চন্দ্রমগ্ন বাসর (মোড়কের ভিতর ২য় জীবনের লাল পিপড়ে)

আজ নিশাচররা পাহারায় থাকুক,
চাঁদ ডুবে যাবে,
আহ! যাক না,
আরও কিছু ক্ষণ থাকুক
প্রশয় দেয়া ভালবাসা।

রাতের নিরব আলোয়,
ফ্যকাশে তোমার ঠোটের রং
ক্ষতি নাই ।

চাইলেই হবে একশ একটা চুম্বন,
আলিঙ্গনে বাড়বে গতি
উম্মাদ দৃজন,
উত্তাল এই দেহ মন,
অশান্ত যৌবন।

প্রজাপতির সব রং মেখেছো তুমি,
আমি অপেক্ষারত।
সকল ফুলের সুবাশ তোমার পাঁজরে,
আমি আবেশিত ।

জোনাকিরা আলো দেবে,
গান শুনাবে মাতাল বাতাস ।
অপেক্ষা বাড়াবে নাড়ির গতি
আর কতক্ষণ ?
কতটা সেকেন্ড পার হলে,
তুমি হবে একান্ত আমার।

যেখানে বিভেদ নেই,
যেখানে তোমার লাজুক হাসি,
ভাঙ্গাবে দ্বিতীয় জীবেনর
যৌবনের ঘুম।  

আজ সোমা আপুর বিয়ে । বাড়ী জুড়ে শিশুদের হৈ, চৈ, কিশোরীরা প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের অনূকরণে পড়েছে শাড়ি । সারা বাড়িতে তারা বাত্তি জ্বলছে  ঝিকিমিকি । রান্নার ব্যবস্থা খুব ভাল, পোলাউর ঘ্রাণ বাতাসকে ভারী করে তুলছে। সোমা আপুর বাবা অবসর প্রাপ্ত সরকারী লোক । বেচারা তেমন টাকা পয়সা নেই, তাতে কি বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা। আয়োজনের কমতি রাখেননি। সোমা আপুর খুব শখ ছিলো ভাল একটা দামী গাড়িতে করে বরের বাড়ী যাবেন, কিন্তু আপাতত তার এই শখ পূরণ হচ্ছে না, বড় বিদেশ ফেরত, প্রতান্ত্য অঞ্চলের বাসিন্দা । তিনি বিয়ে করে আজ রাতটা এখানেই কাটাবেন। তাই বিয়ের ষ্টেজ এর পাশাপাশি একটা রুম ফাঁকা করে চলছে বাসরঘর তৈরীর কাজ । ফুল এলো, নতুন চাদর এলো, বিছানা বালিশ সবই নতুন, বাসর বলে কথা । বাড়ীর এই রুমটায় সোমা আপু অনেক রাত একা কাটিয়েছেন, আজ তাকে সঙ্গ দিবে সম্পূর্ণ নতুন একজন মানুষ। ভয় আর আনন্দের মিশ্রণ যেন এক অচেনা অনুভূতির সৃষ্টিতে জড় মূর্তির মত বসে আছেন সোমা আপু । বর নিয়ে তেমন ভাবনা নেই, কারণ এই ভাইয়ের সাথে এর আগে ৩ বছর চুটিয়ে প্রেম সেরেছেন। আজ ভালবাসার ষোলকলা পূর্ণ হবে । আজ হবে একটি অমিমাসিংত কাব্যের শেষ পর্ব ।

বাংলা টাইম বলে কথা বর পক্ষ এলেন কিছুটা দেরী করে,  শুভ কাজে দেরী কেউ করেন না মুরব্বীরা, বিয়ে হয়ে গেলো সোমা আপুর । অনেক ঠাট্ট মশকারা, হৈ চৈ চলছে, নতুন দুলা মিয়াকে নিয়ে । আড়চোখে চোখাচুখি আর সময়ের অপেক্ষা । এইত আর কিছুক্ষণ পরে শুরু হবে বাসর, শুরু হয়ে যাবে  সোমার দ্বিতীয় জীবন।

কিছুক্ষণ আগে সব হৈ চৈ অফ করে, এখন মুখোমুখি দু’জনে, সোমা আপু আর কাঙ্খিত ভালবাসার মানুষটি। এক এক করে বিদায় হচ্ছে আশে পাশের লোকজন, বিয়ে বাড়ী বাত্তি গুলো ছাড়া সবাই থমকে যাচ্ছে । রাত এখন আনুমানিক ৩টা, হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে । প্রতিবেশীদের একজন গ্যারেজ থেকে গাড়ী বের করছেন, কয়েকজন ধরাধরি করে সেই গাড়িতে ভরে দিলেন দুলা মিয়াকে । নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। যমদূত এতটাই নিষ্ঠর বেশি দুর যেতে পারেনি তারা পথেই মৃত্যু ঘটল দুলা মিয়ার, আনন্দের বিয়ে বাড়ীতে পড়ে গেলো কান্নার রোল । সকাল হতেই ব্যাপক ভীড়, পাড়ার লোকজন, আত্নীয় স্বজন সবাই ভিড় করছে বিয়ে বাড়ীতে ।

দ্বিতীয় জীবন
সোমা আপু  পাল্টে গেলেন, আগের মতন এখন আর বিকেল বেলা ছাদে আসেন না, সারাক্ষণ উনাকে যেন কিসে চেপে ধরে আছে । সুশ্রী থাকা স্বত্ত্বেও বিয়ের পিড়িতে বসেননি। অনেক মহিলা উনাকে অপয়া বলেন, অনেকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেন । আবার অনেকে  এসেছিলেন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে, কেউ এসেছে উনার রূপ দেখে আবার কেউ কেউ এসেছেন উনার মুখের মায়া দেখে । তিনি সবাইকে নিরাশ করে দিয়েছেন। আমার পাশের ফ্লাটের পিচ্চির টিচার উনি, উনার বাবার সাথে আমার ভাল সখ্যতা আছে। আমার সাথে প্রায় আলাপচারিতা হয়, বিনিময় হয় কুশলাদি। আমি একদিন আপুটাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “ আপু এভাবে সংগ্রাম করে কত দিন থাকবেন ?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে, সামনের রাস্তাটা দেখিয়ে বললেন, দেখছেন ভাই এই রাস্তাটা কয়টা রাস্তায় গিয়ে মিশেছে, আমার সব কিছু এমন করেই মিশে ছিল আপনার ভাইয়ের প্রতিটি শিরায়, শাখা প্রশাখায়, আমি ইচ্ছে করলেও ফেরত আসতে পারিনি, যে দিন পারব সে দিন হয়ত চিন্তা করা যাবে, সবার একটা জীবন থাকে আমার চলছে দ্বিতীয় জীবন, এই জীবনটা কতটা কষ্টের কাউকে বোঝাতে পারবো না । উনি দৌড় দেননি, আমি ব্যাস্তার ভান করে, উনার সামনে থেকে সড়ে এসেছি, আমি জানি এখন আমার কান্না পাবে, ২য় জীবন আসলেই অনেক কষ্টের নতুবা উনার চোখের দিকে তাকালে আমার কান্না পাবে কেন ?                 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

আমি বোধহয় ৩য় জীবনের অপেক্ষা আছি, যেখানে কেউ নেই শুধুই আমিই আমাকে খুজে বেড়াবো...।

কবিতায় আকর্ষণ আছে। চারতারা

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

ধন্যবাদ, সাথেই থাকুন। শুভকামনা রইল।

কবিতার শানেনুযুল বা পটভূমিটা আমার দারুন প্রিয়। যদিও আমি নিজেও তেমন লিখে রাখিনি। তবে পাঠকের বুঝার জন্য খুবই ভালো ব্যবস্থা।

অন্যদিকে কবিতা হলো এমন এক প্রকাশের পদ্ধতি, যা বহুমুখী। কবি লিখে যায় তার ভাবনা থেকে, জীবন থেকে, অভিজ্ঞতা থেকে, কিন্তু পাঠক তাদের জীবনের সাথে মিলিয়ে নিয়ে কখনো কাঁদে, কখনো হাসে, কখনো বা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে....মূলতঃ কবিতার সার্থকতা এখানেই। সেক্ষেত্রে বলা যায় এই পটভূমিটা কবিতাকে অনেকটা বেঁধে ফেলে, বিষয়ের সীমানায়, ভাবের আবর্তে এবং রুদ্ধ করে দেয় পাঠকের বহুমুখী বুঝার দ্বারগুলোকে।

তবে পাঁচতারা আঁকলাম।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত প্রদানের জন্য। আসল কথা হচ্ছে এক ভিতর দুই, যেমন একটা সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি থাকে মারপিট, গান এবং নাচ । তাই একটু প্রাণবন্ত করার  চেষ্টা । ভালো থাকবেন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)