'মা,মা' বলে যতদিন কেঁদে উঠবে শিশু;ততদিন ভুলবো না 'একুশে ফেব্রুয়ারী'!

''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো 'একুশে ফেব্রুয়ারী' আমি কি ভুলিতে পারি''!

না, না পারিনা, মাকে কভু, কখনো কিছুতেই ভোলা যায়না। মায়ের মুখের ভাষা কিছুতেই ভোলা যায়না।

মা, মা বলে যতদিন ডাকবো আদরিনী মাকে; যতদিন বাংলার প্রতিটি শিশু মা,মা
রবে কেঁদে উঠবে ডেকে; ততদিন সহস্র শ্রদ্ধায় মনের আবেগে দোল খেয়ে যাবে
''একুশে ফেব্রুয়ারী''। 'মায়ের আদরের প্রতিটি কোমল পরশে পরশে মিশে থাকবে; সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতের
নিঃস্বার্থ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত ''একুশে ফেব্রুয়ারী''। ওদের লাল
রক্তের দামে কেনা এক একটি বাংলা বর্ণমালা। তাইতো, বাংলা ভাষার সমস্ত দেহ
জুড়ে একুশ মোদের অহংকার। যে মায়ের ভাষার মূল্য দিতে গিয়ে ওরা পৃথিবীকে
দেখিয়ে গেছে এক অনুপম দৃষ্টান্ত। মাকে দিয়েছে সন্মান আর বাংলা মায়ের
প্রতিটি নবজাত শিশুকে দিয়ে গেছে মাকে 'মা' বলে ডাকার অধীকার।

যতদিন শিরায় শিরায় বইবে সেই পবিত্র মায়ের রক্ত ততদিন ভুলবোনা আমার
ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ''একুশে ফেব্রুয়ারী''। যে ভাই লাল কৃষ্ণচূড়ার মতো
রক্তে রাঙা হয়ে দিয়ে গেছে; আমার ভাষায় প্রান খুলে মনের কথা বলার অবাধ
স্বাধীনতা। কি করে ভুলে যাই তাদের কথা? সেই ভাইয়ের রক্তের কসম কখনো ভুলবোনা
'একুশে ফেব্রুয়ারী'।

মানবসভ্যতাকে ছন্দময় করে তোলার জন্যই আল্লাহ তা‘আলা আশরাফুল মাখলুকাত
তথা মানুষকে দান করেছেন ভাষার নেয়ামত। কিন্তু মানুষের ভাষার মতো এত
স্বাচ্ছন্দ্য, সহজাত ও সমৃদ্ধ ভাষা অন্য কোনো প্রাণীর নেই। আর পৃথিবীর
অন্যতম সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত ভাষার অধিকারী আমরা। গর্বের ধন এ ভাষার জন্য
আমাদের রক্ত ঝরাতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে বিসর্জন। বিরল এ সম্মানের
অধিকারী পৃথিবীর আর কোন ভাষায় আছে বলো? কোনো ভাষায় তা নেই! সে জন্যই,
আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি! মহান স্রষ্টা নিজেও
মাতৃভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুগে যুগে মানুষের হেদায়াতের জন্য তিনি
যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে মাতৃভাষায় যোগ্য ও দক্ষ করে
পাঠিয়েছেন। তাদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবগুলোও ছিল স্বজাতীয় ভাষায়। মহাগ্রন্থ
আল কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি সব রাসূলকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী
করে পাঠিয়েছি, যাতে তারা আমার বাণী স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারে’। (সূরা
ইবরাহিম: ৪)

বাংলা ভাষায় যেভাবে আমি আমার প্রানের অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করে থাকি; আর
কোনো ভাষায় তা পারিনা। 'সুখ-দুঃখ', 'ব্যাথা-বেদনা' 'হাঁসি আর কাঁন্নায়
বাংলা মোদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাকে ছাড়া নিজেকে মনে হয় অনুভূতি শূন্য
প্রানহীন কোন এক জড় প্রদার্থ । যতদিন 'মা' থাকবে; থাকবে মাতৃভূমি বাংলাদেশ
ততদিন একুশ'ও বেঁচে থাকবে আমাদের চিন্তা, চেতনায়। যাদের রক্তের দামে কেনা এ
বাংলা ভাষা তাদের এই অবদান ভুলে গিয়ে আমরা কিছুতেই অকৃতজ্ঞ হতে চাই না।
তাই আজকে আবারো নতুন কোন প্রতিশ্রুতি নয় ; পুরনো কথাটাকেই নতুন করে বলতে
চাই, ভুলবো না তোমায় দিলাম কথা ''একুশে ফেব্রুয়ারী''। যতদিন এই বাংলার
শিমুল পলাশের ডালে ডালে ছড়াবে আগুন; ফুলের সৌরবে বাতাস-মৌতাত হয়ে বারে বারে
আসবে ফাগুন; ততদিন ভুলবো না 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।

যতদিন বাগানে বাগানে ফুটবে কতো ফুল; গোলাপ, শেফালী, জুই, ছামেলী অপরুপ অতুল।

ততদিন ভুলবো না 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।

যতদিন পাখিরা গাইবে কত গান অফুরান; পাহাড়ী ঝরনা বয়ে যাবে দিবাযাম অবিরাম।

ততদিন ভুলবো না 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।

যতদিন বাংলার সোনালী ধানের ক্ষেতের উপর বাতাস নেছে যাবে ; মাথা উচু
করে গর্বিত অহংকারে দুলতে থাকবে লাল সবুজ পতাকা। ততদিন ভুলবো না 'একুশে
ফেব্রুয়ারী'।

যতদিন রবে বাংলার মাঠ-ঘাট,পুকুর, নদ-নদীর দু’কুল; শিউলি,বকুল,হিজল আর হিজলের ফুল। ততদিন ভুলবো না একুশে ফেব্রুয়ারী।

যতদিন বাংলার সবুজ ক্ষেতের বুকে উড়ে যাবে শালিক; সূর্য বিছিয়ে দিবে
রোদ্রের চাদর; কুহ কুহ ডাকে কোকিল আনবে বসন্ত; ততদিন ভুলবো না 'একুশে
ফেব্রুয়ারী'।

যুগ যুগ ধরে কতো জন কতোইনা কথা কবে; সেই কথার প্রতিটি বর্ণ মালায় 'একুশে ফেব্রুয়ারী' রবে।

ভুলবো না, ভুলবো না 'মা',তোমায় দিলাম কথা, যতদিন গৌধূলীর রং নিয়ে
সন্ধ্যা মালতি হবে লাল, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ''একুশে ফেব্রুয়ারী''
আমাদের হৃদয়ে থাকবে চিরকাল।

উৎসর্গঃ বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)

ভাই সুন্দর বলেছেন।ধন্যবাদ আপনাকে ভাল থাকেন।

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ

সালাম

ভাল লেগেছে আপনার লেখা। আপনাকে ধন্যবাদ

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

আপনার ভাল লাগাতে আমি কৃতজ্ঞ

মাতৃভাষা বাংলা ভাষা খোদার সেরা দান।
সুন্দর লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ

আল-আমীন ভাই আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ

একুশে ফেব্রুয়ারী এখন অনেকটা রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনের দিনে পরিণত হয়ে গেছে। তদুপরি অপসংস্কৃতি গ্রহণের মাধ্যমে নোংরাও করে তোলা হচ্ছে।

ভালো লেগেছে আপনার লেখা।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে 

মজলুম ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম স্যারকে বলছি, স্যার আপনি যেখানেই থাকুন আমরা ভাষা আন্দোলনের এই মাসে আপনাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছি

আমি উনাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছি

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)