কুরআন ও হাদিসে কেনো নামাজকে এতো গুরুত্ববহ করা হলো

ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ। নামাজ ইমানের এক অনিবায অভিব্যক্তি, ইমানের প্রথম প্রকাশ। এটি কখনো কল্পনা করা যায় না যে, কারোর মধ্যে ইমান আছে অথচ আল্লাহর সমীপে রুকু সাজদা করার জন্য ছটফটানি নেই। ইমান অন্তরের এক রুপান্তরের নাম। নামাজের মাধ্যমে এ রুপান্তরের প্রকাশ ঘটে। অতএব যেখানে ইমান থাকবে সেখানে নামাজ অবশ্যই হবে। কুরআন কারিমে ইমানের কথা বলার পর অত:পর সাথে সাথেই নামাজের কথা বলা হয়েছে।

নামাজ খারাপ ও মুনকার কাজের প্রতিবন্ধক। আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চিতভাবেই নামাজ সবধরণের অশ্লীলতা, খারাবী ও ইমানবিরোধী কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে” (সুরা আল আনকাবুত ৪৫)
নামাযের হাজারো উপকারী ফলাফলের মধ্যে এটি একটি। অর্থাৎ নামাজ কেবল আখিরাতের পাথেয় নয়, দুনিয়ার জীবনেও এটি একটি ঔষধ বিশেষ। আর তা হলো: সবধরনের অশ্লীলতা ও নোংরামী এবং ইমানবিরোধী কথা, কাজ ও সমর্থন থেকে এটি মানুষকে ফিরিয়ে রাখে।

মানুষের অন্তরে হালাল হারামের বোধোদয়ও জাগ্রত করে দেয় নামাজ। একবার ইনভেষ্টিগেশন সংক্রান্ত একটি কাজে আমাকে একটি চাউলের গোডাউনে যেতে হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সেখানে আমি অবস্থান করি। আমি এবং আমার সাথী জোহর, আসর এবং মাগরিবের নামাজ মাসজিদে আদায় করতে গেলাম কিন্তু গোডাউন ম্যানেজারকে অনেক চেষ্ঠা করেও নামাজে নিতে পারলামনা। সে বললো: বাইতুল মোকাররম মাসজিদের প্রবেশদ্বারে কি লিখা আছে দেখেননি? আমি বললাম, হ্যা দেখেছি। সেখানে লিখা আছে: “হালাল রুজী ইবাদাত কবুলের শর্ত”। এবার সে বললো: আমি এজন্যেই নামাজে যাইনা। প্রতিদিন হারাম খাই, নামাজ পড়ে কি হবে? আমি তার কথার ব্যাখ্যা চাইলে সে বললো: আমি বাজার থেকে কখনো চাউল কিনিনা, গোডাউনের চাউল খাই, এই চাউলের মালিকতো আমি না। তবুও খাই।   

নামাজ বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা যখন সাজদায় থাকে তখন সে তার প্রভুর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়” (মুসলিম)।
আল্লাহ বলেন: “সাজদা করো এবং নিকটবর্তী হও” (সুরা আল আলাক ১৯)

যে বৃক্ষে আদ্রতা ও সজীবতা পৌছেনা তা শুস্ক হয়ে যায়, ফুল ফল দেয়াও বন্ধ করে দেয়। নামাজ একজন বান্দার অন্তরে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইমানের সজীবতা পৌছায়। আল্লাহ বলেন: “আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম কর” (সুরা ত্বহা ১৪)।
হাদিসে এসেছে: “অবশ্য অবশ্যই তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাড়ায় তখন সে তার প্রভুর সাথে কথা বলে” (বুখারী)।

রাসুলুল্লাহ (সা:) থেকে আরও বর্ণিত: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেবে তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই” (মুসনাদ আহমাদ)।
তিনি আরও বলেছেন: “বস্তুত: নামাজই একজন মানুষের শির্ক এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে” (মুসলিম)। (অর্থাৎ নামাজই একজন মুসলিম ও কাফিরের মাঝে  পার্থক্য সুচিত করে)

কিয়ামাতের দিন মালাইকাগন যখন জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞেস করবে: “তোমরা কি কারনে জাহান্নামে এলে”
তারা জওয়াব দেবে:
“আমরা নামাজী ছিলাম না, অভাবী (ক্ষুধার্ত) মানুষদের খাবার দিতাম না, সত্যের বিরুদ্ধে যারা অপবাদ ও মিথ্যা রটনা করতো আমরা তাদের সাথে ছিলাম, আমরা আখিরাতকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম, এমনি করতে করতে চুড়ান্ত সত্য (মৃত্যু) আমাদের কাছে হাযির হয়ে গেলো” (সুরা আল মুদ্দাসসির  ৪২-৪৭)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)