নিষ্ঠুর জীবন প্রবাসীদের অভিজ্ঞতার গল্প। । পর্ব-1

দেখতে দেখতে হয়ে গেলো আমার প্রবাস জীবনের প্রায় ১৩ বছর। গত ২০০০ সাল থেকে যাত্রা শুরু আমার প্রবাস জীবনের। কত কিছু বলবার আছে আমার, কত কিছু ! কত অভিজ্ঞতার গল্প, সংগ্রামের গল্প, সংগ্রাম দেখার গল্প, এই নিষ্ঠুর জীবনে মানুষের বেঁচে থাকার আশার গল্প, বেদনা আর আহত হবার গল্প কিংবা সুখ আর শান্তির গল্প, খুব লিখতে ইচ্ছে করে। সে জন্য আজকের এই লিখার আয়োজন। আমার ভীনদেশে আসার গল্প দিয়েই শুরু করা যাক।

একদিন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ঢাকায় যাব বেড়াতে, ফুফাত ভাইয়ার কাছে। যেই কথা সেই কাজ , মাকে বল্লাম কিছু টাকা লাগবে ঢাকায় যাব ঘুরতে। মা বললেন, "আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, দেব।"

দুদিন পরেই আসলাম , ঘুরাঘুরি করে দেখলাম ভালো লাগলো । ভাইকে বল্লাম আমি ঢাকাতেই ভর্তি হয়ে থেকে যাব, সাথে আমাকে একটা চাকরি দিবেন। ভাই একটু মুস্কি হেসে বল্লেন চাকরি দেয়া যাবে, তবে সেটা গর্মেন্সে, পারবা? বল্লাম ঠিক আছে অনেকেই করে আমি পারবোনা কেন?

পরের দিন ভাই সকালে সাথে নিয়ে চলে গেলেন নয়টার সময় । পি এম এর সাথে কথা বলে ডিউটি শুরু। বলে দিলেন তোমার কাজ হলো ঘুরে ঘুরে দেখা । এরা যে শিলাই করে তা ঠিক আছে কিনা দেখবা। ভাবলাম এটাতো সহজ কাজ। আরে পরের দিন আসলো বাইং, লাইনে কিছু সমস্যা হলেই এদিকে আসো , এটা এভাবে হলো কেন? দেখনা? আরো কতকি!

কিছুদিন পার হবার পর আসলো ঈদের ছুটি । বাড়িতে গিয়ে আসার পর আমার লাইন সুপার ভাইযার বললো আমিতো আপনাকে না বলেই পাসর্পোট করছি! একথা শুনার পরে আমার ও লোভ সামলানো গেলনা, আমিও পাসপোর্ট বানালাম। এবার আমরা দুজনে প্রবাসে পাড়ি দেব এমন কথাবার্তা আর স্বপ্ন দেখা শুরু, হঠাৎ রাজশাহীর এক কিশোরী আমাকে ডেকে নিয়ে বলে ভাইয়া আমার জানামতে দুবাইতে এক মুহিলা লোক পাঠায়, আপনি বললে আমি তার সাথে কথা বলে দেখতে পারি। একদিন সে ঠিকই আমাদের ব্যাপারে কথাবলে আসে।

দিন ধার্য হল, পাঁচ হাজার টাকা, পাসর্পোট ফটো কপি, চার কপি ছবি নিয়ে ইনটারভিউ দিতে হবে। কোন চিন্তা ছাড়াই আমরা দুজনেই গেলাম এবং পাস মার্ক ও পেলাম। তবে দুবাইতে না, কাতারে। সব জমা দিয়ে আসার নয় দিন পরেই খবর দিলো মেডিক্যাল করতে হবে।

মেডিক্যাল করার এগার দিন পরেই সকাল সাতটায় কলিং ব্যাল বেজে উঠলো । ভাইয়া দরজা খুলতেই সালাম দিয়ে ভদ্র মহিলা আমি আছি কিনা জানতে চাইল, ভাইয়ার ছোখ দুটি কপালে! কি ব্যাপার এত সকালে মহিলা ও কে খুঝবে কেন? মহিলা দেরী না করেই ভাইয়ার হাতে ভিসার কপিটা দিয়েই চলে যাচ্ছিলেন, পরে ভাইয়ার অনুরোধে বাসায় বসলেন। এদিকে কান পেতে আমি শুনছিলাম, ভাইয়া হঠাৎ আমার রুমে এসে, ঘাড়ের মধ্যে আদরের সাথে দু'টা দিয়ে বললো কে এসেছে বাসায় দেখে যাও! গিয়ে সালাম দিয়ে বসলাম । ভদ্র মহিলা বললেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা দিয়ে চলে যাবেন, দেরী করা চলবেনা। একথা বলেই চা নাস্তা খেয়ে বিদায় নিলেন ।

আমি যে এত কিছু করলাম শুধুমাত্র ভাইয়ার শালিকাকে বলেছিলাম, আমি এই এই বিদেশ যাবার চেষ্টা করছি। সে আমার সাথে ঠাট্টা করে বলতো মানুষেরা ভিসার জন্য হাটতে হাটতে জুতা ছিড়ে ফেলে, আপনি এমনিতেই পেয়ে যাবেন!! আমি ভাইয়া , ভাবীকে বলিনাই হয়তবা না ও হতে পারতো তায়, আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া ভিসাটা হয়ে গেলো।

চলবে.............

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

স্ম্বৃতি চারণ ভালো লাগলো।

শুকরিয়া

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)