অত্যাচারি ও তাদের দোসরদের জন্য মহান স্রষ্টার অঙ্গিকার প্রযোজ্য নয়-

কাকে মহান আল্লাহতায়ালা শহীদ হিসেবে কবুল করবেন, তা তিনিই ভাল জানেন। মুসলিম মাত্রই শহীদ হবার
জন্য প্রস্তুত থাকা চাই। একজন শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে নুতন করে বলার কিছু নেই। যার মর্যাদা যত অধিক, সেই কাজটিও ততটাই কঠিন এবং তাতে সফল হবার জন্য ততটাই চুলচেরা যোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হয় বৈকি। তবে রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থের মোহে অন্যায় ও জুলুমকে প্রশ্রয় দিয়ে জন্নাতুল ফেরদৌস প্রাপ্তির দিবাস্বপ্ন দেখাটা বোকামি নয় কি?

ভুল-ত্রুটি নিয়েই তো মানুষ। ভুল হবার পর তা স্বীকার করলে ও ক্ষমা চাইলে তবেই তো ক্ষমা পাবার প্রশ্ন আসে। আর এই ক্ষমাপ্রাপ্তরা মহান আল্লাহতায়ালার বিধান মতে ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে জীবন উৎসর্গ করলে শহীদের দরজা পাবার যোগ্যতা লাভ করে থাকেন। এমনকি একজন ইমানদার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মনেপ্রাণে যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা নিয়ে পথের মাঝে বা রোগাক্রান্ত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে মৃত্যুবরণ করলেও শহীদের দরজা পাবার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। আবার লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধের ময়দানে বীরদর্পে যুদ্ধ করে মরণ হলেও শহীদ হওয়া যায়না।

মানবতার বিরুদ্ধে চরম অন্যায় হতে দেখেও নানা অজুহাতে নিশ্চুপ থাকাটা কি একজন সাচ্চা মুসলিমের জন্য শোভা পায়? বিশেষ করে একজন নেতা, যার দিকনির্দেশনার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে, আপন জন্মভূমি ও জনগণের বিপদে তাদের পাশে না থেকে কোন মানবদরদি নেতার পক্ষে হাত গুটিয়ে মুখে রুমাল দিয়ে চুপচাপ বসে থাকাটা কি ঠিক? অন্যায়ের সাথে আতাত থাক বা না থাক, এতবড় জুলুমকে মুখবুজে প্রশ্রয় দিয়ার পরও কি বিছানায় শুয়ে শুয়ে শহীদের স্বপ্নে বিভোর থাকাটা পাগলামি নয়? ব্যক্তিগত জীবনে একজন সাধারণ মুসলিম যতই শরীয়তী পথের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হোক না কেন। মনের খবর মহান স্রষ্টাই ভাল জানেন। বিশেষ করে একজন নেতা যদি মারাত্মক ভুল করে বসেন, তাহলে যতদ্রুত সম্ভব প্রকাশ্যে তা স্বীকার করার মত সৎসাহস থাকা চাই। তা না হলে জনসাধারনের কাছে ক্রমান্বয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা কমবে বৈ বাড়বে না।

আল-কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন-
সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)
(০২:১২৪) অর্থ- যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার অত্যাচারী/ উৎপীড়ক/ সীমালঙ্ঘনকাররি/ পাপিষ্ঠদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(১১:১১৩) অর্থ- আর অত্যাচারী/ উৎপীড়ক /সীমালঙ্ঘনকাররি/ পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকেও পড় না- পড়লে অগ্নি তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন সাহায্যকারী নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপর মুসলমান সৈন্যদের এবং তাদের সহযোগীদের দ্বারাই যে অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল তা তো সত্য এবং অনেক প্রমান আছে। আর এই অত্যাচারে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল সেই শাসকেরা মুসলিমই ছিল। কিন্তু মুসলিম হওয়া সত্বেও তারা মহান স্রষ্টার সাহায্যের অঙ্গীকার থেকে বঞ্চিত হলো। (০২:১২৪) কারন আল্লাহতায়ালা নিজেই তো ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর অঙ্গীকার অত্যাচারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমন কি সেই অত্যাচারি গোষ্ঠি যদি মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত মানবজাতির নেতা ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর অর্থাৎ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত হয়, তথাপি তারাও এ অঙ্গীকার থেকে বঞ্চিত হবে।

তখন ইসলামের নামধারী দলগুলো, বিশেষ কোরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা স্বক্রিয় ছিলেন, ভিন্ন মতাদর্শের কারণে হয়ত রাজনৈতিক ময়দানে তারা সরব ছিলেন এবং অনেক প্রমাণ আছে। কিন্তু প্রকৃত ইসলামের অনুসারী হলে তো পরবর্তীতে সংঘটিত এই অন্যায় ও অত্যাচার মুখ বুজে মেনে নেয়ার কথা না। কিসের স্বার্থে তারা কোন প্রতিবাদ পর্যন্ত করলো না? প্রতিবাদের ময়দানে সরব না হয়ে বরং নীরবে সম্মতি জানালো!! অন্যায়কে অন্যায় বলার মত সিদ্ধান্ত নিতেও তারা গড়িমসি করল! আওয়ামীলিগের সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকাতে পারে। কিন্তু সেই ক্রান্তিকালে পৃথক প্লাটফর্মে থেকেও তো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ও ন্যায়ের পথ অবলম্বন করা যেত। তখন পাকিস্থানের রাজনীতিকরা কি আল-কোরআন ও সুন্নাহর আইনকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ১০০% বাস্তবায়ন করার পক্ষপাতি ছিল? না, তারা শুধু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য মুসলমানদের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করেছে এবং এখনও করছে। মহান আল্লাহতায়ালার নিরীহ বান্দাদের উপর চোখের সামনে এত বড় একটা অন্যায় ও অনাচার হতে দেখেও আল্লাহর দলের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ঘোষণাকৃত ইসলামের নামধারী দলের নেতারা এর প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। বরং তাদের কথা ও কর্মের দ্বারা অত্যাচারি শাসকচক্রের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আভাসই মেলে। (১১:১১৩) হয়ত এ কারনেই আল্লাহতায়ালা তাঁর সাহায্যের হাত সরিয়ে নিয়েছেন। তাদেরকে এখনও খেসারত দিতে হচ্ছে এবং আরও কতদিন দিতে হবে তা আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের এ ভুল স্বীকার কোরে মহান আল্লাহতায়ালা ও জনগনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

যত তথ্যাবলী পেয়েছি, তাতে একাত্তরে দেশ বিভক্তি রোধের জন্য পক্ষাবলম্বন করা হয়েছে। পশ্চিমা শাসকদের ক্ষমতা বহাল রাখার জন্য নয়।

ইসলাম পন্থী দলগুলোর দাবী তারা দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তর মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের (পূর্ব ও পশ্চিম) ভাঙ্গন চাচ্ছিলো না। এবং এ ভাঙ্গনকে ভারতের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছে।

আপনি বলেছেন- //যত তথ্যাবলী পেয়েছি, তাতে একাত্তরে দেশ বিভক্তি রোধের জন্য পক্ষাবলম্বন করা হয়েছে। পশ্চিমা শাসকদের ক্ষমতা বহাল রাখার জন্য নয়।//

পশ্চিমা শাসক বলতে কি আপনি তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের বোঝাচ্ছেন? 

আপনি বলেছেন- //ইসলাম পন্থী দলগুলোর দাবী তারা দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তর মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের (পূর্ব ও পশ্চিম) ভাঙ্গন চাচ্ছিল না। এবং এ ভাঙ্গনকে ভারতের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছে।//

ভাঙ্গন চাচ্ছিল না- ভাল কথা। ধরে নিলাম যে, প্রথম অবস্থায় দেশ বিভক্তি রোধের জন্য পক্ষাবলম্বন করা হয়েছিল। কিন্তু তাই বলে কি তাদের অন্তর পক্ষপাতিত্বের দোষে একেবারে অন্ধই হয়ে গিয়েছিল। মানবতা ভুলণ্ঠিত হতে দেখেও তৎকালীন পাকিস্তানী জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে একটি কথাও না বলাটা সুবিধাবাদীদের লক্ষণ নয় কি? 

সে সময় জামাতের আমীর বাংলার অত্যাচারিত নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুদের পক্ষে কোন বক্তব্য রেখেছিলেন বলে কি আপনার কাছে কোন প্রমাণ আছে? যদি থাকে তবে অনুগ্রহকরে আমাকে জানাবেন। প্রকৃত ইসলামের অনুসারী হলে তো সেই ক্রান্তিকালে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ ত্যাগ কোরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু তা কি তারা করেছিলেন? জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে কি তারা একটি বার হুঙ্কার দিয়েছিলেন? 

আল-কোরআনের শিক্ষা ও রাসূল (সাঃ) এর  আদর্শের প্রকৃত অনুসারী হলে কোন ইসলাম পন্থী দলের নেতা ও কর্মীদের পক্ষে দেশ বিভক্তি রোধের সস্তা সেন্টিমেন্টের মোহে কি চুপ কোরে বসে থাকা সম্ভব হত? শুধু কি তাই, সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অনেকেই স্ই সময় তাদের নেতাদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে অত্যাচারিদের পক্ষেই কাজ করেছিল। 

হায় ইসলামী দলের বিভ্রান্ত নেতারা! ভাবতেও অবাক লাগে!! বিশেষ কোরে জামাতি ইসলামের কোন নেতা বা সক্রিয় কর্মীদের মধ্য থেকে কয়েকজনও যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ কোরে নির্যাতিত বা শহিদ হতেন, তাহলে আজকে বাংলার মানুষের কাছে ইসলামের নামে কুৎসা রটানোর কোন সুযোগই থাকতো না। নিঃসন্দেহে ইতিহাস এক ভিন্ন মাত্রা পেতে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)