হাসান আল বাসরীর পত্রাবলী থেকে

হাসান আল বাসরীর পত্রাবলী থেকে....

হাসান আল বাসরীর সাথে ইসলামের পঞ্চম খলীফা উমার ইবনু আবদিল আযিযের ছিল গভীর ভ্রাতৃত্ব ও অন্তরংগতা। ইতিহাস ও সীরাতের  গ্রন্থাবলীতে তাদের সুসম্পর্কের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। উমার ইবনু আবদিল আযিয (রহ:) খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহনের পর ন্যায়পরায়ন শাসকের গুনাবলী কি তা জানতে চেয়ে হাসান আল বাসরীকে (রহ) একটি পত্র লিখেন। জওয়াবে হাসান আল বাসরী (রহ) লিখেন:
“হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ তায়ালা ন্যায়পরায়ন শাসককে প্রত্যেক ঝোক প্রবন মানুষের জন্য অবলম্বন, প্রত্যেক অত্যাচারীর জন্য সঠিক পথ, প্রত্যেক বিনষ্ট ও বিকৃত মানুষের জন্য সংশোধন, প্রত্যেক দুবলের জন্য শক্তি, প্রত্যেক অত্যাচারীতের জন্য সুবিচার এবং প্রত্যেক দু:খিতজনের আশ্রয়স্থল করে দিয়েছেন। হে আমীরুল মুমিনীন ন্যায়পরায়ন শাসক হলেন সেই রাখালের মতো, যে তার উটের প্রতি দয়া ও মমতাশীল, উটগুলোকে উৎকৃষ্ট চারণভুমিতে চড়ায়, বিপদজনক চারণভুমি থেকে রক্ষা করে, হিংস্র জীব জন্তু থেকে আগলে রাখে এবং ঠান্ডা গরমের কষ্ট থেকে রক্ষা করে। হে আমীরুল মুমিনীন, ন্যায়পরায়ন শাসক হলেন সেই স্নেহপ্রবণ পিতার মতো যিনি তার সন্তানদেরকে শৈশবকালে আদর স্নেহ দিয়ে লালন পালন করেন, বড় হলে শিক্ষা দেন, জীবনকালে তাদের জন্য আয় করেন এবং মরনের পরেও তাদের জন্য সঞ্চয় করে রেখে যান। হে আমীরুল মুমিনীন, ন্যায়পরায়ন শাসক হলেন স্নেহময়ী সেই পবিত্র মায়ের মতো যিনি তার সন্তানকে পেটে ধারন ও দুধ পান করানো কষ্ট স্বীকার করেন, শৈশবে লালন পালন করেন, সন্তান জেগে থাকলে তিনিও জেগে রাত কাটান, সন্তান ঘুমালে তিনিও ঘুমান, সন্তানকে কখনো দুধ পান করান, কখনো দুধ পান থেকে বিরত রাখেন, সন্তানের সুস্থতায় উৎফুল্ল হন এবং অসুস্থতায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন"।
সুত্র: মাসিক পৃথিবী, মে ২০০৬ (ড: মুহা: আবদুল মাবুদ)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

সোবহান আল্লাহ্!
 
কি অসাধারণ নসীহত! আমাদের শাসকগণ যদি একবারও দেখতে পেতেন এসব নসীহতগুলো...!

-

"প্রচার কর আমার পক্ষ হতে, যদি একটি কথাও (জানা) থাকে।" -আল হাদীস

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)