আল-কোরআন অনুসারে ব্যভিচারের শাস্তি কি রজম?

আল-কোরআনে অবৈধ যৌন সংগম/ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধকরা হয়েছে। সুতরাং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যে কোন ধরনের অশ্লীলপাপাচার অর্থাৎ অবৈধ যৌন সম্পর্ক ও আকাঙ্খা থেকে ইমানদারমানুষ মাত্রই দূরে থাকা উচিত।

১৭ নং সূরা বণী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ ক্রম-৫০)

৩২: অর্থ- আর তোমরা অবৈধ যৌন সংগম/ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা একটাঅশ্লীল পাপাচার ও মন্দ পথ।


একজন ইমানদার যেহেতু মহান স্রষ্টার বিধানকেই সর্বোত্তম হিসেবে বিশ্বাস করেন। তাই আল-কোরআনে ব্যভিচারী পুরুষ ও নারী সম্পর্কে ক্ষেত্র বিশেষে যতটুকু কাঠিন্য অবলম্বন করা বা ছাড়দেয়ার বিধান আছে, তা তো তাকে মানতেই হবে। একজন মুসলিম হিসেবে আমার মনোভাবওএকই এবং আমি যে এর পক্ষে কোনরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন বা ছাড় দিতে রাজি নই তা আশ্বস্তকরছি। অন্য কোন মানবতাবাদী মতবাদ নয়, বরং আল-কোরআন যতটুকু মানবতা দেখানোরপারমিশন দিয়েছে, ততটুকুই ঠিকমত মেনে চলতে পারলেই মানবতার মহৎ কর্মটিও যথাযথ ভাবেপালিত হবে বলে আমি সম্পূর্ণ আস্থা রাখি।

 
আল-কোরআনে সংগত কারনেই প্রাপ্ত বয়ষ্ক এবং ব্যভিচারের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ নয় এমনব্যভিচারী স্বাধীন পুরুষ ও নারীকে জনসম্মুখে (২৪:০২) একশত বেত্রাঘাত করার বিধান এবংবিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য গৃহ বা কারাগারে (০৪:১৫) বন্দী করে রাখার বিকল্প ব্যবস্থাও দেয়াহযেছে। ডান হাতের অধিকারভুক্ত বিবাহিতা যুদ্ধবন্দী/দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমান(০৪:২৫) অর্ধেক করা হয়েছে। এই বিধানের ব্যপারে একজন ইমানদারের কোনই দ্বিমত থাকতেপারেনা; আমারও নেই।

 

৪ নং সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-৯২)

১৫: অর্থ- আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা অশ্লীল পাপাচারে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরমধ্য থেকে চার জনকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবেসংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্যপথ করে দেন।

১৬: অর্থ- তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন সেই অশ্লীল পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাদের উভয়কেশাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদেরথেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।

১৭: অর্থ- অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন যারা ভূল বশত মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী ও কুশলী।

২৪ নং সূরা আন-নূর (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১০২)

০১: অর্থ- এটা একটা সূরা যা আমি নাযিল করেছি, এবং আমিই ফরজ (অবশ্য পালনীয়)করেছি। আমিই এতে সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।

০২: অর্থ- ব্যভিচারিণী (পর-পুরুষের সাথে অবৈধ যৌন সঙ্গম-কারী) নারী এবং ব্যভিচারী(পরনারীর সাথে অবৈধ যৌন সঙ্গম-কারী) পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর।আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদিতোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদেরশাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

(০৪:১৫) ও (০৪:১৬) নং আয়াতে (الْفَاحِشَةَ) "আল ফা-হিশাতান" এই শব্দটি দ্বারা সকল ধরণের অশ্লীল পাপাচারকে বোঝানো হয়েছে। সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অশ্লীল পাপাচার বলতে শুধু  নারী ও পুরুষের মাঝে অবৈধ সম্পর্কই নয়, বরং যারা সমকামী অর্থাৎযারা নারীর সাথে নারীর এবং পুরুষের সাথে পুরুষের যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে কিংবা যারা হিজরাদের সাথে এমনকি পশুর সাথেও (Bestiality) অশ্লীল যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে তারা সবাই অশ্লীল পাপাচারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদেরকে শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিবাহিত নারী ও পুরুষের মাঝে যৌন সম্পর্ক স্থাপন মানব স্বভাবসুলভ ও বৈধ। কিন্তু শুধুমাত্র বিবাহিত বৈধ সম্পর্ক না থাকার কারণে এই মানব স্বভাবসুলভ সম্পর্ক অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া অন্য সকল ধরণের অশ্লীল পাপাচার ও যৌন সম্পর্ক একই সাথে অবৈধ এবং মানব স্বভাববিরুদ্ধ। ব্যভিচারিণী এবং ব্যভিচারী; (২৪:০২) তাদের প্রত্যেককে স্পষ্টভাবে একশত বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অশ্লীল পাপাচারে লিপ্ত অন্যান্য অপরাধীদের জন্য শাস্তির নির্দেশ দেয়া হলেও তাদের কার শাস্তির মাত্রা ও ধরন কিরূপ হবে তা উহ্য রাখা হয়েছে। সুতরাং মানব স্বভাববিরুদ্ধ সকল অশ্লীল পাপাচারীকে বেত্রাঘাতের সাজা তো দেয়া যাবেই, অপরাধের মাত্রা হিসেবে প্রয়োজনে শাস্তির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার ব্যাপারে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা। তাছাড়া যারা জোরপূর্বক অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক বালক কিংবা নারীকে যৌন হয়রানি করে, পিশাচ রূপী সেই ধর্ষকদেরকে আরও কঠিন সাজা দেয়ার এখতিয়ারও বিজ্ঞ বিচারকের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।


এখানে প্রশ্ন আসতে পারে- অবৈধ যৌন সঙ্গম-কারী পুরুষের বেলায় শুধু বেত্রাঘাত, কিন্তুনারীর বেলায় বেত্রাঘাত এবং গৃহবন্দী রাখার বিধান দেয়া হলো কেন?


অনেকে না ভেবে, না বুঝেই চট করে এটিকে নারীর ক্ষেত্রে আল-কোরআনের দ্বৈত-নীতি হিসেবেসমালোচনার ঝড় তুলতে শুরু করে দেন। কিন্তু কার জন্য কোনটা ভাল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তা সর্বজ্ঞমহান আল্লাহতায়ালা ভাল ভাবেই অবগত আছেন। একটু চিন্তা করলেই এর জবাব পাওয়া যায়।সূরা নিসার  (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-৯২) অবতীর্ণ ক্রম লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েযায় যে, প্রথমত (০৪:১৫) নং আয়াতে যে সব স্ত্রীরা পাপাচারে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে চারজনসাক্ষী পাওয়া গেলে তাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখার অর্থাৎ কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দেয়াহয়েছিল এবং পরবর্তীতে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কি ধরণের শাস্তির নির্দেশ দেয়া হবে তারজন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। আর এই নির্দেশ আসার পূর্বেই গৃহবন্দী অবস্থায় যদি কোননারীর মৃত্যু ঘটে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।  কিন্তু তাই বলে এই অপরাধের জন্য পাথর ছুড়েকিংবা অন্য কোন উপায়ে সরাসরি হত্যা করার নির্দেশ আল-কোরআনে কখনই দেয়া হয় নাই।বরং বলা হয়েছিল যে, যদি পরবর্তীতে আল্লাহতায়ালা তাদের জন্য অন্য কোন পথ অর্থাৎ অন্যকোন ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করেন তাহলে সেটাই তখন প্রযোজ্য হবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, স্ত্রীদেরকে কেন কারাগারে আটকে রাখার অপশনটি দেয়া হলো?

একটু চিন্তা করলেই এর কারনটা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। একজন ব্যভিচারিণীর ক্ষেত্রে অন্তঃসত্বা হবার ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু ব্যভিচারী সেরূপ দুর্ঘটনা থেকে মুক্ত থাকে। তাই ব্যভিচারী দোষী সাব্যস্ত হলে তখনই তার উপরে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করায় কোন বাঁধা নেই। কিন্তু একজন অন্তঃসত্বা ব্যভিচারিণীকে কঠিন সাজা দিলে পেটের বাচ্চাটির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনারয়েছে। তাই সন্তান  প্রসব না করা পর্যন্ত অন্তঃসত্বা ব্যভিচারিনীকে সাময়িকভাবে শারীরিক কঠিনশাস্তি থেকে অব্যহতি দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখার অপশন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে যদি কোন কারনেতার মৃত্যু ঘটে যায় তাহলে শাস্তির প্রশ্ন আসে না। কিন্তু বাচ্চা প্রসবের পরও সেই মহিলা যদিবেঁচে থাকে, তাহলে তার জন্য কি শাস্তি প্রযোজ্য হবে তা পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। সূরা আন-নূর এর (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১০২) অবতীর্ণ ক্রম লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পূর্বে (০৪:১৫) নং আয়াতে আংশিক নির্দেশ নাজিলের পর পরবর্তীতে (২৪:০২) নং আয়াতে ব্যভিচারিণীদের জন্য যে শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা আমৃত্যু গৃহবন্দী করে রাখা নয়, বরং 'ব্যভিচারিণী' ও 'পরদারগামী/ব্যভিচারী' প্রত্যেকের জন্যই একশত বেত্রাঘাতের বিধান দেয়া হয়েছিল। আল্লাহর এই বিধান কার্যকর করতে গিয়ে আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসীদের অন্তরে যেন দয়ার উদ্রেক না হয় তা বিশেষভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে ব্যভিচারিণী অন্তঃসত্ত্বা হলে তার ক্ষেত্রে কিভাবে শাস্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে তার উত্তর (০৪:১৫) ও (২৪:০২) নং আয়াতের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে চিন্তাশীল মাত্রই বুঝতে পারার কথা। যারা বুঝতে চায় তাদের জন্যই আল্লাহতায়ালা তাঁর কিতাবে এভাবেই সংক্ষেপে অথচ বিস্তারিতভাবে ভাব প্রকাশের সবকিছু জানিয়ে দেন। সুতরাং অন্তঃসত্ত্বা ব্যভিচারিণীকে সেই মূহুর্তে কঠিন শাস্তি না দিয়ে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত গৃহবন্দী করে রাখার বিকল্প বিধানটি কার্যকর করতে কোন বাঁধা নেই এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সেটাই যুক্তিসঙ্গত।

   
৪ নং সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-৯২)

২৫: অর্থ- আর তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী সধবাদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তারাযেন তোমাদের (মা-মালাকাত-আইমানুকুম) ডান হাতের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুবতী'যুদ্ধবন্দিনীদেরকে/ ইসলামপূর্ব দাসিদেরকে' বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কেভালোভাবে অবগত আছেন। তোমরা তো একে অন্য থেকে, অতএব তাদেরকে তাদেরঅভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিয়ে কর, আর নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর;বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য- অশ্লীল পাপাচারী হিসেবে নয় কিংবা রক্ষিতা রূপে গ্রহণ করারজন্যও নয়। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি তারা অশ্লীল পাপাচারেলিপ্ত হয়, তবে তাদেরকে স্বাধীন সধবাদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদেরজন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা পাপের ভয় করে। আর যদি ধৈর্য ধারন কর, তবে তা তোমাদেরজন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম-করুণাময়।


একইভাবে ডান হাতের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী কোন যুদ্ধবন্দীনি/ ইসলাম পূর্ব দাসীর ক্ষেত্রে এইশাস্তির পরিমান হ্রাস করা হয়েছে। কারন ভিন্ন পরিবেশে ও সংস্কৃতিতে বসবাসে অভ্যস্ত থাকারকারনে তাদের মধ্যে ইসলামের বিধানের প্রতিফলন ঘটতে কিছুটা সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। তাইপ্রাথমিক পর্যায়ে তাদের জন্য অর্ধেক শাস্তির নির্দেশ এবং ধৈর্য ধারন কোরে তাদেরকে শুধরানোরসুযোগ দেয়ার পরামর্শটিও অত্যন্ত যৌক্তিক।

 

২৪ নং সূরা আন-নূর (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১০২)

০৩: অর্থ- ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা (অংশী-বাদি) নারী ছাড়াঅন্য কোন ভাল নারীকে বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণী নারী কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিকপুরুষ ছাড়া অন্য কোন ভাল পুরুষকে বিয়ে করবে না, এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করাহয়েছে।

২৬: অর্থ- দুশ্চরিত্রা নারীকুল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রানারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রানারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যেআছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।

 
(০৪:১৬) নং আয়াতে যেহেতু তওবা করার অপশন রাখা হয়েছে, সুতরাং অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক এবং এইবিধান সম্পর্কে অজ্ঞদের (০৪:২৫) ও (০৪:১৭) ক্ষেত্রে প্রথমবার শাস্তি হ্রাস করার সুযোগরয়েছে। তাছাড়া শাস্তি ভোগের ও তওবা করার পর ব্যভিচারী/ ব্যভিচারিণীদেরও যে বিয়ে করেবেঁচে থাকার সুযোগ রয়েছে, (২৪:০৩) ও (২৪:২৬) নং আয়াত লক্ষ্য করলে তা স্পষ্ট হয়েযায়। তবে যারা ব্যভিচারী/ ব্যভিচারিণী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে তাদেরকে বিয়ে করা বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীর জন্য হারাম করা হয়েছে। কারণ ব্যভিচারী/ ব্যভিচারিণীদের চাওয়া পাওয়া ও আচরণের সাথে মুমিনরা কখনই খাপ খাওয়াতে পারবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারাও তওবা করে কথায় ও কাজে সত্যিকার মুমিন হতে পারছে।

  
আল্লাহতায়ালা আল-কোরআনের বিভিন্ন স্থানে একই বক্তব্য ও বিধান একাধিকবার রিপিটকরেছেন। কিন্তু ব্যভিচারের জন্য পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদন্ড দেবার কথা কি একটিবারও বলাহয়েছে? এ ধরনের একটি সাংঘাতিক শাস্তির বিধান তো অন্তত একবার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকারকথা- কেননা এ বিষয়ে তো বিস্তারিত বিবরণের কথাই বলা আছে।

 
অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এ ধরনের বিচার করার অধিকার কোন গ্রাম্য মোল্লা ওসালিশকারীর নেই। যদি কোন অবাঞ্চিত ব্যাক্তি বা ব্যক্তিবর্গ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তবেতাকেও শাস্তি পেতে হবে। আল-কোরআনের আইনে বিচার করার জন্য ইসলামি জ্ঞান সম্পন্ন বিজ্ঞবিচারকই একমাত্র যোগ্য ব্যাক্তি। এক্ষেত্রে অবশ্যই কমপক্ষে চারজন সাক্ষী থাকতে হবে। সাক্ষীতিন জন হলেও হবেনা। এটাই ফাইনাল। আর সাক্ষী একজন/ দুইজন হলে বিচার চাওয়ার পূর্বেআরও সাক্ষী না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এ অবস্থায় বিচার চাইলে যদি অগত্যাসাক্ষীরা মিথ্যা বলেছে বলে প্রমানিত হয়, তাহলে সাক্ষীদেরকেই জনসম্মুখে আশিটি বেত্রাঘাত করাহবে এবং ভবিষ্যতে তাদের সাক্ষী আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। স্বামী/স্ত্রী পরস্পরেরবিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে এক্ষেত্রে উভয়কেই লিয়ান করতে বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহর নামে শপথকরে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে কসম করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ মিথ্যা বলে- তাহলে সে হয়তএকালের সাময়িক শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু তাকে অবশ্যই পরকালীন কঠিন আজাব ভোগেরজন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।  

 

'লিয়ান' কিরূপে করতে হয় সে সম্পর্কে আল-কোরআনের বিধান-

২৪ নং সূরা আন-নূর (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১০২):-

০৬: অর্থ- এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরাছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, তখন প্রমাণ স্বরূপ তাদের প্রত্যেকে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবারসাক্ষ্য দেবে, যে সে (স্বামী নিজে) অবশ্যই সত্যবাদী। 

০৭: অর্থ- এবং পঞ্চমবার (স্বামী নিজে) বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপরআল্লাহর লানত। 

০৮: অর্থ- এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয়যে, সে (তার স্বামী) অবশ্যই মিথ্যাবাদী;      

০৯: অর্থ- এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি সে (তার স্বামী) সত্যবাদী হয় তবে তার (স্ত্রীর)ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।

১০: অর্থ- তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে এবং আল্লাহ তওবা কবুল কারী,প্রজ্ঞাময় না হলে কত কিছুই যে হয়ে যেত।

১১: অর্থ- যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একেনিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকেরজন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকানিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।     

 

'Divorce' of Sahih Bukhari.

185: Narrated Sahl bin Sad As-Sa'idi: Uwaimir Al-'Ajlani came to 'Asim bin Adi Al-Ansari and asked, "O 'Asim! Tell me, if a man sees his wife with another man, should he kill him, whereupon you would kill him in Qisas, or what should he do? O 'Asim! Please ask Allah's Apostle about that." 'Asim asked Allah's Apostle about that. Allah's Apostle disliked that question and considered it disgraceful. What 'Asim heard from Allah's Apostle was hard on him. When he returned to his family, 'Uwaimir came to him and said "O 'Asim! What did Allah's Apostle say to you?" 'Asim said, "You never bring me any good. Allah's Apostle disliked to hear the problem which I asked him about." 'Uwaimir said, "By Allah, I will not leave the matter till I ask him about it." So 'Uwaimir proceeded till he came to Allah's Apostle who was in the midst of the people and said, "O Allah's Apostle! If a man finds with his wife another man, should he kill him, whereupon you would kill him (in Qisas): or otherwise, what should he do?" Allah's Apostle said, "Allah has revealed something concerning the question of you and your wife. Go and bring her here." So they both carried out the judgment of Lian, while I was present among the people (as a witness). When both of them had finished, 'Uwaimir said, "O Allah's Apostle! If I should now keep my wife with me, then I have told a lie". Then he pronounced his decision to divorce her thrice before Allah's Apostle ordered him to do so. (Ibn Shihab said, "That was the tradition for all those who are involved in a case of Lian."

 
বেশ কিছু হাদিছের উদ্ধৃতি দিয়ে এখনও পাথর ছুঁড়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করার দাবি তোলা হয়।এই হাদিছ গুলোকে সরাসরি অস্বীকার করার মত ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বিশ্বাস করি যে,রাসূল (সাঃ) কোন সময় যদি এ বিধানটি কার্যকর করেও থাকেন, তাহলে তখনকার অবস্থারপরিপ্রেক্ষিতে রুক্ষ মরু-এলাকার বর্বর স্বভাবের মানুষ গুলোর জন্য নিশ্চয় তা সঠিক ছিল। একটিহাদিছে (4211) ইহুদিকে ব্যভিচারের শাস্তি দেবার জন্য ইহুদি সম্প্রদায়ের স্মরণাপন্ন হওয়ারএবং তাদের কিতাব অনুসারে শাস্তি কার্যকর করার বিবরন এসেছে।

 
Sahih Muslim

(4211) Abdullah b. 'Umar reported that a Jew and a Jewess were brought to Allah's Messenger (may peace be upon him) who had committed adultery. Allah's Messenger (may peace be upon him) came to the Jews and said: What do you find in Torah for one who commits adultery? They said: We darken their faces and make them ride on the donkey with their faces turned to the opposite direction (and their backs touching each other), and then they are taken round (the city). He said: Bring Torah if you are truthful. They brought it and recited it until when they came to the verse pertaining to stoning, the person who was reading placed his hand on the verse pertaining to stoning, and read (only that which was) between his hands and what was subsequent to that. Abdullah b. Salim who was at that time with the Messenger of Allah (may peace be upon him) said: Command him (the reciter) to lift his hand. He lifted it and there was, underneath that, the verse pertaining to stoning. Allah's Messenger (may peace be upon him) pronounced judgment about both of them and they were stoned. Abdullah b. 'Umar said: I was one of those who stoned them, and I saw him (the Jew) protecting her (the Jewess) with his body.

 
এখানে দেখুন ইহুদিদের কাছে তাদের ধর্মগ্রন্থের সমাধান বের করতে বলা হয়েছে এবং অনেকেরউপস্থিতিতে এবং সাক্ষী ছিল বলেই তো তাদের ধর্মগ্রন্থ মতে শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

 
তাছাড়া অন্য হাদিছের (4206) বর্ণনা অনুসারে বোঝা যায় যে, তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেআসামীকে বার বার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসামিরা তাদের কৃতকর্মের জন্য এতটাই অনুতপ্তছিল যে তারা পরকালীন মুক্তি পাবার আশায় পার্থিব শাস্তি বরন করে নেবার জন্য নিজেরাইব্যতিব্যস্ত ছিল। রসূল (সাঃ) এর ওফাতের (ইন্তেকাল) পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যেহেতু ওয়াহী আসারসম্ভাবনা ছিল। তাই পূর্ববর্তী কিতাবের এই বিধানটি সম্পর্কে তিনি হঠাৎ করে নেগেটিভ সিদ্ধান্তনিতে পারেন নাই। এ কারনেই হয়ত নতুন কোন বিধান আসে কিনা সেই আশায় বার বারআসামীকে ফিরিয়ে দেবার পরও অগত্যা তাদের মনের বাসনা পূরণের জন্য পূর্বের কিতাবেরবিধানটি কার্যকর করেছিলেন।

 
(4206) 'Abdullah b. Buraida reported on the authority of his father that Ma'iz b. Malik al-Aslami came to Allah's Messenger (may peace be upon him) and said: Allah's Messenger, I have wronged myself; I have committed adultery and I earnestly desire that you should purify me. He turned him away. On the following day, he (Ma'iz) again came to him and said: Allah's Messenger, I have committed adultery. Allah's Messenger (may peace be upon him) turned him away for the second time, and sent him to his people saying: Do you know if there is anything wrong with his mind. They denied of any such thing in him and said: We do not know him but as a wise good man among us, so far as we can judge. He (Ma'iz) came for the third time, and he (the Holy Prophet) sent him as he had done before. He asked about him and they informed him that there was nothing wrong with him or with his mind. When it was the fourth time, a ditch was dug for him and he (the Holy Prophet) pronounced judg- ment about him and he wis stoned. He (the narrator) said: There came to him (the Holy Prophet) a woman from Ghamid and said: Allah's Messenger, I have committed adultery, so purify me. He (the Holy Prophet) turned her away. On the following day she said: Allah's Messenger, Why do you turn me away? Perhaps, you turn me away as you turned away Ma'iz. By Allah, I have become pregnant. He said: Well, if you insist upon it, then go away until you give birth to (the child). When she was delivered she came with the child (wrapped) in a rag and said: Here is the child whom I have given birth to. He said: Go away and suckle him until you wean him. When she had weaned him, she came to him (the Holy Prophet) with the child who was holding a piece of bread in his hand. She said: Allah's Apostle, here is he as I have weaned him and he eats food. He (the Holy Prophet) entrusted the child to one of the Muslims and then pronounced punishment. And she was put in a ditch up to her chest and he commanded people and they stoned her. Khalid b Walid came forward with a stone which he flung at her head and there spurted blood on the face of Khalid and so he abused her. Allah's Apostle (may peace be upon him) heard his (Khalid's) curse that he had huried upon her. Thereupon he (the Holy Prophet) said: Khalid, be gentle. By Him in Whose Hand is my life, she has made such a repentance that even if a wrongful tax-collector were to repent, he would have been forgiven. Then giving command regarding her, he prayed over her and she was buried.

 
কিন্তু দেখা যায যে, রাসূলের (সাঃ) ওফাতের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত রজমের বিধানটি আল্লাহরকিতাবে ওয়াহী হিসেবে সংযোজিত হয়নি। যেহেতু আল-কোরআনের বিধান শুধু আরবের জন্যনয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছে। তাই সমগ্র মানবজাতির জন্য আল-কোরআনেবিদ্যমান বিধানই সর্বোত্তম হিসেবে গ্রহন ও কার্যকর করাই মুসলিমদের ইমানী দায়িত্ব এবং এরমধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ রয়েছে। 

সুতরাং বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে পাথর মেরে মেরে প্রাণ সংহার আর নয়। বরং এইবিধানটি যেহেতু আল-কোরআনে নেই, তাই ইমানদার হিসেবে এই বিশ্বাস তো অবশ্যই রাখতে হবেযে, রজমের বিধানটি আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতেই তুলে নেয়া হয়েছে। আর যা নেই তা নিয়েবাড়াবাড়ি করে জালিম সেজে জুলুম করা কোন মুসলিমের কর্ম হতে পারে না। রসূল (সাঃ) এরউপর অতিরিক্ত ভক্তির অজুহাত দেখিয়ে কোনরূপ বাড়াবাড়ি করা সঠিক কিনা তা ভেবে দেখাউচিত।

(অজ্ঞতা হেতু ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেলে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমায় ক্ষমা করেন)

................................................................

একজন পাঠকের প্রশ্ন ও মন্তব্য:-

ব্যভিচার, ব্যভিচার, ব্যভিচার......ভাইজান, ধর্ষনের শাস্তি নিয়ে কোরান কিছু বলে নাই?
মোহাম্মদের আমলে "রজম এর ঘটনা ঘটেনি এমনটা নয়।আর এটা তারা শিখেছিল বানরদেরকাছ থেকে....পড়ুন....
"বুখারী:ভ্যলুয়ুম:৫:বুক:৫৮:নং:১৮৮:
আমরু বিন মাইমুন হতে বর্নিত,ইসলাম আসার আগে অন্ধকার যুগে একদল বানর একটি স্ত্রীবানরকে ঘিরে আছে।তারা সবাই স্ত্রী বানরটিকে পাথর মারছিল কারন ঐ স্ত্রী বানরটি অবৈধ যৌনসম্পর্ক করেছিল। আমিও তাদের সংগে ঐ বানরটিকে পাথর মারি।"

...........................................................
আমার উত্তর:-

স্বেচ্ছায় অবৈধ যৌন সম্পর্ক করাকে ব্যভিচার বলা হয়। এটি একটি সম্পর্ক হলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোনথেকে যা অবৈধ। তাই শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং আল-কোরআন অনুসারে এটার শাস্তি কি ধরনেরতা আমি বলেছি। বার বার এক কথা বলতে চাই না-

কেন এই অবৈধ সম্পর্ককে শাস্তি দেবার কথা বলা হয়েছে তা এখন আর কারো অজানা নেই।

ডাকাতি বা ছিন্তাই করার সময় নিরীহ মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করা হয়। তেমনি জোরপূর্বক অপ্রাপ্তবয়ষ্ক বালককে যৌন হয়রানি করা এবং নারীর সতীত্ব হরণ বা লুণ্ঠন করা হলো ধর্ষণ। আরসন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিন্তাই, দাঙ্গা-হাঙ্গামা- এগুলো সবই ভূপৃষ্ঠে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা।তাই ধর্ষণ সহ বিপর্যয়কর অবস্থা সৃষ্টিকারী এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের শাস্তিহলো-

সূরা মায়েদা (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১১২)

(৫:৩৩) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ভূপৃষ্ঠে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টিরঅপচেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবেঅথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিতকরা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।


প্রকৃত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় (পাকিস্থান, বাংলাদেশ বা সৌদির মত নয়) ধর্ষণের মত ঘটনাঘটার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। যদি কদাচিত ঘটেই যায়, তাহলে অবশ্যই ধর্ষককে শাস্তি ভোগকরতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ধর্ষিতার পূর্ব এবং বর্তমান স্বভাব চারিত্র অবশ্যই খতিয়ে দেখারমাধ্যমে ধর্ষকের শাস্তির পরিমান নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে-


বানরেরা কেন ঢিল ছোড়াছুড়ি করল এবং শুধু স্ত্রী বানরকে জান কোরবান করতে হলো- সেইসেক্রেট বিষয়টি তো আমার জানা নাই ভাই- এটি বানররাই ভাল বলতে পারবে- কারন এটিতাদের বিষয়-

বানরদের সাথে আপনার সক্ষতা থাকলে আপনি তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করে দেখুন- কারনটা তারাইআপনার কানে কানে বলে দেবে- অনুগ্রহ কোরে এসব জাল হাদিছের কথা আমাকে শোনাবেন না-

..............................................................
একজন পাঠকের মন্তব্য:-

ডাক্তার সাহেব এখন সব চিকিতসা শাস্ত্র নিয়ে আসছে। এখন দেখিয়ে দেবে ধর্মশাস্ত্র সববৈজ্ঞানিক।

আপনার এইডসের ইতিহাস পড়া দরকার।

বেস্মাল মাত্রার যৌনাচারের অবশ্যই সামাজিক ও শারীরিক প্রভাব আছে, তার জন্য ধর্মগ্রন্থরেমিলানোর কিছু দেখি না। এইডসের ভাইরাস ১৯৮০ সালের পরে এসেছে। এভাবে প্রায়ইনিত্যনতুন ভাইরাস আসে। সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, ম্যাড কা- আরও কত কি। তাই বলি যুক্তিদেবার আগে ভেবে দেবেন।


কুরবানির ঈদে গরু খেয়ে ম্যাড কাউ আক্রান্ত হলে সেটাকে কি বলবেন? গত ঈদে যে এনথ্রাক্সেরকারণে এত চিন্তা-ভাবনা ছড়ালো সেসবকে কি বলবেন। চান্স পাইলেই আর মিলে গেলেই কি ধর্মবই হান্দাই দিতে হবে? কী যে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা!!!!

.............................................................
আমার উত্তর:-

আমি ধর্মান্ধ নই, আবার ধর্মহীনও নই-

সুতরাং আমার যুক্তি এ দুই পদের লোকজনদের বুঝে নাও আসতে পারে-

বে-সামাল মাত্রার যৌনাচারের যে অবশ্যই সামাজিক ও শারীরিক প্রভাব আছে- তা তোআপনি স্বীকার করেছেন- ধন্যবাদ

আর আমি মনে করি এই বে-সামাল মাত্রার অবৈধ যৌনাচারকে শালিনতার পর্যাযে রাখার কথাইতো আমার ধর্ম বলে-

অন্য ধর্ম কি বলে তা আমার দেখার বিষয় নয় এবং বলতেও চাই না-

..............................................................
একজন পাঠকের মন্তব্য:-

আমেরিকা-ইউরোপের প্রায় সবাই ব্যাভিচারী ও বাস্টার্ড (কার্যার্থে)। তাইলে ঐখানে ইসলামকায়েম হইলে কত বেত লাগবে, কত জল্লাদ লাগবে চিন্তা করেন! একেবারে হুলস্থুল কারবার!

..............................................................
আমার উত্তর:-

ইসলাম কায়েম তো হঠাৎ করেই হয়ে যাবে না-

এটি একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস- আর ততদিনে তারা ইসলামের অনেক কিছুই শিখে যাবে,ইনশাল্লাহ-

তবে অজ্ঞদের বেলায় তো সময় দিতে হবে এবং কিছু শিথিলতা থাকবেই-

তাছাড়া জনসমক্ষে কয়েকটা শাস্তি কার্যকর হলে, আপনি যতগুলো বেতের আশংকা করছেন-ইনফ্যাক্ট

ততগুলো বেতের আর প্রয়োজন হবে না-

হুলুস্থুল বা এত চিন্তার কিছু নেই-

...............................................
একজন পাঠকের মন্তব্য:- 

আপনি বলেছেন- //প্রকৃত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় (পাকিস্থান, বাংলাদেশ বা সৌদির মত নয়)ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।//

 

প্রকৃত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা পাকিস্থানে নেই, বাংলাদেশে নেই, সৌদিতেও নেই। তাহলে ঠিককোথায় আছে, বলেন তো?

এইডস প্রতিরোধে কোরানের বিধান দিলেন। সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, ম্যাড কাউ- এসবেরকোরানিক বিধান কি? কোন সূরার কত নাম্বার আয়াতে এসবের উল্লেখ আছে, তা দিলে কিন্তুদুষ্টুলোকেরা ক্যাচাল করার সুযোগ পাবে না।

সাথে কম্পিউটার ভাইরাসের কোরানিক বিধানটা দিলে আপনার জন্য দুহাত তুলে দোয়া করব।আল্লার দোহাই!
................................................
আমার উত্তর:-

প্রতিটি ইমানদার মুসলিম ইসলামি সমাজে বসবাস করতে চায়- কিন্তু তাদের এই অধিকার থেকেবঞ্চিত করে রাখা হয়েছে- তবে এর জন্য মুসলিম নামধারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে- আরএর সুযোগ নিচ্ছে অন্যেরা- বর্তমানে পৃথিবীর কোথাও প্রকৃত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা বলতে যাবোঝায় তা নেই সত্য- তবে অনেক দেশেই এই সমাজ কায়েমের চেষ্টা চলছে- চোখ-কান খোলা নারাখলে তা বোঝা সম্ভব নয়- এটি যেহেতু একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস, তাই সময় তো লাগবেই-ধৈর্য তো ধরতেই হবে- এতে হতাশার কিছু নেই- কারন ইহকালই সব নয়- অনন্ত-অসীম প্রাপ্তিও মুক্তিই একজন মুসলিমের একমাত্র লক্ষ্য-

আল-কোরআন বুঝে না পড়লে- শুধু শুনে শুনেই কিংবা তোতাপাখির মত মুখস্ত করে সুর করেতেলাওয়াত করলেই কি কারো পক্ষে সব জানা সম্ভব?

আমার লিংকগুলো পড়লে তো এমন কথা বলার বা প্রশ্ন করার কথা নয়-

আর কম্পিউটারের ভাইরাস? এগুলো তো মানুষের তৈরি- তাই মানুষের কিতাবেই এগুলোরসমাধান পেযে যাবেন-

যে কোন বিষয়ে সীমালংঘনই সমস্ত বিপর্যয় ও বিপদ-আপদের মূল-

আল-কোরআন মানুষকে এই সীমালংঘন করা থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেয়-

আল-কোরআনে যতটুকু বিধি-নিষেধ দেয়া আছে- তা যদি আপনার কাছে অপর্যাপ্ত বাঅপ্রয়োজনীয় মনে হয়- তবে আপনি আপনার পছন্দের পথে চলতে থাকুন- পছন্দের কথা বলতেথাকুন- আমার বা আমার আল্লাহতায়ালার তাতে কিচ্ছু যাবে আসবে না-

..................................................

বিজ্ঞ পাঠকের প্রশ্ন:-

মাহফুজ! ভাই আমার জানা মতে সূরা নুর এ বলা হইছে,

(২৪:০২) ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর।

 

এই বিধানটা অবিবাহিত নারী পুরুষদের উপর আরোপ করা হইছিল।

 

কিন্তু বিবাহিত পুরুষ বা বিবাহিত মহিলা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে প্রথমত কোরআনঅনুযায়ী শাস্তি-

(০৪:১৫) অর্থ- আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা পাপাচারে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জনকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় "অথবা আল্লাহ তাদের জন্য পথ করে দেন।"

দ্বিতীয়ত "অথবা আল্লাহ তাদের জন্য পথ করে দেন" বলতে রজমকে ইঙ্গিত করা হইছে। এইঅন্য পথটাই রজম যেটা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে কোরআন অন্য কোথাও "অন্য পথ"এর কথা বলা হয় নাই। তবেরজম এর অনেক শর্ত আছে যেটা কাফেররা না জেনেই প্রচার করেথাকে ইসলামকে অবমাননা করার জন্য।

আমার জানা জ্ঞান থেকে বললাম। আল্লাহ নো দ্যা বেস্ট।

...........................................................

আমার উত্তর:-

'আল্লাহ তাদের জন্য পথ করে দেন।'

এখানে পথ করে দেয়া বলতে কেন "রজম" বুঝতে হবে?

আল্লাহ 'তাদের জন্য পথ করে দেন' বলতে তো বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান ও সাথে সাথে তওবাকরার মাধ্যমে মুক্তির পথও হতে পারে-

মহান আল্লাহতায়ালা এসব বিষয় খুব স্পষ্টভাবেই বলে দেন।

যদি 'রজমের' মত এই সাংঘাতিক শাস্তি প্রদান করাই উদ্দেশ্য হত, তাহলে কি মহান স্রষ্টা তাপ্রকাশ করতে কাউকে ভয় পেতেন বা লজ্জা বোধ করতেন?

কখনই না, বরং তিনি অবশ্যই 'রজমের' কথা পরিষ্কার ভাবেই ব্যক্ত করতেন- যেমন ভাবেতিনি পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থে সেই নির্দেশ দান করেছিলেন-

আমার লেখার শেষের বক্তব্যগুলো আরেকবার পড়ে দেখতে পারেন-

অবশ্যই সর্বজ্ঞ আল্লাহতায়ালা নো দ্যা বেস্ট।

.............................................................

বিজ্ঞ পাঠকের প্রশ্ন:-

//বরং এই বিধানটি যেহেতু আল-কোরআনে নেই, তাই ইমানদার হিসেবে এই বিশ্বাস তো অবশ্যইরাখতে হবে রজমের বিধানটি আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতেই তুলে নেয়া হয়েছে।//

=> মাহফুজ ভাই, ব্যাপারটা অনেকটা অনুমান নির্ভর হয়ে গেলো না। যদি সহীহ হাদিসে নাথাকতো এবং যইফ ও জাল হাদিসে থাকতো তাহলে সেই বিশ্বাস রাখা যেত যেটা আপনি বলছেন।আর শিয়াদের দেশ ইরানেও কিন্তু রজম চালু আছে। ইরানী এক মহিলাকে পাথর মেরে হত্যারনির্দেশ দেওয়া হইছিল কিছু দিন আগে। পরে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে সেটা প্রত্যাহার করা হইছিল।সেই মহিলা যেই উক্তিটি করেছিল যে, "ইরানে যেকোন অন্যায় থেকে ব্যভিচারকে খুবইগুরুত্বপূর্ণরূপে দেখা হয়"। আর ইসলাম অনুযায়ী ব্যভিচার অবশ্যই মারাত্মক অপরাধ। সহীহহাদিসে যদি থাকে তাহলে মানতে অসুবিধা কোথায়। যদি কোনদিন বাংলাদেশে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিতহয় তাহলে অবশ্যই রজম চালু করা হবে। যেহেতু আল্লাহর রাসুল চালু করেছিলেন। আর

(২৪:০২) আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেকনা হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক।

 

রজম যদিও আল্লাহর কোরআনের বিধান নয় কিন্তু রাসুল সাঃ এর আনুগত্য আমাদের জন্যফরজ। তাই রজম কার্যকর করতেও যেন আমাদের দয়ার উদ্রেক না হয় কারণ আল্লাহর রাসুলসাঃ এর সাহাবাদের এ ব্যাপারে দয়ার উদ্রেক হয় নি। আমার বিরুদ্ধেও যদি রজম জারী করা হয়এবং যদি আমি অপরাধী হয়ে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি সেটা মেনে নেব।

জাজাকাল্লাহ।

.................................................

আমার উত্তর:-

//(২৪:০২) আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ারউদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক।//

 

ভাই, আমি তো স্পষ্টই বলেছি-

একজন ইমানদার যেহেতু মহান স্রষ্টার বিধানকেই সর্বোত্তম হিসেবে বিশ্বাস করে। কাজেই আল-কোরআনে ব্যভিচারী পুরুষ ও নারী সম্পর্কে ক্ষেত্র বিশেষে যতটুকু কাঠিন্য অবলম্বন করা বা ছাড়দেয়ার বিধান আছে, তাতো তাকে মানতেই হবে। একজন মুসলিম হিসেবে আমার মনোভাবওএকই এবং আমি যে এর পক্ষে কোনরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন বা ছাড় দিতে রাজি নই তা আশ্বস্তকরছি। অন্য কোন মানবতাবাদী (আন্তর্জাতিক আইন) মতবাদ নয়, বরং আল-কোরআন যতটুকুমানবতা দেখানোর পারমিশন দিয়েছে, ততটুকুই ঠিকমত মেনে চলতে পারলেই মানবতার মহৎকর্মটিও যথাযথ ভাবে পালিত হবে বলে আমি সম্পূর্ণ আস্থা রাখি।

 

//মাহফুজ ভাই, ব্যাপারটা অনেকটা অনুমান নির্ভর হয়ে গেলো না।//

 

ভাই, অনুমান নির্ভর কোনটা? যা নেই তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটা কি অনুমান নির্ভর হয়ে যায়না?

আল্লাহতায়ালা বেত্রাঘাতের শাস্তির যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে ব্যপারে তো আমার কোনই আপত্তি নেই-

আর রাসূল (সাঃ) যা করেছেন তা তো আমি অস্বীকার করাছি না এবং আমি বিষয়টি যেভাবেদেখি-

বেশ কিছু হাদিছের উদ্ধৃতি দিয়ে এখনও পাথর ছুঁড়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করার দাবি তোলা হয়।এই হাদিছ গুলোকে সরাসরি অস্বীকার করার মত ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বিশ্বাস করি যে,রাসূল (সাঃ) কোন সময় যদিএ বিধানটি কার্যকর করে থাকেন, তাহলে তখনকার অবস্থারপরিপ্রেক্ষিতে রুক্ষ মরু-এলাকার বর্বর স্বভাবের মানুষ গুলোর জন্য নিশ্চয় তা সঠিক ছিল। একটিহাদিছে (4211) ইহুদিকে ব্যভিচারের শাস্তি দেবার জন্য ইহুদি সম্প্রদায়ের স্মরণাপন্ন হওয়ারএবং তাদের কিতাব অনুসারে শাস্তি কার্যকর করার বিবরন এসেছে। ইহুদিদের কাছে তাদেরধর্মগ্রন্থের সমাধান বের করতে বলা হয়েছে এবং অনেকের উপস্থিতিতে এবং সাক্ষী ছিলবলেই তোতাদের ধর্মগ্রন্থ মতে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

 

তাছাড়া অন্য হাদিছের (4206) বর্ণনা অনুসারে বোঝা যায় যে, তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেআসামীকে বার বার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসামিরা তাদের কৃতকর্মের জন্য এতটাই অনুতপ্তছিল যে তারা পরকালীনমুক্তি পাবার আশায় পার্থিব শাস্তি বরন করে নেবার জন্য নিজেরাইব্যতিব্যস্ত ছিল। রসূল (সাঃ) এর ওফাতের (ইন্তেকাল) পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যেহেতু ওয়াহী আসারসম্ভাবনা ছিল। তাই পূর্ববর্তী কিতাবের এই বিধানটি সম্পর্কে তিনি হঠাৎ করে নেগেটিভ সিদ্ধান্তনিতে পারেন নাই। এ কারনেই হয়ত নতুন কোন বিধান আসে কিনা সেই আশায় বার বারআসামীকে ফিরিয়ে দেবার পরও অগত্যা তাদের মনের বাসনা পূরণের জন্য পূর্বের কিতাবেরবিধানটি কার্যকর করেছিলেন।

 

কিন্তু দেখা যায যে, রাসূলের (সাঃ) ওফাতের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত রজমের বিধানটি আল্লাহরকিতাবে ওয়াহী হিসেবে সংযোজিত হয়নি। যেহেতু আল-কোরআনের বিধান শুধু আরবের জন্যনয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছে। তাই সমগ্র মানবজাতির জন্য আল-কোরআনেবিদ্যমান বিধানই সর্বোত্তম হিসেবে গ্রহন ও কার্যকর করাই মুসলিমদের ইমানী দায়িত্ব এবং এরমধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ রয়েছে।

কিছু দিন আগের যে ঘটনা আপনি উল্লেখ করেছেন-

//এ সব কারনে ইরান একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র হওয়া সত্বেও ইরানী যে মহিলাকে পাথর মেরেহত্যার নির্দেশ দেওয়া হইছিল, পরে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে সেটা প্রত্যাহার করা হয়।//

 

এভাবে রজমের যে বিধানটি আল্লাহর কিতাবে বর্তমান নেই, সেই বিধানকে আল্লাহর আইন বানিয়েনিয়ে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তা আবার বাতিল করাটা কি চরম অবমাননাকর নয়?

 

এখন আমাকে বলুন-

এখনও যদি রজমের বিধানটি থেকে থাকে তাহলে ডান হাতের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যারা বিবাহিত তাদের শাস্তি কিভাবে অর্ধেক করবেন?

১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তিকে অর্ধেক (৫০ বেত্রাঘাত) করা যায়, কিন্তু রজমের শাস্তিকে অর্ধেককরার কোন অর্থ আছে কি?

অথচ আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন-

সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)

২৫: অর্থ- আর তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী সধবাদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তারাযেন তোমাদের (মা-মালাকাত-আইমানুকুম) ডান হাতের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুবতী'যুদ্ধবন্দিনীদেরকে/ ইসলামপূর্ব দাসিদেরকে' বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কেভালোভাবে অবগত আছেন। তোমরা তো একে অন্য থেকে, অতএব তাদেরকে তাদেরঅভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিয়ে কর, আর নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর;বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য- অশ্লীল পাপাচারী হিসেবে নয় কিংবা রক্ষিতা রূপে গ্রহণ করারজন্যও নয়। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি তারা অশ্লীল পাপাচারেলিপ্ত হয়, তবে তাদেরকে স্বাধীন সধবাদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদেরজন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা পাপের ভয় করে। আর যদি ধৈর্য ধারন কর, তবে তা তোমাদেরজন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম-করুণাময়।

 

শুধু তাই নয়- (০৪:১৫) নং আয়াতে তো নারীর ক্ষেত্রে অন্য পথ দেখানোর বিষয়টি এসেছে।তার অর্থ কি তাহলে- আল্লাহতায়ালা শুধু নারীকেই 'রজমের' শাস্তি প্রদানের নির্দেশদিয়েছেন?

 

না, রাহমানুর রাহীম কখনই তা করেন নাই, বরং উভয়কেই শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং শাস্তি ভোগের পর তওবার সুযোগও রেখেছেন। আর বাঁচার সুযোগ না থাকলে তওবা করারসুযোগ মিলবে কেমনে?

 

সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)

১৬: অর্থ- তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন সেই অশ্লীল পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাদের উভয়কেশাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদেরথেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।

১৭: অর্থ- অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন যারা ভূল বশত মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী ও কুশলী।

 

আল্লাহর কিতাবে ব্যভিচারের জন্য যে শাস্তি বর্তমান আছে- তা সমগ্র মানবজাতির জন্য অবশ্যইকল্যাণকর এবং সর্বকালের জন্য উপযোগী। আর সেই শাস্তি দেবার ব্যপারে আমি এক বিন্দুও ছাড়দেবার পক্ষপাতি নই। আবার আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তা বাতিল করারও পক্ষে নই।

 

সুতরাং ব্যভিচারের জন্য বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে পাথর মেরে মেরে প্রাণ সংহার আরনয়। বরং এই বিধানটি যেহেতু আল-কোরআনে নেই, তাই ইমানদার হিসেবে এই বিশ্বাস তোঅবশ্যই রাখতে হবে 'রজমের' বিধানটি আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতেই তুলে নেয়া হয়েছে। আর যা নেইতা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে জালিম সেজে জুলুম করা কোন মুসলিমের কর্ম হতে পারে না। রসূল(সাঃ) এর উপর অতিরিক্ত ভক্তির অজুহাত দেখিয়ে কোনরূপ বাড়াবাড়ি করা সঠিক কিনা তাভেবে দেখা উচিত।

 

ইরানের আল-কোরআন ভিত্তিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই- ইরানে পাথর নিক্ষেপে হত্যার বিধানবিলোপ 

মহান আল্লাহ! তুমি সত্যপন্থিদের সাহস ও শক্তি দাও।

ধন্যবাদ-

.................................................

বিজ্ঞ পাঠকের মন্তব্য:-

হ্যা, এই বিষয়ে আমিও একমত। আমি বিষয়টি চিন্তা করি এভাবে - 

একজন অপরাধীকে দৃস্টান্তমুলক সাস্তি কেন দেয়া হয়? এর মাধ্যমে নিশ্চয়ই অপরাধের ঘটনাটামুছে যায় না বা যারা সেই অপরাধ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন (যেমন নিহত ব্যাক্তি বা ধর্ষিতানারী) তাদের ক্ষতিপুরোনও হয় না।

এর উত্তর হচ্ছে সাস্তি এ'জন্যই দেয়া হয় যাতে পরবর্তিতে অন্যকেউ সেই অপরাধ করতেনিরুৎসাহিত হয়। একজন খুনিকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে হত্যা করার মাধ্যমে যদি আর একজননিরপরাধকে নিহত হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় শুধুমাত্র তখনই এই মৃত্যু দন্ডকে স্বার্থক বলাযায়।

আরবে রাসুল(স.) যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন তখনকার মানুষ চোখের সামনে মানুষ হত্যাদেখতে অভ্যস্ত ছিল। গোত্রিয় সংঘাতে তো বটেই এমনকি কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া বিবাদেরসময়ও একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ করত এবং তলোয়ারের দ্বন্দ যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে হত্যা করত। এটাতখন খুবই স্বাভাবিক ও বীরত্বের ব্যাপার ছিল। সেই সমাজের চোখের সামনে মৃত্যু দেখতে অভ্যস্তমানুষদের স্বাস্তির দ্বারা ভীত করার জন্য বেত্রাঘাত বা ফাঁসি মোটেই কার্যকর ছিল না। এ'জন্যইপাথর মেরে হত্যা বা প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদের ব্যাবস্থা করা হত যাতে মানুষ ভীত হয়ে ঐ অপরাধথেকে বিরত থাকে।

 

আর এই বিষয়টা যে সর্বকালে সর্বযুগে প্রযোজ্য থাকবে না তার ইঙ্গিতও হচ্ছে এই যে কোরআনেএটাকে উল্লখ করা হয়নি। কোরআনে মৃত্যু দন্ডের কথা আছে কিন্তু তা কিভাবে কার্যকর করাহবে তার উল্লেখ নেই। এটা বরং প্রত্যেক যুগের উপযুক্ত ব্যাক্তিদের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেয়াহয়েছে।

 

বর্তমান সমাজের ৯৯.৯৯ ভাগ মানুষ সারা জীবনেও চোখের সামনে অন্য কোন মানুষের মৃত্যু বাহত্যাকান্ড দেখে না। এ'দের জন্য প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত এবং গোপনে শিরোচ্ছেদই অনেক যন্ত্রনাদায়কও আতংকের বিষয়। তাই উপযুক্ত কর্তপক্ষ সময় ও সমাজের অবস্থা বিবেচনায় সাস্তি কার্যকরেরএই পদ্ধতিগুলি বদলাতে পারেন। 

 

ইতিমধ্যেই ইরানের শরিয়া কাউন্সিল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতেঅন্যান্য আলেম ওলামাগনও এই দৃস্টান্ত অনুসরণ করবেন।

...............................................

আমার উত্তর:-

যাক, অনেক দেরিতে হলেও সহমত প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ-

আমার বলাতে অনেকের চোখ না খুললেও, ইরানের আল-কোরআন ভিত্তিক সিদ্ধান্তের বদৌলতেআল্লাহতায়ালা তাদের চোখ খোলার ব্যবস্থা করেছেন।

ভবিষ্যতে ইরানের সরকার এই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে কিনা তা বলা মুশকিল।

কিন্তু তারপরও এই সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইরানের বর্তমান সরকারকে আবারও স্বাগতম।

আল্লাহ মহান! তিনি কার দ্বারা কি করাবেন, তা তিনিই ভাল জানেন।

 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য গুলো না থাকলেই বোধহয় ভালো হতো।

ফরেনসিক এভিডেন্স কি শরিয়া আইনে গ্রহনযোগ্য হবে? অর্থাৎ ৪ জন স্বাক্ষী পাওয়া গেল না, কিন্তু ফরেনসিক এভিডেন্স যদি বিষয়টি নিশ্চিৎ করে, সেক্ষেত্রে শরঈ সিদ্ধান্ত কিরকম হবে?

অনুরণন -

আলোচনার মাধ্যমে বিষটি সহজবোধ্য করার জন্যই মূলত মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য গুলো দিয়েছি-

যেহেতু আল-কোরআনে ব্যভিচারের শাস্তি (ক্ষেত্র ও পাত্র ভেদে ১০০/৫০ বেত্রাঘাত) প্রয়োগের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সুতরাং অপরাধীদের মধ্যে কোন একজনও যদি অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করেন, তাহলে তাদেরকে শাস্তি দিতে হলে চারজন সাক্ষীর ক্রাইটেরিয়া অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে  শুধুমাত্র ফরেনসিক এভিডেন্সের সহায়তা নিয়ে শাস্তি দেয়া যাবেনা।  

কিন্তু অপরাধীদের মধ্যে কোন একজন যদি ব্যভিচারের কথা স্বীকার করেন, তাহলে জড়িদের শাস্তি  দেয়ার জন্য কোন সাক্ষীর প্রয়োজন হবে না। তবে অন্যজন অস্বীকার করলে, তার অপরাধ নিশ্চিত করার জন্য তাকে শাস্তি প্রয়োগের আগে সুযোগ থাকলে ফরেনসিক এভিডেন্সের সহায়তা নেয়া যেতেই পারে। 

তবে ধর্ষককে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ষিতার জবানবন্দী এবং সেই সাথে  ফরেনসিক এভিডেন্স সহ সকল ধরনের আধুনিক কৌশল প্রয়োগ করায় কোন বাধা নেই। আর সাথে যদি দু-একজন সাক্ষী পাওয়া যায় তাহলে তো কোন কথাই নেই। এক্ষেত্রে সাক্ষীর বিষটি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। 

ধন্যবাদ-

অনুরণন -
এর সাথে এই পোষ্টটি দেখে নিলে ভাল হয়-

ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে আল-কোরআনের বিধান-

@হোসেন_মাহফুজ,

আরে আপনি যে ইন্টারনেটে ইহুদী খ্রিষ্টানদের এজেন্ড নাস্তিকদের বই পড়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হয়েছেন তা এই পোষ্ট পড়ে নিশ্চিত হলাম ।

আপনার মা, বোন কিংবা স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হলে আপনি ধর্ষনকারীকে কি শাস্তি দিবেন?????????

এই ধরনের ইসলাম বিরোধী কথা বন্ধ করুন নয়তো মরার জন্য তৈরী থাকুন ।

@আত্মসমর্পণকাৱী
আমাকে ইহুদী খ্রিষ্টানদের এজেন্ট ও নাস্তিকদের বই পড়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হওয়ার অপবাদ দেয়ার আগে নিজের বোধ-বুদ্ধিকে যাচাই করে নিয়েন- 

ব্যভিচার আর ধর্ষন কি এক বিষয় হলো? আপনার ধর্মান্ধ ওস্তাদরা কি কিছুই শেখায় নাই? কি আর শেখাবে- নিজেরা সঠিকভাবে জানলে তো-

এবার এখানে দেখুন-
ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে আল-কোরআনের বিধান-

@হোসেন_মাহফুজ,

আপনি যদি চান আপনার বোনের স্বামী আপনার বোনকে রেখে অন্য নারীর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হোক তাহলে আপনি যা ইচ্ছা শাস্তি দিয়েন ব্যাভিচারীদের, আমরা মুসলিমরা দিবো না, আমরা কুরআন হাদীস মোতাবেক শাস্তি দিবো ।

বিবাহিত ব্যাভিচারীর শাস্তি এবং ধর্ষণকারীর শাস্তি সমান আর তা হলো মৃত্যুদন্ড ।

বিবাহিতরা ব্যাভিচার করলে শুধু নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না , একটা সংসারও ধ্বংস হয়ে যায় । আপনি যদি চান আপনার বোনের সংসার ধ্বংস হউক তাহলে আপনি যা ইচ্ছা শাস্তি দিয়েন ব্যাভিচারীদের, আমরা মুসলিমরা দিবো না, আমরা কুরআন হাদীস মোতাবেক শাস্তি দিবো ।

@হোসেন_মাহফুজ,

আপনার লেখা পাগলরা ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না ।

আপনার লেখায় সত্য আছে 10% আর মিথ্যা আছে 90%, আবার লেখার মধ্যে ঘুরিয়ে পেচিয়ে মিথ্যাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)