প্রতিষ্ঠান নয় পড়াশোনাটাই ছিল আমার কাছে আসল’ মেধাবী মুখ... ০২ জুন ২০১১, সন্ধ্যা ০৭:২০

যেখানেই পড়ি না কেন আমাকে
ভাল করতে হবে। আমি আমার প্রচেষ্টায় আমার প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে
নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে কবি নজরুল কলেজে পড়তে হলেও আমার কোন সমস্যা নেই 
কথাগুলো বলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক সম্মান
বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় ১ম শ্রেণীতে ১ম হওয়া মো: আকরম হোসাইন।

সময়টা
২০০৪ সাল। নিজের ভিতরে তখন রাজ্যের হতাশা। জীবনে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
থাকলেও চান্স হয়নি কোথাও। শেষমেষ ভর্তি হন জগন্নাথে। জগন্নাথ তখন কলেজ।
ঠিক কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এর পরের বছর (২০০৫ সালে) বিশ্ববিদ্যালয়
হিসেবে যাত্রা শুরু হয় জগন্নাথের। সব হতাশাকে ধুয়ে-মুছে মন দিয়ে পড়াশোনা
শুরু করেন আকরাম। প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল বিভাগে প্রথম হওয়া। অবশেষে চার
বছর পর আসে সে কাঙ্ক্ষিত সময়। বিভাগে প্রথম হলেন তিনি। নিজের এমন ভাল
রেজাল্টের পেছনে প্রিয় মার সিংহভাগ কৃতিত্ব বলে জানালেন তিনি... আম্মার
আম্মু এতটা টেককেয়ার করে যে তা কয়েক কথায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আমি
পরীক্ষা দিচ্ছি হলে আসলে আমার মনে হয় আমি না আমার মা পরীক্ষা দিচ্ছে!
পরীক্ষার আগের দিন  সারা রাত জেগে থাকবেন তিনি।

আমার পরীক্ষার হলের
সামনে বসে থাকবেন। অর্থাত্ আমার  ভাল রেজাল্টের জন্য যা যা করা দরকার তার
থেকে অনেক বেশি করেছেন তিনি। আমার মনে হয় না আম্মুর এমন সাহায্য ছাড়া আমার
পক্ষে এত ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব ছিল... আকরামের  সহজ ও সরল স্বীকারোক্তি।
বিভাগের স্যারদের প্রিয় ছাত্র তিনি। স্যারদের একটা উত্সাহ বিশেষভাবে কাজ
করেছে তার ভাল রেজাল্টের পেছনে। পাশে থেকে সবসময় উত্সাহ দিয়ে গেছেন
সোহরাওয়ার্দী স্যার, নাসিমা ম্যাম, শামিম স্যার উত্সাহ-উদ্দীপনা দিয়েছেন।
আসলে কোন স্যারের কথা বলব সবাই আমার জন্য যথেষ্ট করেছে। আমি বিভাগে এমন
শিক্ষক পেয়ে অনেক ভাগ্যবান... যেন তৃপ্তির ঢোকর গিললেন আকরাম।

ঢাকাতেই
বেড়ে উঠা তার। এসএসসি পাস করেছেন ধনিয়া একে স্কুল এন্ড কলেজ থেকে  আর
এইচএসসি পাস করেছেন তেজগাঁওয়ে অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি বিজ্ঞান বিষয়ক
কলেজ ‘গভার্নমেন্ট সাইন্স কলেজ’ থেকে ইন্টার মিডিয়েটে একটা ভাল কলেজের
ছাত্র ছিলেন, বন্ধুদের অনেকেই বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি, মেডিক্যাল
কলেজে চান্স পান, অনেকে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ তিনি নিজে
কোথাও চান্স পাননি, তাই কলেজ পাস শেষে এ জীবনটাকে মনে হত ব্যর্থ। প্রচন্ড
হতাশা জাগত মনে। এক্ষেত্রে মা-বাবার উত্সাহ বিশেষভাবে কাজে আসে তার।
মা-বাবাই ১ম সাহস দেন চান্স পাওনিতো কি হইছে যেখানে চান্স পাইছ ভাল করে
পড়, ভাল রেজাল্ট কর... দেখবা জীবন পাল্টে গেছে।

সে আকরাম আজ তরুণ
শিক্ষার্থীদের গর্ব। বিভাগের সেরা ছাত্র। জীবনে সবসময় পড়াশোনাটাকেই
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই শিক্ষাদেবি ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর
মুখ ফিরিয়ে নিলেও এখন মুখ তুলে তাকিয়েছেন। ডিপার্টমেন্টে প্র থম হওয়ার
মজাই আসলে আলাদা। ডিপার্টমেন্টে  সবচেয়ে ভাল বন্ধু রাসেল। যে কিনা 
ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়েছেন। প্রায়ই একই বিভাগের ১ম ও ২য় হওয়া
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও এক্ষেত্রে আকরামরা
ব্যতিক্রম! জানালেন তাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। তারা ভাল বন্ধু। যে
ক্লাসের সামনের বেঞ্চে বসে দীর্ঘদিন ক্লাস লেকচার শুনেছেন আকরাম, আর কয়দিন
পর চিরচেনা সে বেঞ্চে কতগুলো নতুন মুখের সামনে ক্লাস লেকচার দিবেন তিনি।
জীবনের আরাধনা শিক্ষা পেশায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। ডিপার্টমেন্টে  প্রথম
হওয়ার  মধ্য দিয়ে সে সুযোগ আজ তার সামনে। তীব্র সাধনার মাধ্যমে নিজের
সাধের সাথে সাধ্যের চমত্কার সম্মিলন ঘটিয়েছেন আকরাম। হয়তো জবি তৃষাতুর
চোখে তাকিয়ে আছে নিজ সন্তানের নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার পানে...
আকরামের হাত ধরে সে খাতায়ে নাম লেখাক জবি তার সাধারণ শিক্ষার্থীদের এইতো
বাসনা... নিজেদের ছেলেদের রেখে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক আমদানি
কেইবা চায়? ১-০৬-১১ এর ইত্তেফাকে প্রকাশিত ।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None