মুসলমানগণ ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতি, প্রশাসন ও সামাজিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন --শ্রী ডা. পাত্তাবী সিতা রামাইয়া

(প্রতিপাদ্যসার : ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি শ্রী ডা. পাত্তাবী সিতা রামাইয়া-এর নিম্নোক্ত উদ্ধৃতি দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতীয় গণজীবনে মুসলমানদের অবদানকে ফুটিয়ে তোলা। ভারতীয় উপমহাদেশের এক শ্রেণীর সাম্প্রদায়িক ও বিদ্বিষ্ট লোক মুসলমানদেরকে লুঠেরা, আগ্রাসী ও বিলাসপরায়ণ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছেন। অথচ ভারতীয় জনগোষ্ঠীর জীবনাচারে রুচিবোধ, সাংস্কৃতিক বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়েছেন মুসলিম শাসকবর্গ। ভারতে মুসলমানদের আগমন ভারতবর্ষের জন্য করুণার ছায়া স্বরূপ। মোহন দাশ করম চাঁদ গান্ধী ও জওয়াহের লাল নেহেরূর মন্তব্যে এ কথার সত্যতা মেলে। ইসলাম দুনিয়ায় ঠিকে থাকবে তার অন্তর্নিহিত শক্তি বলে, ইসলামের অস্থিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও বিকাশের জন্য কারো সার্টিফিকেটের আদৌ কোন প্রয়োজন নেই)।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তেলেগু অঞ্চলের ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শ্রী ডা. পাত্তাবী সিতা রামাইয়া (১৮৮০-১৯৪৮) একজন স্বাধীনতা যোদ্ধা ও মধ্য প্রদেশের গভর্ণর (১৯৫২-১৯৫৭। চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রীধারী খ্যাতনামা এ রাজনীতিবিদ ১৯৪২ সালে ইন্ডিয়া ছাড় (Quit India) আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত সরকার মহারাস্ট্রের আহমদনগর দূর্গে তাঁকে তিন বছর বন্দি করে রাখে। জেলখানায় তিনি Feathers and Stones ও The History of the Congress নামে দু’টি গ্রন্থ রচনা করেন যা, স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা লাভ করে। ভারতের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী পন্ডিত জাওয়াহের লাল নেহেরুর সমর্থন নিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালে ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে তিনি রাজ্য সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ভারতের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতা নির্মাণে মুসলমানদের যে বিশাল অবদান আছে তা স্বীকার করতে তিনি দ্বিধা করেননি। ১৯৪৮ সালের জয়পূরে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কংগ্রেসের ৫৫তম অধিবেশনে সভাপতির ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেসের তৎকালীণ চেয়ারম্যান শ্রী ডা. পাত্তাবী সিতা রামাইয়া অভিমত ব্যক্ত করেন নিম্নোক্ত ভাষায় :

The Muslims had “enriched our culture, strengthened our administration, and brought near distant parts of the country .......................It (the Muslim Period) touched deeply the social life and the literature of the land.”

“মুসলমানগণ আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, প্রশাসনকে সুসংহত করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সমূহকে একে অপরের সাথে সংযোগ সাধনে সফলতা অর্জন করেছেন। ভারতের সাহিত্য ও সামাজিক জীবনে তাদের প্রভাব সুগভীর।”

Source : Presidential address of Dr. Bhogaraju Pattabhi Sita Ramayha

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

বিসর্গে আপনাকে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।আশা করি নিয়মিত আপনার লেখা পাবো।

ইনশা আল্লাহ। বিসর্গ-এর খবর অনেকের কাছে অজানা। প্রচারের জন্য কর্তৃপক্ষীয় উদ্যোগ দরকার। ধন্যবাদ।

-

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটার জন্য

বাংলা সাহিত্যের একাডেমিক অঙ্গনে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মধ্যযুগে (মোটামুটি ১২০০ সালের দিক থেকে) সাহিত্যে মুসলমানদের কোন অবদান নাই।

এই ধারণা কে রিফিউট করার জন্য ব্যপক লেখালেখি এবং গবেষনা করা দরকার।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)