বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব আট

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব আট:

কতিপয়  যৌক্তিক জিজ্ঞাসা:
পরীক্ষার্থীর জন্যে, বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ব্যাপারে যার মন সন্দেহ সংশয়ে দোলায়িত তার জন্যে আরও এক বড়ো নিদর্শন এবং পথের দিশা রয়েছে উপরোক্ত ঘটনায়। যদি সে সম্পুর্ণ অনাবিল ও যুক্তিনিষ্ঠ অন্তর নিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা ও অনুধাবনের চেষ্ঠা করে তাহলে প্রকৃত সত্য উদ্ধারের জন্য তা যথেষ্ঠ হতে পারে। নীচে দৃষ্টি আকর্ষণী সে দিকগুলো তুলে ধরা হচ্ছে:  
১- বিয়ে ছাড়া সন্তান ধারণের অপরাধে ইয়াহুদীরা মারিয়াম আলাইহাস সালামকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এটা হতোই, কিংবা অন্য কোন বিপদ মা মারিয়ামকে বরণ করতে হতো যদিনা ঐ মুহুর্তে ইসা আলাইহিস সালাম কোলে শায়িত অবস্থায় কথা বলে উঠতেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কথা বলার ব্যাপারটিতো কোন যাদু ছিলনা। তাহলে কার নির্দেশে, কোন শক্তিতে এটি সম্ভব হল?
২- খৃষ্টানদের মধ্যে এমন একজনও কি পাওয়া যাবে, যে কিনা মারিয়াম আলাইহাস সালামকে ব্যভিচারীনি সাব্যস্ত করে? খৃষ্টানদের একটি অংশ ইসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র গন্য করে (সুরা তাওবা 30) এটা তার ঐ বিস্ময়কর মু'জিযা তথা বিনা পিতায় জন্মলাভের কারনে নয় কি?
৩- যদি ব্যভিচারের ফলে সন্তানটির জন্ম হতো তাহলেতো মারিয়ামের গোপনে অন্য কোথাও চলে যাবার কথা ছিল বা ঘরে লুকিয়ে থাকার কোন ব্যবস্থা তিনি করতেন কিন্তু তিনি তা করেননি বরং সন্তানটিকে নিয়ে বাইতুল মাকদিসে এসে সকলের সম্মুখে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। এটা তিনি কেন করলেন?
৪- ইয়াহুদীরা যখন মা মারিয়ামকে অপবাদ, ধিক্কার দিচ্ছিল এবং জিজ্ঞাসা করছিলো যে, এটা কার সন্তান তখন মারিয়াম কিছু না বলে সদ্য ভুমিষ্ট সন্তানের দিকে ইশারা করলেন কেন?
৫- ইসা আলাইহিস সালামের এ ঘটনার আনুমানিক প্রায় ছয়শত বছর পর শেষ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবির্ভুত হন। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কিভাবে এ ঘটনা অবহিত হলেন? ইঞ্জিল থেকে নকল করেছেন? কিন্তু তিনিতো লিখতে পড়তে জানতেননা। তাছাড়া প্রকৃত ইঞ্জিল তখন পাওয়াও যেতোনা, বানু ইসলাইলগন তা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ধরে নিলাম প্রকৃত ইঞ্জিল পাওয়া গিয়েছিলে এবং তা থেকে কেউ তাকে কুরআন লিখে দিয়েছে (যা কোন প্রকারেই সম্ভব ছিলনা), যদি তা-ই হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান ইঞ্জিলের সাথে সে ইতিহাস মিলছেনা কেন? আর যদি ইঞ্জিল পরিবর্তিত হয়েই থাকে তাহলেতো কুরআন যা বলছে তা-ই সঠিক।
৬- শেষ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খৃষ্টানগন (আন নাসারা) খারাপ ছাড়া ভাল ব্যবহার করেনি, আহলু কিতাব হওয়ার কারনে তাদেরই সর্বাগ্রে ইমান আনা কর্তব্য ছিল কিন্তু তারা তা করেনি বরং বিরোধিতা করেছে এবং তা আজও অব্যাহত আছে অথচ অবাক ব্যাপার, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নাবীকে অতীব মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, ইসা আলাইহিস সালামের মাকে সম্মানিতা পুত পবিত্রা মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (সুরা আলে ইমরান 45, সুরা আল আম্বিয়া 91, সুরা আত তাহরিম 12)। আরও অবাক ব্যাপার, জান্নাতে যে চারজন মহিলা সুউচ্চ সম্মানের অধিকারিনী হবেন সে চারজনের মধ্যে মারিয়াম আলাইহিস সালামকে স্থান দেয়া হয়েছে(১) এবং এখবরটি প্রদান করেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে খৃষ্টানগন মানতে রাজী নয়। আরও ভেবে দেখার বিষয় যে, এসকল তথ্যাদি প্রদান করা হয়েছে ছয়শত বছর পরের একজন মানুষের মাধ্যমে। এসকল ঘটনাবলী কি নির্দেশ করে?
---------------------------------------------------------------------------------    
টীকা
(১) হাদিসটি এই:      
রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন: "জান্নাতবাসীনি স্ত্রীলোকদের মধ্যে উচ্চ সম্মানের অধিকারী হবেন চারজন: খাদিজা বিনতু খুয়াইলিদ, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ, মারিয়াম বিনতু ইমরান এবং আসিয়া বিনতু মুযাহিম (ফিরআউনের স্ত্রী)"। তিরমিযি 1135

চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

তথ্যবহুল পোস্টের জন্য আপনাকে যাযাকাল্লাহু খাইরান ফিদ্দারইন। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চিন্তার পথে অনেক দূর নিয়ে যায়।
জাযাকাল্লাহ্ খায়ের।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)