘোষণা করেছেন যে, এই দিনগুলো আল্লাহর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অধিক  ফযিলত পূর্ণ। তাই এই দিন গুলি আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
:
ما من أيام العمل الصالح فيها أحب إلى الله من هذه الأيام قيل: ولا الجهاد في سبيل الله ؟ ولا الجهاد في سبيل الله ، إلا خرج رجل بنفسه وماله فلم يرجع. (ابو داود، رقم- ٢٤٣٨)
জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের মত এত প্রিয় আমল আল্লাহ তা'আলার কাছে অন্য কোন দিন নেই। জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল জিহাদ সম্পর্কে জিহাদ কি অধিক প্রিয় নহে?  রাসুল (সাঃ) বলেছেন: জিহাদের চেয়ে ও বেশী প্রিয়---------------- ।( আবুদাউদ )

 
৩- -এই দিন গুলোতে  ইসলামের পূর্ণতার ঘোষণা এসেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন  ইরশাদ করেন:  
اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم  الإسلام دينا(المائدة )
আজ আমি তোমাদের ধর্ম কে পরিপূর্ণ করেছি আর আমার নিয়ামত পূর্ন করেছি আর ইসলাম কে ধর্ম রূপে মনোনীত করেছি।

 এই আয়াতটি আল্লাহ আরাফাত ময়দানে নাযিল করেছেন , সে দিন ছিল জুমাবার।

৪- এ দিন  পশু কুরবানীর মত উত্তম ইবাদতের উপযুক্ত  সময়: কুরবানীর সুন্নাত এই দিনগুলোতে আদায় করা হয়, ১০ তারিখে আমরা কুরবানী আল্লাহর রাস্তায় দান করি, অতঃপর  ১১, ১২ তারিখ পর্যন্ত চলতে থাকে।

৫-  হজ্বের বিধান সম্পন্ন হয়: এই ১০ দিনে ইসলামের ৫ম রুকন হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

৬- মুসলিমদের বার্ষিক উৎসবের দিন। এ দশদিন মুসলমানদের আনন্দ-  উৎসবের দিন, কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এ ১০ দিন ও ঈদুল আজহার দিন মুসলিমদের  উৎসবের দিন হিসেবে অব্যাহত থাকবে।

জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ
 দিনের নেক আমল সমূহ:

১- সর্বোত্তম আমল  হচ্ছে জিলহাজ্জ মাসে: হজ্জ  আদায় করা ও ফরজ হজ্জ আদায়ে দেরি না করা:
রাসুল (সাঃ) বলেছেন :
العمرة الي العمرة كفارة لما بينهن والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة  ( البخاري )
 রাসুল (সাঃ) বলেছেন : একবার উমরাহ করলে আরেকবার উমরাহের মধ্যকার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় আর কবুল হজ্জের ছওয়াব হচ্ছে সরাসরি জান্নাত। ( বোখারী)

৭- বেশী বেশী তাকবীর বলা:
আল্লাহ তা'আলা বলেন :
واذكرو الله في أيام معدودات
নির্ধারিত দিনে আল্লাহর যিকির কর।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন :
فاكثروا فيهن التحليل والتكبير والتحميد
তোমরা জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে বেশী বেশী তাহলিল তাকবীর ও হামদ পাঠ কর। ( আহমদ )
 এজন্য এ দিন গুলোতে সকাল সন্ধ্যায় রাস্তা ঘাটে বাজারে সকল স্থানে বড় করে তাকবীর বলা উচিত।
 তাকবীর হচ্ছে
الله أكبر الله أكبر لا اله الا الله الله أكبر الله أكبر ولله الحمد

৮-  জিল হজ্জের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা:
 كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم تسع ذي الحجة ( رواه أبو داود)
 রাসুল (সাঃ) জিলহাজ্জ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখতেন ।( আবু দাউদ)

বিশেষ করে আরফার দিনে রোজা রাখা ( হাজী ব্যতীত)
 রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
আরফার দিনের রোজা আগের ও পরের দুই বছরের পাপ মোচন হয়ে যায়। ( তিরমিযি )

৯- বেশী বেশী কুরআন তিলাওয়াত করা।
 সর্বোত্তম আমল হচ্ছে আল কুরআন তিলাওয়াত করা। তাই সকল মুসলিমদের জন্য ডেইলি নিয়মিত কমপক্ষে এক পারা কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। বিশেষ ভাবে এ দশ দিনে আরো বেশী কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন :
اقروا القرأن فإنه يأتي شفيعا لأصحابه يوم القيامة.  ( رواه مسلم )
রাসুল (সাঃ) বলেছেন তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর কেননা এই কুরআন তিলাওয়াত তোমাদেরকে জান্নাতের সুপারিশ করবে। ( মুসলিম )

আর যারা কুরআন তিলাওয়াত করেনা বুঝেনা সে অনুযায়ী আমল করেনা কুরআন পরকালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে।
وقال الرسول يا رب أن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجورا( سورة الفرقان )

 

১০- বেশী  বেশী নফল নামাজ পড়া রোগীর সেবা করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা দাওয়াতি কাজ করা ও অন্যতম ইবাদত।

 আল্লাহ তা'আলা আমাদের কে জিলহাজ্জ মাসে রাসুল (সাঃ) এর সহীহ সুন্নাহ মোতাবিক আমলের তাওফিক দান করুন আমিন।
 (দুই রকম রেওয়াত থেকে দেয়া হলো।

বিনীত : মামুনূর রশীদ মাদানী
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদিনা মনোয়্যারাহ্ সৌদি আরব

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None