"আল জাবর" সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের সুখ্যাতির প্রতীক।

সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অসহায়ত্ব
,দূর্ভোগ ও দুর্নামের নানা খবর মিডিয়ার বদৌলতে আমরা সচরাচর শুনে থাকি। কিন্তু
সফলতার খবর বেশি একটা শোনা যায় না। তাহলে কি এটা ধরে নিব যে সেখানে সকল বাংলাদেশীরা
অসহায়ত্ব আর দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটান। সফলতা বলতে তাদের কিছুই নেই? মোটেও নয়।
এখানেও রয়েছে বাংলাদেশীদের সুখ্যাতি। তবে তা খুব বেশি না হলেও একেবারে কম নয়। এই
সুখ্যাতি মাঝে মধ্যে বদনামের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়, তাছাড়া প্রচার মাধ্যমগুলোও এই
সুখ্যাতির খবর তেমন ফলাও করে প্রচার করে না। আজ আমি সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের
সুখ্যাতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পাঠক মহলের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

এখানে
আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে সৌদি আরবে আমাদের বাংলাদেশীদের যতটা অপরাধি ভাবা
হয় আসলে বাংলাদেশীরা ততটা অপরাধী নয়। গুটি কয়েক লোকের কিছু অপকর্মের কারনে এখানে
অবস্থানরত প্রায় ২৫ লক্ষ বাংলাদেশীর গায়ে অপরাধের কলঙ্ক লেপন করা হয়ে থাকে মিডিয়ার
অপপ্রচারের মাধ্যমে। আমাদের প্রতিবেশি একটি দেশের সাংবাদিকগন হলুদ সাংবাদিকতা ও
মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে এদেশে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে এবং আমাদের পরিবর্তে তাদের দেশের লোকের কর্মক্ষেত্র তৈরি করে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলও হয়েছে আর আমরা কর্মক্ষেত্র হারাতে বসেছি। অত্যন্ত
পরিতাপের বিষয় হল আমাদের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন উদ্যোগ আমরা
দেখতে পাইনা। আমরা মনে করি প্রচার মাধ্যমকে আমাদরে পক্ষে রাখার জন্য দূতাবাসে জরুরী
ভিত্তিতে আরবী জানা প্রেস অফিসার নিয়োগ দেয়া উচিৎ। প্রতিবাদের র্ব্যথতার জন্য সবাই
অন্যায় না করলেও ২৫ লক্ষ লোক অন্যায়কারী।২০১০ সালে সৌদী আরবরে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রনালয়রে তত্ত্বাবধানে উচ্চ র্পযায়রে বিশারদ দ্বারা পরিচালিত পরসিংখ্যানে দখো
গছে, সৌদী আরবে সবচেয়ে বেশী অপরাধ করে ইয়মেনে-২১.০৯%, পাকিস্তান-১৮.০৬%
ভারত-১০.০২%, বাংলাদশে?৯.০৭% তারপর র্পযায়ক্রমে অন্যান্য দশে। ভারতীয় কোন নাগরিক
অপরাধ করলে এদেশে কর্মরত হলুদ সংবাদিকগন ঐ অপরাধীকে এশিয়ান বলে উল্লেখ করে আর
বাংলাদেশী হলে অপরাধের মাত্রা আরো অনেক গুণ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশী বলে প্রচার করে।
তাই অপরাধের মাত্রায় ভারতের নীচে থেকেও আজ আমরা সবচেয়ে বড় অপরাধি। আমার আলোচ্য বিষয়
তা না হওয়ায় এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘায়ু করব না।

আমার আজকের লেখার বিষয়বস্তু
হচ্ছে সৌদি আরবে আমাদের সুখ্যাতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা। প্রিয়
পাঠক/পাঠিকাগন আপনারা যেনে অত্যন্ত খুশি হবেন যে সৌদি আরবে নামকরা যে কয়টি কোম্পানী
রয়েছে তার অন্যতম হল আল জাবর গ্র“প অফ কোম্পানী। আর আল জাবর লন্ড্রি এন্ড ড্রাই
ক্লিনিং কোম্পানী আল জাবর গ্র“প অফ কোম্পানীর একটি প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশীদের দক্ষ
পরিচালনায় পরিচালিত একটি সুনামধন্য লন্ড্রি কোম্পানী । এই কোম্পানীতে ম্যানেজার
থেকে শুরু করে ক্লিনার পর্যন্ত প্রায় সবাই বাংলাদেশী। এটি শুধু সৌদি আরবেই নয় বরং
গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নামকরা সবচেয়ে বড় একটি লন্ড্রি কোম্পানী। এখানে সহস্রাধিক
বাংলাদেশী কাজ করে। এই কোম্পানীতে অফিস থেকে শুরু করে সাধারন লেবার পর্যায়ে সৌদি
নাগরীকও রয়েছে। এদেশের সরকারী নিয়মানুযায়ী ৩০% সৌদি নাগরীক এই কোম্পানীতে রাখা
হয়েছে তাই এটি একটি সবুজ ক্যাটাগরির কোম্পানীও বটে।

গোটা সৌদি আরবে এই আল
জাবর কোম্পানীর ৪ টি ঈবহঃৎধষ ইৎধহপয রয়েছে এবং এই ব্রাঞ্চ গুলোর আওতায় রয়েছে
পাচশতাধিক শো রুম । আমি যে আল জাবরের কথা বলছি তা হল ”আল জাবর লন্ড্রি রিয়াদ”।

এই আল জাবর লন্ড্রি বাংলাদেশীদের এক বিরাট কর্মসংস্থান। এখানে সহস্রাধিক
বাংলাদেশী কাজ করে। এদের মধ্যে রয়েছে ম্যানেজার, ক্যাশিয়র, সুপার ভাইজার, একাউন্ট
অফিসার, ড্রাইভার হেলপার, সপকীপার, সহকারী সপকীপার, এবং সাধারণ লেবার। এই কোম্পানীর
ম্যানেজম্যান্টের প্রায় ৯০% লোক বাংলাদেশী যার একটি চিত্র একটু পরে তুলে ধরব।

আল জাবর লন্ড্রী রিয়াদ ব্রাঞ্চ ইতিমধ্যে বাংলাদেশীদের দক্ষ পরিচালনার এক
উজ্জল দৃষ্টান্ত পেশ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন মনে করা হয় আল জাবর মানেই হল
বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত একটি সুনামধন্য কোম্পানী।

এই সুনাম শুধু সৌদি
আরবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং মিডিয়ার কল্যানে বাংলাদেশেও পৌছে গেছে। সৌদি আরর
যখন বাংলাদেশীদের বদনামে ছয়লাব ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশীদের এই বিরাট অর্জনের কথা
শুনে রিয়াদে ছুটে আসে দিগন্ত টেলিভিশনে ক্যামেরা এবং প্রাবসে বাংলাদেশীদের সফলাতার
খন্ড চিত্র ধারন করে নিয়ে যায়। ”মরু দিগন্তের হাতছানি” নামক একটি অনুষ্ঠানে তা
প্রচার করে বাংলাদেশের দিগন্ত টেলিভিশন। ফলে বাংলাদেশের মানুষও জানতে পারে সৌদি
আরবে আমাদের এই সুখ্যাতির খবর। প্রবাসে বাংলাদেশীদের এই সুনাম শুনে বাংলার জনগন
অত্যন্ত খুশি হয় । এবং এই অনুষ্ঠানটি পুন: প্রচার দাবি করে। দশর্কের আগ্রহ দেখে
দিগন্ত টেলিভিশন একধিক বার এই অনুষ্ঠানটি প্রচার করে।
আল জাবর কোম্পানীতে
কর্মরত বাংলাদেশীদের অবস্থানঃ আল জাবর রিয়াদ ব্রাঞ্চ প্রধানত তিনটি ডিপার্টমেন্টে
বিভক্ত।
ক ) সেল্স ডিপার্টমেন্ট । খ ) প্রোডাক্টশন ডিপার্টমেন্ট। গ) একাউন্টস
ডিপার্টমেন্ট।

সেল্স ডিপার্টমেন্ট
অত্যন্ত খুশির খবর হল এই বিশাল
কোম্পানীর সেল্স ম্যানেজার হলেন একজন বাংলাদেশী। সৌদি আরবে এই পদে বাংলাদেশীদের
দেখা মেলা দুস্কর। এই মহান ব্যাক্তি হলেন মোহতারাম নুরুল ইসলাম আহমেদ সাহেব নবাব
গঞ্জের (ঢাকা) কৃতি সন্তান তিনি খুব দক্ষতা ও সুনামের সাথে আল জাবর লন্ড্রি রিয়াদ
ব্রাঞ্চের সেলস ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে প্রবাসে বাংলাদেশীর সম্মান অনেক গুণ
বৃদ্ধি করেছেন। তাছাড়া সৌদি আরব ও বাংলাদেশে নানা ধরনের সমাজ কল্যান মূলক কাজে
সক্রিয় থাকায় সবার শ্রদ্ধার পাত্র তিনি। তিনি নবাবগঞ্জ বাসীর মাঝে শিক্ষার আলো
ছড়িয়ে দিতে এবং অসহায় লোকের পাশে দাড়াতে গঠন করেন ”নবাবঞ্জ পাঠাগার ও সমাজ কল্যান
পরিষদ”। এছাড়া সমাজসেবা মূলক সংগঠন Industrialists & Businessmen Welfare
Foundation (IBWF) রিয়াদের সভাপতির দায়িত্বও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। তাছাড়া
তিনি (DPA) ঢাকা প্রবাসি এশোসিয়েশন ও (BAFA)Bangladesh Accounts & Financial
Professionals Association - এর সদস্য । ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া আল আছালা
আন্তর্জাতিক মাদ্রাসার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়ীত্বও তিনি পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি
আওয়াজ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্ব পালন করে
যাচ্ছেন।


আল
জাবর লন্ড্রী রিয়াদ ব্রাঞ্চের ম্যানেজার জনাব, নুরুল ইসলাম আহমেদ।

এই
বিশাল কোম্পানীর সেল্স ডিপার্টমেন্ট তিনটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত ।
১. শো-রুম
সমূহ ২. ট্রান্সপোটেশন ৩. কার্পেট।
এই কোম্পানীর সেল্স ডিপার্টমেন্ট এ শো-রুম
গুলোর তত্বাবধায়নের জন্য রয়েছে ছযজন সুপার ভাইজার । ১.জনাব, রোমান খান ২.জনাব,
মুজাহিদুল ইসলাম ৩.জনাব, কামরুজ্জামান টিপু ৪.জনাব, রুহুল আমীন সরকার ৫.জনাব, মনির
হোসেন হিশাম ৬.জনাব, রুহুল আমীন আজহার। এরা সবাই বাংলাদেশী। এই সেল্স ডিপার্টমেন্ট
এর অধীনে রয়েছে পুরো রিয়াদ ও রিয়াদের পার্শ্ববতী শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায়
১৭৫ টি শো-রুম। চার পাঁচটি শো-রুম ব্যতিত বাকী সবগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশী সপকীপার।
এবং প্রায় অধিকাংশ শো-রুমে রয়েছে এক একজন সহকারী সপ কীপার যারা সবাই বাংলাদেশী। যে
বাংলাদেশীর দ্বারা শো-রুম গুলো পরিচালিত হয় এদের ব্যবহার কথা বার্তা অত্যন্ত সুন্দর
ও প্রশংসনীয়। যে কোন শো-রুমে গেলে দেখবেন টাই পড়া একজন ভদ্রলোক আপনার সাথে খুব
সুন্দর ব্যবহার করছে। এরা সব সময় ভদ্র, শান্ত ও হ্যান্ডসাম। এদের ব্যবহার দেখে ভিন
দেশীদের মনে বাংলাদেশীর প্রতি অগাধ ভালবাসা জন্ম নেয়। এদের দেখলে মনে হবে উচ্চ
শিক্ষিত। আসলে কিন্তু সবাই উচ্চ শিক্ষিত নন। তাদেরকে নিবিড় প্রশিক্ষন এর মাধ্যমে এই
ভাবে গড়ে তুলা হয়। আরো খুশির ব্যাপার হল এদেরকে যারা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন ,
যার আধীনে / যার কাছে প্রশিক্ষণ নেন তারা সবাই বাংলাদেশী। এই শো-রুমগুলো পরিচালিত
হয় নাসীম থেকে। নাসীম রিয়াদের একটি এলাকার নাম। এখানেই আল জাবর রিয়াদ রিজিয়ন এর হেড
আফিস ও ফ্যাক্টরী।

ফ্যাক্টরী থেকে শো-রুম গুলোতে মাল আনা নেয়া করার জন্য
রয়েছে অনেক গুলো বড় গাড়ী আর প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য রয়েছে একজন ড্রাইভার ও একজন
সহকারী, এই কোম্পানীতে প্রায় ৩৫ জন ড্রাইভার ও সম পরিমান সহকারী রয়েছে। দু চারজন
ছাড়া এরা সবাই বাংলাদেশী। এই গাড়িগুলোর সুপার ভিশনের দায়িত্বে রয়েছেন জনাব,
জুলফিকার আলী ভুট্টু তিনি একজন বাংলাদেশী নাগরিক। শো-রুম গুলোর Maintenace এর
দায়িত্বে রয়েছেন একজন সুপার ভাইজার জনাব, অমীন আলি তিনিও একজন বাংলাদেশী।

কার্পেট ডিপার্টমেন্ট যা রিয়াদে মূল ফ্যাক্টরী নাসীম থেকে একটু দুরে সুলাই
নামক স্থানে অবস্থিত । একে ”সুলাই ফ্যাক্টরী” বা ”কার্পেট ফ্যাক্টরী”ও বলা হয়।
এখানে শতাধীক বাংলাদেশি কাজ করে। এটিও বাংলাদেশী সেল্স ম্যানেজার জনাব নুরুল ইসলাম
আহমেদ সাহেবের পরিচালনায় পরিচালিত। এখানে রয়েছে পাঁচজন সুপার ভাইজার।
১.জনাব,
আসলাম কাজী( ইন্ডিয়ান) ২. জনাব, আবুল কালাম আজাদ( বাংলাদেশী) ৩.জনাব, সিদ্দিকুর
রহমান ( বাংলাদেশী) ৪.জনাব, সফি উদ্দীন সরকার ( বাংলাদেশী) ৫. জনাব, মাখুন চ্যু (
ইন্ডিয়ান) । কার্পেট ডিপার্টমেন্টেও বাংলাদেশীরা কর্মদক্ষতার উজ্জল দৃষ্টান্ত পেশ
করতে সক্ষম হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আগামী পর্বে সমাপ্ত

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

লোকমান ভাই আপনাকে বিসর্গে স্বাগত জানাই।অত্যান্ত চমৎকার লিখেছেন।আশা করি বিসর্গে আপনার নিয়মিত লেখা পাবো।

লোকমান ভাই, বিসর্গে সুস্বাগতম আপনাকে।

চমৎকার লেখা। সউদি আরবে বাংলাদেশীদের হারানো সুনাম ও সম্মান উদ্ধারে এ জাতীয় লেখা আরো আরো প্রয়োজন।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

sl

 

খুব  ভাল লাগলো পড়ে ।   তবে খারাপ লাগলো  এটা জেনে  যে  বাংলাদেশ দূতাবাস  আমাদের ইমেজ  রক্ষায় তেমন কোন  ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে  না দেখে ।  ওদের কাজ তাহলে কী ?

বিসর্গে আপনাকে স্বাগতম।

এবারের ঈদ-আনন্দে আমার সঙ্গী হবেন?
http://www.bishorgo.com/user/122/post/960

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)