চোখের সামনেই চলে গেল একটি তাজা প্রাণ

 


সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত জুনায়েদ। 

মানুষ অনেক কিছু স্বপ্ন দেখে। অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। অনেক খ্যাতি অর্জনের স্বপ্ন দেখে। সব স্বপ্ন পূরন হয় না তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। আসলে স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু নয়। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। জুনায়েদও অনেক স্বপ্ন লালন করে রেখে ছিলেন বুকের মাঝে। মা বাবা স্ত্রী সন্তান নিয়ে শান্তিতে জিবন যাপন করার স্বপ্ন দেখতেন জুনায়েদ । কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরন হল না। একটি দূর্ঘটনা কেড়ে নিল তার সব স্বপ্ন। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। 

মাত্র কয়েক দিন আগের কথা। গত শুক্রবার ( ১৬ মার্চ ) অফিসে ছিলাম হঠাৎ গেট থেকে দারোয়ান ফোন করে জানালেন ফ্যাক্টরীর সামনে সড়ক দূর্ঘটনা হয়েছে। খবর শুনে অফিস থেকে বেড়িয়ে ফ্যাক্টরীর সামনে গেলাম। সেখানে গিয়ে যা দেখতে পেলাম: একটি টেক্সি মেইন রোড থেকে ছিটকে আমাদের ফ্যাক্টরীসপ এর সামনে চলে এসেছে। ফ্যাক্টরীসপ এর সামনের সাইড ভেঙ্গে গেছে, টেক্সী থেকে একজন পাকিস্তানী ড্রাইভার কিছুটা রক্তাক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসছে হাতে কিছুটা জখম হয়েছে ভাবলাম থাক অল্পতেই সারছে বেশি ক্ষতি হয়নি। কিন্তু একটু পরেই দেখতে পেলাম পাশে পার্কিং করা একটি গাড়ির নিচে উল্টো হয়ে একটি লোক শুয়ে আছে। তখনো একটু একটু নড়াচড়া করছে, সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলো এই তো আমাদের আমিন আলী। "আমাদের আমিন আলী" কথা শুনে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো কেননা আমিন আলী আমাদের একজন অত্যন্ত কাছের লোক অনেক আপন লোক। সামনে এগিয়ে গেলাম। ভাল করে দেখলাম না আমাদের আমিন আলী ভাই না। লোকটি একটি শার্ট ও লুঙ্গি পড়া। উল্টো হয়ে থাকায় ঠিক চেনা যাচ্ছে না। মরুব্বী গোচের একলোক দেখি চিৎকার করে উঠলো এ তো আমাদের জুনায়েদ। কে কৈ গেলিরে আমাদের জুনায়েদ আর নেই..... ততক্ষনে লোকটি মারা গেছে ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন) তিনি কান্নাকাটি করতে করতেই কয়েক জায়গায় ফোন করলেন, অল্প সময়ের তার নিকট আত্মীয় স্বজন চলে আসলো। সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। মুহুর্তের মধ্যেই শোকের ছায়া নেমে এলো গোটা এলাকা জুড়ে। ততক্ষনে বাড়িতেও ফোন করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে তার মৃত্যুর খবর। 

চলে গেলেন জুনায়েদ না ফেরার দেশে। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। দুর্ঘটনা স্থলে উপস্থিত তার স্বজনদের সাথে আলাপ করে জানা গেল। তার পিতার নাম জেহের আলী । সে নাবাবগন্জ থানার বাররা ইউনিয়নের নাওপাড়া গ্রামের অধিবাসী। ব্যাক্তগত জীবনে তিনি ২ পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলের বয়স ১২বছর, ছোট ছেলের বয়স ৫বছর। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ এসে লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন। এই সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নাসীমে। আমরা তার জন্য মহান রবের দরবারে প্রার্থনা করছি হে মনীব , তাকে তুমি ক্ষমা করে দাও এবং জান্নাত দান করুন। তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা প্রদান করো। আমীন। 

আসলে মৃত্যুর কোন বয়স নেই। যে কোন বয়সে যে কোন স্থানে যে কোন মুহুর্তে হতে পারে মৃত্যু , জুনায়েদ এর মৃত্যু সে কথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল। দুর্ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর নবাব গন্জ বাসীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করার কথা ছিল তার কিন্তু তার আগেই তিনি দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। তার এই মৃত্যু আরো মনে করিয়ে দিল কুল্লু নাফছিন যাইকাতুল মাউত। । আমরা কতটুকু প্রস্তুত আছি এই মৃত্যুর জন্য ?? মনিবের দরবারে তাই প্রার্থনা করি হে মনিব খাঁটি মুসলিম না বানিয়ে দুনিয়া থেকে নিয়ে যেয়ো না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

সালাম

আপনাকে ধন্যবাদ

আমিন! আমিন! আমিন! আল্লাহ তা'য়ালা ভাই জুনাইদকে জান্নাতের উচ্চাসন দান করুন। আর আমাদের সবাইকে মৃত্যুর প্রস্তুতি নেয়ার মন-মানষিকতা তৈরি করে দিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

আমীন।

সালাম

 

ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নালিল্লাহে রাজেউন । আল্লাহ   তাকে  বেহেশত নসীব করুন ।

আমীন

ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। কেবলি কষ্ট।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন। 
আমীন

আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন।আমিন

আমীন

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)