দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৬

সময়জ্ঞান। পর্ব – ৬
আরবীতে একটা প্রবাদ আছে, الوقت كالسيف إن لم تقطعه قطعك
অর্থাত "সময় হচ্ছে তলোয়ারের ন্যায় যদি তুমি তাকে না কাটতে পার তাহলে সে তোমাকে কাটবে"। প্রবাদটি বুঝার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে:
মনে করুন আপনার একাউন্টে প্রত্যহ সকাল ৬টায় 720 ডলার জমা হয়, আপনি যদি এ 720 ডলার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে না উঠাতে পারেন তাহলে তা আর পাবেন না। সন্ধ্যা ৬টা বাজার সাথে সাথে আপনার একাউন্ট খালি হয়ে যাবে।
এ পৃথিবীতে মানুষের জীবনও ঠিক তেমনি। যে সময় আপনাকে প্রদান করা হয়েছে আপনি যদি তার যথাযথ ব্যবহার করতে, সঠিক পথে ব্যয় করতে ব্যর্থ হন তাহলে তা আর কখনো ফেরত পাবেননা। যে সময় আজ আপনার নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছে আগামীকাল তা আর আপনার জীবনে আসবেনা। কারন সময় ব্যাংকে জমা রাখা যায়না। সময় টাকা পয়সার বিনিময়ে খরিদ করা যায়না।
জনৈক কবির ভাষায়:
''সময় হইলে গত কিন্তু একবার,
পার কি কিনতে কেহ ক্ষণ মাত্র তার?
রাশি রাশি ধন দাও অমূল্য সময়,
একবার গেলে আর আসিবার নয় ।
নিতান্ত নির্বোধ শুধু সেই জন,
অমুল্য সময় করে বৃথায় যাপন''।

ইমাম রাযী রাহিমাহুল্লাহ সময়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একজন মনীষীর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন : " একজন বরফওয়ালাদের কাছে থেকে আমি সূরা আল আসরের অর্থ বুঝেছি৷ সে বাজারে জোর গলায় হেঁকে চলছিল দয়া করো এমন এক ব্যক্তির প্রতি যার পূঁজি গলে যাচ্ছে৷ দয়া করো এমন এক ব্যক্তির প্রতি যার পূঁজি গলে যাচ্ছে৷ তার একথা শুনে আমি বললাম, এটিই হচ্ছে আসলে ''সময়ের কসম। মানুষ আসলে বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে (আল আসর ১,২) বাক্যের অর্থ৷ মানুষকে যে আয়ুষ্কাল দেয়া হয়েছে তা বরফ গলে যাবার  মতো দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে ৷ একে যদি নষ্ট করে ফেলা হয় অথবা ভুল কাজে ব্যয় করা হয় তাহলে সেটিই মানুষের জন্য ক্ষতি৷"

কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় যে, মু'মিন সেজে অমুল্য রত্ন এ সময়কে এখন শয়তান চুরি করে নিচ্ছে হাজারো কৌশলে। শয়তান বলছে: ইসলামের শত্রুরা শত শত ওয়েবসাইট/ব্লগের মাধ্যমে ইসলামকে গালি দিচ্ছে, তোমাদের নাবীকে গালি দিচ্ছে, কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, তোমরা কেন এসবের দাতভাংগা জওয়াব দিচ্ছোনা?
শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে অত:পর এসবের দাতভাংগা জওয়াব দেয়া শুরু হয়ে যায়। চলে উত্তর প্রতিউত্তরের যুদ্ধ। কে কত কায়দা করে প্রতিপক্ষের দাতভাংগা জওয়াব দিতে পারে তারই কসরত চলে ঘন্টার পর ঘন্টা।  
 
শয়তান বলে: টিভির টকশোগুলো নিয়মিত না দেখলে রাজনীতির গতি প্রকৃতি জানবে কিভাবে?
শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে অত:পর টকশোতে কাটানো হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

অত:পর সপ্তাহান্তে নিজের আমলনামার একাউন্টখানি অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, না সেখানে  নিজের জন্য তেমন কিছু আছে যা মুত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য পাথেয় হতে পারতো আর না আছে অন্যকে দেবার মত কিছু জমা।  

অথচ একজন দায়ী ইলাল্লাহকে তো সর্বক্ষণ এই অনুভুতি নিয়ে জীবন আয়ু পার করা উচিত
{ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَداً وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ }لقمان34
সুরা লুকমান 34।
একজন দায়ী ইলাল্লাহকে তো সর্বক্ষণ ঐ কাজেই সময় ব্যয় করতে হবে যা তার আখিরাতের জন্য সাদাকা জারিয়াহ হবে। তিনি যদি কোন কথা বলেন, ভাবতে হবে, এ কথায় দুনিয়া ও আখিরাতের কোন কল্যান  নিহিত আছে কিনা। তিনি যদি কোন কিছু লিখেন, তাবা উচিত যে তার এ লিখায় তার নিজের আখিরাতের জন্য কোন পুণ্য সঞ্চয় হবে কিনা। তিনি যদি কোন ওয়েবসাইট নির্মাণ করেন ভাবা দরকার যে, এ ওয়েবসাইট থেকে মানুষ হেদায়াতের কোন পথ খুজে পাবে কিনা।

চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)