বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব এগার

সর্বশেষ মু'জিযা
পৃথিবীর ইতিহাস ও নাবী রাসুলদের আগমনের ধারাবাহিকতা অধ্যয়ন করলে প্রতীয়মান হয় যে, এ পৃথিবী যতক্ষণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এমনসব উপায় উপকরন সৃষ্টি করতে পারেনি যা গোটা পৃথিবীকে একজন মাত্র নাবীর আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য একত্র করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিটি জাতীর নিকট স্বতন্ত্রভাবে নাবী রাসুল প্রেরণ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু যখন নাবীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফল পৃথিবীর প্রায় সকল জনপদ ও জাতীসমুহকে এমন পর্যায়ে পৌছে দিল যে, এখন তারা একটি বিশ্বব্যাপক জীবন ব্যবস্থার অধীনে জীবন যাপন করতে পারবে এবং একই সাথে বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উপায় উপাদানেরও এতটা উন্নতি হল যে, একজন মাত্র নাবীর আহবান অল্পায়াসেই গোটা পৃথিবীতে পৌছে যেতে পারে তখন আল কুরআনুল কারিম সহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নাবী করে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির অভুতপুর্ব কল্যাণে পৃথিবীর ছোট হয়ে আসা অন্তত: তা-ই প্রমাণ করছে বলে মনে হয় (প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট)। বস্তুত: এতেও এক দিক নির্দেশনা রয়েছে পরীক্ষার্থী তথা মানবকুলের জন্যে।

এ কুরআন হচ্ছে এ পৃথিবীর পরীক্ষার্থীদের জন্য সর্বশেষ মু'জিযা। এটি জীন ও ইনসানের জন্য জীবন যাপনের বিধান। যেভাবে ও যে উদ্দেশ্যে অতীতে রাসুলগনের নিকট জীবন যাপনের বিধান পাঠানো হতো ঠিক সেভাবে ও সে উদ্দেশ্যে এ উম্মাতের নিকটও এ বিধান পাঠানো হয়েছে।
এ গ্রন্থের আলোচনা আমি এখানে এনেছি এটা প্রমাণ করার জন্যে যে, যদি এ বিশ্বে আল্লাহ বলতে কেউ না থাকবেন তাহলে বিস্ময়কর এ কুরআন কোত্থেকে এল?
এ কুরআনের মু'জিযা, এতে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তত্ব ও তথ্যাবলী, এর অনুপম ভাষাশৈলী, অলংকারিত্ব, মাধুর্যতা, কাব্যিক ছন্দ, অভিনব এবং অভুতপুর্ব শব্দ প্রয়োগ, ইতিহাস বর্ণনা ইত্যাদি নিয়ে গ্রন্থরাজি ও ডকুমেন্টারীর সমাহার এত বিশাল ও ব্যপক যে এ বিষয়ে নতুনভাবে লিখা আমি নি:স্প্রয়োজন মনে করি।
একারনে শুধুমাত্র দৃষ্টি আকষর্ণী কতিপয় আয়াতের যুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে:
আল কুরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন: "বলে দাও, যদি মানুষ ও জিন সবাই মিলে কুরআনের মত কোন একটি জিনিস আনার চেষ্ঠা করে তাহলে তারা আনতে
পারবে না, তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়ে গেলেও৷ (সুরা আল ইসরা 88)
ব্যাখ্যা: "ইতিপূর্বে কুরআন মজীদের আরো তিন জায়গায় এ চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে ৷ সূরা বাকারার ৩ রুকূ', সূরা ইউনসের ৪ রুকূ' এবং সূরা হূদের ২ রুকূ ' তে এ চ্যালেঞ্জ এসেছে৷ সামনে সূরা তূরের ২ রুকূতেও এ বিষয়বস্তু আসছে৷ এসব জায়গায় কাফেরদের যে অপবাদের জবাবে একথা বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে এই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই কুরআন রচনা করেছেন এবং অযথা এটাকে আল্লাহর কালাম বলে পেশ করছেন৷ এ ছাড়াও সূরা ইউনুসের ১৬ আয়াতে এ অপবাদ খণ্ডন করতে গিয়ে বলা হয়েছে: "হে মুহাম্মাদ! ওদেরকে বলো, আমি তোমাদের এ কুরআন শুনাবো এটা যদি আল্লাহ না চাইতেন, তাহলে আমি কখনোই শুনাতে পারতাম না বরং তোমাদের এর খবরও দিতে পারতাম না৷ আমিতো তোমাদের মধ্যেই জীবনের সুদীর্ঘকাল কাটিয়ে আসছি৷ তোমরা কি এতটুকুও বোঝ না?
এ আয়াতগুলোতে কুরআন মজীদ আল্লাহর কালাম হবার সপক্ষে যে যুক্তি পেশ করা হয়েছে তা আসলে তিন ধরনের:
এক: এ কুরআন স্বীয় ভাষা, বর্ণনা পদ্ধতি, বিষয়স্তু, আলোচনা, শিক্ষা ও গায়েবের খবর পরিবেশনের দিক দিয়ে একটি মু'জিযা৷ এর নজির উপস্থাপনা করার ক্ষমতা মানুষের নেই৷ তোমরা বলছো একজন মানুষ এটা রচনা করেছে৷ কিন্তু আমি বলছি, সারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষ মিলেও এ ধরনের একটি কিতাব রচনা করতে পারবে না৷ বরং মুশরিকরা যে জিনদেরকে নিজেদের মাবুদ বানিয়ে রেখেছে এবং এ কিতাব যাদের মাবুদ হবার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আঘাত হানছে তারাও যদি কুরআন অস্বীকারকারীদেরকে সাহায্য করার জন্য একাট্টা হয়ে যায় তাহলে তারাও এদেরকে এ কুরআনের সমমানের একটি কিতাব রচনা করে দিয়ে এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার যোগ্য করতে পারবে না ৷
দুই: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ তোমাদের মধ্যে বাইর থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি৷ বরং এ কুরআন নাযিলের পূর্বেও ৪০ বছর তোমাদের মধ্যেই বসবাস করেছেন৷ নবুওয়াত দাবী করার একদিন আগেও কি কখনো তোমরা তাঁর মুখে এই ধরনের কালাম এবং এই ধরনের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য সম্বলিত বাণী শুনেছিলে? যদি না শুনে থাকো এবং নিশ্চিতভাবেই শুনোনি তাহলে কোন ব্যক্তির ভাষা, চিন্তাধারা, তথ্যজ্ঞান এবং চিন্তা ও বর্ণনা ভংগীতে হঠাৎ রাতারাতি এ ধরনের পরিবর্তন সাধিত হতে পারে না, একথা কি তোমরা বুঝতে পারছো?
তিন: হাদীসের ভাষা ও বর্ণনাভংগীর সাথে কুরআনের ভাষা ও বর্ণনাভংগীর এত বেশী পার্থক্য লক্ষণীয় যে, ভাষা ও সাহিত্যের কোন উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও সমালোচক এ দু'টিকে এক ব্যক্তির কালাম বলে দাবী করতে পারেন না৷
(তাফহীমুল কুরআন। সুরা আল ইসরা 88 আয়াতের ব্যাখ্যা)

এবং কুরআনে আরও এসেছে:
"আর যে কিতাবটি আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি সেটি আমার কিনা - এ ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো তাহলে তার মতো একটি সূরা তৈরি করে আনো এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্টীকে ডেকে আনো–এক আল্লাহকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজটি করে দেখাও" (সুরা আল বাকারা 23)
"এবং এটি কোন কবির কাব্য নয়৷ তোমরা খুব কমই ঈমান পোষণ করে থাকো"৷ (সুরা আল হাক্কাহ 41)
কুরআন নাযিলের সময়কাল এবং তৎকালীন আরবের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, তামুদ্দুনিক অবস্থাকে সামনে রেখে উপরোক্ত আয়াতগুলোর কতক যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ:
১- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে পড়তে জানতেননা, এটা সর্বজনবিদিত। সুতরাং তিনি নিজে এটি রচনা করেছেন - এ প্রপাগান্ডার কোন যৌতিকতা নেই।
২। যেহেতু এর ভাষা আরবী তাই কোন অনারবের রচনাও এটি নয়। কোন অনারবের পক্ষে এধরণের উন্নত সাহিত্যিক মানের গ্রন্থ রচনা করা মোটেই সম্ভব নয়।  আরবি ভাষার সমস্ত সৃষ্টিশীলতা, দুনিয়ার সমস্ত মেধা এবং অলংকার ব্যবহার করেও কুরআনকে অনুকরন করা যায়না। আরবী শব্দ, অক্ষর এবং ব্যাকরনের সকল নিয়মাবলী প্রয়োগ করেও কুরআনের সাহিত্যিক ধারা ও বর্ণনাভংগী নকল করা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফরষ্টার ফিটজজেরাল্ড এ সত্য স্বীকার করে বলেছেন: "যদিও অনেকবারই চেষ্টা করা হয়েছে, তথাপিও কুরআনের ভাষার মত কোন কিছু রচনা করা সম্ভব হয়নি"।

৩- অহী অর্থাত এ কুরআন নাযিলের শুরু থেকে মাদিনা নগরে হিজরাতের পুর্বক্ষণ পর্যন্ত দীর্ঘ তের বছর প্রচন্ড বৈরিতার মুখে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাল কাটাতে হয়েছে। অবর্ণনীয় দু:খ, কষ্ট ও নির্যাতন তাকে সইতে হয়েছে। অবশেষে কোনক্রমেই অবস্থা অনুকুল না হওয়ায় আল্লাহ তাকে হিজরাতের নির্দেশনা প্রদান করেন। এহেন অবস্থায়, অর্থাত যেখানে জীবনই ছিল হুমকীর মুখে সেখানে এ কুরআনের মত এতবড় একখানি গ্রন্থ, যাতে রয়েছে বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলীর সমাহার, রয়েছে বহু বছরের প্রাচীন ইতিহাস, রয়েছে যুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিধানাবলী – কিভাবে একজন মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব হতে পারে?

৪- এ কুরআনে রয়েছে উনিশ সংখ্যার এক বিস্ময়কর মিল। উনিশ সংখ্যার এ হিসাব আমাদেরকে দেখাচ্ছে যে, যদি এভাবে গাণিতিক হিসাবে মিল রেখে কেউ কুরআনের মত কোন গ্রন্থ রচনা করতে চায় তাহলে তাকে 60,000,000, 000,000,000,000,000,000,000 বার প্রচেষ্টা চালাতে হবে অর্থাৎ কুরআন তাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এতবার পড়তে হবে শুধুমাত্র এর গাণিতিক বন্ধন ঠিক রাখার জন্য এবং এ চেষ্ঠার পর মাত্র একবারই সফলকাম হবে। সুতরাং একাজ সম্পন্ন করতে একজন মানুষকে কতবছর আয়ু লাভ করা প্রয়োজন তা অনুমেয়।
৫- এ কুরআনে রয়েছে এমনসব বৈজ্ঞানিক তথ্য যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়কালে আবিস্কার হয়নি। আবিস্কার হওয়া সম্ভব ছিলনা। নীচে এমন একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর গবেষণা তুলে ধরা হচ্ছে যিনি কুরআন নিয়ে গবেষণা করার সময়ে কোন ধর্মে বা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিলেননা :
"ইসলামের শুরু থেকেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্বে এ অভিযোগ উত্থাপন করে আসা হচ্ছে যে, তিনি বাইবেলের বর্ণনা হুবহু নকল করে কুরআন রচনা করেছিলেন। কিন্তু কুরআনের বাণী ও বাইবেলের বক্তব্যের মধ্যে ইতিপুর্বে বর্ণিত ব্যবধানই প্রমাণ করে যে এ অভিযোগ সম্পুর্ন অমুলক। বিশেষত বিশ্ব সৃস্টির ব্যাপারে বাইবেল ও কুরআনের বাণীর এ আলোচনার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মুহাম্মাদ সা: এর বিরুদ্বে এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন আর যদি এ অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেয়াও হয় তাহলে যে প্রশ্নটির উত্তর না দিয়ে এক পা-ও অগ্রসর হবার জো নেই তাহলো চৌদ্দশত বছর আগে আবির্ভুত হয়ে কি করে একজন মানুষের পক্ষে বাইবেলের বাণীর ভুল ক্রটি এমন যথাযথভাবে সংশোধন করা সম্ভব? কিভাবে তার পক্ষে সম্পুর্ণ নিজের জ্ঞানবুদ্ধি মোতাবেক বাইবেল থেকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ত্রুটিপুর্ণ বাণীসমুহ বাদ দিয়ে এমনসব বাণী ও বক্তব্য রচনা করে কুরআনে সন্নিবেশিত করা সম্ভব, যা এতদিন এতকাল পরে কেবলমাত্র আধুনিক বিজ্ঞানের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার দ্বারা সত্য বলে প্রমাণ হতে পারছে। ...... সবচেয়ে বড় কথা এসব বিষয়ের আলোচনায় বাইবেলের ভুলের পরিমাণ যেখানে পর্বতপ্রমাণ সেখানে কুরআনের কোনো আয়াতের একটা মাত্র ভুলও আমি খুজে পাইনি। বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পদে পদেই আমাকে থেমে যেতে হয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকেই আমি প্রশ্ন না করে পারিনি যে সত্যি সত্যিই কোনো মানুষ যদি এ গ্রস্থ রচনা করে থাকেন, তাহলে সপ্তম শতাব্দীতে বসে কিভাবে তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের এতসব বক্তব্য এত সঠিকভাবে রচনা করতে পারলেন? - ড: মরিস বুকাইলী, বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা 162-165 (অনুবাদ: আখতারুল আলম)
কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রির এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যান টি.ভি.এন পারসাদ বলেছেন,

“মুহাম্মাদ একজন সাধারণ লোক ছিলেন, তিনি পড়তে জানতেন না, লিখতে পারতেন না, আসলে তিনি নিরক্ষর ছিলেন…আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তা হল যে চৌদ্দশত বছর পূর্বে কিছু নিরক্ষর লোক গভীর কিছু উচ্চারণ করেছিল ও বক্তব্য দিয়েছিল যা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি না এটা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা কিভাবে হতে পারে, এতে অসংখ্য অত্যন্ত সঠিক ব্যাপার রয়েছে… আমার মনে কোন সংশয় নেই এই সত্য স্বীকার করতে যে কোন ঐশী প্রেরণা বা ওহী তাঁকে এই বক্তব্যগুলি দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আমরা যেন ড. মরিস বুকাইলির কথাগুলি ভুলে না যাই যে এই সত্যগুলো “মানবীয়ভাবে ব্যাখ্যার ব্যাপারে একটি চ্যালেঞ্জ।”

চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.4 (5টি রেটিং)

অসাধারণ ধারাবাহিক। জাযাকাল্লাহ্ খায়ের।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

ধন্যবাদ।
আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করুন।

লেখাটি ভালো লাগলো।

ধন্যবাদ।
আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করুন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.4 (5টি রেটিং)