বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন- শেষ পর্ব


মিয়া বিবি রাজি, তো কেয়া কারেগা কাজি?
বর কনে রাজি থাকলে, বিয়ে পড়ানো ছাড়া কাজির কি বা করার আছে?

আগে ১ম পর্বটি দেখে নিতে পারেন-
বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন-১ম পর্ব

আমাদের দেশে সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স হিসেবে কনের জন্য ১৮ বছর এবং বরের জন্য ২১ বছর নির্ধারন করা হয়েছে। অভিভাবক ও পাত্র-পাত্রীর সম্মতিতে ও উপযুক্ত কারন সাপেক্ষে এর চেয়ে কম বয়সে বিয়ে হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবক বা পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে কোন পক্ষের অসম্মতি থাকলে মুশকিল আছে। কারন সরকারের কাছে অভিযোগ করলে প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার, এমনকি বিয়ে ভেঙে দেবারও অধিকার রাখে। বর্তমানে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজে সাধারনত সরকার নির্ধারিত বিয়ের বয়স অতিক্রম করার পরই ছেলে (২৮ – ৩২ বছর)-মেয়েদের (২০ – ২৫ বছর) বিয়ে দেবার পদক্ষেপ নেয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে ও নিম্ন আয়ের অশিক্ষিত সমাজে কিন্তু এখনও বাল্যবিবাহের চল রয়েছে। তবে তা পূর্বের তুলনায় বেশ কমে এসেছে। সমাজ থেকে এ ধরনের অন্যায় রীতিকে বিদায় বলার সময় এসেছে। আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই জুলুমের হাত থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য মূলত সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

ইসলামের মূল গ্রন্থ আল-কোরআনে নির্দিষ্ট করে বিয়ের বয়স উল্লেখ করা হয় নাই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র ও পাত্রীর সম্মতি যেহেতু একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং যে কোন একজনের অসম্মতি থাকলে বিয়েই হবে না, তাই পাত্র ও পাত্রীকে অবশ্যই অন্ততপক্ষে তাদের সম্মতি/অসম্মতি প্রদানের মত উপযুক্ত হতে হবে। এই উপযুক্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের বয়স ও বুদ্ধি বিবেচনার উন্মেষ- এই দুটো নির্ধারকের উপর নির্ভরশীল। তবে পুরুষের জন্য আর্থিকভাবে সামর্থবান হওয়াও একটা বড় ফ্যাক্টর। আর্থিক সামর্থ না থাকলে বিয়ে করা যাবে না, তা নয়। তবে অর্থের অভাবে অনেক সময়ই সংসারে অশান্তি নেমে আসে, এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠতে পারে। তাই একজন পুরুষের জন্য আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হবার পরই বিয়ের পিরিতে পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বয়সে উপনীত মিয়া-বিবি যদি আর্থিক অসচ্ছলতাকে উপেক্ষা করে পরস্পর বিয়ে বসতে চায়, তাহলে এক্ষেত্রে কারো কিছু বলার বা করার নাই এবং বিয়ের নিয়ম ও শর্ত সাপেক্ষে কাজি বিয়ে পড়াতে বাধ্য। মানুষের মন বৈচিত্রময়। কথায় বলেনা- “যার মনে যারে লাগে ভাল”। বয়সের বড় ব্যবধান সত্বেও যদি কোন নারী বা পুরুষ একে অপরকে পছন্দ করে এবং বিয়ে করে সুখি হতে চায় বা পারে, তাতে তো কারও কোন আপত্তি থাকার কথা না। আপত্তির প্রশ্ন আসে তখনই, যখন কোন অবুঝের ঘাড়ে জোর করে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝা চাপিয়ে পুণ্য অর্জনের ঢেকুর তোলার পায়তারা করা হয়। এক্ষেত্রে মানুষ এতটাই অন্ধ হয়ে যায যে, বিয়ের শর্ত অনুসারে সম্মতি/অসম্মতির তোয়াক্কা তো করাই হয় না, এমনকি একটা হারাম উপায় অবলম্বন করে তদের পায়ে যৌন বেড়ি পরিয়ে গুনাহের পথ বেছে নিতেও কুন্ঠিত হয়না।

অনেক সময়ই দেখা যায় পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের সমাজ ব্যবস্থায় বিবাহ কি জিনিস তা বোঝার মত জ্ঞান-বুদ্ধি হবার আগেই বিয়ের নামে কচি অবুঝ শিশুকে বলতে গেলে এক রকম জোর করেই কোন এক বৃদ্ধ বয়সের মানুষের গলায় ঝুলিয়ে দিতে আপনজনেরা কুন্ঠাবোধ করে না। হায়! এক্ষেত্রে কনের সম্মতি বা অসম্মতির কোন তোয়াক্কা তো করাই হয় না, বরং ধর্মের নামে পুণ্য কামাই করার নেশায় তাদের অধিকার হরণের সকল পন্থা অবলম্বন করা হয়। অন্য কোন সমাজের রীতি সম্পর্কে বলার আগে একজন মুসলিম হিসেবে আপন সমাজের এই অন্ধকার দিকটি আমাকে খুবই পীড়া দেয়। যখন দেখি ধর্মগুরুরা ধর্মান্ধ সেজে ইসলামের নামে এরূপ বর্বর রীতিকে অনায়াশে গ্রহণই শুধু নয়, তৃপ্তি সহকারে হজমও করছে। তখন সত্যিই অবাক লাগে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ইসলাম কি এধরনের জুলুমকে আদৌ প্রশ্রয় দেয়? না কখনই না; আল-কোরআনে এর পক্ষে কোন বক্তব্য তো নেই-ই, এমনকি কোন সহী হাদিছ দ্বারাও এর পক্ষে কোন প্রমাণ পেশ করা আদৌ সম্ভব নয়। বিকৃত কাম লিপসা চরিতার্থ করার জন্য অনেকে হয়ত কোন দুর্বল বা জ্বাল হাদিছ থেকে বানোয়াট বক্তব্য পেশ করে তাদের পক্ষের মতামতকে জোরদার করার পাঁয়তারা করে থাকে। কিন্তু এটি মোটেই ইসলাম সম্মত নয়। বরং কোন শিশুর সাথে অপরিণত বয়সে তার মতের বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্ক করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন সংগত শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। মনে রাখা উচিত যে, শুধুমাত্র যৌন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়াই বিয়ের উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি এমনি এক বন্ধুত্বপূর্ণ মধুর বন্ধন যা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের সাথে সাথে পরিনতিতে মানসিক ও দৈহিক স্বর্গীয় সুখ ভোগের দিকে আহ্বান জানায়। ফলশ্রুতিতে দুটো মন ও দেহের পূর্ণ মিলনে একটি নুতন জীবন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিয়ের মূল লক্ষ অর্জিত হয়। তাই যে সম্পর্কে মনসিক সম্মতি থাকে না, বিয়ের নামে জোর পূর্বক সেই পাশবিক যৌন সম্পর্কে সুখ তো দূরে থাক- প্রকৃত অর্থে যাতনা ও কষ্ট ছাড়া আর কি বা পাবার থাকে! যত বড় আলেম নামধারী ব্যক্তি এর পক্ষে যতই ছাফাই গাক না কেন, এ ধরনের বিয়ের নামে প্রহসনের সম্পর্ক স্থাপনের কোন অপশন ইসলামে নেই। যদি কোন সমাজে অবোধ শিশুকে জোর করে বিয়ের নামে পায়ে যৌন বেড়ি পড়ানোর কালা কানুন বা রীতি চালু থাকে তাহলে সেই অমানবিক রীতিকে বন্ধ করার দায় ইসলামি আলেম সমাজের উপরেই বর্তায়। ধর্মান্ধতার কারনে বা অজানা আশংকায় অন্ধ সেজে এর পক্ষাবলম্বন করার জন্য অবশ্যই তাদেরকে গুনাহগার হতে হবে। সমাজের অন্ধকার ঘরগুলো থেকে এই আন্ধা-রীতির মূলোৎপাটন করার জন্য বলা ও আইনের মাধ্যমে তার ইতি টানার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া এই গুনাহর হাত থেকে রেহাই পাবার অন্য কোন পথ নেই। আবার অপরদিকে ছেলেমেয়ের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও অনেক পরিবারে তাদের বিয়ের ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না। ফলে অনেক সময় তারা অসামাজিক কর্মে জড়িয়ে পড়ে। তাই সঠিক বয়সে বিয়ে সম্পাদনের জন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

মুসলিম সমাজে বিশেষ কারন সাপেক্ষে পারিবারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে বাগদান সম্পন্ন করে রাখার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের বিধান অনুসারে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহিত জীবন যাপন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের বাগদান হয়ে গেলেও উপযুক্ত বয়সে উপনীত হবার পর বিবাহিত সংসার জীবন শুরুর পূর্বে সেই পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ একজন যদি অসম্মতি জ্ঞাপন করে,(67) তাহলে পূর্বেকার বাগদান ভেঙে দেয়া আইন সম্মত। এক্ষেত্রে বিয়ে আর পূর্ণতা পাবে না অর্থাৎ বিবাহিত সংসার জীবন যাপনের জন্য তাদেরকে বাধ্য করা যাবে না। নিচের হাদিছটি থেকে এর স্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়-

‘Wedlock, Marriage (Nikaah)’ of Sahih Bukhari.
67: Narrated Abu Huraira: The Prophet said, “A matron should not be given in marriage except after consulting her; and a virgin should not be given in marriage except after her permission.” The people asked, “O Allah’s Apostle! How can we know her permission?” He said, “Her silence (indicates her permission).”

ইসলামে বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তালাক প্রাপ্ত নারীদেরকেও বিবাহ করা ও দেয়ায় কোন বাধা নেই। জোর করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের মতের বিরুদ্ধে বিবাহ দেয়া বা করা নিষেধ। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময় ইদ্দত পালনের বিধান রয়েছে। এই সময় অতিবাহিত হবার পর বিবাহ করা হারাম নয় এমন যে কোন ব্যাক্তির সাথে তাদের বিয়ে হতে পারে। বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দিলে তা ভেঙে দেয়া আইন সম্মত।

69: Narrated Khansa bint Khidam Al-Ansariya: that her father gave her in marriage when she was a matron and she disliked that marriage. So she went to Allah’s Apostle and he declared that marriage invalid.

56: Narrated Zainab bint Salama: Um Habiba said to Allah’s Apostle “We have heard that you want to marry Durra bint Abu-Salama.” Allah’s Apostle said, “Can she be married along with Um Salama (her mother)? Even if I have not married Um Salama, she would not be lawful for me to marry, for her father is my foster brother.” ‘And there is no blame on you if you make hint of betrothal or conceal it in your hearts. Allah is Oft- Forgiving, Most Forbearing.’ (2.235) Ibn ’Abbas said, “Hint your intention of marrying’ is made by saying (to the widow) for example: “I want to marry, and I wish that Allah will make a righteous lady available for me.’ ” Al-Qasim said: One may say to the widow: ‘I hold all respect for you, and I am interested in you; Allah will bring you much good, or something similar ‘Ata said: One should hint his intention, and should not declare it openly. One may say: ‘I have some need. Have good tidings. Praise be to Allah; you are fit to remarry.’ She (the widow) may say in reply: I am listening to what you say,’ but she should not make a promise. Her guardian should not make a promise (to somebody to get her married to him) without her knowledge. But if, while still in the Iddat period, she makes a promise to marry somebody, and he ultimately marries her, they are not to be separated by divorce (i.e., the marriage is valid).

 

স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে- ইসলামের বিধান মতে তাহলে বিয়ের বয়স কত?

সূরা নিসা-
(০৪:০৬) অর্থ:- আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে- যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে, তখন তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পারলে, তবেই তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার। এতীমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা স্বচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট।

এই বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে আল-কোরআনে বিয়ের বয়স সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা জানতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে, (০৪:০৬) নং আয়াতে বিয়ের বয়সে উপনীত হবার কথা বলতে গিয়ে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ ঘটেছে কিনা সেদিকটাও লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে। এখানে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়টি এসেছে। আর আমরা জানি যে, বুদ্ধি-বিবেচনা করার যোগ্যতা না থাকলে সম্পদ রক্ষা করা এবং তার সদ্ব্যবহার করা বেশ কঠিন ব্যাপার। এমন কি বিচক্ষণতার অভাবে সম্পদহারা হয়ে পথে বসার মত পরিস্থিতিতে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেন তারা না পড়ে সেজন্য উপায় বলে দেয়া হয়েছে। আর বাকীটা তো আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা। সম্পদের হেফাজত করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি সাংসারিক জীবনে পারিবারিক দায়িত্ব পালন করাও তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে। আর তাই বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ ঘটার বয়সটি উভয় ক্ষেত্রেই বিবেচনা করার দাবি রাখে।

আল-কোরআনে বিয়ের বয়স হিসেবে নির্দিষ্ট কোন বয়সের কথা বলা হয়নি। তবে অনেকে মাসিক শুরু হওয়াকে, আবার অনেকে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সকে বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারনের জন্য তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। যেহেতু (০৪:০৬) নং আয়াতে বিয়ের বয়সের উপযুক্ততা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, আর সাধারনভাবে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ এবং দৈহিক বৃদ্ধি সাধন একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে কোন ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার যদি পুরুষ ও নারীর জন্য গ্রহণযোগ্য বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দেন, তাহলে রাষ্ট্রের সামগ্রীক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে চলা যেতে পারে। আবার মাসিক শুরুর আগে মেয়েদের বিবাহ দেয়া যাবেনা- এমন নির্দেশ আল-কোরআন ও হাদিছে নেই, তাই এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রাখার উপায় নেই। তবে কোন দেশের ইসলামি শাসক কর্তৃক বিয়ের বয়স নির্ধারন করে দেয়া হলে তা লংঘনের পূর্বে যৌক্তিক কারন দেখিয়ে পূর্বানুমতি নেয়া উচিত। তা না হলে সরকার শাস্তি দেবার বা জরিমানা করার অধিকার রাখে। 

সাধারনত মাসিক শুরু হওয়ার পূর্বে একজন নারীর শরীর সুগঠিত হতে শুরু করে এবং শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন গুলো বেশ দ্রুত ঘটতে থাকে। এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিসাধন বেশ দ্রুত ঘটলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পুষ্টিহীনতা, হরমোনের অসামঞ্জস্যতা বা বংশগত স্বাভাবিক কারনে ঋতুস্রাব শুরু হতে বেশ সময় লাগতে পারে। আমাদের দেশের মেয়েদের মাসিক শুরু হয় সাধারনত ১০ – ১২ বছর বয়সে। তবে দেখা গেছে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণতা প্রাপ্ত ২০ – ২২ বছর বয়স্কা নারীর ক্ষেত্রেও ঋতুকাল শুরু না হবার ঘটনা বিরল নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯০% মেয়েদের মাসিক সাধারনত ১৩.৫ বছর বয়সে শুরু হলেও এর সর্বোচ্চ সময়সীমা প্রায় ১৭ বছর ধরা হয়। এরপর শুরু না হলে মেডিকেল চেকআপের এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোন কারন খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এমনিতেই বা সমান্য চিকিৎসায় এর সমাধান হয়ে যায়। সুতরাং সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালা সঙ্গত কারনেই ঋতুকাল শুরু হওয়া বা না হওয়াকে বিবাহিত জীবন জাপনের উপযুক্ততার মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারন করে দেন নাই। কারন তাহলে যে সমস্ত মুসলিম নারীদের ঋতুকাল বংশগত ভাবেই দেরিতে শুরু হওয়ার টেন্ডেন্সি রয়েছে, তাদের বয়স বৃদ্ধি পেলেও ঋতুবতী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা মুশকিল হয়ে পড়ত। তাই মাসিক শুরুর পূর্বে বিবাহিত জীবন আরম্ভ করা যাবেই না, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে সে উপযুক্ত কিনা তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এবং আল-কোরআনের নির্দেশ ও রাসূলের (সাঃ) সুন্নতও তাই।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) ও আয়শা (রাঃ) এর বিবাহের বিষয়টি উদাহরন হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। হযরত আবুবকর (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মধ্যে এমনই ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যে তাঁরা তাদের এ সম্পর্ককে আত্মীয়তার বন্ধনে রূপ দিতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা আবুবকর (রাঃ)এর আদরের কন্যা আয়শা (রাঃ) -কে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধনকে সূদৃঢ় করার সাথে সাথে ইসলামের খেদমত করার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর সাথে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার সময় আয়শা (রাঃ) এর বয়স কম ছিল। তাঁরা বিবাহিত জীবন জাপন শুরু করেছিলেন বাগদানের বেশ কয়েক বছর পরে।

 

Saheeh al-Bukhari, Volume 7, Book 62, Number 64

‘Aa’ishah, may God be pleased with her, narrated that the Prophet was betrothed (zawaj) to her when she was six years old and he consummated (nikah) his marriage when she was nine years old, and then she remained with him for nine years.

 

যদিও আয়শা (রাঃ) এর বয়স নির্ধারন করা আমার এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নয়, তবে এ হাদিছ থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে, আয়শা (রাঃ) শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার উদ্দেশ্যেই রাসূল (সাঃ) তার সাথে বিবাহিত সংসার জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে সময় নিয়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর সাথে সংসার জীবন শুরু করার পূর্বে আয়শা (রাঃ) মূলত তাঁর পিতা হযরত আবুবকর (রাঃ) এর বাসাতেই থাকতেন। রাসূল (সাঃ) এর জীবনের এই অংশটি থেকে আমাদের জন্য শিক্ষনীয় রয়েছে।

মানুষের বিচিত্রময় জীবনে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে জটিল সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে কোন কোন নারীর জীবনে কম বয়সে বিয়ে দেবার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। কোন বিশেষ কারনে বাল্যকালে বিয়ে সম্পন্ন হলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সেই নারীর সাথে বিবাহিত জীবন শুরু না করার ইংগিত এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া যতটুকু জানা যায় রাসূল (সাঃ) তাঁর কন্যা ফাতিমার (রাঃ) বিয়েও ১৮ বছর হবার পরই দিয়েছিলেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রাসুল (সাঃ) নিজেও যেমন তাঁর কোন স্ত্রীর সাথে বিবাহিত জীবন জাপন শুরু করেন নাই, তেমনি কাউকে তা করার জন্য কখনও উদ্বুদ্ধ করেছেন বা কারও বিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছেন বলে কোন প্রমান নেই।

ইসলামে বিবাহ সম্পাদনের বিষয়টি মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরুর সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে অর্থনৈতিক সামর্থের কথা বাদ দিলে বিবাহিত জীবন জাপনের বিষয়টি অবশ্যই একজন পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত। আবার মানসিক বিকাশের বিষয়টি নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। অপরের উপরে নির্ভরশীলতা মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে একটা বড় অন্তরায়। যেসব ছেলে- মেয়েরা যত তাড়াতড়ি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পায়, তাদের মানসিক বিকাশও তত তাড়াতাড়ি সাধিত হতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে এই বিকাশ সাধন এতই দ্রুততার সাথে হতে দেখা যায় যে তখন তা আর অন্য দশজন সাধারনের সাথে তুলনা করা চলে না। আমরা আয়শা (রাঃ) এর তুখোর স্মরণশক্তি ও মেধার কথা বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানতে পারি। হাদিছ বর্ণনা ও রাসূলের (সাঃ) ওফাতের পর বিভিন্ন সমস্যা সামাধানে তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রাজ্ঞতার যথেষ্ট প্রমান তিনি রেখেছেন।

বিবাহিত জীবন শুরুর সময় আয়শা (রাঃ) এর প্রকৃত বয়স কত ছিল হাদিছ বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর শব্দ প্রয়োগ জনিত ত্রুটি কিংবা বোঝার ভুলের কারনে বয়সের হিসেব-নিকেশ করতে গিয়ে কম-বেশি হতেই পারে। স্মরণশক্তি ও উচ্চারনগত ত্রুটি থাকা সত্বেও একজন অশীতিপর বৃদ্ধ হাদিছ বর্ণনাকারী হযরত আয়েশার (রাঃ) নাম নিয়ে কি কইলেন- সেই বক্তব্যকে সহী হাদিছের মর্যাদাই শুধু নয়, সেটার উপর ভর কোরে মুসলিম সমাজে সুন্নাত পালনের দোহাই তুলে শিশু তথা বাল্যবিবাহকে জায়েজ বানিয়ে দিতে হবে- এমনতর বিশ্বাসে গা ভাসিয়ে দেয়ার দলে আমি নেই। তাছাড়া ঐতিহাসীক তথ্যের সাথেও এই হাদিছের বক্তব্যের গড়মিল পাওয়া যায়।(What was Ayesha’s (ra) Age at the Time of Her Marriage?) তাই বিশ্বাস করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং শিশু তথা বাল্যবিবাহর নামে এই ধরণের বেয়াকুফি নির্যাতন বন্ধের পক্ষেই আমি সোচ্চার থাকব। এতে কেউ আমার বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুললে তুলতে পারেন। কিংবা কাফির ভাবলেও ভাবতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে বিবাহ করার মত শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত বয়স হবার পরই হযরত আয়শার (রাঃ) সাথে বিবাহিত জীবন শুরু করেন তাতে কোনই সন্দেহ নাই। অবিশ্বাসীরা এই বিষয়টি নিয়ে অবিবেচকের মত যেরূপ হাস্য-রস করে তা মোটেই যৌক্তিক নয়। রাসূলের (সাঃ) জন্য আয়শা (রাঃ) এবং তাঁর জন্য রাসূল (সাঃ) পারফেক্ট ছিলেন বলেই তো তাঁদের মাঝে বোঝাপরা ও পরস্পরের প্রতি সম্প্রীতি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মধুর ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আয়শা (রাঃ) রাসূলের (সাঃ) পাশেই ছিলেন এবং তাঁর কোলে মাথা রেখেই রাসূল (সাঃ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংসার জীবনে আপন জনের সাথে ছোট-খাট ভুল বুঝাবুঝি থেকে শুরু করে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতেই পারে। রাসূল (সাঃ) ও আয়শার (রাঃ) মাঝে অত্যন্ত নীবিড় সম্পর্ক ছিল এবং তাদের জীবনেও এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মহান আল্লাহতায়ালা স্বয়ং রাসূলের (সাঃ) জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতির অবতারনা করেছেন এবং ঐশী বাণী পাঠিয়ে পরোক্ষভাবে ইমানদার মানুষকে তার বাস্তব সমাধানও জানিয়ে দিয়েছেন।

মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞ। তিনি যা জানেন আমারা তা জানিনা। আর তিনি যতটুকু আমাদের জানাতে চান, ততটুকুই আমরা জানতে পারি। বিশ্বাসীদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য মহান স্রষ্টা আল-কোরআনে মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিবিধ বিষয় সম্পর্কে মৌল জ্ঞান দান করেছেন। এগুলো সঠিকভাবে মেনে চলার মধ্যেই মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

একটা প্রসিদ্ধ হাদিসকে যারা নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলে তারা আর যাই হোক অন্তত মুসলিম নয় ।

একটা 14-15 বছরের মেয়ে বা ছেলে প্রেমের নামে চুটিয়ে নোংরামি করছে তাও নাকি বিচার বুদ্ধি হয় নাই বিয়ের ব্যাপারে ।

বিবাহ হলো আল্লাহ তা’য়ালার একটা বিধান যারা এটাকে (““বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রান ””) এই ভাবে কঠাক্ষ করবে তারা আর যাই হোক মসলিম নয় ।

...বিয়ে মানে শুধু যৌনতা নয়, বিয়ের একটি বড় কারন হলো ‘‘মানসিক প্রশান্তি’’ ।  যে মানসিক প্রশান্তি লাভ করার জন্য আজকাল ছেলে মেয়েরা বৈধ পথ না থাকায় অবৈধ পথে গিয়ে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে, যেটা এক প্রকার যেনা ।  আপনাদের মতো মাথামোটা কিছু মানুষরাই তাদেরকে যিনা করতে বাধ্য করছে তাই এর শাস্তি আপনারাও পাবেন ।

..যদি বিয়েতে কোন বাধা না থাকতো তাহলে তারা মানসিক প্রশান্তি লাভ করতো নিজের স্বামী বা স্ত্রীর কাছেই ।  অন্য কোন বেগানা মেয়ে বা ছেলের সাথে প্রেম করতো না, নিজের স্বামী বা স্ত্রীর সাথেই প্রেম করতো । 

রাসূল (সা:) এর সময়ে অবৈধ প্রেম জাতীয় কাজকারবার ছিল পাহাড়ের সমান ভারী আর বিয়ে ছিলো খবই সহজ কিন্তু আজ বিয়ে হয়ে গেছে পাহাড়ের সমান ভারী আর অবৈধ প্রেম হয়ে গেছে খবই সহজ, চাইলেই করা যায় ।
...একটা ছেলে যদি অবৈধ প্রেম করে তাহলে তাকে কেউ কিছুই বলে না কিন্তু ঐ ছেলেটাই যদি অবৈধ প্রেম না করে বৈধ প্রেম করতো অর্থাৎ বিয়ে করতো তাহলে সবাই তাকে বিভিন্ন কথা বার্তা বলতো, তাকে শান্তিই দিতো না, এমনকি জেলে যেতে হতো ।  কারন ছেলেটি আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ পালন করেছে ।  আর যারাই আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ পালন করার কারনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবে তারা মুনাফিক, কাফের ।

..মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন প্রত্যেকটি জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন যাতে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে । 

আপনি আপনার পোস্টে বয়স্ক লোকের সাথে অল্প বয়স্ক মেয়ের বিয়ে নিয়ে কথা বলেছেন । আপনাকে কি কেউ বাধ্য করেছে আপনার অল্প বয়স্ক বোনের বিয়ে দিতে কোন বয়স্ক লোকের সাথে ??? আপনি অল্প বয়স্ক বোনের বিয়ে দিন অল্প বয়স্ক ছেলের সাথে ।

আসল ব্যপারটা হলো আপনারা মাথামোটা ।

কিছু মুসলিম নামধারী লেখক আছে যারা ইহুদি খ্রিষ্টান কিংবা নাস্তিকদের হয়ে ইসলামের বিভিন্ন বিধান গুলোকে মিথ্যা সূত্র দিয়ে ভুল প্রমান করার চেষ্টা করেন আর তাদের সেই বই গুলো পড়ে কিছু খালি কলশি বাঁজে বেশি টাইপের লোক গুলো চিল্লাফাল্লা করে এবং নিজেদের ইমান হারায় । ইন্টারনেটে এই রকম অনেক বই পাওয়া যায় ।

আসলে প্রত্যেক ছেলে বা মেয়ে বুঝে তার কখন বিয়ের প্রয়োজন কারন তার একটা রক্ত মাংসের শরীর আছে কিন্তু বেশি ভোগ করার জন্য বিয়ে করতে চায় না এবং এর বিরুদ্ধে কথা বলে । ইসলামে হস্তমৈথন অনেক বড় ভয়াবহ পাপ আর তাই একটা ছেলের অন্তত 15 বছর বয়সে বিয়ে ছাড়া থাকা ঠিক নয় ।

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কথা বলেন কিন্তু বাল্য প্রেমের নামে মাগীবাজী, বেহায়াপনার বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেনো?

যারাই আজ বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তারাই আসলে প্রেমের নামে
নারীদের পণ্যের মতো ভোগ করতে চায় । আর তাদের কারনে আজ পুরো পৃথিবী হুমকির
মুখে বিভিন্ন রোগ এবং আল্লাহ তা’য়ালার গজবের দ্বারা ।

একটা মেয়ের 9-17 বছর বয়সে বিয়ে দিলে তা কখনো বাল্য বিবাহ হয় না ।

প্রাপ্ত বয়সের আগে বিয়ে দিলে মেয়ের সম্মতি লাগে না তবে প্রাপ্ত বয়স্ক
হলে অবশ্যই সম্মতি না নেওয়া হলে বিয়ে হবে না । আর বিয়ে না হলে যৌন মিলন
করলে সেটা হবে যিনা । আর একটা মেয়ে 9 বছরের হলেই সে সম্মতি প্রদানের জন্য
সক্ষম ।

..হযরত আয়শা (রা:) এর বিয়ে হয়েছিলো মাত্র 6 বছর বয়সে । যদি আপনি এই
বয়সে বিয়ে দেওয়ার বিরোধী হন তাহলে আপনি রাসূল (সা:) কে দোষ দিচ্ছেন
(নাউযুবিল্লাহ) ।

স্কুল কলেজে গিয়ে খোজ নিন ক্লাস নাইন কিংবা টেন এ পড়া ছেলে বা মেয়েরা প্রেমের নামে নোংরামিতে লিপ্ত ।
পশ্চিমা সহ প্রায় সব দেশেই মেয়েদের কুমারিত্ব হারাচ্ছে স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার আগে ।
...যদি আপনি চান আপনার বোন স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার আগে বোখাটে প্রেমিকের
দ্বারা কুমারিত্ব হারাক তাহলে আপনি আপনার বোনের যত দিনে ইচ্ছা বিয়ে দিয়েন ।
আমরা মুসলিমরা দিবো না ।

...কুরআন হাদীস পড়ে যাদের জীবন পার হয়ে যায় তাদের ভুল ধরতে আসে ঐ সমস্ত
লোক যারা কোন দিন কুরআন হাদীস ভালো ভাবে অর্থ বুঝে পড়ে নাই । তাদের অবস্থা
হলো খালি কলশি বাজে বেশি । এমনকি তারা বিজ্ঞান সম্পর্কেও জ্ঞান রাখে না ,
তারা শুধু জ্ঞান রাখে কিভাবে ভোগ করা যায় এবং ভোগ করার নতুন নতুন কৌশল খুজে
এবং সেই কৌশলকে কাজে লাগানোর জন্য ধর্মকেও গালগালি করে তার মানে হচ্ছে
তারা পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালা এবং রাসূল (সা:) কে গালাগালি করে
(নাউযুবিল্লাহ) । আলেমদেরকেও গালাগালি করে । এরা হলো নামে মুসলিম ।

আপনি কি জানেন 15-25 বছর বয়সের ছেলেরা বেশি পতিতালয়ে গিয়ে থাকে ।
আপনি যদি চান আপনার বোনের বিয়ে দিতে একজন পতিতালয়গামী ছেলের সাথে তাহলে আপনি দিয়েন ।আমরা দিবো না ।

আপনি উপরে রুমানার পক্ষে হয়ে কথা বলছেন, যে
পরকিয়ায় লিপ্ত ছিলো । তার স্বামী থাকা সত্বেও বাহিরের দেশে গিয়ে সে
ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলো। হায় আফসোস !

স্বামী যদি ভালো না লাগে তাহলে তালাক দিক কিন্তু স্বামী রেখে তাকে ঠকিয়ে অন্য জনের সাথে পরকিয়া কেনো ?

..আপনি রুমানার মতো নারীকে সাপোর্ট করেন এর মানে দাড়ালো আপনি একজন সেকুলার, লাল সালামের নামধারী ভন্ড মুসলিম ।

বুঝে গেছি আপনি আপনার স্ত্রীকে পরকিয়া করতে অনুমতি দিবেন ।

বিবাহ হলো আল্লাহ তা’য়ালার একটা বিধান যারা এটাকে (““বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রান ””) এই ভাবে কঠাক্ষ করবে তারা আর যাই হোক মসলিম নয় ।

আর একটা মেয়ের সম্মতি নেওয়ার জন্য তার 18 বছর হতেই হবে এটা শুনলে ডাক্তাররাও হাসবে ।

আসলে যারা ছেলে মেয়েকে প্রেম করতে দেয় অর্থাৎ সহজে বিয়ে দিতে চায় না , একমাত্র ঐ সমস্ত মানুষগুলোই মেয়ের অমতে বিয়ে দেয় ।

ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষরা কখনও মেয়ের অমতে বিয়ে দেয় না ।

আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন যে বিষয়কে Common রেখেছেন সেটাকে যে নির্ধারিত করে দিবে সে কাফের ।  আর যে সেই কাফেরের পক্ষ হয়ে কথা বলবে সে সেই কাফেরদের দলের অন্তরভুক্ত ।

@আত্মসমর্পণকাৱী,  অন্যত্র ব্যস্ত থাকায় উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল। আশাকরি আমার জবাব ও লেখা দুটি আবারও ভাল কোরে পড়ে তারপর পুনরায় মন্তব্য দেবেন-

বিবাহ হলো আল্লাহ তা’য়ালার একটা বিধান এবং একই সাথে একটি সামাজিক রীতিও বটে। মুসলিমদের মাঝে যেমন বিয়ে হয়। তেমনি অন্য ধর্মের নারী ও পুরুষের মাঝেও বিয়ে হয়। 

বংশরক্ষা করাও এই বন্ধনের বাস্তব এবং মূখ্য উদ্দেশ্য। মূলত বর ও কনের পারস্পরিক সম্মতি ও সামাজিক স্বীকৃতি এবং কিছু শর্ত সাপেক্ষে এই বন্ধন বৈধতা পায়।

প্রায় সবগুলো ধর্মেই স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি যারা মুশরিক তাদেরকেও শিরক করার পাশাপাশি এক স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে দেখা যায়। যে যার ধর্মের বিধান অনুসারে সংসার জীবনে প্রবেশের এই সুদৃঢ় বন্ধন রচনা করে থাকেন। তাই প্রত্যেক ধর্মের রীতি-নীতি অনুসারে এই সম্পর্ক সৃষ্টি হলে অর্থাৎ বিয়ে হলে তা সেই ধর্মমতে শুদ্ধ রূপে গণ্য করা হয়। 

নাস্তিকদের মধ্যেও তাদের সমাজের রীতি-নিতি অনুসারে বিয়ে হয়। পারস্পরিক সমঝোতা ও অঙ্গীকারের উপরেই মূলত এই সম্পর্কের ভীত রচিত হয়। যেহেতু তারা স্রষ্টা তথা ধর্মে বিশ্বাসী নন, তাই তাদের ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ও শর্ত পূরণই বিয়ের বৈধতা প্রদান করে।

ইসলাম ধর্মের মৌল নীতি অনুসারে মুসলিম মাত্রই সকল বৈধ কাজে-কর্মে মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করতে হয়। তাই ইসলামের অনুসারী মাত্রই বিবাহিত সংসার জীবন শুরুর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ এবং রাসূলের (সাঃ) নাম স্মরণ করা বাধ্যতামূলক। 

ইসলামের ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআনে ইমানদার নর/নারীকে অবিশ্বাসী ও মুশরিকদের বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। 

সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

(০২:২২১) অর্থ- আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

তাই ইসলামের অনুসারী কোন মুসলিমের জন্য এরূপ বিবাহ করা হারাম। তথাপি সামাজিক প্রথা ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুসারে এ ধরনের বিয়ে হয়ে গেলে তা সামাজিকভাবে বৈধতা পাবে ঠিকই। কিন্তু আল-কোরআনে এই বিধান নাযিলের পর থেকে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারনে কোন মুসলিম নর/নারী এই ধরনের বিয়ে করলে তা মারাত্মক গোনাহের কাজ হবে। আল- কোরআনের বিধান অনুসারে যেহেতু এই বিয়ে অবৈধ, তাই সামজিক বৈধতা ও রাষ্ট্রিয় নিশ্চয়তা পেলেও জ্ঞাতসারে ও স্বইচ্ছায় এই বিয়ে করার কারনে সেই মুসলিম নর/নারীকে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের পরকালে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে। ইসলামি রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত হলে বিচারক আল-কোরআন বিরোধী কর্মে লিপ্ত হওয়ার কারনে তাদেরকে শাস্তি দেবারও অধিকার রাখেন। এক্ষেত্রে কার কতটুকু সাজা হবে তা অবস্থা যাচাই করে বিচারকই নির্ধারণ করবেন। বিচারক চাইলে তাদেরকে (পুরুষ/নারীকে) ইসলাম কুবুলের জন্য সময়ও বেধে দিতে পারেন। আর যদি তারা (পুরুষ/নারীকে) স্বজ্ঞানে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হবার ঘোষণা দেন, তাহলে তখন থেকে তারা (পুরুষ/নারী) ইসলামি সমাজের একজন হিসেবে প্রাপ্য সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তাদের বিচারের ভার পরকালে আল্লাহতায়ালার হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

বর্তমানে আস্তিক ও নাস্তিক উভয়ের ক্ষেত্রেই বিবাহ বন্ধন এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধানকে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত আইন দ্বারা আরও সুনিশ্চিতভাবে কার্যকর ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিয়ে মানে শুধু যৌনতা নয় ঠিকই, কিন্তু তারপরও নারী ও পুরুষের মাঝে যৌন মিলনকে স্বীকৃতি দেয়াও বিয়ের একটি বড় শর্ত। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে হাদিছের শর্ত অনুসারে তো বিয়ের পর স্বামী চাইলে তার বিয়ে করা স্ত্রী কচি হোক বা ঝুনা হোক- যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য।

(বাল্য= Childhood ; infancy) 

ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ মেলামেশা করা যেমন অন্যায়, তেমনি ৬ কিংবা ৯ বছর বয়সে অর্থাৎ কোন কচি শিশুর বুঝ হবার আগেই তাদের মতের তোয়াক্কা না কোরে বিয়ের নামে তাদেরকে অপ্রাপ্ত যৌনতার মাঝে ঠেলে দেয়াও ঠিক নয়।  

আমি হাদিছ বলতে রাসূলের (সাঃ) সেই সব আদর্শকে বুঝি যা তার মুখ নিঃসৃত বাণী ও 

অনুমোদন সাপেক্ষে সংগৃহিত হয়েছে এবং যা আল-কোরআনের মৌল নীতির সাথে 

সাংঘর্ষিক নয়। 

কিন্তু বাল্যবিবাহকে জায়েজ বানানোর জন্য হযরত আয়শার (রাঃ) যে বক্তব্যকে হাদিছ হিসেবে আল-কোরআনের মৌল নীতির উপরে স্থান দেয়া হয়ে থাকে- তা কি রাসূলের (সাঃ) মুখনিঃসৃত বাণী অর্থাৎ সহী হাদিছ হিসেবে কেউ প্রমাণ করতে পারবে। এমনকি আয়শার (রাঃ) নামে চালানো এই বক্তব্যটি আদৌ তার কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আপনি বলেছেন- //প্রাপ্ত বয়সের আগে বিয়ে দিলে মেয়ের সম্মতি লাগে না//

এসব মনগড়া কথা কখনই প্রকৃত ইসলাম নয়। বরং আল-কোরআনের মৌল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক মানুষের স্বার্থবাদী এ ধরনের উদ্ভাবনকে যারা আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয় তারা ধর্মান্ধ। এই অন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে মুসলিমদেরকে ধর্মপ্রাণ হওয়ার শপথ নিতে হবে। তাহলেই একাল ও পরকালে মুক্তি মিলতে পারে।

আপনি বলেছেন- /;/একটা মেয়ের 9-17 বছর বয়সে বিয়ে দিলে তা কখনো বাল্য বিবাহ হয় না।//

আপনি আরও বলেছেন- //আর একটা মেয়ের সম্মতি নেওয়ার জন্য তার 18 বছর হতেই হবে এটা শুনলে ডাক্তাররাও হাসবে।//

কোথায় ৯ বছর আর কোথায় ১৭ বছর। বয়সের ফারাকটাই বলে দিচ্ছে যে, আপনি কতটা কনফিউশনে আছেন। তাছাড়া আপনি আমার লেখার দুটি পর্ব ঠিকভাবে না পড়েই হয়ত অনকে কথাই বলেছেন। ১৭ বছরে কিংবা ১৬ বছরেও যদি বিয়ে হয়, তাহলে আমার দৃষ্টিতে সেটা বাল্য বিয়ে নয়। কারন আমি বিশ্বাস করি যে, আয়শার (রাঃ) বয়স যখন ১৬ বছর তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বিয়ে করেন এবং ১৮/১৯ বছরে পা দেবার পরই তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এই বয়সে স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ নিজের মতামত দেবার মত যোগ্য হতে পারে। কিন্তু এর আগে বিয়ে হলে তা আমার দৃষ্টিতে বাল্য/শিশু-বিবাহ হেসেবে গণ্য হবে। কিন্তু আপনার উল্লেখিত হাদিছ মতে তো ৯ বছর, এমনকি অনেকে তো ৬ বছরের কচি শিশুটিকেও বিয়ের নামে যৌন বেড়ি পড়িয়ে দিতে একপায়ে খাড়া। এ :ধরনের অবিবেচক কর্ম কোরে পূণ্য কামাই করার কুচিন্তা করতেও কি তাদের বিবেকে বাধে না? হায়!!

আমার লেখার শেষ পর্বে এ সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা আবারও লক্ষ্য করবেন- 

(মানুষের মন বৈচিত্রময়। কথায় বলেনা- "যার মনে যারে লাগে ভাল"। বয়সের বড় ব্যবধান সত্বেও যদি কোন নারী বা পুরুষ একে অপরকে পছন্দ করে এবং বিয়ে করে সুখি হতে চায় বা পারে, তাতে তো কারও কোন আপত্তি থাকার কথা না। আপত্তির প্রশ্ন আসে তখনই, যখন বিকারগ্রস্ত যৌন বাসনা মেটানোর জন্য বালিকাবিবাহ করাকে ধর্মীয় রীতি বানিয়ে পুণ্য অর্জনের ঢেকুর তোলার পায়তারা করা হয়। অনেক সময়ই দেখা যায় পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের সমাজ ব্যবস্থায় বিবাহ কি জিনিস তা বোঝার মত জ্ঞান-বুদ্ধি হবার আগেই বিয়ের নামে কচি অবুঝ শিশুকে বলতে গেলে এক রকম জোর করেই কোন এক মাঝবয়সী কিংবা বৃদ্ধের গলায় ঝুলিয়ে দিতে আপনজনেরা কুন্ঠাবোধ করে না। হায়! এক্ষেত্রে কনের সম্মতি বা অসম্মতির কোন তোয়াক্কা তো করাই হয় না, বরং ধর্মের নামে পুণ্য কামাই করার নেশায় তাদের অধিকার হরণের সকল পন্থা অবলম্বন করা হয়। ধর্মান্ধ মানুষ এতটাই অন্ধ হয়ে যায যে, বিয়ের শর্ত অনুসারে সম্মতি/অসম্মতির তোয়াক্কা তো করাই হয় না, এমনকি একটা হারাম উপায় অবলম্বন করে তদের পায়ে যৌন বেড়ি পরিয়ে গুনাহের পথ বেছে নিতেও কুন্ঠিত হয়না। বরং ধর্মের নামে পুণ্য কামাই করার নেশায় তাদের অধিকার হরণের সকল পন্থা অবলম্বন করা হয়।)

আপনি বলেছেন- //আপনি কি জানেন 15-25 বছর বয়সের ছেলেরা বেশি পতিতালয়ে গিয়ে থাকে ।//

জী, যারা পতিতালয়ে যায় তারা কোন বয়সের ধার ধারে না। একজন প্রকৃত ইমানদার ব্যক্তি যুবক হোক বা হোক সে বৃদ্ধ, পতিতালয়ে যাবার কথা সে কখনো চিন্তাও করতে পারবে না। অনেক বিবাহিত পুরুষেরাই যে হরহামেশাই পতিতালয়ে গমন করেন তা কি আপনার জানা আছে? সুতরাং বয়স নয়, বরং বিশ্বাসটাই এখানে মুখ্য বিষয়। আর মনে রাখবেন, কথা ও কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষের প্রকৃত বিশ্বাসের পরিচয় ফুটে ওঠে।

আপনি বলেছেন- //আপনি উপরে রুমানার পক্ষে হয়ে কথা বলছেন, যে পরকিয়ায় লিপ্ত ছিলো। তার স্বামী থাকা সত্বেও বাহিরের দেশে গিয়ে সে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলো। হায় আফসোস !//

আমি রুমানা নামের একজন নির্যাতিত নারীর কথা উল্লেখ কোরে পরোক্ষভাবে সকল নির্যাতিত নারীদের পক্ষেই কথা বলতে চেয়েছি। যার চোখ দুটি তার পাষণ্ড স্বামী নিজ হাতে নষ্ট কোরে দিয়ে অন্ধ বানিয়ে দিয়েছে। রুমানা পরকিয়ায় লিপ্ত ছিল কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ। এর জন্য তাকে তালাক দেয়া কিংবা আইনের স্মরণাপন্ন হওয়াই একজন মানুষের কাজ হত। কিন্তু তা না কোরে তার অবিবেচক বিকৃত মস্তিষ্কের স্বামী নামের লোকটি গোটা পুরুষ সমাজের মুখে কালিমা লেপন করেছে। এ ধরনের পশু সুলভ আচরণ করার শিক্ষা ও অনুমতি কি ইসলাম আমাকে বা আপনাকে দেয়?

আপনি বলেছেন- //বুঝে গেছি আপনি আপনার স্ত্রীকে পরকিয়া করতে অনুমতি দিবেন।//

আপনি কি বলেছেন- তা কি একটি বারও ভেবে দেখেছেন?

আশাকরি স্বচ্ছ ও সরল অন্তরে ইসলামকে জানার ও বোঝার চেষ্টা করবেন। তারপর ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পথে নামবেন। মনে রাখবেন- আমার রাসূল (সাঃ) কখনই অন্যের মনে কষ্ট দিয়ে ইসলাম প্রচার করেন নাই।

মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সকলকে ক্ষমা করেন---

@হোসেন_মাহফুজ,

ভাই আপনি মনে হয় এই পৃথিবী নামক গ্রহে থাকেন না , তাই পৃথিবীর কোন খবরই রাখেন না ।

আপনাকে অনুরোধ করি , দয়া করে আপনি ইসলামের কোন বিষয়ে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে না জেনে লেখালেখি করবেন না কারন আমরা চাই না আপনি ভুল বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করুন এবং নিজের জন্য জাহান্নাম কামাই করুন ।

...যারা আল্লাহ তা’য়ালাকে ভয় পায় তারা কখনও মানুষকে কষ্ট দেয় না কাজেই তারা অল্প বয়সে বিয়ে করলেও শারীরিক সম্পর্ক তখনই করে না , তারা বিয়ে করে মানসিক প্রশান্তি লাভ করার জন্য ।

....হযরত আয়শা (রা:) এর বিয়ে হয়েছিলো মাত্র ছয় বছর বয়সে আর সংসার শুরু করেছিলেন আরো পরে কাজেই যারা মুসলিম তারা বুঝে শুনে সংসার শুরু করবে বিয়ে আগে করলেও ।

জানি না মানুষ আজ বিয়ে টাকে এতো ভয় পাচ্ছে কেনো, আর অবৈধ সম্পর্ক বা হস্তমৈথন টাকে বৈধ মনে করছে কেনো ।

আপনি যদি এখনোও বিয়ে না করে থাকেন তাহলে নিশ্চই আপনি অন্তত হস্তমৈথন করেন । যদি বলেন আপনি হস্তমৈথন করেন না তাহলে বুঝবো আপনি মিথ্যা কথা বলছেন কারন মেডিকেল সাইন্স আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছে অথবা আপনার নিশ্চয়ই শারীরীক সমস্যা আছে ।
“যেমন এক সাহাবীকে বলা হয়েছিলো বিয়ে না করার কারনে , হয় তুমি চরিত্রহীন না হয় তোমার শারীরীক সমস্যা আছে ।” এর পর সেই সাহাবী বিয়ে করেছিলো । কিন্তু আফছোছ আজকের মানুষ সেটা মানতেই চায় না ।

...ইমান পরিপূর্ণ আছে বলেই তো আপনি খুব দ্রুত বিয়ে করবেন ।

ড: জাকির নায়েক সহ পৃথিবীর সব অভিজ্ঞ আলেমরা বলেন যে যৌবন আসার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে করার কথা কিন্তু আপনি বলেন নাস্তিকদের সাথে তাল মিলিয়ে যাদের জন্য আজ ধর্ষণ এবং যেনা ব্যাভিচার খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে ।
যদি আপনার বোনকে ধর্ষন করা হতো অথবা যেনা ব্যাভিচারে ‍লিপ্ত করতো তাহলে বুঝতে পারতেন এর জ্বালা কি ।
মাত্র পাঁচ বছরে একটি জেলায় ধর্ষণ হয়েছে আটশত শুধ খাতাকলমে তাহলে বাস্তবে কতো আর পুরো দেশে কতো???

ধর্ষণের অনেক কারন আছে এর মধ্যে একটি বড় কারন হলো বিয়েতে বাধা ।

..আপনি রুমানার জন্য দ:খ পাচ্ছেন অথচ তার হাসবেন্ডের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন না যাকে রুমানা হত্যা করেছে । তার যদি সংসার করতে ভালই না লাগে তাহলে আগেই কেনো সে তার হাসবেন্ড এর সাথে সম্পর্ক শেষ করেনি ???  তার হাসবেন্ডের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় কেনো সে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়েছিলো ????  আপনার জীবনে এমন ঘটেনি তো তাই বুঝতে পারছেন না তার হাসবেন্ডের কষ্ট টা । তবে এটা ঠিক যে তাকে আঘাত করা ঠিক হয় নাই । তবে আপনি যেভাবে রুমানাকে সাপোর্ট করছেন তা দেখে মনে হচ্ছে আপনি ন্যায় বিচার করতে পারবেন না ।

আপনাকে আবারো অনুরোধ করি , দয়া করে আপনি ইসলামের কোন বিষয়ে সঠিক এবং পরিপূর্ণ
ভাবে না জেনে লেখালেখি করবেন না কারন আমরা চাই না আপনি ভুল বলে মানুষকে
বিভ্রান্ত করুন এবং নিজের জন্য জাহান্নাম কামাই করুন ।

@ আত্মসমর্পণকাৱী

আপনার কথা যতই শুনছি ততই মনে হচ্ছে- "একরোখা অন্ধ অন্তর কখনো আলোর দেখা পায়না"

আপনি কি আমার লেখার নিচের এই অংশটুকু লক্ষ্য করেন নাই?

(মুসলিম সমাজে বিশেষ কারন সাপেক্ষে পারিবারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে বাগদান সম্পন্ন করে রাখার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের বিধান অনুসারে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহিত জীবন যাপন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের বাগদান হয়ে গেলেও উপযুক্ত বয়সে উপনীত হবার পর বিবাহিত সংসার জীবন শুরুর পূর্বে সেই পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ একজন যদি অসম্মতি জ্ঞাপন করে,(67) তাহলে পূর্বেকার বাগদান ভেঙে দেয়া আইন সম্মত। এক্ষেত্রে বিয়ে আর পূর্ণতা পাবে না অর্থাৎ বিবাহিত সংসার জীবন যাপনের জন্য তাদেরকে বাধ্য করা যাবে না। হযরত আয়শার (রাঃ) নামে চালানো কোন বক্তব্য নয়, রাসূলের (সাঃ) এর মুখ নিঃসৃত হাদিছের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নিচের হাদিছটি থেকে এর স্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়--

'Wedlock, Marriage (Nikaah)' of Sahih Bukhari. 

67: Narrated Abu Huraira: The Prophet said, "A matron should not be given in marriage except after consulting her; and a virgin should not be given in marriage except after her permission." The people asked, "O Allah's Apostle! How can we know her permission?" He said, "Her silence (indicates her permission)." 

ইসলামে বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তালাক প্রাপ্ত নারীদেরকেও বিবাহ করা ও দেয়ায় কোন বাধা নেই। জোর করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের মতের বিরুদ্ধে বিবাহ দেয়া বা করা নিষেধ। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময় ইদ্দত পালনের বিধান রয়েছে। এই সময় অতিবাহিত হবার পর বিবাহ করা হারাম নয় এমন যে কোন ব্যাক্তির সাথে তাদের বিয়ে হতে পারে। বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দিলে তা ভেঙে দেয়া আইন সম্মত।

69: Narrated Khansa bint Khidam Al-Ansariya: that her father gave her in marriage when she was a matron and she disliked that marriage. So she went to Allah’s Apostle and he declared that marriage invalid.

56: Narrated Zainab bint Salama: Um Habiba said to Allah’s Apostle “We have heard that you want to marry Durra bint Abu-Salama.” Allah’s Apostle said, “Can she be married along with Um Salama (her mother)? Even if I have not married Um Salama, she would not be lawful for me to marry, for her father is my foster brother.” ‘And there is no blame on you if you make hint of betrothal or conceal it in your hearts. Allah is Oft- Forgiving, Most Forbearing.’ (2.235) Ibn ’Abbas said, “Hint your intention of marrying’ is made by saying (to the widow) for example: “I want to marry, and I wish that Allah will make a righteous lady available for me.’ ” Al-Qasim said: One may say to the widow: ‘I hold all respect for you, and I am interested in you; Allah will bring you much good, or something similar ‘Ata said: One should hint his intention, and should not declare it openly. One may say: ‘I have some need. Have good tidings. Praise be to Allah; you are fit to remarry.’ She (the widow) may say in reply: I am listening to what you say,’ but she should not make a promise. Her guardian should not make a promise (to somebody to get her married to him) without her knowledge. But if, while still in the Iddat period, she makes a promise to marry somebody, and he ultimately marries her, they are not to be separated by divorce (i.e., the marriage is valid).

সুতরাং বাল্য বয়সে পারিবারিকভাবে বাগদান সম্পন্ন কোরে রাখার বিষয়ে যে আমার কোন আপত্তি নেই তা স্পষ্ট কোরেই বলেছি। কিন্তু তাই বলে ধর্ম পালনের নামে ৬/৯ বছরের কচি মেয়েকে যৌন যন্ত্র বানিয়ে দিয়া কোন বিবেকবান মুসলিমের কাজ হতে পারেনা। পৃথিবীর মুসলিম অধ্যুষিত অনেক অঞ্চলেই যে এই একটি মাত্র হাদিছ নামক বক্তব্যে উপর ভর কোরে কচি মেয়ে শিশুদের উপরে দিনের দিনের পর দিন এ ধরনের নির্যাতন চলে আসছে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ মিলবে- আপনি কি তা অস্বীকার করতে পারবেন? যদি অস্বীকার করেন তাহলে আপনার এই উক্তিটা আপনার জন্য ১০০% প্রযোজ্য হবে-  //আপনি মনে হয় এই পৃথিবী নামক গ্রহে থাকেন না, তাই পৃথিবীর কোন খবরই রাখেন না।//

আপনি বলেছেন- //যদি আপনার বোনকে ধর্ষন করা হতো অথবা যেনা ব্যাভিচারে ‍লিপ্ত করতো তাহলে বুঝতে পারতেন এর জ্বালা কি।//

যদি আপনার বোনকে ধর্ষণ করা হতো, তাহলে কি আপনিও সেই ধর্ষককে ধর্ষণ কিংবা নিজ হাতে তার চোখ তুলে অন্ধ কোরে দেয়ার কিংবা খুন করার অধিকার রাখেন? নাকি এর জন্য আপনাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে? এ পরিস্থিতিতে আল-কোরআন ও হাদিছ মতে আপনার করণীয় কি হবে?  

আবার আপনার স্বামী/স্ত্রী যদি পরকিয়া করে বা পতিতালয়ে গমনে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন- এক্ষেত্রে বিষয়টি উপযুক্ত প্রমাণ সহ আপনি জানতে পারলে তখন কি করবেন? তাকে নিজ হাতে খুন করার বা তার চোখ তুলে অন্ধ কোরে দেয়ার অধিকার কি ইসলাম আপনাকে দেয়? নাকি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা ইসলামে বলা হয়েছে?

আপনি বলেছেন- //তবে আপনি যেভাবে রুমানাকে সাপোর্ট করছেন তা দেখে মনে হচ্ছে আপনি ন্যায় বিচার করতে পারবেন না।//

দুঃখিত! কোন অত্যাচারীকে সাপোর্ট করা আমার নীতি বিরুদ্ধ। সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কোন নারীর উপরে ব্যভিচারের দোষারোপ করলে এবং নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছে এরূপ চারজন সাক্ষী জোগাড় করতে না পারলে অভিযোগটি মিথ্য বলে প্রমাণিত হবে এবং আল্লাহর কিতাবে অভিযোগকারীকে ৮০ টি বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর 

মিথ্যুক হিসেবে প্রচার করার সাথে সাথে এরপর থেকে তাদের কোন সাক্ষী আর গ্রহণ 

করা হবে না- তা কি আপনি জানেন? আপনি কি রুমানার পরকিয়ার ব্যাপারে এরূপ   

চারজন সাক্ষী জোগাড় করতে পারবেন? না পারলে আপনার জন্যও সেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। আমার কাছে সেই প্রমাণ নেই বলেই আমি রুমানাকে মজলুম হিসেবেই জেনেছি। আর তাই তার উদাহরণ দিয়ে সকল নির্যাতিত নারীদের পক্ষেই কথা বলেছি। কারণ আমি জানি যে, গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া পুরুষ শাসিত এ সমাজে নারীরাই বেশি নিগৃহীত ও নির্যাতিত হচ্ছেন। চোখ কান খোলা থাকলে এটি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।  

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আপনার অল্প বিদ্যা ও একগুঁয়ে মনোভাব প্রমাণ করে যে আপনি ন্যায় বিচার তো নয়ই, বরং অত্যাচারী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ কোরে ছাড়বেন।

আশাকরি একরোখা মনোভাব ও নিজের ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা নয়, ধৈর্যসহ আরও ভাল কোরে আল-কোরআন ও সহী হাদিছ জেনে ও বুঝে তারপর তর্ক করবেন।

@ হোসেন_মাহফুজ,
আপনার অল্প বিদ্যা সত্যি আমাকে আশ্চর্য করেছে ।
ইসলামে যেকোন বয়সে বিবাহ জায়েজ । আপনি কিভাবে বলতে পারেন (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন) ।

আপনি নিজে অত্যাচারী তাই অন্য মানুষকে অত্যাচারী মনে করছেন । আপনি নিজে হয়তো নিজের বউকে অত্যাচারের সাথে ভোগ করবেন তাই অন্যকে নিজের মতো মনে করেন । আর তাই আপনি এই ধরনের (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন) ইসলাম বিরোধী কথা বলেন ।

এই ধরনের শিরোনাম (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন। আর নিজেকে পাগল প্রমান করা থেকে বিরত থাকুন ।

আপনি হলেন ফরীদ উদ্দীন মাসুদের মতো মুনাফিক পাগলদের মরীদ তাই আপনার কথা বার্তা এই রকম ।

আপনার শিরোনাম একরকম আর কথা এক রকম ।

যে জেগে ঘুমায় তাকে জাগানো যায় না ।

আপনি হলেন ঘরের মধ্যে বসে থাকা কুনো ব্যঙ্গ, বাহিরের খবর রাখেন না ।

 @ আত্মসমর্পণকাৱী

হুঁ বুঝলাম, আপনার সাথ তর্ক করা আর কলাগাছ সামনে রেখে বক বক কর একই কথা।

যতই কথা বলছেন, আপনার ঝগড়াটে ভাবটাই সবার কাছে প্রকাশ পাচ্ছে। যতসব বস্তা পচা বোলচাল পবিত্র কোরআন ও হাদিছের নামে চালিয়ে দিয়ে সস্তা সোয়াব কামাইয়ের পাঁয়তারা করেন। পরকালে নিশ্চয় এর জবাব দিতে হবে। আপনার মত বকধার্মিকদের জন্যই মূলত তসলিমা নাসরিনের মতরা ইসলামের বিরুদ্ধে বলার সুযোগ ও সাহস পাচ্ছে। 

আপনার সাথে বিতর্ক কোরে অযথা সময় ক্ষেপণ করার রুচিও আমার নেই। তাই বিচারের ভার বিবেকবান ও জ্ঞানী পাঠকদের কাছে অর্পণ করতে চাই।

@ হোসেন_মাহফুজ,

আপনাদের মতো বকধার্মিকদের কারনে তোসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দা, থাবা বাবাদের মতো নাস্তিকদের জন্ম হয় । আপনাদের মতো মানুষদের কারনে তারা আল্লাহ তা’য়াল , রাসূল (সা:) এবং কুরআনকে কটাক্ষ করতে সাহস পায় ।

আপনাদের মতো মানুষদের কারনে আজ খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না । কুরআন এবং সহিহ হাদিসের যেটা আপনাদের ভালো লাগে সেটা গ্রহণ করেন আর যেটা ভালো লাগে না সেটা কাট সাট করে বাদ দেন ।

আপনাদের মতো মোডারেট মুসলিমদের কারনে আজ ধর্ষণ, খুন, চুরি, ডাকাতি, বেহায়াপনা, অশ্লিলতা, যেনা ব্যাভিচার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

যাদের আল্লাহ তা’য়ালার বিধান ভালো লাগে না তাদের কাছে আল্লাহ তা’য়ালার বিধান গুলো আত্যাচারের মতোই লাগে । যেমন কয়েকদিন আগে নারীবাদীরা পর্দার বিরুদ্ধে ঝেপে পড়েছিলো এমনকি মানুষকে হত্যা করেছে । তাহলে বুঝতে হবে তারা আল্লাহ তা’য়ালার বিধান গুলোকে কিভাবে ঘৃনা করে যে তারা এর জন্য মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করে আর তাই তাদের সাথে কোন সম্পর্ক নাই ।

আর যারা গনতন্ত্র পন্থী মানব রচিত আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা কারী কাফের সরকারকে এবং সরকার ব্যবস্থাকে সমর্থন দিবে তারা কাফের ।

আর আপনি শুধু ঝগড়াটেই না, ঝগড়াটের দাদাও বটে ।

আপনি এই শিরোনাম (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন পরিবর্তন করুন এবং ভিতরে কোরআন বিরোধী নিজস্ব কথা বাদ দিন । তাহলেই কেবল আপনার সাথে আমার ঝগড়া থামবে ।

@আত্মসমর্পণকাৱী

আমি একটিও কোরআন বিরোধী কথা বলি নাই। যদি বলে থাকি, সৎ সাহস থাকলে তা স্পষ্ট কোরে তুলে ধরুন। 

বরং আপনি্/ আপনারাই হাদিছের নাম ভাঙিয়ে কোরআন বিরোধী কর্মে লিপ্ত হয়েছেন। 

যতই সুখের হোক না কেন- আল-কোরআনে নির্দেশিত স্পষ্ট পথ ও পন্থা ছেড়ে অন্য 

কোন মত ও পথ আমার কাছে মূল্যহীন। আল-কোরআনের সত্য জ্ঞান ও বাস্তব 

অভিজ্ঞতার আলোকে আমার নাবালোক পুত্র ও কন্যাদের বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে সুখের 

স্বপ্ন দেখার দলে আমি নেই। কেবলমাত্র ঋতুবতী হবার কারনে আপনার ৬/৯ বছর বয়সী মেয়েকে সংসার করার উপযুক্ত মনে হলে হাজারবার বিয়ে দিন। এভাবে সস্তা 

সোয়াব কামাই করে পরম শান্তি পেতে চাইলে সেটা আপনাদের ব্যাপার। 

আশাকরি এই ঠিকানার সবগুলো লেখা পড়ে নিবেন, কাজে লাগতে পারে-

@ হোসেন_মাহফুজ,

আপনার এই শিরোনামটাই (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন) তো কুরআন এবং সহিহ হাদীস পরিপন্থি এবং ভিতরের অল্প বয়সে বিয়ের বিরুদ্ধে যত কথা আছে সব গুলোই কুরআন এবং সহিহ হাদিস পরিপন্থি ।

আপনাকে কেউ বলে নাই যে আপনি আপনার 6/9 বছর বয়সের ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে দিবেন ।

যখন একটা ছেলে বা মেয়ে 15-16 বছরের হয় তখন তার অবস্থা গিয়ে খোজ নিন ভালো করে । নিশ্চয়ই তারা প্রেমের নামে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে আছে বা জড়ানোর উপক্রম । যদি আপনার বোন থেকে থাকে তাহলে ভালো ভাবে খোজ নিন ।

আপনি বিয়ে দিন আপনার ছেলে মেয়ে কিংবা আপনার বোনের তাদের অন্য কোথাও প্রেমের নামে অবৈধ সম্পর্ক হওয়ার পর , আমরা কখনই দিবো না ।

ইসলাম তাড়াতাড়ি বিয়েতে উৎসাহ দেয় , কাজেই দেরি করে বিয়ে করাটা মোটেই ইসলামিক নয় ।

আবারো আপনাকে বলছি যত তাড়াতাড়ি পারবেন এই শিরোনাম  (বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন) এবং ভিতরের অল্প বয়সে বিয়ের বিরুদ্ধে যত কথা আছে মুছে ফেলুন  ।

..আপনি আমাকে যে পেইজ পড়ে আসতে বলেছেন সে পেইজ পড়ার প্রয়োজন আমি বোধ করি না কারন হয়তো সেটা আপনার মতোই কোন মানুষের লেখা , আমার কুরআন, সহিহ হাদিস এবং প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানই যথেষ্ট

জ্বি ভাই আমার উদ্দেশ্য সোয়াব কামাই করা , কোন সোয়াবই আমার কাছে সস্তা নয় ।

আপনার এই কথাটাও (সোয়াব কামাই করে পরম শান্তি পেতে চাইলে সেটা আপনাদের ব্যাপার।) কুরআন এবং সহিহ হাদিস পরিপন্থি , এর জন্য আপনাকে মুনাফিক আখ্যা দেওয়া যেতে পারে ।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করুন । আমিন!

@ হোসেন_মাহফুজ,

http://alorpothe.wordpress.com/2012/08/16/i-am-19/

আমার বয়স উনিশ বছর, বিয়ে করতে চাই, কিন্তু আমার মা এটা চায়না : কী করণীয়?

লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে ফেসবুক পেজ প্রেম নয় বিয়ে করুন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুন থেকে।

প্রশ্নঃ

আমার বয়স উনিশ বছর, আর আমি বিয়ে করতে চাই, কিন্তু আমার মা এটা চায়না
কারণ সে মনে করে এখন আমার বিয়ের বয়স না। ইসলামে কি এটা অনুমোদিত যে একজন
ছেলে তার মা-বাবার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করবে, এবং ইনশা আল্লাহ অবস্থার উন্নতি
হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাপারটা গোপন রাখবে?

উত্তরঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহর!

প্রথমতঃ

এটা ইসলামে অনুমোদিত, একজন পুরুষ তার পিতামাতার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করতে
পারবে, যদিও নারীদের ক্ষেত্রে বিবাহ বৈধ হবার জন্য তার ওয়ালীর বা অভিভাবকের
অনুমতি নেয়াটা জরুরি। তবে বাবা-মার প্রতি সম্মান এবং সদয় আচরণ রক্ষার জন্য
তাদের থেকে অনুমোদন নেয়া উচিত, কেননা এতে করে তাদের সাথে সৌহার্দ্যময় আর
সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকবে।

দ্বিতীয়তঃ

আপনার উচিত আপনার মা কে বুঝিয়ে বলা কেন আপনার জন্য বিয়ে করাটা অতি জরুরি
একটা বিষয়, আর তাকে মানানোর এবং তার অনুমতি নেয়ার সবরকম প্রচেষ্টা করুন।
যদি তিনি এতে সায় দেন, তো আলহামদুলিল্লাহ! তবে যদি তিনি তার নিজের জিদে অটল
থাকেন, তাহলে আপনি আপনার পছন্দের মেয়ে, যিনি সচ্চরিত্র এবং নিজের দ্বীনের
প্রতি অটল, এমন একজনকে বিয়ে করে ফেললে আপনার উপর কোন গুনাহর ভার থাকবে না।

বর্তমানকালের একটা প্রচলিত ভুল বাবা-মা করে থাকেন তা হলো তারা সন্তানদের
কে পড়ালেখার কারণে বা তাদের বয়স খুব কম, এসব ভেবে বিয়ে করতে বাঁধা দেন;
কিন্তু তারা এটা বুঝেন না যে একজন কমবয়সী তরুণের জন্য এই ফিতনার যুগে কতো
ধরণের সমস্যা হতে পারে। তাদের অস্বীকৃতির কারণে সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যেতে
পারে এবং বিভিন্ন খারাপ কাজে পতিত হতে পারে। তাই মা-বাবার প্রতি আমাদের
পরামর্শ এটাই যেন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা
অনুযায়ী নিজেদের ছেলেমেয়েকে বিয়ে করতে সহায়তা করেন, তাদের জন্য বিয়েকে সহজ
করে দেন এবং তাদেরকে বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয়ই বলেছেনঃ

“হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে
সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে।
আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার
প্রশমন ঘটায়।” [বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪]

শায়খ ইবন ‘উছাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল, যখন কেউ
বিয়ে করতে চায় কিন্তু তার পিতামাতা অস্বীকৃতি জানায় তখন কী করা উচিত, জবাবে
তিনি বলেনঃ

এই ব্যাপারে আমরা অবশ্যই দুইটি বিষয় পেশ করব। প্রথমত, আমরা আপনার বাবাকে
পরামর্শ দিতে চাই যিনি আপনাকে সেই মেয়েকে বিবাহ করতে নিষেধ করছেন যাকে
আপনি সৎ চরিত্র এবং দ্বীনের প্রতি যত্নশীল বলে বলছেন। তার অবশ্যই অবশ্যই
যেটা করা উচিত তা হলো আপনাকে ঐ নারীকে বিয়ের অনুমতি প্রদান করা উচিত, যদি
না শরীয়াহ গত ভাবে এমন কোন ব্যাপার থাকে যা তিনি জানেন এবং আপনার কাছে
বর্ণনা করতে পারেন কেন তাকে বিয়ে করা উচিত না, আর তা আপনার মনকে শান্ত করে।
তার ভেবে দেখা উচিত, যে এমন যদি হতো তিনি কাউকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন যার
দ্বীন এবং চারিত্রিক সোন্দর্য্য তাকে মুগ্ধ করেছে, আর তারপরেও তার বাবা
তাকে নিষেধ করছেন এই নারীকে বিয়ে করতে, তাহলে তিনি কি সেটাকে খুবই
অপমানজনক, লজ্জার ব্যাপার বলে ভাববেন না? তিনি কি মনে করবেন না এটা তার
স্বাধীনতাকে বাধা দিচ্ছে? যদি তিনি তার পিতার এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে না
পারেন, তাহলে একজন বাবা হিসেবে তিনি কিভাবে একই কাজ তার ছেলের সাথে করতে
পারেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তিই
সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসী (ঈমানদার) হতে পারেনা, যতক্ষণ না সে তার ভাই এর
জন্যেও তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে ।”

আপনার বাবার জন্য এটা হালাল নয় যে তিনি আপনাকে এই মেয়ের সাথে বিয়ে করতে
বাধা দিবে কোন শরীয়াহ সম্মত কারণ ছাড়া। যদি কোন শরীয়াহ সম্মত কারণ থেকে
থাকে, তবে তাকে এটা আপনার কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে যেন আপনি বুঝতে পারেন।

আর আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ এই যে, যদি আপনি এমন আরেকজন মেয়েকে খুঁজে
পান, যা আপনার বাবাকে সন্তুষ্ট করবে, আর আপনার এবং পরিবারের মধ্যে ভালো
সম্পর্ক বজায় থাকবে তাহলে তাই-ই করুন।

তবে যদি আপনার পক্ষে তা করা সম্ভব না হয়, কেননা আপনার মন এই মেয়ের
প্রতিই আসক্ত, আর আপনি এটা ভেবে ভয় পাচ্ছেন যে, অন্য কোন মেয়েকে বিয়ের কথা
বললে, আপনার বাবা তাকেও বিয়ে করতে বাধা দিবে- কারণ কিছু মানুষ আছে যারা
নিজেদের সন্তানদের নিয়েও হিংসা করে থাকে, আর তাদেরকে তারা যা চায় সেসব করতে
বাধা দেয়- তাহলে আমি বলব, আপনার যদি এমন ভয় হয় যে আপনি এই মেয়েকে ছাড়া
চলতে পারবেন না যার প্রতি আপনার মন আবদ্ধ হয়ে আছে, তাহলে আপনার উপর কোনোই
গুনাহ নেই যদি আপনি তাকে বিয়ে করেন, এমনকি আপনার বাবা-মা নিষেধ করা
সত্ত্বেও। হয়তো আপনার বিয়ের পরে তিনি যা হয়েছে সব মেনে নিবেন আর তার অন্তরে
যা আছে (বিদ্বেষ) তা চলে যাবে। আমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করি যেন আপনার জন্য
সবচাইতে যা উত্তম তাই-ই যেন হয়।

ফতোয়া ইসলামিয়া (৪/১৯৩)

আর আল্লাহই সর্বোপরি ভালো জানেন।

@ হোসেন_মাহফুজ,

এই পেইজটা দেখে আসতে পারেন

https://www.facebook.com/prem.noy.bie

প্রশ্নঃ
আমরা যদি এমন লোক পাই যে নিজ পানাহার ও বাসস্থানের জন্য রোজগার করতে সক্ষম
কিন্তু তার নিকট এমন সম্পদ নাই যা দ্বারা সে বিবাহ করতে পারে, তবে যাকাতের
অর্থ দিয়ে কি এ ব্যক্তির বিবাহের ব্যবস্থা করা যাবে?

উত্তরঃ

হ্যাঁ, বিবাহের জন্য তাকে যাকাত দেয়া যাবে। যাকাত থেকে তার পূর্ণ মোহর
আদায় করা যাবে। যদি প্রশ্ন করা হয় বিবাহে অপারগ ব্যক্তিকে যাকাত দেয়া
কিভাবে জায়েয হতে পারে?

জবাবে আমরা বলবঃ কেননা মানুষের
বিবাহের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। কখনো খানা পিনার মতই এর প্রয়োজনীয়তা মানুষের
জীবনে প্রকট হয়ে দেখা যায়। এজন্য বিদ্বানগণ বলেন, কারো ভরণ পোষণের অর্থ
বহন করা যার উপর আবশ্যক থাকে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে তার বিবাহেরও ব্যবস্থা
করে দেয়া, যদি তার প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকে। অতএব পুত্র যদি বিবাহ উপযুক্ত হয়
এবং বিবাহের দরকার মনে করে তবে পিতার উপর ওয়াজিব হচ্ছে পুত্রের বিবাহের
ব্যবস্থা করে দেয়া। কিন্তু আমি শুনেছি পুত্র যদি বিবাহের কথা উন্থাপন করে
তবে কোন কোন পিতা নিজেদের যৌবন কালের কথা ভুলে গিয়ে পুত্রকে ধমক দেন আর
বলেন, নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে উপার্জন কর তারপর বিবাহ কর।
এটা মোটেও জায়েয নয়। পিতা সামথ্যবান থাকলে পুত্রের সাথে এরকম ব্যবহার করা
হারাম। পিতার সামর্থ থাকা সত্বেও পুত্রের বিবাহের ব্যবস্থা না করলে সে
অবশ্যই কিয়ামত দিবসে পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে।

~ শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন (রহঃ) এর ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম থেকে।

@ হোসেন_মাহফুজ,

http://alorpothe.wordpress.com/2012/08/16/marriage-story/

বিবাহ সমাচার

ভার্সিটির শেষ বর্ষে বিয়ে করলাম, বর্তমান আদু ভাই টাইপ
সমাজে এটা নাকি অল্প বয়সে বিয়ে করা। যাই হোক , আমি আর আমার বউ সি এন জির
অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ ভার্সিটির এক স্যারের সাথে দেখা, আমার মত
একজন দাঁড়িওয়ালা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো এক নিকাবির পাশে। ব্যস,
স্যার ২+২=৪ মিলায় দিলেন।

- কি ব্যাপার ! তুমি বিয়া করসো নাকি !
- জ্বি স্যার !
- হুহ ! ( স্যার একটা অদ্ভুত শব্দ করলেন, উচ্চারণটা হুহ+ঘুত এর কাছাকাছি,
অবজ্ঞাসূচক ও ব্যাঙ্গাত্মক। কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তিনি তার আয়নার মত
চকচকে শেভ করা গালে বিকালের রোদ প্রতিফলিত করতে করতে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে
গেলেন)

ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য ও নিজের পবিত্রতা রক্ষার জন্য আল্লাহর দেয়া
সমাধান গ্রহণের বিকল্প নেই। যখন অনুভব করলাম সমাধান গ্রহণের সামর্থ্য ও
তাওফিক উভয়টাই আল্লাহ করে দিয়েছেন তখন আর দেরি করা নির্বুদ্ধিতা বলে মনে
হল।

সমাধানের প্রথমটা হল সিয়াম বা চলতি কথায় রোযা রাখা, আর দুই নাম্বার বিয়ে করা !

১ নাম্বার সমাধানটা স্থায়ী সমাধান নয়, বিশেষ অবস্থায় অস্থায়ী সমাধান,
আর ২ নম্বর হচ্ছে স্থায়ী ও অপেক্ষাকৃত উত্তম সমাধান।

দাওয়াতের কাজ নাকি ঘর থেকে শুরু করতে হয়। আমার আব্বা-আম্মা সমাজের
টিপিকাল সেমি-সেকুলার ট্রেডিশনাল মুসলিম আব্বা আম্মা। তাদের সাথে কয়েক
সেশন আলোচনা করে ক্লান্ত হলাম, অবশেষে তারা অনুরোধে ঢেঁকি গিলে ফেললেন।

বিয়ে করব !

- এ কথাটা শোনার পর নদী দুই ভাগ হয়ে গেল। একদিকে দজলা, আরেকদিকে ফোরাত।

কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে।

কেউ দাঁড়ায় পাশে, আর কেউ দাঁত বের করে হাসে।

বলাই বাহুল্য যারা মুরুব্বী গোছের আত্মীয় তারা সামনে মুরুব্বি’আনা ধরে
রাখার জন্য সরাসরি দাঁত বের করে না হাসলেও ভিতরে ভিতরে ঠিকই কাশি
আটকাচ্ছিলেন বুঝা যেত। আর সমবয়সীদের স্বভাবই হচ্ছে ‘তাল দেওয়া’; যে
আন্তরিকভাবে পরামর্শ দিবে সেও বলবে , “হুম, ঠিক, বর্তমান সময়ে এই ফিতনার
যুগ। পবিত্রতা রক্ষার জন্যে বিয়ে করা দরকার। তাছাড়া ইউ নো, সবকিছুই
নির্ভর করে নিয়তের উপর। সেদিক থেকে সব কাজই ইবাদত’; কেউ কেউ আবার এক কাঠি
সরেস, সুযোগ পেয়ে একটা জাল হাদীসও শুনিয়ে দিতে ছাড়ল না। “হায় !
বিবাহিতের এক রাকা’আত নামায, অবিবাহিতের সত্তর রাকা’আত নামাযের সমান”।
পালাও ! কৈ আইলাম !

ফলে একদিকে সত্যিকার সৎ বন্ধুদের সদুপদেশ, আর আরেকদিকে কানাঘুষাকারীদের কারণে ‘কি একটা অবস্থা’।

এরই মধ্যে আবার স্যারের ঐ অদ্ভূত “হুত, ঘুত” টাইপ শব্দ করে ভিড়ের মধ্যে অন্তর্ধান হওয়া।
যাই হোক, ব্যক্তিগত আলোচনা করা মূল প্রসংগ না। মূল প্রসংগ হল বিয়ের বয়স কোনটা ঠিক?
বিয়ে একটি সুন্নাহ, যা সামর্থ্যবানের উপর ওয়াজিব। এবং অবশ্যই একটি ইবাদত।

অল্প বা বেশি বয়সে বিয়ে নয়, সঠিক সময়ে বিয়ে করুন ।

শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এই তিনটি বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে
পাত্রী খোঁজা শুরু করেদিন। শারীরিক সামর্থ্য ব্যক্তি নিজেই ভাল অনুভব করতে
পারবে, আর মানসিক সামর্থ্য আছে কিনা নাই সেটা ঈমান ও তাকওয়ার সাথে
সমানুপাতিক। কিছুদিন আগেই এক ভাইয়ের লেখা পড়লাম, চমৎকার লিখেছেন,

“কথাটা চিন্তা করে মাথাটা চক্কর দিল।

আমরা কি নাবালক হয়ে যাচ্ছি ? দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, তার সাথে এগিয়ে
যাচ্ছে সাবালকত্বের বয়সসীমা । ১৬-১৮-১৯-২১-২৪ এরপর কত ? ইতিহাসে দেখি ১৫
বছর বয়সে রাজত্ব পেয়ে বাকি ১৫ বছরে বিশ্বজয় করতে। মুহম্মদ বিন কাসিম ১৭
বছর বয়সে সিন্ধু জয় করেছিলেন । তিনি ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মেয়ে
জামাই । তারমানে তিনি বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর চেয়ে ৭ বছরের বড় আজকের
যুবকটি স্যরি শিশুটি এখনো নাবালক…”

অবশ্য বলাই বাহুল্য, এই নাবালকত্ব কৃত্রিম ও আরোপিত, অনেকাংশে স্বেচ্ছা
নির্বাচিত। যেমন বিয়ের কথা বললেই অনেকে বয়সের কথা চিন্তা করে। আবার
অপরদিকে ঠিকই ক্লাস সেভেন-এইট থেকেই টাংকির পিছনে ফিল্ডিং করা শুরু হয়ে
যায়। ফলে ক্রমেই দেখা যায় নানাবিধ অনাচার ও অশ্লীল আচরণ। এমনকি জুমার
খুতবা শুনতে গিয়ে একদিন খতীব জনৈক মুফতি বলেই ফেললেন, ‘আজকালকার ক্লাস
ওয়ান টু পড়ুয়া বাচ্চারাও যা জানে তা আমরা এখন পর্যন্ত এই পঞ্চাশ বছরেও
জানি না। কাজেই এদের সামনেও মহিলারা পর্দা করবেন”। যথার্থই বলেছেন।

বাকি থাকল আর্থিক সামর্থ্য, যাদের আছে তাদের ব্যাপারে কথা বলা
নিষ্প্রয়োজন। আর যারা মনে করছেন ‘আমার টেহা নাই’, তাদের জন্যে এই লেখাটি,
বিয়ে করতে না পারলে সাওম???

তিন ব্যক্তিতে আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তারা হচ্ছেন, ১ মুজাহিদ; ২ মুকাতিব ; ৩ আর পবিত্রতা রক্ষার জন্যে যে
ব্যক্তি বিয়ে করতে চায়। [দেখুন সহীহ তিরমিযি ১৬৫৫]

আল্লাহর উপর ভরসা করুন, যদি বিয়ে করার কোন উপায়-ই নাই থাকে তাহলে আর
কি করা , সবরের পরীক্ষা দিন, ইনশা আল্লাহ প্রতিদানে আল্লাহ আপনাকে আরো ভালো
কিছু দান করবেন।

“যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন…” [সূরা আন-নূর ২৪:৩৩]

“…তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের
সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে
পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের
জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে” [সূরা আর-রুম ৩০:২১]

“আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।” [বুখারী ও মুসলিম]

ফিতনার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। ফিতনার মধ্যে পড়লেন, পাশ-ফেল কিছু একটা করলেন।

এর থেকে সেই কঠিন পরীক্ষার দিকে না যাওয়াই উত্তম নয় কি?

ইব্রাহীম ইবন মায়সারা বলেনঃ তাউস আমাকে বলেছেন, “ হয় বিয়ে করো, নইলে
আমি তোমাকে সেই কথাই বলবো যা উমার বলেছিলেন আবুল যাওয়ায়িদ কে, ‘দুইটা
কারণ ছাড়া তোমার অবিবাহিত থাকার আর কোন কারণ দেখি না। হয় তুমি অক্ষম,
নইলে অসচ্চরিত্র লোক”

@ হোসেন_মাহফুজ,

...সাধারণত 16 বছর বয়সে একটা ছেলের সেক্সুয়াল সামর্থ পরিপূর্ণতা পায় আবার
অনেকের 16 বছর বয়সের আগেও পরিপূর্ণতা পেতে পারে । সেক্সুয়াল সামর্থ
পরিপূর্ণতা পাওয়ার পর যখন সে খাদ্য গ্রহণ করবে তখন তার সেক্স হরমন তৈরী হবে
আর সেক্স হরমন তৈরী হলে তার বীর্যপাত ঘটবেই ।ইসলামে স্ত্রী এবং স্বপ্নদোষ
ব্যতীত অন্য যেভাবেই বীর্যপাত হউক না কেনো তা পাপ । যদি সে হস্তমৈথন করে
তাহলে তো আরো বড় ভয়ঙ্কর পাপ । তাহলে বিয়ে ছাড়া কোন উপায় নাই । উপায় একটা
আছে আর তা হলো না খেয়ে থাকা, আর মানুষ না খেয়ে বাঁচতে পারে না ।আর খেলে তো
সেক্স হরমন তৈরী হবেই আর সেক্স হরমন তৈরী হলে তো বিয়ে ছাড়া কোন উপায় নেই ।
রোজা থাকলে হয়তো কিছুটা সহায়তা হবে কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয় কারন
রোজা থাকলেও রাতে আমাদের সেক্স বৈধ করা হয়েছে কারন রোজা থাকলেও সেটা হবেই,
রোজা যখন প্রথম ফরজ হয় তখন রাতে স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ ছিলো কিন্তু একদিন
হযরত ওমর (রা:) সহবাস করে ফেললেন এবং তিনি রাসূল (সা:) কে অবহিত করলেন ,
এবং তারপর আল্লাহ তা’য়ালা রাতে সহবাস জায়েজ করেছেন । এটা আর বলার কি আছে
আপনার তো অনুভব করতেই পারেন । তাছাড়া সারা বছর রোজা রেখে আপনি আপনার স্টাডি
বা কাজ ভালো ভাবে করতে পারবেন না ।
মানব রচিত আইন বলে 21 বছরের আগে বিয়ে করা যাবে না যদি করে তাহলে জেল খাটতে
হবে । তো আইন প্রণয়নকারী কাফেরদের প্রশ্ন করি 21-16=5 বছর একটা ছেলে কি
করবে ????????

যদি আপনি চান যে আপনার ছেলে অবৈধ সম্পর্ক করবে বা হস্ত মৈথন করবে তাহলে আপনি তাকে যতদিনে ইচ্ছা বিয়ে দিয়েন কিন্তু মনে রাখবেন এর জন্য কিন্তু আপনিই বড় পাপী হবেন ।

@ আত্মসমর্পণকাৱী

আপনি অযথাই আমাকে এসব জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করছেন। একে তো আমার লেখার শিরোনাম ও বিষয়বস্তু বোঝার মত যোগ্যতা আপনার নেই। তার উপরে আবার বস্তাপচা মানব রচিত কিছু কথা বলে আমার লেখার মূল বক্তব্যকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। 

যদিও জানি ধর্মান্ধকে বলে কোন লাভ নেই, তারপরও যারা জানতে চান তাদের উদ্দেশ্যে আপনার মন্তব্যের শেষ অংশ থেকেই আপনারই কিছু মনগড়া বক্তব্যের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি-

আপনি বলেছেন- //আপনার ছেলে অবৈধ সম্পর্ক করবে বা হস্ত মৈথন করবে তাহলে আপনি তাকে যতদিনে ইচ্ছা বিয়ে দিয়েন কিন্তু মনে রাখবেন এর জন্য কিন্তু আপনিই বড় পাপী হবেন//

একজন পিতার সবচেয়ে বড় কাজ হলো তার সন্তানদেরকে ন্যায়-অন্যায় ও ভাল-মন্দের পার্থক্য ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ কোরে ভালকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করার মত সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শুধু অবৈধ সম্পর্ক বা হস্ত মৈথুন করাই নয়, সকল মন্দ ও নাজায়েজ কর্ম বর্জন করার সাথে সাথে ইসলামের গণ্ডির মাঝে থেকে কিভাবে সরল ও শুদ্ধ জীবন যাপন করা যায় তার বাস্তব ও বৈধ পরিকল্পনা তার মন ও মগজে গেঁথে দেয়ার জন্য ঐকান্তিকভাবে চেষ্টা করা। নাবালেগ বয়স পর্যন্ত যতটা সম্ভব কাছে থেকে ও কাছে ডেকে তার সাথে কথা বলা ও তার প্রাত্যহিক কর্মকে পর্যালোচনা করা। আমি এমনটিই করি। এতকিছু চেষ্টা করার পরও যদি সন্তান চুপি চুপি ভ্রান্তিকে বেছে নেয়- তাহলে মহান স্রষ্টা তো আমাকে দারোগা কোরে পাঠান নাই। ভাল ও মন্দের পার্থক্য স্পষ্টরূপ তুলে ধরার পরও সন্তান অবৈধ সম্পর্ক বা হস্ত মৈথুন জাতীয় মন্দ কর্মে জড়িত হলে তার জন্য আপনার মত অবিবেচক ও আবেগ দ্বারা চালিত মানুষেরাই পিতাকে দায়ী করতে পারে। কিন্তু সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা সঠিক ও চুলচেরা বিচারই করবেন।

আপনারই উল্লেখিত আল-কোরআন ও হাদিছের এই বাণীর উপদেশগুলো কি আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করছেন?

“যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন…” [সূরা আন-নূর ২৪:৩৩]

....................

“হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে

সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে।

আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার

প্রশমন ঘটায়।” [বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪]

একদিকে আপনি আল-কোরআনের বাণী তুলে ধরে বিয়ে করার মত সামর্থ অর্জন না করা পর্যন্ত নিজেকে পবিত্র রাখার জন্য সংযম অবলম্বনের কথা বলছেন। আবার অন্যদিকে সামর্থবান না হয়েও বউ সহ বাবার ঘাড়ে বসে খাবার উপদেশ দিচ্ছেন। অবাক কাণ্ড! যদি বাবা সামর্থবান হন এবং নিজ দায়িত্বে বালেগ ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ছেলের সংসার সামলানোর ভার নিতে চান- সেটা ব্যতিক্রম ও ভিন্ন প্রেক্ষাপট। এ ধরনের বিয়ে হলে কারো কিছুই বলার নেই। বরং শুভকামনাই জানাতে হবে। কিন্তু তাই বলে কোন ৬/৯ বছরের কচি মেয়েকে বিয়ের নামে বালেগ ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দেয়ার পক্ষে আমি নই। হয়ত আপনার মত সস্তা সোয়াব পাগল মানুষেরাই তার কচি মেয়েটির জন্য এরূপ চিন্তা করতে পারে। মনে রাখবেন, এভাবে "বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি ও স্ত্রী নির্যাতনের" সাথে জড়িত থাকার কারণে সোয়াবের নামে গোনাহ কামাই কোরে পরকালে পার পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। 

সুতরাং সাবধান!!

ছেলের বউ ও সন্তানদের দায় দায়িত্ব নিয়ে বিযে দেয়ার মত গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ঘটনা দিয়ে সার্বিক অবস্থাকে বিচার করা ঠিক নয়। যে পিতার তেমন সামর্থ নেই, তার ছেলেকে তো আগে নিজেকে সামর্থবান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং তারপরই বিয়ে করতে হবে। আর সেই ছেলে যদি প্রকৃত ইমানদার হন ও সুশিক্ষা পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি অবশ্যই পবিত্রতা রক্ষা করবেন। প্রয়োজনে রোজা রাখবেন। আর অপারগ হলে তার সাধ্য অনুসারে সেই মেয়েকেই বিয়ে করতে পারেন- যিনি তার অবস্থা ও সামর্থ মেনে নিয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি হবেন।

বার বার আপনি ১৬ আর ১৯ বছর নিয়ে অহেতুক পেঁচাল পারছেন। আমি কি এর বিপক্ষে কিছু বলেছি। তবে বয়স ১৬ হোক বা হোক ১৯ বছর। বিয়ের পর বউ ও আগত সন্তানদের দেখভাল করার জন্যই সামর্থ অর্জন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পারিবারিক ভাবে হোক বা নিজের যোগ্যতা দিয়ে হোক- পুরুষকে পরিবার চালানোর মত সামর্থ অবশ্যই অর্জন করতে হবে।

@ হোসেন_মাহফুজ,

“হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখেসে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে।আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।” [বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪]

আরে ভোদাই রোযা রাখাটা স্থায়ী সমাধান নয় , ছেলেকে মোবাইল, কম্পিউটার কিনে দিতে পারেন কিন্তু বিয়ে দিতে পারেন না কারন আপনার আল্লাহ ভিতি নেই ।

অভাব হলো হযরত আবু হোরায়রার মতো অভাব যিনি ক্ষুদার জন্য পেটে পাথর বাধতেন ।

ছেলের বয়স হওয়ার পরও যদি আপনি তাকে বিয়ে না দেন তাহলে আপনি পাপী হবেন যদি আপনার ছেলে অবৈধ সম্পর্ক করে কিংবা হস্থ মৈথন করে ।টাকা না থাকলে যাকাতের টাকা নিয়ে বিয়ে দিবেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন

আপনার নিচের এই কথা গুলোই প্রমান করে আপনি কতো জ্ঞানহীন ইসলামের ব্যাপারে :-

((একজন পিতার সবচেয়ে বড় কাজ হলো তার সন্তানদেরকে ন্যায়-অন্যায় ও ভাল-মন্দের
পার্থক্য ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ কোরে ভালকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করার মত
সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শুধু অবৈধ সম্পর্ক বা হস্ত মৈথুন
করাই নয়, সকল মন্দ ও নাজায়েজ কর্ম বর্জন করার সাথে সাথে ইসলামের গণ্ডির
মাঝে থেকে কিভাবে সরল ও শুদ্ধ জীবন যাপন করা যায় তার বাস্তব ও বৈধ
পরিকল্পনা তার মন ও মগজে গেঁথে দেয়ার জন্য ঐকান্তিকভাবে চেষ্টা করা।
নাবালেগ বয়স পর্যন্ত যতটা সম্ভব কাছে থেকে ও কাছে ডেকে তার সাথে কথা বলা ও
তার প্রাত্যহিক কর্মকে পর্যালোচনা করা। আমি এমনটিই করি। এতকিছু চেষ্টা করার
পরও যদি সন্তান চুপি চুপি ভ্রান্তিকে বেছে নেয়- তাহলে মহান স্রষ্টা তো
আমাকে দারোগা কোরে পাঠান নাই। ভাল ও মন্দের পার্থক্য স্পষ্টরূপ তুলে ধরার
পরও সন্তান অবৈধ সম্পর্ক বা হস্ত মৈথুন জাতীয় মন্দ কর্মে জড়িত হলে তার জন্য
আপনার মত অবিবেচক ও আবেগ দ্বারা চালিত মানুষেরাই পিতাকে দায়ী করতে পারে।
কিন্তু সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা সঠিক ও চুলচেরা বিচারই করবেন।))

আরে ভোদাই বিয়েটা যৌবনের সাথে জড়িত, যদি অন্য কিছুর জন্য হতো তাহলে তো রাসূল (সা:) বলতেন যারা বেশি আল্লাহ ভীরু তাদের বিয়ে করার দরকার নেই ।

আসলে আপনাকে বলে লাভ নাই কারন আপনার বয়স এখনও 12 বছরের নিচে অথবা আপনি হিজরা অথবা লুইচ্চা।

যদি হিজরা হয়ে না থাকেন তাহলে দরজা বন্ধ করে হস্থমৈথন করেন কেনো???

আপনার মতো নাবালক, হিজরা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি , একগুয়েমি লোক আমি কখনও দেখিনি । আপনার যৌবন না থাকতে পারে, আপনি হিজরা কিংবা লুইচ্চা হতে পারেন তাই বলে পৃথিবীর সবাই আপনার মতো না ।

কিন্তু আপনি যে কুরআন হাদীসের জ্ঞান রাখেন না তা আপনার কথাই প্রমান করে ।

আমার তো মনে হচ্ছে আপনি নাস্তিকদের এজেন্ড হিসেবে কাজ করছেন।

ইব্রাহীম ইবন মায়সারা বলেনঃ তাউস আমাকে বলেছেন, “ হয় বিয়ে করো, নইলে আমি তোমাকে সেই কথাই বলবো যা উমার বলেছিলেন আবুল যাওয়ায়িদ কে, ‘দুইটা কারণ ছাড়া তোমার অবিবাহিত থাকার আর কোন কারণ দেখি না। হয় তুমি অক্ষম, নইলে অসচ্চরিত্র লোক”।

হযরত আদম (আ:) যখনই ‍সঙ্গির অভাব অনুভব করেছেন তখনই আল্লাহ তা’য়ালা হযরত হাওয়া (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন এবং বিয়ে দিয়েছেন । 

আর আপনার তো সঙ্গির অভাব অনুভব হয় না কারন আপনি হিজরা অথবা হস্থমৈথন লইচ্চা ।

এই ধরনের ইসলাম বিরোধী কথা বন্ধ করুন নয়তো মরার জন্য তৈরী থাকুন ।(বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন)

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে হেদায়াতের আলোয় আলোকিত করুন । আমিন!

@আত্মসমর্পণকাৱী

আমাকে মরার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই- মহান স্রষ্টা যেভাবে আমার মৃত্যু লিখে রেখেছেন- তা কেউ খণ্ডাতে পারবে না। আপনারটাও না।

আপনাদের মত চোখ থেকেও অন্ধ এবং কান থেকেও বোধির হয়ে মরার চেয়ে চক্ষুষ্মান ও বোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবেই মরার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকি। 

তবে আমাকে মৃত্যু পরোয়ানা দেবার অভিযোগে আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারি- এরপর সে ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে বাধ্য হব। 

@হোসেন_মাহফুজ

আপনার মতো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিরা আলোর দেখা পাক এটাই আল্লাহ তা’য়ালার কাছে আমার দোয়া ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)