যে মো'জিযা বর্ণনার অতীত

২- কুরআনে উল্লেখিত কতিপয় নাম ও শব্দাবলী:

আল কুরআনুল কারিমে রয়েছে এমন বহু প্রশ্নবোধক ও অপরিচিত নাম যা, যে কোন সন্দিগ্ন ও সংশয়বাদী পাঠকের মনে এ ধারণা উদ্রেক করে দিতে পারে যে, কুরআনের হাফিজগন (কুরআন সংকলনের সময় যারা এটি মুখস্থ শুনিয়ে সহযোগিতা করেছেন) ভুল মুখস্থ করেছিলেন কিনা। যেমন উদাহরণস্বরুপ “বাক্কা” শব্দটির উল্লেখ করা যায়। কুরআনে মাক্কা নগরীকে এক জায়গায় “বাক্কা” বলা হয়েছে (দ্রস্টব্য: সুরা আলে ইমরান 96)। অথচ মাক্কা নগরীর আলোচনা প্রসংগে অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা “মাক্কা” শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। (দ্রষ্টব্য: সুরা আল ফাতহ 24)
ইতিহাসের কোথাও এমন কোন প্রমাণ খুজে পাওয়া যায়না কিংবা এমন কোন হাদীসও নেই যে সাহাবীগন কুরআন সংকলনের সময় এরুপ কথা বলেছেন যে, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হয়তো এ সাহাবীগন মাক্কার বদলে বাক্বা শুনেছেন, আল্লাহ মাক্কাকে বাক্কা কেন বলবেন, আসুন আমরা এখানে বাক্কার বদলে মাক্কা লিখে দেই”।
এ প্রসংগে বলা আবশ্যক, কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ করার সময় যে সমস্ত উৎসকে মুল ও প্রথমে রাখা হয়েছে তা ছিল দু’টি: এক: কুরআনের লিখিত কপি, দুই: কুরআনের হাফিজগন। এ দু’উভয়কে একটির সাথে অন্যটির হুবহু মিল খুজে পাওয়ার পরই জিনিসটিকে কুরআন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুরুপভাবে কুরআনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘আহমাদ’ বলা হয়েছে অথচ রাসুল সা: এর ডাকনাম ছিল ‘মুহাম্মাদ’। পুরো নাম মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব। ইতিহাসের কোথাও এমন কোন প্রমাণ নেই যে, সাহাবীগন কুরআন গ্রন্থাবদ্ধকরনের সময় এরুপ কথা বলেছেন যে, আসুন আমরা আহমাদের বদলে এখানে মুহাম্মাদ লিখে দেই। এতেও প্রমাণ হয় যে, কুরআন যেমনটা নাযিল হয়েছে আজও ঠিক তেমনটিই আছে।
বলা আবশ্যক কুরআনে উল্লেখিত এসকল দ্ধিধা সংশয় সম্বলিত শব্দ ও আয়াত সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা একটি ঘোষণাও দিয়েছেন: “তিনিই তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন ৷ এ কিতাবে দুই ধরনের আয়াত আছেঃ এক হচ্ছে, মুহ্কামাত, যেগুলো কিতাবের আসল বুনিয়াদ এবং দ্বিতীয় হচ্ছে, মুতাশাবিহাত৷ যাদের মনে বক্রতা আছে তারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সবসময় মুতাশাবিহাতের পিছনে লেগে থাকে এবং তার অর্থ করার চেষ্টা করে থাকে৷ অথচ সেগুলোর আসল অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না৷ বিপরীত পক্ষে পরিপক্ক জ্ঞানের অধিকারীরা বলেঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এসব আমাদের রবের পক্ষ থেকেই এসেছে ৷ আর প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানবান লোকেরাই কোন বিষয় থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে”৷ (সুরা আলে ইমরান 7)
 
কুরআনে রয়েছে এমন ভুরি ভুরি শব্দ (ব্যাকরনের সুপালেটিভ ডিগ্রিরও উপরে) যা দুনিয়ার কোন ডিকশনারীতে খুজে পাওয়া যায়না। রয়েছে এমন বাক্য যাতে সাধারণ ব্যাকরণ রীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। এ প্রসংগে একটি সত্য ঘটনা সম্মানিত পাঠকদের সমীপে উল্লেখ করছি: আমাদেরকে আরবী ব্যাকরন পড়াতেন এক ইজিপশিয়ান শিক্ষক (উম্মুল কোরা ইউনিভার্সিটিতে)। তিনি ক্লাসে একদিন বললেন: ‘ধর্মনিরপক্ষ পরিবারে ছিল আমার জম্ম, আমাদের পরিবারে কাউকে কখনো কুরআন পড়তে দেখিনি, ক্যারিয়ার গঠনের প্রধান অন্তরায় মনে করা হতো এ গ্রন্থকে। বিদ্যার অহমিকায় আমার মাটিতে পা পড়তোনা। কিন্তু সৌদী আরবে আরবী ব্যাকরণের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে এসে বাধ্য হয়ে আমাকে কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে হয়। এ গবেষণা আমার চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আমি নতুন করে ইমান আনি’।     
- চলবে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

সালাম

 

ধন্যবাদ  সুন্দর , শিক্ষামূলক  পোস্টের  জন্য  ,  যাজাকআল্লাহ ।

-

সালাম

মাশ-আল্লাহ

ভাল লেগেছে। আল্লাহ আপনাকে যাযায়ে খায়ের দান করুন। এবং পাঠক/পাঠিকাদেরও

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)