বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দুই

বার্ডেন অফ প্রুফ । পর্ব দু্ই
 
যে শিক্ষা বা দিক নির্দেশনাগুলো আমরা উপরের কাহিনী এবং এতদসংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা থেকে পাই তা হচ্ছে:

১- যিনি পরীক্ষা নেবেন তাকে অবশ্যই লুকায়িত থাকতে হবে অথবা অন্য কোন উপায়ে নিরপেক্ষ পরীক্ষানীতির শর্তাবলী পুরণ করতে হবে।
২- পরীক্ষকের অবাধ্যতা বা বিরোধীতা করার সাথে সাথে যদি পরীক্ষক তাকে পাকড়াও করেন বা মেরে ফেলেন তাহলে তা হবে নীতিবিরোধী কাজ যা পরীক্ষানীতির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। এধরণের কাজকে কোন যুক্তিতেই পরীক্ষা বলা যাবেনা।
৩- কোন কাজকে পরীক্ষা বলা যাবে তখন, যখন পরীক্ষার্থীকে নিম্নোক্ত স্বাধীনতাগুলো প্রদান করা হবে:
(ক) পরীক্ষা দেবার জন্য যতটুকু সময় পরীক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ সেই সময়টুকুতে তাকে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা দেবার সুযোগ দিতে হবে, অর্থাত সে যদি ঐ সময়ে সারাক্ষণ বসে থাকে তাহলে পরীক্ষক তাকে পরীক্ষা হল থেকে বহিস্কার করতে পারবেননা, সে যদি ঐ পুরো সময়ব্যাপী পরীক্ষকে গালাগাল করতে থাকে বা পরীক্ষার খাতায় হিজিবিজি আকতে থাকে তাহলেও পরীক্ষক তার এ কর্ম থেকে তাকে বিরত রাখতে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবেননা।
(খ) এমন জ্ঞান বুদ্ধি ও বিবেচনাশক্তি পরীক্ষার্থীকে প্রদান করতে হবে যা দ্বারা সে সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে। নৈতিকতার দৃষ্টিতে কোন জিনিস ভাল আর কোন জিনিস খারাপ, কোন কাজ করলে পরীক্ষায় পাশ ধরা হবে এবং কোন কাজ করলে ফেইল বলা হবে – এজাতীয় আকল এবং বোধশক্তিও পরীক্ষার্থীর চেতনামধ্যে পুর্বাহ্নে দিয়ে রাখতে হবে  বা পরীক্ষক নিজ দায়ীত্বে অন্য কোন উপায়ে বা মাধ্যম ব্যবহার করে এ জ্ঞান প্রদানের ব্যবস্থা করে রাখবেন।
(গ) ভাল এবং মন্দ উভয় কাজ করার ক্ষমতা ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষার্থীকে প্রদান করতে হবে। সে যাতে তার পঞ্চইন্দ্রিয় এবং তার জন্য নির্ধারিত ও সরবরাহকৃত ভোগ ব্যবহারের সমস্ত কিছু স্বাধীনভাবে পেতে পারে এবং আয়ত্বে আনতে পারে পরীক্ষক তা নিশ্চিত করবেন। যদি এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর কোন অধিকার খর্ব হয় তাহলে ভুল উত্তর কিংবা অকৃতকার্য হবার জন্য পরীক্ষার্থীকে দোষারোপ করা যাবেনা।
(ঘ) পরীক্ষক তথা স্রষ্টার সার্বিক পরিচয় মিলতে পারে এমনসব উতস ও উপায় উপাদান পরীক্ষার্থীর চারপাশ ও প্রকৃতিতে বিরাজমান থাকতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থী কখনো এ অভিযোগ উত্থাপন না করতে পারে যে, পরীক্ষকতো এক Un-seen বিষয় ছিলেন
(ঙ) পাপী এবং নেককার এ উভয় প্রকারের পরীক্ষার্থীকে সমঅধিকার ও সমান সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে। এমন হলে চলবেনা যে, নেককার লোকেরা নেকী করার সুবাদে পরীক্ষকের আনুকুল্য লাভ করলেন এবং অত:পর সকলে তা জেনে গেল যে, নেক কাজ করলে পরীক্ষক পরীক্ষার হলেই (অর্থাত দুনিয়ায়) পরীক্ষার্থীকে বিশেষ আনুকু্ল্য ও সুবিধা দান করেন। অনুরুপভাবে এমন হলেও চলবেনা যে, পাপ কাজ করার ফলশ্রুতিতে সাথে সাথেই তার উপর শাস্তি নেমে এল।

ন্যায়ানুগ পরীক্ষাপর্ব অনুষ্ঠিত হবার জন্যে যে যৌক্তিক চাহিদা ও শর্তাবলীগুলো উপরে উল্লেখিত হয়েছে তা যদি আমরা কুরআনের আলোতে নিরীক্ষণ করি অর্থাত আমাদের স্রষ্টা বর্ণিত কথাগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে আমরা দেখবো যে, পরীক্ষক অর্থাত আমাদের মহান প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবগুলো শর্তই পুরণ করেছেন। একটি নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞজনোচিত পরীক্ষাকর্ম অনুষ্ঠানের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি একাধারে এ প্রাকৃতিক জগত, সৃষ্টিকুল, পরীক্ষার্থীর ব্যক্তি ও মানসিক সত্তা প্রভৃতির মধ্যে সন্নিবেশ করে রেখেছেন।
নীচে আল কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীস থেকে তারই প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে:
 
 চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)

জাযাকাল্লাহ্ খায়ের। সাথে আছি।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)