সিরিয়ায় হামলা; মিসরকে লুকাতেই পশ্চিমাদের ভেল্কিবাজি।

মধ্যপ্রাচ্য কত্তবড় নির্বোধ, বোকা .... তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তারা আছে ধর্ম নিয়ে, কিন্তু পশ্চিমাদের রাজনীতি বুঝার ক্ষমতা আল্লাহ তাদের দেননি। কয়েকদিন আগেই মিশরে ঘটেগেল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি মুসলিম নিধন যজ্ঞ। প্রমাণসহ প্রায় তিন হাজার জনের উপর। সারা বিশ্ব মিসরের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছিল, অনেকে কানাঘুষা করছিল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কোন আলোচনা হবে। অনেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানেরও দাবি জানায়। কিন্তু তখন আমেরিকা আর বৃটেনসহ অন্যরা সেনাদের সমর্থন করায় রাষ্ট্রের ভিতরেও সমালোচনার সম্মুখীন হয়। যখন এরা বুঝতে পারল মিশরের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তখনই তারা নতুন চাল চালল। সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিয়ে গেল সিরিয়ায়। তারা সিরিয়ায় আক্রমণ করবে। তাদের ইস্যু হল রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার। কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র কে ব্যবহার করেছে, তার রহস্য এখনো কাটেনি, তার আগেই যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ হোক বা না হোক, তারা মিশরকে মানুষের দৃষ্টির বাইরে নিয়ে গেছে, কিছুদিন পর মিশরে একটা নির্বাচন দিয়ে ড. ইউনূসের মত এক বিশিষ্ট দালালকেই ক্ষমতায় বসাবে। সুন্দরমত সুয়েজ খাল তাদের দখলে থাকবে, মিশরের প্রধান অর্থনৈতিক খাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোও তাদের দখলেই থাকবে। বিনিময়ে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিবে।

মিশরের সেনাবাহিনীর বিচার কোনদিন হবেকি? নাকি আগের মতই সবাই ছাড়া পাবে??? অন্যদিকে সারাবিশ্বের মুসলিমরা দিনে চৌদ্দবার আমেরিকার পতন চাইবে, অনেকে আমেরিকাকে ধ্বংস করার জন্য কয়েকটি গ্রেনেড আর বন্দুক নিয়ে ইসরায়েলের জাহাজে করে আটলান্টিকের উপারে যেতে চাইবে। কিন্তু মাঝপঠে জিহাদী নেশায় বিভোর এসব ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের রক্ত দিয়ে গোসল করবে ইহুদীরা। তারপর কী? ভাই জিহাদ করে বেহেস্তে গেছেন, আমাকেও যেতে হবে!!!! কিন্তু ভিসা নেই কি করব? কিছ্ছু করতে হবে না, দেশের মানুষ মার আর সম্পদ নষ্ট কর, মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজি। শিয়াদের মসজিদে বোমাহামলা চালা, গাড়িতে বোমাহামলা চালা, স্কুলে চালা, হাসপাতালে চালা, মুমবাইতে চালা, মায়মনসিংহের সিনেমা হলে চালা, রমনার বটমূলে চালা .... সব ধ্বংস করে দে .... বেহেস্তের হুর আমাদের নিশ্চিত। কিন্তু পৃথিবীর হুর, পৃথিবীর সম্পদ কিন্তু আমেরিকা, পশ্চিমারাই নিয়ে নিচ্ছে, মাললার মত মেয়ে বা ভালভালো শিল্পী, সাহিত্যক, বুদ্ধিজীবী, চিকিৎসক ঐখানে চলে যাচ্ছে। আপনারাই একমাত্র মুসলিম যারা কোরানের বাণী বুঝতে পেরে উম্মত রক্ষায় জিহাদ করছেন, আর কেউ বুঝেনা??? সবাই ঘাস খায়, আর আপনারা হালুয়া বিড়িয়ানি খান???

পশ্চিমরা পৃথিবীটাকে বেহেস্ত বানিয়ে নিজেদের মত সবকিছু ঢেলে সাজাতে চায়। তাই আমেরিকা যখন সিরিয়া আক্রমণে উদ্যত, তখন রাশিয়া নৌবহর পাঠিয়ে বাধা দিচ্ছে, বৃটেনে হাউস অব লরডস বা কমন্সেও আক্রমণের বিরোধীতা করছে। করণ, এতে বাশার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাতের পথ বন্ধ হয়ে যেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়। যদি বাশার না মানে, তখন রাশিয়া হাংকিপাংকি ছেড়ে ইরাক, আফগানিস্তান বা লিবিয়ার মতই রাস্তা ছেড়ে দিবে। তখন দেখাযাবে মুসলিমরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল না ব্যর্থ হয়।

মুসলিমদের মধ্যে যতদিন প্রকৃত জ্ঞানের বিকাশ না ঘটবে, ততদিন আমেরিকা বা পশ্চিমরা তাদের নিয়ে ইঁদুর বিড়াল খেলবে। তারা কোনদিনই বুঝতে পারবে না, আরব বসন্ত কেন হল, কেন আরব বসন্তের গণতান্ত্রিক চেতনার বাস্তবায়ন হল না, কেন বসন্তের পরও মিসরে একবছরও নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারলো না, কেন বসন্তের পরও লিবিয়ায় জঙ্গিদের হাতে শতশত মুসলিম মারা যাচ্ছে, কেন সিরিয়ায় আরব বসন্ত এখনো সফলতা পাচ্ছে না, কেন সিরিয়ার বিদ্রোহীরা এখন গণতন্ত্রের বদলে শরিয়া আইনের জন্যে জীবন দিচ্ছে??? এগুলো যতদিন না তারা বুঝতে পারবে, ততদিন তারা পৃথিবীতে বেহেস্তের সন্ধান করবে না, ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধদের জন্য পৃথিবীটাকে রেখে পরকালের বেহেস্তের জন্যে জীবন দিবে, জিহাদ করবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

পশ্চিমাদের ঠেকা পরেছে! মিশরকে লুকাতে মিশরিয় মুসলিমরাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে রামু থেকে টেকনাফ বৌদ্ধদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সবইতো লুকিয়ে ফেলেছে.............. তো?

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)