বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব চৌদ্দ

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব চৌদ্দ

ধণাঢ্যতা, প্রাকৃতিক সম্পদের আধিক্য ইত্যাদিও পরীক্ষার বস্তু:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমস্ত মানুষকে সমান ধন সম্পদ প্রদান করেননি৷ দেহ, জ্ঞান, আকৃতি, মেধা, চেহারা, স্বাস্থ্য, গায়ের রং, কন্ঠ ইত্যাদি প্রদানে যেমন পার্থক্য করেছেন তদ্রুপ পার্থক্য করেছেন বস্তগত উপায় উপাদান তথা সম্পদ দানের ক্ষেত্রেও।

কাউকে উন্নত জীবনমান, তূলনামুলকভাবে ভাল উপায় উপকরণ এবং ধনসম্পদের আধিক্য প্রদান করা হয়েছে, আবার কাউকে করা হয়েছে এর বিপরীত। কাউকে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় পয়দা করা হয়েছে আর কাউকে খারাপ অবস্থায়৷ এ তারতম্য ও পার্থক্যের ভিত্তিতেই মানুষের সমাজ-সংস্কৃতি বৈচিত্রমণ্ডিত হয়েছে৷ যা একটি ন্যায়ানুগ পরীক্ষপর্বের জন্য ছিল অপরিহার্য। এ তারতম্য ও ভেদাভেদ সৃষ্টি করার পর ইনসানকে লক্ষ্য করে বার বার বলা হয়েছে যে, দেখো – এসকল উপকরণ ও বিশিষ্টতা কিন্তু তোমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে পরীক্ষার নিমিত্ত। তোমরা কিভাবে কোন পথে এসবের ভোগ ব্যবহার কর তা আমি দেখতে চাই, এই ধন সম্পদের সঠিক ভোগ ব্যবহারের উপরই নির্ভর করছে তোমাদের পারলৌকিক মুক্তি ও সাফল্য।

ভাল এবং মন্দ এ উভয়টি দিয়ে পরীক্ষার বিষয়টি কুরআনে এসেছে এভাবে :

প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে৷ আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি, শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। (সুরা আল আম্বীয়া 35)

"অর্থাৎ দুঃখ-আনন্দ, দারিদ্র-ধনাঢ্যতা, জয়-পরাজয়, শক্তিমত্তা-দুর্বলতা, সুস্থতা-রুগ্নতা ইত্যাদি সকল অবস্থায় তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ দেখা হচ্ছে, ভালো অবস্থায় তোমরা অহংকারী, জালেম, আল্লাহ বিস্মৃত ও প্রবৃত্তির দাস হয়ে যাও কিনা৷ খারাপ অবস্থায় হিম্মত ও সাহস কমে যাওয়ায় নিম্নমানের ও অবমাননাকর পদ্ধতি এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বসো কি না৷ কাজেই কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ রকমারি অবস্থা বুঝার ব্যাপারে ভুল করা উচিত নয়৷ সে যে অবস্থারই সম্মুখীন হোক, তাকে অবশ্যই পরীক্ষার এ দিকটি সামনে রাখতে হবে এবং সাফল্যের সাথে একে অতিক্রম করতে হবে৷ কেবলমাত্র একজন বোকা ও সংকীর্ণমনা লোকই ভাল অবস্থায় ফেরাউনে পরিণত হয় এবং খারাপ অবস্থা দেখা দিলে মাটিতে নাক-খত দিতে থাকে৷ (তাফহীমুল কুরআন। সুরা আল আম্বিয়া 35 আয়াতের ব্যাখ্যা)

 

 

যেমন কোথাও বলা হয়েছে:

"তাদের সম্পদে অধিকার রয়েছে অভাবী, প্রার্থী ও বঞ্চিতদের"৷ (সুরা আযযারিয়াত 19)

"সেখানে তারা অপরাধীদের জিজ্ঞসা করতে থাকবে (৪১) কিসে তোমাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করলো৷  (৪২) তারা বলবে: আমরা নামায আদায় করতাম না (৪৩) অভাবীদের খাবার দিতাম না"৷ (৪৪) – সুরা আল মুদ্দাচ্ছির

সুরা আল বাকারার 177 আয়াতে এসেছে:

"তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফিরাবার মধ্যে কোন পুণ্য নেই৷  বরং পুণ্যকাজ হচ্ছে এই যে, তোমরা আল্লাহ, কিয়ামাত, মালাইকা, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদেরকে মনে প্রাণে মেনে নেবে এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থী ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে ৷ আর নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দান করবে ............ (সুরা আল বাকারা 177)

সুরা আত তাওবার 35 আয়াতে এসেছে:

"হে ঈমানদারগণ! এ আহলু কিতাবদের অধিকাংশ আলেম ও দরবেশের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায় পদ্ধতিতে খায়, এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে৷ যারা সোনা রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রনাময় আযাবের সুখবর দাও" (34) একদিন আসবে যখন এ সোনা ও রূপাকে জাহান্নামের আগুণে উত্তপ্ত করা হবে, অতপর তারই সাহায্যে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে দাগ দেয়া হবে- এ সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করেছিলে৷ নাও, এখন তোমাদের জমা করা সম্পদের স্বাদ গ্রহণ কর"

কোথাওবা তার নাবী (সা) কে সাবধান করা হয়েছে এভাবে:

"আর চোখ তুলেও তাকাবেনা দুনিয়াবী জীবনের শান-শওকতের দিকে, যা আমি এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের লোকদেরকে দিয়ে রেখেছি৷ এসব তো আমি এদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করার জন্য দিয়েছি এবং তোমার রবের দেয়া হালাল রিযিকই উত্তম ও অধিকতর স্থায়ী"৷ (সুরা ত্বহা 131)

সুরা আল হিজর 29 আয়াতে এসেছে:

"(হে নবী)! তোমার স্ত্রীদেরকে বলো, যদি তোমরা দুনিয়া এবং তার ভূষণ (অর্থাৎ ধন সম্পদের প্রাচুর্যতা) চাও, তাহলে এসো আমি তোমাদেরকে কিছু দিয়ে ভালোভাবে বিদায় করে দিই৷ (28) আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখেরাতের প্রত্যাশী হও, তাহলে জেনে রাখো তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ মহা প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷

হাদিসু কুদসীতে এসেছে:

"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন: কিয়ামাতের দিন আল্লাহ বলবেন: . . ওহে আদাম সন্তান, আমিতো তোমার নিকট খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি, বান্দা বলবে: আপনি সারা বিশ্বের রব, আমরা আপনাকে কিভাবে খাবার খাওয়াব, এটি কিভাবে সম্ভব? আল্লাহ বলবেন: তোমার নিকট কি অমুক খাবার চায়নি? তুমি যদি তখন তাকে খাবার দিতে তাহলে

আজ তা আমার নিকট পেতে ...... (মুসলিম)।

আবার কোথাও বলা হয়েছে:

" খেজুরের অর্ধেক দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাচ"। (বুখারী, মুসলিম)

আবার কোথাও বলা হয়েছে যে, কিয়ামাতের দিন জাহান্নাম নির্ধারিত হয়েছে এমন লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলবেন: "আমি আমার দয়া ও করুণা আজ তোমাদের জন্য ঐরুপ নিষিদ্ধ করে দিলাম যেরুপ দুনিয়াতে তোমাদের দয়া ও করুণা নি:স্ব অভাবীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। (বুখারী, মুসলিম)

আবার কোথাও এসেছে:

"আমি এবং ইয়াতীমের ভরণ পোষনকারী জান্নাতে এভাবে থাকবো – একথা বলে রাসুল (সা) দুই হাতের অংগুলী একত্র করে দেখালেন"। (বুখারী)

আবার কোখাও বলা হয়েছে:

"মুসলিম মিল্লাতের সবচাইতে উত্তম ঘর হচ্ছে সেটি, যেখানে ইয়াতীমকে উত্তমভাবে লালনপালন করা হয়, আর সর্বনিকৃষ্ট ঘর হচ্ছে সেটি যেখানে ইয়াতীমের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়"। (ইবনু মাজাহ)

চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)