ঈদের স্মৃতিরা উঁকি দেয় মনের অলিতে গলিতে

http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/TAHER2011201210111349979324_75_1.jpg

ঈদের দিনের কথা মনে হলেই নিজের অজান্তেই স্মৃতিরা উঁকি দেয় মনের অলিতে গলিতে, মনটা হারিয়ে যায় সেই সোনালী দেশে। লুহিত সাগর ডিঙ্গিয়ে এ ধুসর মরুদ্যান পাথরে ঠাসা এই দেশ ছেঁড়ে মনটা চলে যায় সেই চির চেনা বাংলাদেশে। প্রবাসে বসে দেশের ঈদস্মৃতি কার না মনে পড়ে? এখনো দেশের ঐসব দিনের কথাযখন মনে হয়, তখন অস্থির হয়ে উঠি, অভিভূত হই এত চমৎকার দিনগুলো ছেড়ে প্রবাসে। আর সামনে ঈদ! এ ঈদটাকি দেশেরমত হবে? কিন্তু আমি স্মৃতি সম্পদ হিসেবে ওই দিনগুলোকে ধারণ করেছি, মনে গেঁথে রেখেছি। ঈদের অনেক কথাই মনে পড়ে ।

গত ঈদে মা,বাবা ভাই,বোন স্ত্রী,পুত্র পাড়া প্রতিবেসি সাথে ঈদ করেছি ।যেমন ঈদের আগে সবাই আপনজনদের জন্য নতুন জামা-কাপড়, কিনে দিতেন ঈদের কয়েক দিন আগেই। সে ভাবে আমি ও সবার জন্য যার যা প্রয়জন তা কিনে দিয়েছি । তবে আমার সন্তানের কথা ভিন্ন,তার কাজগুলিই আমাকে নাড়াদিয়ে যায়,সে ঈদের আগের দিন আমার( পুত্র ) চুপি চুপি তার জুতো, পান্জাবি পাজামা ঠিক মতো লাগছে কি না সে একটু পর পর এসে দেখে! আজ আমার তার সেই আনন্দের কথা বারে বারে নাড়া দেয়। মনে হচ্ছে যে আমি তার পছন্দের জিনিসটাই কিনে এনেছি। এবারে ঈদে সে আমার কাছে থাকবেনা। কারন আমি দেশে নেই প্রবাসে। আমার ছেলের জন্য যেমন ভালবাসা আছে আমার। তেমন আমার মা বাবার ও আছে আমাদের প্রতি। ঈদগাহ যাওয়ার আগে বাবা-মাকে সালাম করে ঈদের সেলামি উনাদের হাতে দিয়ে চলে গেলাম ঈদ জামাতে। যাওয়ার পথে ভাগীনা জাফরকেও সাথে নিয়ে গেলাম।

ঈদের খুতবাটা শুনলাম মন দিয়ে ।ঈদের খুতবায় ঈমাম সাহেব তাকওয়ার উপর বিশাল আলোচনা করেন। তিনি বলেন আল্লাহর ভয় ও তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যাবতীয় অপরাধ, অন্যায় ও আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ, কথা ও চিন্তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নাম তাকওয়া । একবার হযরত উবাই ইবনে কাব (রা)-কে ওমর (রা) তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হে ওমর (রা)! পাহাড়ের দুই ধারে কাঁটাবন, মাঝখানে...সরু পথ। এমতাবস্থায় কিভাবে চলতে হবে? তিনি বলেন, গায়ে যেন কাঁটা না লাগে, সাবধানে পথ অতিক্রম করতে হবে। হযরত উবাই ইবনে কাব (রা) বললেন, এটাই তাকাওয়া। তিনি আরো বলেন, সিয়াম আমাদের জন্য তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ লাভের মাস ছিল, সর্বপ্রকার ইবাদাতে অভ্যস্থ হওয়ার মাস ছিল, ঈমান মযবুত করার মাস ছিল, প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহান চরিত্রে বিভূষিত হওয়ার মাস ছিল, কুরানের মর্ম উপলব্ধি করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআনমুখী হওয়ার মাস ছিল, মুসলিম জাতির জেগে উঠার এবং সকল প্রকার অনাহুত শক্তির বলয় থেকে মুক্ত হয়ে হক প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞাকে সুদৃঢ় করার মাস ছিল। সুতরাং আজকের এই পাপ পঙ্কিলতাপৃর্ণ পৃথিবী, যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাপাচার, অনাচার, শিরক, কুফর, বিদায়াত যেখানে অক্টোপাসের মত ছড়িয়ে আছে, দুর্নীতি, ঘুষ আর সুদের কাঁটা থেকে একজন মুমিনকে আত্মরক্ষা করে সাবধানে জীবনের পথ অতিক্রম করতে হবে। তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু সেই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান ৷ তাকওয়াকারী ব্যক্তি এক দিকে নফসের যাবতীয় দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিদ্রোহী ও অবাধ্য নফসকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। সমস্ত জুলুম-অনাচার, অত্যাচার ও পাশবিকতার বিরুদ্ধে হয়ে ওঠে সংগ্রামী। আমরা কি সেই তাকওয়া অর্জন কতে পেরেছি!

ঈমামের এই মূল্যবান খুতবা শুনে উঠে দাড়ানোর সাথে সাথে। সাধারণ মানুষ আশপাশের পাড়া-প্রতিবেশীদের সালাম, বুকে বুক মিলানো এই যে একটা রেওয়াজ ছিল। ঈদের মাঠ থেকে এসে দাদা-দাদী, চাচা-চাচীদের কবর জিয়ারাত করা । ।ঈদের দিনে সেমাই খাওয়ার রেওয়াজটা সার্বজনীন, আগে থেকেই ছিল এখনও আছে । বাড়ীর সবাই ডাকা ডাকি আস সেমাইর নাস্তা খেয়ে যাও, কেহ আবার ভিবিন্ন রকমের পিঠা নাস্তা বানায় আমাদের ওখানে। ঈদের জামাতে মাঠে যাওয়ার আগে মা ডান হাতে একটু আতর লাগিয়ে দিলেন আমাকে ও উনার নাতী মানে আমার ছেলে তালহাকে।( তবে আতরটা আমারি নেওয়া কাতার থেকে) আমার ছেলে তা শুঁকতে শুঁকতে যচ্ছে আর একটু পর পর বলছে আব্বু দেখ দাদু আমাকেও আতর দিয়েছে। রাস্তাদিয়ে তার হাতদরে হাটছি আবার কখন ও বুকে নিয়ে। আমার ছেলের ঈদের আগের রাতটা ঘুমানো কঠিন ছিল,সে হাতে মেহেদি লাগিয়ে গভীর রাতে যে ঘুমিয়েছিল তা-ও মনে নেই তার। কখন ভোর হবে সেই অপেক্ষায় আছে। কখন ভোর হবে,সে সবার আগে উঠবে, এটা আমার যানার বাহিরে,সকালে উঠেই বলে আব্বু গোসল করবেননা,নামাজ পড়তে যাবেন না? কি আর করা শুনতেতো হবেই এভাবে যে আমি ও বাবাকে বলেছি। আমাদের ঘরের পাশেই একটা পুকুর তাকে গোসল করিয়ে গোসল সেরে নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দিলাম, আমি ও পরে নিলাম,তার ঈদের নামাজের আগ্রহ ছিল অধিক।

আমাদের বাড়ীর সামনেই বোনকে বিয়েদেই ওখানে এসে আমার ভাগীনা ভাগনীদের সাথে কিছু সময় ঘোরাফেরা ঠিক ঘোরাফেরা নয়, পাশের আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশী তাদের বাড়িতে যাওয়া, মুরব্বিদের সালাম করা, তাদের কাছ থেকে দোয়া নেয়া। এতে খানাপিনা একটু বেশি হয়েছে। কারও বাড়িতে গেলে না খাইয়ে তো ছাড়ে না , কারন বোনের বাড়ী।

বিকেল বেলা মনে হলো একটু ঘুরে আসব, এভেবেই বাজারের দিকে যাওয়া। ভাবলাম একটু খেলা দেখব,ঠিকই খেলা দেখলাম মাঠেনা একটা জমিতে, কারন মাঠে তখন স্কুলের রড,বালি ভর্তি, তাই সবাই জমিতেই খেলছে ফুটবল, আমদের স্কুলের মাঠটা মস্ত বড় । ওখানে প্রায় বয়স্ক যারা এক দিকে, তরুণ যারা অন্যদিকে খেলতো। এভাবেই ঈদের দিন ও খেলা হচ্ছে। প্রান খুলে খেলা দেখলাম।

ঈদের সেমাইটা আমার সারা জীবনের পছন্দ। ঈদের দিন সেমাই না হলে ঈদ হলো কিভাবে? আমার বন্ধু মাহমুদ ভাই কাতারে থাকতে উনিই সব ঈদে সেমাই রান্না করত, দুই ঈদে তা্রা মাঝে মাঝে ও সেমাইর নাস্তা বানিয়ে খাওয়াতো। যদিও আমি দেশে আমার ঈদের সেমাই না হলে চলে ? আর দুপুরে রোস্ট একটু মিষ্টি দিয়ে গোশত রান্না করে আমার মা জননী ও স্ত্রী। ওদিনের পোলও কোরমা এখন ও মনে হয় হাতে লেগেই আছে।বেশ লাগলো খেতে।

লেখকঃ কাতার প্রবাসী,

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

ছবিটি অসাধারণ সুন্দর।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)