অবাক ব্যাপার

এটি খুবই অবাক ব্যাপার যে, কেউ একজন কুরআন কারিমের সত্যতার স্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে অথচ সে এ কিতাবের প্রথম আহবান নামাজীদের সাথে তাকে দেখা যাবেনা।

অবাক ব্যাপার বলছি এজন্যে যে, কুরআন কারিমে যেখানেই ইমানের কথা এসেছে সেখানেই নামাজের কথা বলেছেন আল্লাহ। এমনও বলা হয়েছে যে, এ কিতাব তাদেরকেই হেদায়াতের পথ দেখাবে যারা গায়েবের উপর বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে (আল বাকারা ৩)।

অবাক হবার কথা বলছি এজন্যে যে, আমাদের দেশের মাসজিদগুলোতে যখন আযান ধ্বনিত হয় তখন মনে হয় এ আযান এসকল লোকদের উদ্দেশ্যে নয়, এ আহবান যেন অন্য কোন প্রজাতির নিমিত্ত। দোকানী তেমনি বেচাকেনা করছে, পথচারী, টিভি, সিনেমা, হৈ হল্লোড় ইত্যাদি ঠিক তেমনই চলছে, যেমনটা আযানের পুবমুহুর্তে ছিল। কোনো পরিবর্তন কোথাও নেই। অর্থাৎ এ মানুষগুলো যেন জানেই না যে, এ আযান কেন, কার উদ্দেশ্যে ধ্বনিত হচ্ছে।

অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার আসহাবদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে যে ব্যক্তি নামাজের জামায়াতে উপস্থিত না হতো তাকে মুসলিমই গন্য করা হতোনা। 

নামাজে লাভ কার:

নামাজতো ছিল বান্দারই কল্যানের নিমিত্ত। শাইতানের কুহেলিকা আর দুনিয়ার অন্ধকার চোরাপথ থেকে বান্দাকে বাচানোর লক্ষ্য নিয়েইতো আল্লাহ তায়ালা নামাজ ফরজ করেছিলেন। আল্লাহ তার বান্দাদের নামাজ দিয়ে কি করবেন? তিনি কি তার সৃষ্টজীবের নামাজের মুখাপেক্ষী?

নীচের হাদিসটি দেখুন:

রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তার সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন:

“তোমাদের কারোর বাড়ীর পাশে যদি নদী থাকে এবং সে যদি ঐ নদীতে দৈনিক পাচবার গোসল করে তাহলে তার শরীরে কি কোন ময়লা থাকতে পারে? সাহাবীগন বললেন:  কোন ময়লাই তার শরীরে থাকার কথা নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবার বললেন: ঠিক তদ্রুপ হচ্ছে দৈনিক পাচ ওয়াক্ত নামাজ, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার বান্দাদের গুনাহগুলো মোচন করে থাকেন” । (বুখারী ও মুসলিম)

“পাচ ওয়াক্তের নামাজ এবং এক জুম’আ থেকে আর এক জুম’আ কাফফারা স্বরুপ (অর্থাৎ দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ে কৃত সকল ছগীরা গুনাহগুলোর)। যদি না বান্দা কোন কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়” (মুসলিম)।

আর একটি হাদিসে বলা হয়েছে:

“ যে ব্যক্তি নামাজকে সংরক্ষণ করবে, কিয়ামাতের দিন নামাজ তার জন্য আলো, প্রমাণ ও মুক্তির সনদে পরিণত হবে। আর যে নামাজকে সংরক্ষণ করবেনা তার না থাকবে কোন আলো, না প্রমাণ আর না মুক্তির সনদ। কিয়ামাতের দিন সে কারুন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবনু খালাফের সাথে থাকবে” (মুসনাদ আহমাদ, তাবারানী ও ইবনু হিব্বান)

নামাজ আপনাকে খারাপ কাজে পতিত হওয়া থেকেও রক্ষা করে। কোন মানুষ যদি এ নীতিকথা শোনাতো তাহলে না হয় আবশ্যিক/ঐচ্ছিকতার কোন প্রশ্ন করা যেতো কিন্তু এ ঘোষণা স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টার:

“নি:সন্দেহে নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে” (আল আনকাবুত ৪৫)।

নামাজ পরিত্যাগকারীর কুফল:

দুনিয়াতে: 

· শয়তান তার চিন্তা চেতনাকে সদা আচ্ছন্ন করে রাখবে অর্থাৎ মন্দকে ভাল ও ভালকে সে মন্দ জ্ঞান করবে। ফলশ্রুতিতে সে মনে করতে থাকবে : কুরআন ও হাদিসের কথাই দুনিয়ার তাবৎ সমস্যার মুল।

· আল্লাহর সন্তোষ্টি তথা জান্নাতের পথ থেকে সে দুরে ছিটকে পড়বে এবং সে কুফর এর পথে ধাবিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইসলাম ও কুফর এর মধ্যে নামাজই হচ্ছে পার্থক্যকারী (মুসলিম)।

· দুনিয়াবী স্বার্থ ছাড়া সে কোন ভাল কাজ করবেনা। অর্থাৎ তার ভাল কাজের  পশ্চাতে প্রচ্ছন্ন থাকবে রিয়া কিংবা সম্পদ, যশ বা নেতৃত্ব অর্জন।   

আখিরাতে:

কিয়ামাতের দিন জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে: “কি কারনে তোমরা এরুপ আযাবে নিক্ষিপ্ত হলে? তারা বলবে আমরা নামাজীদের দলে শামিল ছিলামনা আর অভাবীদেরকে খাবার দিতামনা” (আল মুদ্দাসসির ৪২-৪৪)।

এবং আরো অনেক কিছু যা এখানে এ ক্ষুদ্র পরিসরে বর্ননা করা অসম্ভব।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)