হাত-পায়ে মোজা আর আপাদমস্তক ঢাকাকেই কি 'পর্দা' বলে?- শেষ পর্ব

এর পূর্বে এখানে দেখুন-

হাত-পায়ে মোজা আর আপাদমস্তক ঢাকাকেই কি 'পর্দা' বলে?- ১ম পর্ব

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:-  মাঝে মাঝে এই আপাদমস্তক বোরকাআলীদের দেইখা ভয় পাই।

………………………………

লেখক বলেছেন: না ভাই, ভয় পাবার কিছু নেই- তারা ভ্রান্ত পরিস্থিতির স্বীকার। তাই তাদের সামনে সত্যকে স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে হবে-

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- ভাল লিখেছেন। আল্লাহ আপনার ভাল করুন। লিখতে থাকুন।

………………………………

লেখক বলেছেন: পড়ার ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ-

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- 

ভাল লিখেছেন। খুব ভাল লাগল। সত্যিকারের পর্দার সুফলটাযদি মেয়েরা বুঝতে পারতো তাহলে সবাই স্বইচ্ছায় পর্দা প্রথা মেনে চলতো। যেমন পশ্চিমেরঅনেক মেয়ে এখন পর্দা করছে। আর পর্দার কথা উঠলেই এক শ্রেনীর লোক নারীদের ইজ্জতগেল বলে বলে চিৎকার করে। কিন্তু পর্দার নির্দেশ পুরুষদের জন্যই যে প্রথম নাযিল হয়েছেএটা বেশী বেশী প্রচার করতে হবে।


নারীবাদীদের চিন্তাও বিচিত্র। শালীনভাবে চলতে বললে তাদের ইজ্জত চলে যায়, আর লাক্সফটোসুন্দরী, বা যে কোন সুন্দরী প্রতিযোগীতার নামে শত শত লোকের সামনে অর্ধ উলঙ্গহয়ে ঘুরতে পারলে ইজ্জত বাঁচে। আদ্ভুত

………………………………

লেখক বলেছেন: পড়ার ও যুক্তিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ-

……………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- 

একটা জনপ্রিয় খেলা আছে এ'রকম - এক সারিতে অনেকগুলিবাচ্চাকে দাড় করিয়ে প্রথম জনকে একটি কথা কানে কানে বলে দিতে হয়, সে সেই কথাটিদ্বিতীয় জনের কানে কানে বলে এবং এ'ভাবে চলতে থাকলে লাইনের সর্বশেষ বাচ্চার কাছেগিয়ে দেখা যায় মুল কথাটি সম্পুর্ণ বদলে গেছে।

ধর্মীয় বিধানের বিবর্তনের সাথে এই খেলাটির দারুন মিল আছে। দেড় হাজার বছর আগেআরবে যে জীবন বিধান কার্যকর হয়েছিল আমরা বহু প্রজন্মের বহু মানুষের মাধ্যমে তাপেয়েছি। প্রত্যেক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে যদি ১-২% হারেও বদলে যায় তাহলেও তারচেহারা সম্পুর্ন পাল্টে যাওয়া মোটেই বিচিত্র নয়। হয়েছেও তাই।

আমার মায়ের কাছে গল্প শুনেছি নানা বাড়ির লোকদের পর্দা সম্পর্কে। তাদের সময় মনেকরা হত নারীদের শারিরিক কাঠামো দেখানোও বৈধ নয়। তাই ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বের (প্রথানতপীর) পরিবারের নারীরা অন্ধকার রাত ছারা ঘরের বাইরে বের হতেন না। এমনকি ঘরথেকে নৌকায় বা পাল্কিতে ওঠার সময় তাদের উপর মশারী ধরে রাখার ঘটনাও তখন দেখাযেত। এই কঠোরতা একদিনে হয়নি - প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অল্প অল্প করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পৃথিবীর সকল ধর্মই এই একই সমস্যায় জর্জরিত। তবে অন্য ধর্মগুলোর চেয়ে ইসলামকিছুটা ভাল অবস্থানে আছে এ'কারনে যে আমাদের মুল গ্রন্থ আরবী কোরআন এখনওঅবিকৃত আছে। তাই আমরা এখনও কোরআন থেকে শিক্ষা নিয়ে অগ্রনযোগ্য পরিবর্তনগুলিচিন্হিত করতে ও সতর্ক হতে পারি। কিন্তু যেসকল ধর্মের মুল গ্রন্থই বার বার অনুদিত ওবিভিন্ন ব্যাক্তি দ্বারা সংকলিত হওয়ার কারনে বদলে গেছে তাদের সেই সুযোগটাও নাই।

যাই হোক, আপনার এই প্রচেস্টাকে সাধুবাদ জানাই। পর্দার ব্যাপারে আমিও খুব বেশীকড়াকড়ির পক্ষে নই। আর স্থান কাল অবস্থা ভেদে সর্বাবস্থায় এই ধরনের পর্দাওগ্রহনযোগ্য মনে হয় না। ধরুন একই নারী যখন পরিবার পরিজনসহ দিনের বেলা রাস্তায়চলবেন তখন তার পোষাক এবং যদি তিনি একা রাতে কোথাও যেতে বাধ্য হন তখনকারপোষাক একই মানের হওয়া যৌক্তিক নয়। তাই আসলে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে নারীদেরশিক্ষা, সচেতনতা ও ব্যাক্তিত্ব। তাহলে তারা নিজেরাই ঠিক করে নিতে পারবে কোনপরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তার জন্য কতটুকু পর্দা জরুরী। তবে আপনি যেভাবে বলেছেনকোরআনের নির্দেশনা অনুসারে একটা নুন্যতম শালিনতা সর্বাবস্থায়ই মেনে চলতে হবে।ধন্যবাদ

……………………………….

লেখক বলেছেন: পড়ার ও অতীত থেকে স্মৃতীচারন করে বিস্তারিত বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আল-কোরআনে যে পর্দার কথা বলা হয়েছে তা সর্বাবস্থায় এবং সর্বকালের জন্য অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।

রাতের আঁধারে একাকী পথ চললে নারী-পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়। এক্ষেত্রে শুধু পর্দা নয়, সেইসাথে সক্ষম, দক্ষ ও ন্যায়বান প্রশাসনিক নজরদারিও দরকার।

……………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য ও প্রশ্ন:- কুরানের ব্যপারে তো বললেন। ভাল লাগল।

কিন্তু হাদীসের ব্যপারে কিছু বলবেন কি?

নবিজীর জামানায় কি আপনার মতাদর্শের মত করে সাহাবীরা (রা.) চলতেন?

জানালে উপকৃত হব।

………………………..........

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ-

ভাই, ছোট্ট একটা প্রশ্ন করি- রাসূল (সাঃ) এর যুগে যেরূপ মসজিদে সাহাবাগণ নামাজ আদায় করতেন, আমাদের বেশির ভাগ মসজিদ কি তেমনটি আছে?

তাই বলে কি বলা ঠিক হবে যে, আর মসজিদেই যাব না।

মূল বক্তব্যটি হলো, সময়ের সাথে রুচিবোধ কিছুটা পল্টালেও মূল থিমটা যেন অটুট থাকে।

আমি একজন মুসলিম, সুতরাং আল-কোরআনের বাহিরে আমার কোন আলাদা মতাদর্শ নেই।

জী ভাই, কোন্ কোন্ হাদিছের ব্যপারে জানতে চান তা উল্লেখ করলে আমারও বলতে সুবিধে হবে।

বিস্তারিতভাবে জানার আগ্রহ থাকলে- বাংলায় অনুবাদকৃত “রাসূলের (সাঃ) যুগে নারী স্বাধীনতা” নামক বইটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বইটির লেখক “আবদুল হালিম আবু শুককাহ্”। প্রকাশ করেছে “ইনাটারন্যাশ্নাল ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক থটস্”, বাংলাদেশ, ফোন নং- ৮৯২৪২৫৬

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- 

অসাধারন। অনেক কষ্ট করে এতো বড় একটা কাজ করার জন্যআল্লাহ আপনাকে উপযুক্ত সম্মানে সম্মানিত করুন ।

…………………………………

লেখক বলেছেন: মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন-

.............................................................................
জনৈক পাঠকের মন্তব্য ও প্রশ্ন:- এই লেখার সার কথাগুলো হলঃ

সব সময়ের জন্যই এমন পোষাক পড়া উচিত নয় যাতে নারীদের/পুরুষদের   দেহেরআকর্ষনীয়  অঙ্গসমূহ প্রকাশ   

হয়ে পড়ে। তাই সাবার সামনেই [বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর  মাঝে (০২:২২৩) নং   আয়াত অনুসারে শীথিলতা রয়েছে] ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়েযাওয়াই ধর্মপরায়ণতার পরিচায়ক। সেই সাথে নারীদের ক্ষেত্রে (২৪:৩১) মাথার ওড়নাদিয়ে গলা ও বুক ঢেকে রাখতে হবে। যাদের সাথে বিয়ে (৪:২৩) বৈধ নয়, তাদেরসামনে অতিরিক্ত হিসেবে ঘরের মধ্যে চাদর না জড়ালে দোষের কিছু নেই। আর যে সবপুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ, তাদের সামনে বা বাহিরে যাবার সময় গায়ের (৩৩:৫৯)চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে। (২৪:৩১) জাক-জামকের সাথেঅতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শন করার মতলবে চলাফেরা করাওবৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। অযথা একাকী রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা ও যাদের মধ্যে বিয়েবৈধ তাদের সাথে (একজন পুরুষ ও নারী একাকি) নির্জনে কথা বলা বা সময় কাটানোকঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

লেখাতে যে ছবিগুলা ব্যবহার করেছেন, সে ছবিগুলা কোন একটি বিশেষ দেশের মেয়েদেরপোষাক, এবং এইটাকে পর্দা হিসাবে মানতে আপনাদের খুব ভালো লাগে। এই সব মেয়েরাতাদের উন্নত বক্ষ দেখানোর জন্যই এই রকমের পর্দা করে!

কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েরা ঢিলেঢালা সালোয়ার-কামিজ পরে মাথায় কাপড় দিলেও তাআপনাদের চোখে অশ্লীল লাগে!

………………………………

লেখক বলেছেন: পর্দা তো পর্দাই- তা কোন বিশেষ দেশের পোষাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়।

//ঢিলেঢালাসালোয়ারকামিজের সাথে মাথায় কাপড় বা চওড়া ওড়না দিলেযে পর্দার হক আদায় হবে না//- 

এই ধরনের অদ্ভুত কথা তো আমি  বলি নাই ভাই। বরং যেকোন ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পরে মাথায় ওড়না জড়িয়েও যে পর্দা করা যেতে পারে, আমি তো সে কথাই বলেছি।

লেখাতে যে ছবিগুলো ব্যবহার করেছি, সেগুলো কোন বিশেষ দেশের মেয়েদের পোষাক হতে পারে- কিন্তু তাই বলে এখানে উন্নত বক্ষ দেখানোর অভিযোগটি মোটেই ঠিক হলো না। এ ধরনের কথায় সংকীর্ণ মনের পরিচয়ই ফুটে ওঠে।

বক্ষ উন্নত দেখানোর ইচ্ছে থাকলে তো যে কোন পোষাক পরিধান করেই তা দেখানো যেতে পারে, কিন্তু তখন তো সেটা আর পর্দা করা হলো না- তাইনা?

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- চমৎকার +

মুখ ঢাকা বোরখা দেখলেই রাগ লাগে, মনেহয় উম্মুল মুমিনিন দের মর্যাদায় টান দেয়াহচ্ছে। মুখ তো আর ছতরের অংশ না, তাহলে ধর্মের নামে মুখ ঢাকা বোরখা পরা নিশ্চইবেদাত।

……………………………………

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালা যেন সত্যকে জানার ও সঠিকভাবে মানার এবং তাঁর প্রদর্শিত সরল পথে চলার তৌফিক দান করেন-

………………………………………………………………………………………........

জনৈক পাঠকের মন্তব্য ও প্রশ্ন:- 

আমি এক বয়ানে দেশের বড় আলেমদের মধ্যে অন্যতমআলেম, নূরুল ইসলাম ওলিপুরী (দাঃ বাঃ) এর মুখে শুনেছে যে,

ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর মতে "যে সমাজে পুরুষ মানুষ, মহিলা মানুষের দিকেকুদৃষ্টি দিয়ে তাকায় না, সেই সমাজে মহিলাদের মুখ খোলা রাখা জায়েজ"

আর ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর মতে "মহিলাদের মুখ খোলা জায়েজ নেই"


তার পর উনি বললেন যে, "তাহলে দুই সাহাবির দুই মত হয়ে গেল না? আসলেদুই সাহাবীর মত একই" কিভাবে??

তারপর উনি প্রশ্ন করলেন, "পৃথিবীর এমন কোন সমাজ কি বর্তমানে আছেযেখানে মহিলাদের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে তাকানো না হয়?"

নেই, তাহলে দুই সাহাবি (রাঃ হুম) এর একই মত যে শর'ঈ পর্দা করতে হলে মুখ খুলা রাখাযাবেনা এবং যদি বোরখা পরার পর বোঝা যায় যে, আপনি বা একজন নারী যুবতী তবে,ইভটিজিং হওয়া স্বাভাবিক, যদিও সে বোরখা পরেছে। তাই আল্লাহ তা'আলা কোর'আনে যেওয়াদা করেছেন তা ঐসমস্ত নারীদের জন্য যারা শরঈ পর্দা করে এবং হাত মোজা পা মোজাপরে। 


আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমিও উক্ত সাহাবীদের ব্যাখ্যার রেফারেন্স খুজতেছি কারনএটা একটা দাঁত ভাঙা জবাব যারা বলে যে, মুখ খুলা জায়েজ। যদি কারও কাছে এইব্যাখ্যার রেফারেন্স থাকে তবে আমাকে জানাবেন।

……………………………

লেখক বলেছেন: ভাই, আমি আপনার মন্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি-

আমি মহান আল্লাহতায়ালার গ্রন্থ থেকে স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছি। এরপরও যদি কেউ অন্য কারো নাম উল্লেখ করে দেনদরবার করতে চান, সেটা তার ব্যক্তিগত অভিরুচি।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর যে সব উক্তি তুলে ধরলেন তা হদিছ নয়। একান্তই তাদের ব্যক্তিগত অভিমত হলেও হতে পারে। আপনি কোন রেফারেন্স দিতে পারেন নাই। এগুলো আদৌ তাদের বক্তব্য কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়।

আপনি যেসব ব্যাখ্যার রেফারেন্স খুঁজছেন সেগুলোর ম্যানমেইড গোজামিল দেয়া অনেক ব্যাখ্যাই হয়ত পেতে পারেন। কিন্তু সেগুলো কখনই আল্লাহতায়ালার সার্বজনীন বিধানের সমকক্ষ হতে পারবে না।

সুতরাং আল-কোরআন ও সহী হাদিছ বাদে অন্য কারো মতামত বা বক্তব্য ইসলামের বিধানের অন্তর্ভূক্ত নয় বিধায় তা পালন করার ক্ষেত্রেও কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

শুধু মহিলাদের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে তাকানোর মত পুরুষ লোকই নয়, পুরুষদের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে তাকানোর মত মেয়ে লোকের অভাবও কোন যুগেই ছিল না। কাজেই আল-কোরআনের বিধানকে পাশ কাটিয়ে মুখ ঢাকার বিষয়ে যদি বাড়াবাড়ি করতেই হয়, তাহলে শুধু নারীকে নয় বরং নারী ও পুরুষ উভয়কেই মুখ ঢাকতে হবে।

আপনি একজন নারীর প্রতি কুদৃষ্টি দেবেন আর তার জন্য সেই নারীকে আল-কোরআনেরবিধান মেনে পর্দা করলেও হবেনা- বরং তাকে 'আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢেকে হাতে পায়েমোজা পড়ার মত অতিরিক্ত ম্যানমেইড বিধান' চাপিয়ে দেবেন- এটা কেমনতর যুক্তিহলো!?

তার চেয়ে আপনার যুক্তি মতে বরং কুদৃষ্টি নিক্ষেপকারীর চোখে কালো পট্টি বেধে দেয়ার ব্যবস্থা করলেই ভাল হয়না কি?

……………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- আলেমগনকে নিয়ে কথা বলতে হলে একটু সাবধানে বলবেন,আর নয়ত আপনি আমান্য করছেন কোর'আন শরিফের আয়াত।

(সূরা ফাতির-২৮)

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্'পাকের বান্দাদের মধ্য হতে শুধুমাত্র আলেমগণই আল্লাহ্'পাককে ভয়করে।’’ 
যেহেতু আল্লাহ বলতেছেন তারা বেশি ভয় পায় সেহেতু তারা কোন বানোয়াটি আর ভুল তথ্যদিবেনা এটাই স্বাভাবিক। 

আজকে একদল বের হয়েছে যারা আলেম সমাজ থেকে সাধারন মুসলমানদের কে দূরেসরানোর জন্য বলছে নিজে হাদিস এর বই পড় এবং ইসলাম বুঝ।

……………………………….......

লেখক বলেছেন:

৩৫) সূরা ফাতির (মক্কায় অবতীর্ণ)

২৮) অর্থ- অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুস্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।

আল্লাহতায়ালা পক্ষপাতিত্ব ও বর্ণবাদী মনোভাব থেকে মুক্ত। তাই তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্তকরছেন যে, মানুষ যে কোন বর্ণেরই হোক না কেন, জ্ঞানী ব্যক্তিরাই মহান স্রষ্টাকেসঠিকভাবে চিনতে ও জানতে পারে এবং তাঁর মহান সৃষ্টিকর্ম অনুধাবন করতে সক্ষম।শুধুমাত্র অন্ধ বিশ্বাস যেমন মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, আবার শুধুমাত্র পার্থিবজ্ঞনও মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধে থেকে একজনবিশ্বাসী মানুষ যখন একাধারে ঐশী ও পার্থিব জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত হন, তখন তিনিসত্যকে শুধু উপলব্ধি নয়, বরং স্রষ্টাকে সত্যি সত্যি ভয় করেন বলেই সত্যকে প্রকাশকরারও সৎ সাহস অর্জন করেন। কাজেই এখানে আলেম বলতে আপনি যদি নির্দিষ্ট ওসংকীর্ণ কোন গন্ডির মাঝে আবদ্ধ মানুষদের বোঝাতে চান, তাহলে তা এই আয়াতের মৌলনির্দেশনাকে অবশ্যই ব্যহত করবে। কারন মহান আল্লাহতায়ালা যে সব জ্ঞানী মানুষদেরকথা বোঝাতে চেয়েছেন স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে তাদের বিশ্বাস, স্বভাব ও চরিত্রের মাজেমৌলিক কোন পার্থক্য নেই। ফলে তারা নির্দিষ্ট কোন গন্ডির মাঝে আবদ্ধ থাকার ত্রুটি থেকেসর্বদা মুক্ত থাকেন।

…………………………………………………………………………………….

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- যখন হিজাব শব্দটি আসে তখন তার শর'ঈ অর্থ এটাই বোঝাযায় যে, নারী মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে থাকবে। পবিত্র কুরআন কারীমের সূরা আলআহযাবে মুসলিম নারীদেরকে স্পষ্টভাবে এই নির্দেশ দান করা হয়েছে যে, যখন তারা ঘরথেকে বাইরে বেরোবে তখন তারা যেন তাদের শরীরে জিলবাব ঝুলিয়ে বের হয়। আল্লাহসুবহানাহু তায়ালা বলেছেন, ‘‘হে নবী (সাঃ)! তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকেও মুমিন নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপরটেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবেনা।’’(সূরা আহযাব-৫৯)

এ আয়াতটি পর্দা সম্পর্কে অত্যন্ত পরিষ্কার ও স্পষ্ট। কারণ এ আয়াত দ্বারা জানা যায় যে,পর্দার নির্দেশের মধ্যে মুখমন্ডল ঢাকাও অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এ আয়াতের মুতাহ্হারাত(রাসূলুল্লাহর (সঃ) পূত পবিত্র সহধর্মিণীগণ ও নবীর (সাঃ) কন্যাগণের সাথে মুসলিমমহিলাদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে। এ আয়াতে ‘জালবীব' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে,যা ‘জিলবাব' শব্দের বহুবচন। আরবি অভিধানের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘‘লিসানুল আরাব’’-এলেখা হয়েছে যে, ‘‘জিলবাব’’ ঐ চাদরকে বলা হয় যা মহিলারা নিজেদের মাথা থেকে পাপর্যন্ত ঢাকার জন্য ব্যবহার করে। (খন্ড ১, পৃষ্ঠা : ২৭৩) অভিধান থেকে সরে গিয়েমুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ দেখলেও জানা যায় যে, ‘‘জিলবাব’’ এমন কাপড়কে বলে যাদ্বারা মহিলারা নিজেদের শরীর ঢেকে থাকে। তাই আল্লামা আলুসী (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবন'আববাস (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, ‘‘জিলবাব সেই চাদরকে বলে, যামহিলারা দেহের উপর থেকে নিজ পর্যন্ত উড়িয়ে ছেড়ে দেয়।

(রূহুল মা'আনী-২২/৮৮) ‘আল্লামা ইবন হায্ম (রহঃ) লিখেছেন, আরবি ভাষায়‘‘জিলবাব’’ এমন কাপড়কে বলা হয় যা সমস্ত শরীর আচ্ছাদন করে। যে কাপড় সমস্তশরীর ঢাকে না, সে কাপড়ের ক্ষেত্রে ‘‘জিলবাব’’ শব্দটির প্রয়োগ সঠিক ও শুদ্ধ নয়।(আল মুহাল্লা ঃ ৩/২১৭) রূহুল মা'আনী গ্রন্থের লেখক এর তাফসীরে লিখেছেন : শব্দটিঅভিধানে কোনো জিনিস নিকটবর্তী করা অর্থে বলা হয়। এখানেই শব্দটি ঝুলানো এবংফেলে দেয়া অর্থে এসেছে। কারণ শব্দটিকে এখানে (আলা) অব্যয় দ্বারা কর্মবাচক ক্রিয়াতেরূপান্তর করা হয়েছে। (রূহুল মা'আনী-২২/৮৮) ‘আল্লামা যামাখশারী শব্দটির ব্যাখ্যাকরতে গিয়ে লিখেছেন : এর অর্থ এই যে, মহিলারা নিজেদের মুখমন্ডলের উপর চাদরদেবে। যেমন : যখন কোনো মহিলার মুখমন্ডল থেকে নেকাব সরে যায় তখন তাকে বলাহয় : তোমার মুখমন্ডলের উপর তোমার কাপড় ফেলে দাও। (প্রাগুক্ত) এর দ্বারা জানাগেল যে, কুরআন কারীমের এই আয়াতে মুখমন্ডল ঢাকা স্পষ্ট নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে।কোনো কোনো সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা পর্দা হিসেবে‘‘জিলবাব’’ ব্যবহারের নিয়ম-পদ্ধতিও বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবন আববাস(রাঃ) মুখমন্ডলের উপর জিলবাব পরার বা ব্যবহারের যে পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন তাহলো এই যে, মুসলিম মহিলারা নিজেদের চাদর দ্বারা নিজ মাথা ও মুখমন্ডল ঢেকে বেরহবে। তারা কেবল একটি চোখ খোলা রাখতে পারে। (ফাতহুল কাদির : শাওকানী,৭/৩০৭) জনৈক ব্যক্তি ‘উবায়দা ইবন সুফইয়ান ইবন হারিছ হাদরামী (রাঃ) এর নিকটনিকাবের নিয়ম পদ্ধতি জানতে চায়। তিনি নিজের চাদরটি উঠিয়ে এমনভাবে ছড়িয়ে দেনযে, তাঁর মাথা ও কপাল ভ্রু পর্যন্ত ঢেকে যায়। তারপর চাদরের কিছু অংশ মুখমন্ডলেরউপর এমনভাবে রাখেন যে, গোটা মুখমন্ডল ঢেকে যায়, কেবল একটি চোখ খোলা থাকে।(তাফসীরে কুরতবী-৪/২৩৪) সূরা আল-আহযাবের উল্লেখিত আয়াতের তাফসীর করতেগিয়ে সকল মুফাসসির মুখমন্ডল ঢাকা হিজাবের অত্যাবশ্যক অংশ গণ্য করেছেন।আবুবকর আর-বাযী ও আল জাসসাস আল হানাফী (রহঃ) বলেন: এ আয়াত দ্বারাপ্রমাণিত হয় যে, যুবতী মহিলারা ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর সময় বেগানা পুরুষের দৃষ্টিথেকে তাদের মুখমন্ডল আবশ্যিকভাবে ঢেকে রাখবে, যাতে দুষ্ট প্রকৃতির কেউ তাদেরকেবিরক্ত করতে না পারে। (আহকামুল কুরআন : ৩/৩৭১)

………………………………

লেখক বলেছেন: সূরা আল আহযাব (মদীনায় অবতীর্ণ)

(৩৩:৫৯) অর্থ- হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে যেখানে বলা হচ্ছে- (তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে।)

অথচ আপনি/ আপনারা শেষ পর্যন্ত 'জিলবাবের' যে অর্থ খাড়া করলেন তা অহেতুক বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছুই নয়। মূলত 'জিলবাব' অর্থ (33:59:11) jalābībihinna- their outer garments) এমন একখানা চাদর, বাহিরে বের হবার সময় যা দিয়ে সহজে নারীরা তাদের 'জিনাত' অর্থাৎ শরীরের যে গোপন ও আকর্ষণ করার মত বিশেষ অঙ্গগুলো রয়েছে (বক্ষ, গ্রীবা, পাছা ইত্যাদি) সেগুলো যেন ভালভাবে ঢেকে নিতে পারেন। এখানে সেই চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপরে টেনে নেবার কথাও বলা হলো। অর্থাৎ আমাদের দেশের অনেক মা, বোন ও কন্যারা ভালভাবে শরীর ঢেকে মাথায় যেভাবে ঘোমটা টেনে নেন সেটাই যথেষ্ট। যদি কেউ বোরখা পড়তে চান সেটাও পড়তে পারেন। কিন্তু তাই বলে হাতে পায়ে মোজা পড়ে মুখমন্ডল সহ নারীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে কিংভূকিমাকার সাজার কোন নির্দেশই এখানে দেয়া হয়নি। বরং ‘এতেতাদেরকে চেনা সহজ হবে’ এই বক্তবব্যের মাধ্যমে তাদের মুখমন্ডল খোলা রাখার পারমিশনই দেয়া হয়েছে। কারন মুখমন্ডল খোলা না রাখলে চেনার প্রশ্নই আসে না। অথচ আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত বিধানের বাড়াবাড়ি করার কারনে মুখমন্ডল ঢাকার অযুহাতে সমাজে যে অনেক ধরনের ক্রাইম হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও ইবন হারিছ হাদরামী (রাঃ) এর যে সব উক্তি তুলে ধরলেন তা হদিছ নয়। হয়ত একান্তই তাদের ব্যক্তিগত অভিমত হলেও হতে পারে। নানা মুনির নানা মতের মাঝে যেমন বৈসাদৃশ্য রয়েছে, তেমনি আল-কোরআনের বক্তব্যকে কম-বেশি করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টাও করা হয়েছে। তাছাড়া আপনি যেসব রেফারেন্স দিয়েছেন তারও কোন ভিত্তি নেই। স্বার্থবাদীরা সব সময়ই অন্যের নামে চালানো এসব ভিত্তিহীন বক্তব্যকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রেখে ফায়দা লুটতে চায়।

যেখানে মহান আল্লাতায়ালা পর্দার বিধান দেবার প্রথম শর্ত হিসেবে পুরুষ ও নারী উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন, সেখানে শুধু নারীদের মুখটাই আপনারা পুরুষদের দৃষ্টি থেকে ঢেকে রাখার একতরফা আইন প্রণয়ন করতে বদ্ধপরিকর। আপনাদের যুক্তি অনুসারে তো তাহলে দুষ্ট পুরুষ কিংবা দুষ্ট নারীর কু-দৃষ্টি থেকে মুখমন্ডল হেফাযত করতে চাইলে উভয়েরই মুখ ঢাকার আইন করা দরকার। কিন্তু পুরুষ বলেই তা আপনারা পারবেন না।

আফসোস! আপনি বার বার তাদের কথাগুলো বলছেন যার কোন ভিত্তি নেই। আল-কোরআন ছেড়ে ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত মতামত ও মতভেদকে প্রাধান্য দেয়াকেই আপনারা ধর্ম ভাবছেন। আর সেই মতভেদের মাঝে নিজের বোধ হরিয়ে আল্লাহর দান করা দুটি ভাল চোখের একটিকে ঢেকে নারীদেরকে একচোখ কানা বানিয়ে রাখতেও আপনাদের বাধে না। এভাবে নিখুত অঙ্গ বিকৃত করার বুদ্ধি যারা দিচ্ছেন, অবশ্যই শেষ বিচারের দিনে তাদেরকে জবাব দিতে হবে। স্রষ্টার দান করা স্বভাবিক অঙ্গকে যেভাবেই বিকৃত করা হোক না কেন- তা কখনই ইসলাম সম্মত নয়।

আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক- সেই দোয়া করি।

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- আসসালামু আলাইকুম।

আপনার লেখাটি সুন্দর হয়েছে তবে ছবিগুলো দেয়ার কারণে কেউ কেউ আপনার লেখারমর্মার্থ বুঝতে পারেন নি।

আপনি মুখমন্ডল খোলা তিন জন নারীর ছবি দিয়েছেন, যাদের কেউই বুকের উপর ওড়নাটেনে আনেন নি। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় জন ঠোঁটে লিপস্টিক আর চোখে সৌন্দর্য্যউপকরণ ব্যবহার করেছেন যা তাদের মুখমন্ডলকে আকর্ষনীয় করেছে, অতএব এইগুলোবর্জনীয়। এবং তৃতীয়জন বেশ আঁটোসাটো বোরখা পরেছেন যা শরীয়াহ-র স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আমি এখানে আমার ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে চাই,

নারীদের ঘরের বাইরে যাবার প্রয়োজন হয় খুব সামান্যই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে তা ভিন্নহতে পারে। যেমন, ঘরে অন্য কোন উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি না থাকলে হয়তো কোন নারীকেউপার্জনের চেষ্টা করা লাগতে পারে। এছাড়া একান্তই নারীদের কোন কেনাকাটা করারপ্রয়োজন হতে পারে। অথবা কোন দাওয়াতে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

অতএব, ঘরে বা পরিচিত লোকদের আশপাশে কিছুটা শৈথিল্য দোষের নয় বলেই আমিমনে করি। তবে ঘরের বাইরে যাবার ক্ষেত্রে বর্তমান জাহেলীয়াতের যুগে মুসলিম নারীদেরনিরাপত্তার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পর্দা। আর হাত-মোজা, পা-মোজা-র ক্ষেত্রে আমিকোন প্রয়জনীয়তা খুঁজে পাইনা।

অনেকে মনে করেন বোরখা পড়লেই পর্দা হয়ে যায় যা হলো জ্ঞানের অভাব। তাই, পর্দাবোঝার জন্য আগে সঠিক ইসলামী জ্ঞানের প্রয়োজন।

……………………………………

লেখক বলেছেন: ওয়ালাইকুমুস সালাম----

সাজেশন দেবার জন্য ধন্যবাদ।

আমি মুখমন্ডল খোলা এমন তিন জন নারীর ছবি দিয়েছি, যারা বোরখা পরিহিত। তারা কিন্তু মাথার কাপড়টি ঠিকই বুকের উপরে ফেলে রেখেছেন। বাস্তব ক্ষেত্রেও বোরখা পরিহিত কোন নারীকে সচরাচর এক্সট্রা ওড়না নিতে দেখা যায় না এবং এর খুব একটা প্রয়োজনও নেই। তবে কেউ চাইলে অতিরিক্ত হিসেবে নিতেও পারেন।

ছবির মাধ্যমে আঁটোসাটো বোরখা চিহ্নিত করা মুশকিল। যদিও নারীদের পোষাকের ব্যাপারে আপনার প্রখর দৃষ্টিশক্তি তা খুটে খুটে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে!?

তবে ঢিলে ঢালা পোষাক পড়ার বিষয়টি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনা করার অবকাশ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি একমত।

হাঁ, উগ্র সাজ সাজ্যা আমিও পছন্দ করি না। তবে শালিনতা বজায় রেখে ঠোঁটে লিপিস্টিক ও হাতে মেহেদি তো নারীদেরই মানায়। আজকাল কিন্তু অনেক দাড়ি ও পাগড়ি ওয়াপলা হুজুরকেও দশ আঙ্গুলে মেহেদি পড়তে দেখা যায়।

//নারীদের ঘরের বাইরে যাবার প্রয়োজন হয় খুব সামান্যই।//- আপনার এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। করান অযথা ঘোরাফেরা নয়, বরং গ্রহণযোগ্য অনেক কারেনই নারীদেরও ঘরের বাইরে যাবার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কম নয়, বরং বেশিই হবে। নারীদের কিভাবে ঘরের বাহিরে যেতে হবে আল-কোরআনে প্রদত্ত সেই নির্দেশটি মেনে চললেই তো হলো।

শুধু বর্তমান জাহেলীয়াতের যুগেই নয়, সব যুগেই মুসলিম নারীদের নিরাপত্তার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পর্দা। সেইসাথে সক্ষম, দক্ষ ও ন্যায়বান প্রশাসনিক নজরদারিও অতীব জরুরী বৈকি।

//অনেকে মনে করেন বোরখা পড়লেই পর্দা হয়ে যায়, যা হলো জ্ঞানেরঅভাব। তাই, পর্দা বোঝার জন্য আগে সঠিক ইসলামী জ্ঞানের প্রয়োজন।//- আপনার এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।

……………………………………………………………………………………
জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- এটাও সত্যি যে, যে নারী অধিক তাক্বওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যেসম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখবে সেটি তাঁর নিজস্ব ব্যাপার ও স্বাধীনতা।

ব্যপারটা অনেকটা এরকম, আপনি মুসলিম রাষ্ট্রে আইন করে ফরজ নামাজ আদায়েরব্যবস্থা করতে পারেন কিন্তু তা নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অবশ্যই যিনি ফরয আদায়ের সাথে সাথে নফল আদায় করেন তিনি আল্লাহতা'লার কাছেবেশি প্রশংসিত হবেন। তবে তা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

তেমনি পর্দার সর্বনিম্ন স্তর যা আল্লাহতা'লা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার জন্য সমাজ ওরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করতে পারে যদি তা ইসলামিক রাষ্ট্র হয়। কিন্তু বাকিটা পুরুষ বা নারীরইচ্ছা। এক্ষেত্রে তাকে অন্যায় চাপ (যেমন অনেক জায়গায় হাত-মোজা, পা-মোজা পড়ারজন্য স্বামীরা স্ত্রীদের মারধর করেন) প্রয়োগ করা উচিৎ নয়।

তাই আমি মনে করি সর্বাগ্রে এর জন্য প্রয়োজন পর্দা সম্পর্কে সঠিক শিক্ষার যা একজননারীকে আরো বেশী তাকওয়া অর্জনে উদ্বুদ্ধ করবে। এবং এই শিক্ষা আসতে পারে পরিবারথেকে।

……………………………………

লেখক বলেছেন: //আপনি বলেছেন- তেমনি পর্দার সর্বনিম্ন স্তর যা আল্লাহতা'লানির্ধারণ করে দিয়েছেন//

নাউযুবিল্লাহ! ভাই, আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নিধারিত স্তরকে সর্বনিম্ন স্তর ভাবাটা কি ঠিক হলো!!??

কথাটি যে সেন্সেই বলে থাকেন না কেন- মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত বিধানই সার্বজনীন ও সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত না হলে বিভ্রান্তি অবধারিত। মহান আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নিধারিত স্তরই সর্বোচ্য স্তর হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং যা জান্নাত প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট।
হক্ক অবশ্যই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী ও বাতিলের উপরে জয়ি হবে- কারন মহান আল্লাহতায়ালা হক্ক ও সরল পন্থিদের ভালবাসেন।

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:-

১/ উম্মত জননী হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাযি.) ইফ্কের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ

وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ مِنْ وَرَاءِالْجَيْشِ فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِي فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَعَرَفَنِيحِينَ رَآنِي وَكَانَ رَآنِي قَبْلَ الْحِجَابِ فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِحِينَ عَرَفَنِي فَخَمَّرْتُ وَجْهِي بِجِلْبَابِي 
সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল (রাযি.) পর্দা ফরজ হওয়ার পূর্বে আমাকে দেখেছেন, তাইআমাকে চিনতে পেরে ”ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”পড়েছেন। তা শুনে আমিজেগে উঠি, অতঃপর আমার চাদর দ্বারা আমার চেহারা ঢেকে নিই।


আয়িশা (রা.) পাল্কির মধ্যে বসে ছিলেন। তিনি সেই সময় খুবই হালকা-পাতলা ছিলেন।এ কারণে পাল্কিটি যারা উঠিয়েছিলেন তারা বুঝতেই পারেননি তিনি ভেতরে আছেন কিনা।

আয়িশা (রা.) বলেন, ‘‘আমি সেখানে বসে থাকতে থাকতে ঘুমে আমার চোখ বন্ধহয়ে যায়। সাফওয়ান ইবন মুত্তয়াত্তাল (রা.) ছিলেন কাফেলার পশাৎগামী ব্যক্তি। তিনিদেখেন এক ব্যক্তি শুয়ে আছে। নিকটে এসে আমাকে দেখে চিনতে পারেন। কারণ, হিজাবেরপূর্বে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। আমাকে শোয়াবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করেন। সাফওয়ানের শব্দ শুনে আমি উঠে বসি এবং খুব দ্রুতচাদর মুড়ি দেই। (সহীহ আল-বুখারী-৪/১৭৭৭৪), হাদীছ নং- ৪৪৭৩; সহীহ মুসলিম৪/২১২৯, হাদীছ নং- ২৭৭০)


২/ বুখারী শরীফে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম} ইরশাদ করেন-

وَلَا تَنْتَقِبْ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلَا تَلْبَسْ الْقُفَّازَيْنِ

নারীরা চেহারা আবৃতকারী নেকাব এবং হাত আবৃতকারী (কুফ্ফাযাইন) ইহরাম অবস্থায়পরবে না। 
অর্থাৎ-ইসলাম হজ্ব ও উমরার ইহরাম অবস্থায় নারীদের মুখমন্ডল ও পাঞ্জাদ্বয় খোলা রাখাওয়াজিব করে দিয়েছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় নারীর মুখমন্ডলউন্মুক্ত রাখার বিধান দ্বারাই প্রতীয়মান হয় যে, তখনকার মহিলাগণ পর-পুরুষ থেকেচেহারা আবৃত করেই রাখতেন।

৩/ হযরত আছমা বিনতে আবু বকর (রাযি..) বলেন:- (ইহরাম অবস্থায়) পর পুরুষসামনে এসে গেলে আমরা তাদের থেকে চেহারা আবৃত করে ফেলতাম। (হাদিসটি ইবনেখুজাইমা ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে এটিসহীহ। ইমাম যাহাবী এতে একমত পোষণ করেছেন।)


৪/ হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন:- আমরা রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম}এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, উষ্ঠারোহীগণ আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে যখনমুখোমুখী হয়ে যেত, আমরা মাথা থেকে চাদর টেনে মুখমন্ডল ঢেকে নিতাম, অতঃপর তারাযখন অতিক্রম করে যেত আমরা আমাদের চেহারা খোলে দিতাম। (হাদিসটি ইমামআহমাদ, আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ, দারে ক্বুতুনী ও বাইহাকী বর্ণনা করেছেন)

আরও আছে, জানতে চাইলে বলবেন।

……………………………………

লেখক বলেছেন:- পাল্কির মধ্যে বসে থাকার গল্প বলে মূল বিষয়টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়া কি ঠিক হলো?

১ নং হাদিছের বর্ণনা অনুসারে নির্জনে একাকি একজন মহিলা বসে থাকলে চাদর কেন, আরও অনেক কিছু মুরি দিয়েও রক্ষা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়তে পারে। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমত যে সেখানে সে সময় ইবন মুত্তয়াত্তাল (রা.) এর মত একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মনে রাখা উচিত যে, সেই বিশেষ পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলা বা অন্য যে কোন উপায়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখাই তো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও অন্য সকলকে অহেতুক একই ব্যবস্থা অবলম্বন করার জন্য বাধ্য করাটা কি ঠিক? অযাচিতভাবে এরূপ পীড়াপীড়ি করা এক চোখ ওয়ালা মানুষদেরই সাজে।

২ নং হাদিছের বর্ণনায় প্রথমে বলা হলো- //নারীরা চেহারা আবৃতকারী নেকাব এবং হাত আবৃতকারী (কুফ্ফাযাইন) ইহরাম অবস্থায় পরবে না। অর্থাৎ-ইসলাম হজ্ব ও উমরার ইহরাম অবস্থায় নারীদের মুখমন্ডল ও পাঞ্জাদ্বয় খোলা রাখা ওয়াজিব করে দিয়েছে। //

কিন্তু ৩ নং হাদিছের বক্তব্যে বলা হলো- //(ইহরাম অবস্থায়) পর পুরুষ সামনে এসে গেলে আমরা তাদের থেকে চেহারা আবৃত করে ফেলতাম// এবং ৪ নং হাদিছের বক্তব্যেও বলা হলো- //আমরা রাসুল {সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম} এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায়ছিলাম, উষ্ঠারোহীগণ আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে যখন মুখোমুখী হয়ে যেত, আমরা মাথা থেকে চাদর টেনে মুখমন্ডল ঢেকে নিতাম//

২নং হাদিছে ইহরাম অবস্থায় নারীরা চেহারা আবৃতকারী নেকাব এবং হাত আবৃতকারী (কুফ্ফাযাইন) পরবে না বলে নির্দেশ দেয়া হলেও ৩নং ও ৪নং হাদিছের বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই তা অমান্য করার বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। এক হাদিছের সাথে অন্য হাদিছের বক্তব্যের স্ববিরোধিতা এবং আল-কোরআনের বিধানের সাথে অসামঞ্জস্যতা থাকার কারনে এই হাদিছগুলো সহী হিসেবে মেনে নেয়ার ব্যাপারে খটকা লাগাটাই স্বাভাবিক নয়?

না ভাই, মাফ করবেন! আপনার কাছে জানতে চাওয়ার আর কিছু নেই।

আপনি আপনার বুঝ অনুসারে মা, বোন ও স্ত্রীদের মুখ, চোখ, নাক কালো কাপড়ে ঢেকে নিয়েই পথ চলতে থাকুন।'
আমি আল্লাহতায়ালার নির্দেশমত নিজের এবং তাদেরও শরীর ঢেকে ও মুখমন্ডল খোলা রেখেই পথ চলতে বদ্ধপরিকর। 
ধন্যবাদ- 

………………………………………………………………………………………

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- আপনি বলেছেন- 

//আমি বিশ্বাস করি যে, চরম পন্থামানুষকে কখনই শান্তি দিতে পারে না। চরম-পন্থীরা নিজেরা যেমন শান্তিপায়না, তেমনি অপরকেও শান্তি থেকে বঞ্চিত করে।//


ইসলাম কখনও কখনও চরম পন্থা অবলম্বন করে এবং তা মানবতার স্বার্থেই। যেমন-হত্যা বদলে হত্যা, চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়া ইত্যাদি।


আর আপনি কি বিশ্বাস করেন তা প্রচার না করে বরং ইসলাম মুসলমানদের কি হুকুমকরে তা প্রচার করুন।

………………………...
লেখক বলেছেন: ভাই, আমি আল্লাহর প্রেরিত বাণী আল-কোরআনকে যেভাবে বিশ্বাস করি, মানব রচিত ও বর্ণিত হাদিছে সেভাবে বিশ্বস করিনা। আর তাই কোন হাদিছের বক্তব্য যখন কোরআনের নির্দেশকে ছাপিয়ে কম বা বেশি করার দিকে মানুষকে চালিত করে অর্থাৎ যে হাদিছগুলোর বক্তব্য আল-কোরআনে প্রদত্ত কোন স্পষ্ট নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়, সেই হাদিছগুলোকে আমি এড়িয়ে চলি। সোজা ভাষায় সেই হাদিছগুলো যার মাধ্যমেই বর্নিত হোক না কেন বা সংরক্ষণ করার জন্য যত উত্তম পন্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন- সেগুলো আমি মন থেকে মেনে নিতে পারিনা। আপনি আমাকে মুর্খ ভাবেন আর যাই ভাবেন, হাদিছের উপরে আমার আস্থা আল-কোরআনের তুলনায় অনেকটাই কম। আল্লাহর বানীর উপরে আমার এরূপ দুর্বলতার কারনে দয়াময় মহান স্রষ্টা যদি আমাকে শাস্তি দেন- তাও মাথা পেতে নিতে আমি প্রস্তুত। কিন্তু তাই বলে মানব রচিত হাদিছ গ্রন্থের উপরে আমি কখনই এতটা বিশ্বাস রাখতে প্রস্তুত নই যা আল-কোরআনের সার্বজনিন শাশ্বত বিধানকে সংকুচিত করে রাখে, অন্তরের প্রশস্ততার পরিবর্তে সংকির্ণতা সৃষ্টি করে এবং মতভেদ ও দলাদলির আবর্তে নিক্ষেপ করে। সুতরাং এ ধরনের সংকির্ণ-মনা দলের সাথে আমার মত মুসলিমদের চিন্তা ও চেতনার বৈপরিত্ত থাকতেই পারে। 

আপনি বলেছেন- 

//ইসলাম কখনও কখনও চরম পন্থা অবলম্বন করে এবং তামানবতার স্বার্থেই। যেমন- হত্যা বদলে হত্যা, চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়াইত্যাদি।//


আপনার সাথে আমার চিন্তা ও চেতনার তফাতটা এখানেই। আমি আল-কোরআনে প্রদত্ত এই বিধানগুলোকে চরম পন্থা নয় বরং সর্বোত্তম পন্থা হিসেবেই বিশ্বাস করি। আপনাদের জন্য আফসোস হয় যে, যারা মানব সমাজের জন্য হিতকার স্বয়ং আল্লাহ প্রদত্ত শাশ্বত বিধান বাস্তবায়ন করাকে "চরম পন্থা!!??" হিসেবে আখ্যায়িত করতেও পিছপা হয়না। অথচ নিরপরাধ মা-বোন-স্ত্রী ও কন্যাদের আপাদামস্তক কাল কাপড়ে ঢেকেই ক্ষান্ত হয়না, বিনা অপরাধে তাদেরকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে রাখার জন্য মানব রচিত মিথ্যা হাদিছের আশ্রয় গ্রহণ করতেও তারা দ্বিধা করেনা। দুঃখিত! আমি এদের সাথে নেই। সালাম।


মনে রাখবেন, অযথা সৃষ্টির প্রতি বাড়াবাড়ি করা জুলুম। আর জালিমরা কখনই স্রষ্টার সন্নিধ্য পেতে পারেনা। স্রষ্টা সব সময়ই তাদের কাছ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। আল-কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন-

সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ)

(১১:১১৩) অর্থ- আর অত্যাচারী/ উৎপীড়ক/ সীমালঙ্ঘনকাররি/ পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকেও পড় না- পড়লে অগ্নি তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন সাহায্যকারী নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।

সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

(০২:১২৪) অর্থ- যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার অত্যাচারী/ উৎপীড়ক/ সীমালঙ্ঘনকাররি/ পাপিষ্ঠদের জন্য প্রযোজ্য নয়।


এখনও সময় আছে, আল্লাহতায়ালা প্রেরিত সরল ও সত্য বিধানের দিকে মুখ ফেরান। জালিম/ অত্যাচারী/ উৎপীড়কদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন।

…………………………………………………………………………………………..

জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- ম্যান মেইড তাফসির ছাড়া আল-কুরানের কোনখানেই তোনেকাব ফরজ এমন কোন আদেশ পাওয়া যায়না। অধিকাংশ স্কলাররাই বলেন, মুখ খোলারাখা জায়েজ।যদি তা না হত তাহলে তো হজের সময় মুখ খোলা রাখার কোন বিধানইহাদিসে থাকার কথা ছিল না। তবুও জোর করে অনেকে নেকাব চাপানোর পক্ষে। এখানকারকমেন্টেও তার ব্যতয় দেখতে পারছিনা।আজব হলেও সত্য যে, মেয়েদের ড্রেস নিয়েপুরুষদেরই মাথাব্যথা বেশি।

……………………………………

লেখক বলেছেন:- অতিরঞ্জিত কোন কিছু ক্ষণিকের জন্য হয়ত চাপিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু যখন কোন মানুষ শাশ্বত ও স্বাভাবিক বিধান অন্তর থেকে গ্রহণ করেন, তখন তা জীবনঘনিষ্ঠ, সুন্দর ও সার্বজনীন রূপেই স্থায়ীত্ব লাভ করে।

ধন্যবাদ-

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)