"আল জাবর" সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের সুখ্যাতির প্রতীক(শেষ পর্ব)

সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অসহায়ত্ব
,দূর্ভোগ ও দুর্নামের নানা খবর মিডিয়ার বদৌলতে আমরা সচরাচর শুনে থাকি। কিন্তু
সফলতার খবর বেশি একটা শোনা যায় না। তাহলে কি এটা ধরে নিব যে সেখানে সকল বাংলাদেশীরা
অসহায়ত্ব আর দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটান। সফলতা বলতে তাদের কিছুই নেই? মোটেও নয়।
এখানেও রয়েছে বাংলাদেশীদের সুখ্যাতি। তবে তা খুব বেশি না হলেও একেবারে কম নয়। এই
সুখ্যাতি মাঝে মধ্যে বদনামের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়, তাছাড়া প্রচার মাধ্যমগুলোও এই
সুখ্যাতির খবর তেমন ফলাও করে প্রচার করে না। আজ আমি সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের
সুখ্যাতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পাঠক মহলের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

মধ্যপাচ্যের সবচেয়ে বড় ও সুনামধন্য আল জাবর লন্ড্রী কোম্পানীর সেল্স
ডিপার্টমেন্টে যেমন বাংলাদেশীদের সুনাম রয়েছে। অনুরুপ ভাবে প্রোডাক্টশন
ডিপার্টমেন্ট এবং একাউন্ট ডিপার্টমেন্টেও রয়েছে বাংলাদেশীদের নানা কৃতিত্ব। এখানেও
অত্যন্ত সততা, যোগ্যতা, এবং ন্যায় পরায়নতার মাধম্যে কাজ করে বাংলাদেশীরা অন্যদের
সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রোডাক্টশন ডিপার্টমেন্ট

প্রোডাক্টশন ম্যানেজার রাজ গোপাল তিনি একজন ইন্ডিয়ান । এই ডিপার্টমেন্টেও
শতাধীক বাংলাদেশী কাজ করে। প্রোডাক্টশন ডিপার্টমেন্টের কাজ নিয়ন্ত্রন করার জন্য
রয়েছে চার জন সুপার ভাইজার ১ .জনাব, বেলায়েত হোসেন । ২.জনাব, সফিউল ইসলাম। ৩ .জনাব,
আবু কাউসার । ৪ .জনাব, মনির হোসেন পাটওয়ারী। এরা সবাই বাংলাদেশী। এদের তত্বাবধানে
বাংলাদেশী , ইন্ডিয়ান, শ্রীলংকান, ফিলিপিনি , নেপালী ও সৌদি নাগরিকসহ কয়েক শত
শ্রমিক কাজ করে। যা পুরোটাই দেখা শোনা করে বাংলাদেশী এই সুপার ভাইজারগন। নানান
দেশের শ্রমিকদের বাংলাদেশী সুপার ভাইজারগন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে
যাচ্ছেন । এখানে কারো কোন মেজর অভিযোগ নাই। বাংলাদেশী সুপার ভাইজারগণ কর্ম ক্ষেত্রে
ইন্ডিয়ান, বাংলাদেশী , নেপালী, ফিলিপিনি, শ্রীলংকান ও সৌদি নাগরিক সকলকে এক নজরে
দেখেন এবং কোন সমস্যা দেখা দিলে ইনসাফ ভিত্তিক ফায়সালা করেন। তাই এরা সবার কাছে
সমান ভাবে গ্রহন যোগ্য। এতে করে বাংলাদেশীদের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই সুনামের
ভাগী সকল বাংলাদেশী।

একাউন্ট ডিপার্টমেন্ট
এই বিশাল কোম্পানীতে
রয়েছে সাত সদস্য বিশিষ্ট একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট। মোহাম্মদ রেদা আব্দুল ফাত্তাহ বদর
একজন মিশরী নাগরিক তিনি এই কোম্পানীর একাউটেন্ট। আর বাকী ছয়জন বাংলাদেশী। তারা হলেন
১ .জনাব, সদরুল হুদা, ক্যাশিয়ার। ২.জনাব, ইমাম হোসেন সহকারী ক্যাশিয়ার ৩. লোকমান
বিন নূর হাশেম (লেখক) ৪.জনাব, হোসেন আনছারী ৫.জনাব, মশিউর রহমান ৬. মোঃ তৌহিদুল
ইসলাম এই চার জন একাউন্ট অফিসার। যে কোন কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ন ডিপার্টমেন্ট হচ্ছে
একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট। আল জাবর ও এর ব্যতিক্রম নয়। এই বিশাল কোম্পানীতে বাংলাদেশী
ক্যাশিয়ার এবং একাউন্ট অফিসার থাকা চারটি খানি কথা নয় । সৌদি আরবে সাধারনত এই পদে
বাংলাদেশীদের সংখ্যায় খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে বাংলাদেশীরা অত্যন্ত সততা,
বিশ্বস্ততা ও দক্ষতার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করে প্রবাসে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি
করেছে।

এই আল জাবর গ্র“প অফ কোম্পানিতে প্রায় সহস্রাধিক
বাংলাদেশী কাজ করে। যার বিরাট একটা অংশ কোম্পানীর ভিসায় আসা লোক নয়। এরা
স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত।এই কোম্পানীর ম্যানেজার জনাব, নুরুল ইসলাম সাহেব এদের এই
কোম্পানীতে চাকুরির ব্যবস্থা করেছেন। উল্লেখ থাকে যে, বাংলাদেশী উচ্চ শিক্ষিত, অল্প
শিক্ষিত, অশিক্ষিত সব ধরনের লোকদের চাকুরির ব্যবস্থা করে থাকেন এই বাংলাদেশী
ম্যানেজার সাহেব। এবং বাংলাদেশীদের জন্য এই সুযোগ সর্বদাই উন্মুক্ত রয়েছে।

আল জাবর কোম্পানীতে কর্মরত বাংলাদেশীরা ইতিমধ্যে তাদের সততা, দক্ষতা,
যোগ্যতা ও সৎ সাহসিকতার মাধ্যমে সৌদি নাগরিকসহ ভিন দেশীদের মধ্যেও সুনাম অর্জন করতে
সক্ষম হয়েছে। আল জাবর কোম্পানীতে যে সকল বাংলাদেশী রয়েছে তারা দেশেও সমাজ সেবা মূলক
নানা কাজের সাথে জড়িত । বাংলাদেশে সিডর , আয়লায়সহ যেকোন দূর্যোগে এখানে ফান্ড গঠন
করে অর্থ উত্তোলন করে ক্ষতি গ্রস্থদের সহায়তার জন্য প্রেরন করা হয়। শুধু তাই নয়
সৌদি আবরেও কোন বাংলাদেশী বিপদগ্রস্থ হলে চিকিৎসার অভাব হলে এখান থেকে আর্থিক
সহযোগিতা করা হয়।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে আল জাবর গোটা সৌদি আরবে
চারটি সেন্ট্রাল ব্রাঞ্চে বিভক্ত।
১.রিয়াদ ২. আল হাসা ৩. জুবাইল ৪. জেদ্দা। এই
চারটি সেন্ট্রাল ব্রাঞ্চ। আবার এর এক একটিসেন্ট্রাল ব্রাঞ্চের অধীনে রয়েছে অনেক
গুলো শু-রুম । এই চারটিসেন্ট্রাল ব্রাঞ্চের সবচেয়ে বড় হল ”আল জাবর রিয়াদ ব্রাঞ্চ”
এটা অবশ্যই বাংলাদেশীদের একটি সফলতা।

এই রিয়াদ ব্রাঞ্চ ছাড়া আল হাছা
ব্রাঞ্চ এবং জেদ্দা ব্রাঞ্চেও বাংলাদেশীদের সফলতা রয়েছে। সেখানে ও বাংলাদেশীদের
সংখ্যা বেশি। আল হাছা ব্রাঞ্চের সেল্স ম্যানেজার জনাব হাফেজ ইউসুফ। তিনি একজন
বাংলাদেশী। জেদ্দা ব্রাঞ্চের সেল্স ও প্রোডাক্টশন ম্যানেজার দুই জনই বাংলাদেশী
যথাক্রমে জনাব, সাঈদ খান ও জনাব মোঃ ইব্রাহীম।

উল্লেখ্য যে আল জাবর জেদ্দা
শাখাটি আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে রিয়াদের সেল্স ম্যানেজার জনাব, নুরুল ইসলাম
সাহেবের তত্বাবধায়নে ওপেন করা হয়। বর্তমানে জেদ্দা শাখায় যে দুইজন বাংলাদেশী
ম্যানেজার রয়েছেন তাদেরকেও জনাব নুরুল ইসলাম সাহেব নিজে নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে
গড়ে তুলেছেন এবং ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

আল জাবর রিয়াদ ব্রাঞ্চের এই
সফলতার পিছনে যার নামটি সবার আগে চলে আসে তিনি হলেন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক জনাব
নুরুল ইসলাম আহমেদ সাহেব। ১৯৯০ সালে তিনি এই কোম্পানেিত চাকুরি নিয়ে সৌদি অরবে
অসেন। তিনি সর্ব প্রথম আল জাবরের একটি শো-রুমে সপ কীপার ছিলেন । আল্লাহর বিশেষ
মেহেরবানী অতপরঃ কর্ম দক্ষতা আর যোগ্যতার ফলে তিনি সপ কীপার থেকে সুপার ভাইজার
নিয়োজিত হন ১৯৯৪ সালে। এখানেই থেমে যাননি এই মহান পুরুষ তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, সততা,
সাহসিকতার সাথে সুপার ভাইজারের দায়িত্ব পালন করেন এবং সফলতার সাক্ষর রাখেন । তার
কর্ম দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে কোম্পানীর সর্বোচ্চ পদ ম্যানেজারের আসনে
অধীষ্ঠিত করেন। তিনি সপ কিপার হন ১৯৯০ ইং সনে তখন মোট ১৬টি শো-রুম ছিল এবং
ম্যানেজার হন ১৯৯৯ইং সনে তখন শো-রুম ছিল ৬৯ টি। অর্থাৎ তিনি যখন ম্যানেজার ছিলেন না
তখন নয় বছরে শো-রুম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩টি । আর তিনি ম্যানেজার হন ১৯৯৯ইং সনে তখন
শো-রুম ছিল ৬৯টি বর্তমানে ২০১১ই ং সনে শো-রুম বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭৫ টিতে। অর্থাৎ ১৯৯৯
থেকে ২০১১ পর্যন্ত ১২ বছরে শো-রুম বেড়েছে ১০৬টি। শো-রুম বৃদ্ধি পাওয়া মানে বিজনেস
বৃদ্ধি পাওয়া।

এই বাংলাদেশী ম্যানেজার দাযিত্ব গ্রহনের পর
থেকেই আল জাবরের ব্যপক পরিবর্তন সাধিত হয়। যে রিয়াদ ব্রাঞ্চ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার
উপক্রম হয়ে গিয়েছিল, সেই রিয়াদ ব্রাঞ্চ সকল ব্রাঞ্চ এর চেয়ে বেশী বিজনেস দেখাতে
সক্ষম হয়। বাংলাদেশী ম্যানেজারের এই দক্ষতা দেখে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত খুশি হয় এবং
বাংলাদেশীদের ব্যপারে পাল্টে যায় তাদের নেতি বাচক ধারনা। এবং তারা বুঝতে সক্ষম হয়
যে বাংলাদেশীরাও পারে। এদের মাঝেও রয়েছে সুপ্ত প্রতিভা।

বাংলাদেশীদের দক্ষ
পরিচালনা ও কর্ম তৎপরতায় দিন দিন বেড়েই চলছে আল জাবরের বিজনেস সেই সাথে বৃদ্ধি
পাচ্ছে শো-রুম ও কোম্পানীর পরিধী। ফলে তৈরী হচ্ছে এক বিরাট কর্মক্ষেত্র। অত্যন্ত
আফসোসের সাথে বলতে হয় যে বাংলাদেশীদের নিজ হাতে তৈরী কর্মক্ষেত্রে নানা দেশে লোক
কাজ করছে অথচ বাংলাদেশী লোক ভিসা বন্ধ থাকায় আসতে পারছে না। ইদানীং চার শ্রেনীর
ভিসা চালু হওয়ার কথা শুনা গেলেও তা চালু হয়নি। তাছাড়া হলেও ইহা যথেষ্ট নয়। আশা করি
প্রবাসী মন্ত্রনালয় ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বাংলাদেশী সকল প্রকার ভিসা চালু
করার বিষয়টি গুরত্বের সাথে বিবেচনা করবে। শুধু সৌদি আরবের আল জাবরে নয় বরং গোটা
বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৭৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীগন সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার
সাথে কাজ করে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

E-mail: lokmanbd22@yahoo.com 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

খুব সুন্দর লিখেছেন লোকমান ভাই।
সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশীরা তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ দুতাবাসগুলোর অযোগ্যতার কারনে বাংলাদেশীদের এই বিশাল সাফল্যে আজ বিলুপ্ত ।পাশা-পাশি ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচারেও বাংলাদেশী শ্রমিকদের আজকে এই করুন পরিনতি।

ধন্যবাদ ভাই।

সরকার তো কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আমরা এতদিন থেকে দেখে আসছি। এখন বোধহয় সময় এসেছে যে, প্রবাসীদের নিজেদের কিছু করার। বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশীদের ভাল খবরগুলো আরবী অনুবাদ করে আরবদের ব্লগে পোষ্ট করা যেতে পারে।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

সুন্দর প্রস্তাব। ধন্যবাদ ভাই ।

sl

 

খুব ভাল প্রস্তাব ।  যারা  আরবীতে দক্ষ , তারা অবশ্যই  এই  কাজে এগিয়ে  আসবেন আশা করছি ।

 

 

 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লিখার জন্য। আপনি এখানে ও আছেন নাকি?

সালাম

কথায় বলে না এক মণ দুধকে, এক বিচি তেতুঁল দানা, ছানা বানানোর জন্য যথেষ্ট

কি আর করা আল্লাহ তা'য়ালা সবাইকে সু-বুঝ দিন। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)