সঞ্চয় করা কি হারাম?

আল-কোরআন-
সূরা বনী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ)

(১৭:২৯) অর্থ- তুমি একেবারে ব্যয়কুন্ঠ/বদ্ধমুষ্ঠি হয়ো না এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।

সূরা আল-ফুরকান (মক্কায় অবতীর্ণ)

(২৫:৬৩) অর্থ- আর পরমকরুণাময়ের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে
চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন অজ্ঞরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে-
'সালাম'। 
(২৫:৬৭) অর্থ- এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না আর কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের পন্থা হয় এ দুয়ের মধ্যবর্তী।

সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

(০৯:৩৪) অর্থ- হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের মধ্যে যারা
লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের ফিরিয়ে
রাখে, আর স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে,
তাদের কঠোর শাস্তির সংবাদ শুনিয়ে দিন।

সূরা আত-তাগাবুন (মদীনায় অবতীর্ণ)

(৬৪:১৬) অর্থ- অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো, আর শুনো, আনুগত্য করো
এবং ব্যয় করো। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে
মুক্ত, তারাই সফলকাম।

সূরা আল মা’আরিজ (মক্কায় অবতীর্ণ)

(৭০:১৯) অর্থ- মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অস্থির চিত্ত রূপে। 
(৭০:২০) অর্থ- যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন হা-হুতাশ করে। 
(৭০:২১) অর্থ- আর যখন সচ্ছলতা প্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।

সূরা আল লায়ল (মক্কায় অবতীর্ণ)

(৯২:০৫) অর্থ- অতএব, যে দান করে এবং (স্রষ্টাকে) ভয় করে, 
(৯২:০৬) অর্থ-এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, 
(৯২:০৭) অর্থ-আমি তার জন্য সুখকর পথ সহজ করে দেব। 
(৯২:০৮) অর্থ-আর যে কৃপণতা করে ও বেপরোয়া হয় 
(৯২:০৯) অর্থ- এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, 
(৯২:১০) অর্থ- আমি তার জন্য কষ্টকর পথ সহজ করে দেব। 
(৯২:১১) অর্থ-যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ কোনই কাজে আসবে না।

সূরা হুমাযাহ্ (মক্কায় অবতীর্ণ)

(১০৪:০১) অর্থ- দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে;
(১০৪:০২) অর্থ- যে অর্থ পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং তা বার বার গননা করে,
(১০৪:০৩) অর্থ- সে ধারনা করে যে তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে;
(১০৪:০১) অর্থ- কখনো না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়;

 

আল্লাহর পথে ব্যয় করা অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা যে সব খাতে ব্যয়/ দান করতে
বলেছেন সাধ্যমত তা পালন করা সালাত আদায় করার মতই ফরজ। (১৭:২৯),
(২৫:৬৭), (০৯:৩৪) এবং (১০৪:০২, ০৩) নং আয়তের বক্তব্য থেকে প্রথমত ব্যয়/
দান করার ক্ষেত্রে কৃপণতা ও অপব্যয় পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বলা
হয়েছে, অর্থাৎ সব সময় সাধ্যমত এমনভাবে ব্যয়/ দান করতে উদ্বুদ্ধ করা
হয়েছে যেন নিঃস্ব হয়ে নিজেকেই অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। সুতরাং এ
থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কৃপণতা নয় বরং নিজের পরিবার পরিজনদের জন্য কিছু
সঞ্চিত রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা
কোন খাতে কতটুকু ব্যয়/ দান করব। আল্লাহতায়ালা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন এবং
এর মাধ্যমেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কার প্রয়োজন কতটুকু এবং তিনি
কতটা সঞ্চয় করবেন এবং কতটা ব্যায়/ দান করতে পারবেন। সঞ্চিত রাখার অর্থ
আবার এই নয় যে আমারা অর্থকড়ি পুঞ্জিভূত করে রেখে তা বার বার গননা করব এবং
আলাহতায়ালা যে সব ক্ষেত্রে ব্যয়/ দান করতে বলেছেন তা ভুলে গিয়ে কৃপণতার
পথ বেছে নেব। যারা রাশি রাশি স্বর্ণ, রূপা ও সম্পদ জমা করে রাখে এবং তা
ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদেরকে কঠোর শাস্তির সংবাদ দেয়া হয়েছে। এভাবে
টাকাকড়ি, ধন-সম্পদ জমিয়ে রেখে এর মাধ্যমে অমরত্ব লাভের বৃথা স্বপ্নে
বিভোর থাকতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং কৃপণের মত কিংবা অমরত্ব
লাভের নেশায় যেনতেন উপায়ে সম্পদ আহরণ ও গচ্ছিত করে রাখা হারাম এবং যারা
এমনটি করে তাদেরকে হুতামা-দোজখের শাস্তি ভোগ করতে হবে। পরিনামে অশান্তিতে
তাদের অন্তর জ্বলে পুড়ে যে ছারখার হয়ে যাবে সে ব্যাপারে সাবধান করে দেয়া
হয়েছে। কিন্তু তাই বলে পরিবারের স্বাভাবিক চাহিদা পুরণের জন্য কিছুই
সঞ্চয় করে রাখা যাবেই না- বিষয়টি এমন নয় বলেই মনে হয়। 

এই সাথে নিচের লিংকের লেখাটি দেখে নিলে ভাল হয়-
বিলাসিতা/বৈরাগ্য, কৃপণতা/অপচয় নয়; মধ্যপন্থা অবলম্বনই শ্রেয়-

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2.5 (2টি রেটিং)
সঞ্চয়ের ব্যাপারে আমরা দুটি মত দেখেছিলাম। হযরত আবু জর গিফারী (রা:) মনে করতেন, আগামীকালের জন্য কিছু সঞ্চিত রাখাটাও সঙ্গত নয়। আর মুয়াবিয়া মনে করতেন, যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট, এরপর আর কিছু সঞ্চয় করাটা দোষের নয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের অবস্থান হতে হবে এ দুয়ের মাঝামাঝি। যাকাত অবশ্যই দিতে হবে, এবং আমাদের বাদবাকি সম্পদ থেকেও দ্বীন ও মানুষের প্রয়োজনে কমবেশি ব্যয় করতে হবে। কিন্তু তাই বলে নিজেদের সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে দিতে হবে, এমন দাবিও আল্লাহ করেননি। আল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের হাত বেঁধেও রেখো না, আবার ছেড়েও দিও না।"
যারা টাকা শুধু উপার্জন আর সঞ্চয়ই করে; নিজের, পরিবারের বা অন্য কারো প্রয়োজনে একটি টাকাও খরচ করতে চায় না; তাদের অবস্থা হল সেই ব্যক্তির মত, যে তার কম্পিউটারে প্রতিদিন শুধু এন্টিভাইরাস দিয়ে ভাইরাস স্ক্যান করে, কম্পিউটারকে ভাইরাসমুক্ত রাখে, কিন্তু কম্পিউটারে কোন কাজই করে না। যে কম্পিউটার দিয়ে কোনদিন কোন কাজ করা হবে না, সে কম্পিউটারকে আজীবন ত্রুটিমুক্ত ও ভাইরাসমুক্ত রেখে কি লাভ? ঠিক একইভাবে, যার সম্পদ কোন কাজেই আসল না, তার সম্পদ থাকা আর না থাকা উভয়ই সমান।
মাধ্যম যখন লক্ষ্যে পরিণত হয়, তখনই মানুষ লক্ষ্যচ্যুত হয়। ধন-সম্পদকে আল্লাহ দিয়েছেন জীবন ধারণের উপকরণ হিসেবে, যা দিয়ে মানুষ আহার যোগাড় করে বেঁচে থাকবে এবং দু:খ-কষ্ট ও অসুস্থতা থেকে নিজেকে রক্ষা করবে। আহার, চিকিতসা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজের প্রয়োজন মেটাবার পর মানুষ ক্রমান্বয়ে নিজের পরিবার, আত্মীয় ও সবশেষে বাদবাকি মানুষের সুখ-শান্তি অর্জনে অর্থ দিয়ে সাহায্য-সহায়তা করবে- এটাই হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা অর্থকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণে কাজে আসার জন্য। তাই আমাদের অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের ও পরের উপকার লাভ এবং ক্ষতি থেকে বাঁচার বন্দোবস্ত করা। কিন্তু অর্থটাই যদি কারো লক্ষ্য হয়ে দাড়ায়, তাহলে শুধু অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থেকে ও তা জমিয়ে রাখতে গিয়ে অর্থের আসল লক্ষ্য ও উপকারিতা থেকেই বঞ্চিত থেকে যাবে সে। আমাদের নবীজী (সা:) বলেছেন, "তোমার তো সেটাই যা তুমি খেয়েছ বা দান করেছ। যেটা তুমি জমিয়ে রাখলে সেটা তো আর তোমার থাকল না।"
ব্যক্তির জন্য সম্পদ হল কল্যাণ লাভের একটি উপকরণ ও মাধ্যম মাত্র। ওটা জমিয়ে রাখাতে কোন কল্যাণ নেই, বরং ব্যবহার করাতেই কল্যাণ। আবার রাষ্ট্রের জন্য অর্থ বা মুদ্রা কোন সম্পদ নয়, বরং বিনিময়ের একটি মাধ্যম মাত্র। তাই ব্যক্তি যেমন অর্থ জমিয়ে রেখে কোন সুফল পাবে না, তেমনি ব্যাংকও শুধু টাকা ছাপিয়ে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারবে না। অনুরূপভাবে, পরীক্ষা হচ্ছে মেধা ও শিখনফল যাচাইয়ের একটা মাধ্যম মাত্র। কিন্তু এখন কেউ যদি পরীক্ষার রেজাল্টকেই মূল লক্ষ্য ভেবে বসে, তাহলে তাতে তার লেখাপড়ার আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।  জ্ঞানার্জনের যে প্রকৃত উদ্দেশ্য তথা (ধর্মীয়) আত্মশুদ্ধি ও (পার্থিব) দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে মানুষের কাছে সস্তা বাহবা কুড়ানোটাই তার লেখাপড়ার লক্ষ্য হয়ে উঠবে। মূলত: শুধু নম্বরের কোন মূল্য বা ভেল্যু নেই, যেমন নেই শুধু ছাপানো টাকার। আবার নিছক ইংরেজি শেখাটাও কোন লক্ষ্য হতে পারে না, বরং হতে পারে বড়জোর লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম। যেহেতু যেসব মূল্যবান বইপত্র বিদেশী ভাষায় আছে কিন্তু মাতৃভাষায় নেই সেসব গ্রন্থ বোঝা, বিদেশীদের সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করবার জন্য ইংরেজি ভাষা জানা দরকার। কিন্তু এই ইংরেজি শেখাকেই যদি কেউ নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে তাকে আজীবন বৃটিশ কাউন্সিলের চার দেয়ালের মাঝেই বন্দী হয়ে থাকতে হবে। আমাদের আরবী শেখার দরকার আছে কোরআন শিক্ষার জন্য। কিন্তু কেউ যদি আরবী শেখে শুধু বিদেশ গমনের জন্য, কিংবা শুধু আরবী ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা নিয়ে জীবনটা পার করে দেয়, কোরআনের ধারে-কাছে না যায়, তাহলে তার আরবী শেখাটাই বৃথা।
দুনিয়াবি সম্পদ অর্জন ও ডিগ্রী অর্জনকে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না নিয়ে লক্ষ্য বানিয়ে নিলে যেমন সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থতা নিয়ে আসে, তেমনি ধর্মীয় বিদ্যা ও ধর্মীয় আমলের ব্যাপারেও আসল লক্ষ্যের দিকে না তাকিয়ে আনুষঙ্গিক বিষয়াদিকে লক্ষ্য বানিয়ে বসলে তা মানুষকে আসল লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। যেমন- কোরআন শিক্ষার লক্ষ্য হল আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে বাস্তব জীবনে সেই মোতাবেক চলার তওফিক অর্জন করা এবং আল্লাহর প্রতি নিজের ঈমান ও আনুগত্যকে মজবুত করা। কিন্তু মানুষের সামনে সুন্দর কণ্ঠে তেলাওয়াত করে কারীর সুনাম অর্জন করা বা হাফেজ উপাধি লাভ করা যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে শুধু পণ্ডশ্রমই হবে। কিংবা কেউ যদি এভাবে দেখে, সমাজে আর সবার বাচ্চা-কাচ্চা কোরআন শরীফ দেখে পড়া শিখে গেল, আমার বাচ্চা পিছিয়ে থাকলে কেমন দেখায়, তাই মেরে-পিটিয়ে জোর-জুলুম করে হলেও কোনমতে কোরআন শরীফের অক্ষরটা reading পড়ানো শিখাতে হবে, তাহলে তার পাগলামি আচরণ শিশুকে বরং কোরআনের প্রতি বিগড়ে দিতে পারে, আল্লাহর প্রতি ও ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে পারে।আবার নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত প্রভৃতি ইবাদতসমূহ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না করে মানুষকে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে ভিড়ের চাপে অপমৃত্যু ঘটতেই থাকবে। কোরবানী যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে করা হয়, তাহলে কেবল অতিরিক্ত গোশত খেয়ে শরীরের ক্ষতি করাই সম্পন্ন হবে। নামাজের প্রকৃত লক্ষ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কিন্তু কেউ যদি শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করাকেই নামাযের লক্ষ্য মনে করে, নামাযকে মাথা ঠাণ্ডা করার উপায় হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে সে কোন কারণে তা না পেলে অস্থির ও পাগল হয়ে উঠবে এবং অসুস্থ অবস্থায় বিকল্প সুযোগ ও অপশন (তায়াম্মুম) থাকা সত্ত্বেও ওযু-গোসল করতে গিয়ে ব্যামো ঘটিয়ে বসবে।এমনকি কোন শারীরিক সমস্যার কারণে নামায পূর্ণ সহীহরূপে আদায় করতে না পেরে পরিপূর্ণ তৃপ্তিলাভ না ঘটায় অধৈর্য্য হয়ে আল্লাহর উপর বিরক্ত হয়ে ঈমান হারিয়ে বসতে পারে। ঔষধ খাওয়ার আসল উদ্দেশ্য হল রোগ থেকে নিরাময় লাভ করা। কোন কোন ঔষধ আবার খেতেও মিষ্টি হয়ে থাকে। এখন কেউ যদি মিষ্টি স্বাদ গ্রহণ করাকেই ঔষধ খাওয়ার লক্ষ্য বানিয়ে বসে এবং এই স্বাদ লাভ করতে গিয়ে প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত পরিমাণ ঔষধ সেবন করে বসে, তাহলে তার বারোটা বাজতে আর কিছু লাগবে না। মূল জিনিসের সাথে বোনাস আপনি গ্রহণ করতেই পারেন, বোনাস পেয়ে আনন্দিত হওয়াটাও দোষের নয়; কিন্তু বোনাসটাই যখন মূল কাম্য বস্তুতে পরিণত হয়, তখনই মূলধনটা হাতছাড়া করতে হয়।
মানুষকে কামপ্রবৃত্তি দেয়ার উদ্দেশ্য হল পরিবার গঠন ও দাম্পত্য বন্ধন অটুট রাখা। কিন্তু কেউ যদি কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করাকেই লক্ষ্য বানিয়ে বসে, তখনই তার দ্বারা সমাজ-সংসারে প্রলয় সাধিত হয়।
ইসলামে পর্দার বিধানের উদ্দেশ্য হলো নারী-পুরুষ উভয়কে কুচিন্তা, কুপ্রবৃত্তি ও কুকর্ম থেকে রক্ষা করা। এখন কেউ যদি শুধু হিজাব পরিধান করাকেই দ্বীনের মূল বিষয় বানিয়ে নেয়, শুধু বোরখাকে অঙ্গে ধারন করাটাকেই আল্লাহর একমাত্র হুকুম ভেবে বসে, শুধু পোশাকটাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে সে পর্দার মূল লক্ষ্য থেকে বিস্মৃত হয়ে বসতে পারে এবং নিজের বা অপরের শুধু ভূষণটা perfect ও 'ইসলামী' হলো কিনা সেদিকেই নজর পড়বে, নিজের বা অপরের চিন্তা বা কর্মে অশ্লীল বা অশালীন কিছু আসল কিনা সেটা কোন গুরুত্ব পাবে না। এমনকি পর্দার দোহাই দিয়ে সাধারণ পোশাকের পরিবর্তে বোরখা পরতে বাধ্য করার মাধ্যমে কোন নারীকে আরো অধিক আকর্ষণীয় করে তোলার মাধ্যমে যেই ফেতনা রোধ করবার জন্য পর্দার বিধান নাযিল হয়েছে সেই ফেতনাকেই আরো এগিয়ে আনার উপক্রম ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
রাষ্ট্রক্ষমতারও লক্ষ্য হল ধর্ম ও জনগণের সেবা করা। সৎ কাজ ও সৎ মানুষদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং অসৎ কাজ ও দুষ্ট লোকদের নিবৃত্ত করা। কিন্তু কেউ যদি এই রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করাটাকেই লক্ষ্য বানিয়ে বসে, তাহলে তার দ্বারা ধর্ম ও জনগণের সেবার পরিবর্তে বারোটা বাজানোই সার হবে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের পরিবর্তে নিজেরাই দুষ্টামিতে লিপ্ত হবে। ক্ষমতায় যাবার নেশায় মত্ত হয়ে অসৎ লোকদের সাথেই মিলিত হবে এবং সৎ বা নিরপরাধ মানুষকে জ্বালিয়ে মারবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2.5 (2টি রেটিং)