ঈদঃ একাল সেকাল

এক. 

রমজান প্রায় শেষের পর্যায়ে। সবার দৃষ্টি এখন ঈদের দিকে। চলছে ঈদের ব্যাপক প্রস্তুতি। কেনাকাটার জমে উঠেছে ঈদকে কেন্দ্র করে। জ্যাম লেগে আছে শপিংমলে। 

দুই. 

একটা সময় ছিল ঈদ এলে নতুন জামা কাপড় কেনার জন্য পাগল হয়ে যেতাম। বাবা, মা, বড় ভাইয়া, বড় আপু, ভাবী, দুলা ভাই এবং মামাদের পিছে লেগেই থাকতাম। নতুন পোশাক ছাড়া ঈদ যেন কল্পনাই করা যায় না। 

তিন 

অনেক কাগুজের বমা, ফটকা, তারাবাতি কিনতাত চাঁদ রাতে আনন্দ করার জন্য। যেদিন চাঁদ উঠবে সেদিন আসরের পরেই গ্রামের সমবয়সি সবাই মিলে রাস্তায় চলে আসতাম। চাঁদ উঠছেরেররররররররররর বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতাম। চাঁদ উঠার সাথে সাথে আনন্দ উল্লাস শুরু হয়ে যেত। ফটকা ফুটাতাম, তারাবাতি জ্বালাতাম।সারারাত সমবয়সী বন্ধুরা মিলে আনন্দ ফুর্তি করতাম। 

চার. 

ঈদের দিন সকাল বেলা ঈদের নামাজ পড়ে এসে মা-বাবা, বড় ভাই -ভাবীসহ সবাইকে সালাম করতাম। সবাই সালামী দিতো। আনন্দে নাচানাচি শুরু করতাম। প্লাস্টিকের রঙ্গিন চশমা ও ঘড়ি পড়ে বাড়ি বাড়ি সেমাই খেতাম। ঘুরে বেড়াতাম একগ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। সন্ধ্যা বেলা টবাড়ি ফিরতাম। 

পাঁচ. 

একটা সময় যখন নিজেকে একটি দায়িত্বশীল মনে হতে লাগলো তখন নিজের নতুন পোশাক কিনার আগ্রহ হ্রাস পেতে লাগলো। ছোট দুটি বোন আছে আমার যারা আমার অত্যন্ত প্রিয় ওদের নতুন নতুন জিনিস কিনে দিতাম। ওদের কিছু কিনে দিতে পারলে নিজের কাছে খুব আনন্দ লাগতো। ঈদের দিন যখন আমার বোন দুটিকে নতুন সুন্দর সুন্দর পোশাকে দেখতাম তখন খুব খুশি লাগতো। 

ছয়. 

যখন আর একটু বড় হলাম তখন বাবা ভাইয়া ও আমি ঈদের সকালে একসাথে নামাজ পড়তে যেতাম। নামাজ পড়ে সবাই একসাথে বাড়ি ফিরতাম। খুব আনন্দ লাগতো বাড়ি সবাই নাস্তা বানিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতো আমরা নামাজ পড়ে এসে সবাই মিলে এক সাথে খেতাম। 

সাত. 

নামাজ পড়ে আসলে ছোট বোন দুটি কাছে আসতো। সালাম করতো। বোন দুটিকে কাছে নিয়ে আদর করতাম। সেলামীর জন্য টাকা দিতাম । বোন আমার খুশিতে আটখান হয়ে যেত। 

আট. 

বন্ধুরা আমার বাড়ি আসতো। সবার সাথে কোলাকুলি করতাম। একসাথে সেমাই খেতাম। একে একে সবাই একে অন্যের বাড়ি যেতাম। 

নয়. 

একটা সময় লেখাপড়ার জন্য বাড়ি ছাড়তে হলো কখনো ছিলাম গুলশান আবার কখনো সাভার। ঈদ এলেই বাড়ি যাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে যেত। রমজানের শুরুতে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিতাম। অনেক জ্যাম থাকলেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে একটুও কষ্ট অনূভব হত না। কেননা বাড়িতে সবার সাথে মিলেমিশে ঈদের আনন্দ যে এই সময়িক কষ্টের তুলনায় অনেক বেশী আনন্দের। 

দশ. 

আজ আমি একজন প্রবাসী। দেশ দেশের জনগন মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু -বান্ধব থেকে অনেক দুরে। এখনো ঈদ আসে কিন্তু ঈদের সেই আনন্দ এখন আর খুজে পাই না। এখন আর বড় ভাইয়া বাবার সাথে ঈদের নামজ পড়তে যাওয়া হয় না। হয় না বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি। কেউ সেমাই নিয়ে বসে থাকে না নামাজ পড়ে আসলে এক সাথে খাওয়ার জন্য। নয়নমনি ছোট্ট বোন দুটি পথ পানে চেয়ে থাকে না ভাইয়া ঈদের নামাজ পড়ে আসবে আর ভাইয়াকে সালাম করবো ভাইয়া সেলামী দিবে , দিবে আদর ভালোবাসা। এখন আর বন্ধুদের নিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়ানো হয় না। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। ঈদ মানে বেদনাময় একটি দিন। তবুও বলবো ভালোই আছি প্রবাসে। কেননা আমি একা কষ্ট করলেও আজ আমার এই ত্যাগের বিনিময়ে আমার পরিবারের সবাই স্বচ্ছল জীবন যাবন করছে। ঈদে ভালো কিছু কিনতে পারছে। ভোগে সুখ থাকলেও ত্যাগেও যে অনেক সুখ। তাই আমি বলবো ভালো আছি প্রবাসে। ভালোই আছি। যদিও.......। 



 @};সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছাঃ ঈদ মোবারক  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

আসলেই ত্যাগের মাঝেও আছে অনেক সুখ!!

আর যারা মানুষের জন্য সুখের কারন হয়, তাদের পাওনা জমা থাকে, আপনারটাও জমা আছে, পাবেন,

''সাদামেঘ''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)