যুক্তির নিরিখে কুরআন - এক

আপনি যদি একটি যুক্তি নিরপেক্ষ মন নিয়ে আল কুরআনুল কারিম অধ্যয়ন করেন তাহলে এটি স্বীকার করবেন যে, কোনো মানুষের পক্ষে এধরনের গ্রন্থ রচনা সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়, তারই কিছু arguments নীচে তুলে ধরা হচ্ছে:

১)মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে পড়তে জানতেননা। যদি তিনি লেখাপড়া জেনে থাকতেন, লোকেরা তাকে বই পড়তে, অধ্যয়ন ও গবেষণা করতে দেখতো তাহলে অবশ্যই অবিশ্বাসীদের জন্য এধরনের সন্দেহ পোষণ করার কোন ভিত্তি থাকতো যে, এসব জ্ঞান অহীর মাধ্যমে নয় বরং জাগতিক মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। (সুরা আল আনকাবুত ৪৮) 

২) কুরআনের মতো এমন একটি গ্রন্থ রচনার জন্য শুধুমাত্র লিখাপড়া নয়, এর লেখককে একই সাথে কাব্যিক, সাহিত্যিক, ইতিহাসবেত্তা, জোতিবিদ, আইনবিদ ও চিকিৎসাবিদ হওয়া জরুরী। কারন, এপযন্ত যারাই কুরআনের মতো কিছু একটা লিখার প্রয়াস চালিয়েছেন তারা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, আরবী ভাষার সমস্ত সৃষ্টিশীলতা, মেধা ও কাব্যজ্ঞান ব্যবহার করেও কুরআনের অনুরুপ কিছু রচনা করা যায়না।   

৩) যদি একথা বলা হয় যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য কাউকে দিয়ে এ গ্রন্থ লিখিয়েছেন, তাহলে সেক্ষেত্রে এটা প্রমাণ করা জরুরী হয়ে পড়ে যে, কে সেই ব্যক্তি, কোথায়, কোন শহরে তিনি বসবাস করতেন যিনি একই সাথে চিকিৎসাবিজ্ঞানী, জোতিবিদ, ভবিষ্যতদ্রষ্টা, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক ছিলেন।    

৪) কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ, যাতে সমগ্র বিশ্ববাসীর প্রতি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তাহলে কুরআনের মতো এমন একটি গ্রন্থ কিংবা অন্তত:পক্ষে একটি সুরা তোমরা তৈরী করে নিয়ে আস। (সুরা আল বাকারা ২৩)

দুনিয়ার ইতিহাসে কোন সুস্থ জ্ঞান বুদ্ধিসম্পন্ন লেখক বা বিজ্ঞানী এমন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বলে কোথাও উল্লেখ নেই। এটা স্বাভাবিকও নয়। কারন এমনটি করলে যে মানুষ পাগল ঠাউরাবে, এটা সবাই জানে।

৫) শত্রু মিত্র সকলেই অবগত যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের পুবেই তার পিতা মারা যান, অত:পর ছয় বছর বয়সে মা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সবগুলো প্রত্রসন্তান শিশুবয়সে মারা যান। মাক্কার ১৩টি বছর তাকে প্রচন্ড ঝড়-ঝাপটা, দু:খ বেদনা ও প্রতিকুলতার মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তায়েফে তাকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শি’আব আবী তালিবে তিন বছর পযন্ত তিনি তার সংগী সাথীসহ প্রায় অন্তরীন ছিলেন, এসময় জীবন বাচানোর জন্য তারা গাছের পাতাও ভক্ষণ করেছেন। উহুদ যুদ্ধে কাফিরদের আঘাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিরস্ত্রানের কিয়দংশ চামড়া ভেদ করে তার মাথায় ঢুকে যায় অথচ এসবের কোনো একটি কাহিনীও কুরআনে নেই। শুধু তা-ই নয়, তার জীবন চলার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিগন যেমন, খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আবু বাকর, উমার এবং উহুদ যুদ্ধে যেসমস্ত সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিজেরা শাহাদাত বরণ করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে হেফাজত করেছেন তাদের বদান্যতা, ত্যাগ ও রক্তদানের কাহিনী দুরে থাক নাম পযন্ত কুরআনে নেই অথচ অজ্ঞাত অনেক ব্যক্তির নাম (কুরআন নাযিলের আগে যা মানুষ জানতোনা) ও ইতিহাস কুরআনে এসেছে। কুরআন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিজের লিখা হলে স্বাভাবিকভাবেই তাতে তার জীবনের কিছু স্মৃতি, কিছু হ্রদয়বিদারক দৃশ্য ও নিকটতম ব্যক্তিদের নাম স্থান পাবার কথা। 

                     (চলবে)  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)