বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দশ

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দশ:
যুক্তির নিরীখে আসহাবু কাহাফ:
১- এ কাহিনী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে কুরআনে উল্লেখ করেননি বরং মাক্কার কাফিরদের প্রশ্নের জওয়াবে এ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে (দ্রষ্টব্য: তাফহীমুল কুরআন, সুরা আল কাহাফ নাযিলের পটভুমি)। যদি আল্লাহ এখবর না জানাতেন এ ইতিহাস মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানার কথা ছিলনা। অবিশ্বাসীদের কথানুসারে যদি ধরে নেই যে, আসহাবু কাহাফের ঘটনা বানানো, মুহাম্মাদ সা: নিজে তা রচনা করেছেন তাহলে তা-ও গ্রহনযোগ্য হয়না, কারন মুহাম্মাদ সা: এর আগমনের অনেক পুর্ব থেকে ইসায়ী অ-ইসায়ীসহ সকল ঐতিহাসিকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ ইতিহাস শ্রুত ছিল। তাছাড়া মিথ্যা ইতিহাস রচনার অপবাদ মুহাম্মাদ সা: এর উপর খাটেওনা, কারন তার শত্রুরাও সাক্ষ্য দিত যে, মুহাম্মাদ সা: জীবনে একবারও মিথ্যা কথা বলেননি।  
২- "কুরআনে গুহাবাসীদের সঠিক সংখ্যা লিখতে ভুল করা হয়েছে" গীবনসহ অমুসলিম ঐতিহাসিকদের এ অভিযোগ প্রমাণ করে যে, গুহাবাসীদের উক্ত মু'জিযাটি সংঘঠিত হবার পর অত্যন্ত ব্যাপকভাবে সর্বত্র তা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কুরআনে যে গুহাবাসীদের সঠিক সংখ্যা আল্লাহ ইচ্ছা করেই মানুষকে অবহিত করেননি (যার রহস্য একমাত্র আল্লাহই জানেন) এর সাক্ষ্যতো আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন।(দ্রষ্টব্য: আয়াত ২২)  
৩- সুরাটির 11 আয়াতে ঘুমন্ত যুবকদের শ্রবণশক্তি হরণের কথা বলা হয়েছে। শরীরের অন্য সমস্ত অংগাদি ঠিক রেখে শুধুমাত্র শ্রবণশক্তি হরণের কথা আল্লাহ কেন বললেন এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিজ্ঞান বলছে যে, সকল সংবেদনশীল অঙ্গের মধ্যে কেবল কানই ঘুমের মধ্যেও সক্রিয় থাকে। এ কারণেই ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার জন্য আমাদের শাব্দিক সংকেত প্রয়োজন হয় বা শাব্দিক সংকেত বেশী কার্যকরী। যেহেতু, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এসব লোককে দীর্ঘদিনের জন্য নিদ্রিত রাখতে ইচ্ছা করলেন, তাই তিনি তাদের শ্রবণেন্দ্রীয়কেও বন্ধ করে দিলেন। চিন্তাশীলদের জন্যে এতে এক পথের দিশা রয়েছে।
৪- এ ঘটনা আল্লাহর শক্তি, ক্ষমতা, জ্ঞান এবং কুদরাতের আরেক নিদর্শন।
৫- আল্লাহ তার বান্দাদের সামনে সত্য পথের নিশানী এবং হেদায়াতের আলো দৃশ্যমান না করে কাউকে শাস্তি দেবেননা বলে ওয়াদাবদ্ধ সেকারনে আসহাবু কাহাফের এ ঘটনা বিচিত্র বা আশ্চর্য কিছু নয়। এ ঘটনা আরও প্রমাণ করে যে, কেবলমাত্র হেদায়াতের পথ প্রদশর্নই আল্লাহর দায়ীত্ব, অলৌকিক উপায়ে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনে দাখিল করা নয়। যদি এ কাজ আল্লাহর দায়ীত্বের অন্তর্ভুক্ত হতো, তাহলে তখনকার জনসাধারণের সেই মহা আবেগকে (আসহাবু কাহাফের জীবিত হবার পর) কাজে লাগিয়ে গুহাবাসী সেই যুবকদেরকে সাড়া বিশ্বের শাসক বানিয়ে কুফর ও অনাচারকে দুরীভুত করে দিতেন।
৬-যিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে কতক মানুষকে কয়েকশো বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন তিনি ইসা আলাইহিস সালামকে একটা সময়ব্যাপী (Period of Time) ঘুম পাড়িয়ে রেখে বা অন্য কোন ডাইমেনশনে স্থান দিয়ে পুনরায় তাকে পৃথিবীতে ফেরত পাঠাতে পারবেন না এমন কথা বলাই বরং অবৈজ্ঞানিক ও জ্ঞান বুদ্ধি বিরোধী। ইতিপুর্বের আলোচনাতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ এ পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের চেয়ে বড় বিজ্ঞানী।

চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)